প্রথম তিন খলিফার সময় ইমাম আলী (আঃ) এর নিরবতাবলম্বনের অন্তর্নিহিত কারণ

আলোচনার সূচনাতেই বলে নেয়া সমীচীন মনে করছি যে, এ সংক্রান্ত ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য বহু গবেষণার দরকার। আর বিষয়টি খুবই জটিল ও দীর্ঘ পরিসরে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন। তাই সামান্য কলেবরে উল্লেখিত
শিরোনামের সামান্য কিছু ব্যাখ্যার প্রয়াস পাব। রাসূলুল্লাহর (সাঃ) আহ্‌লে বাইয়াতকে মুহাব্বত করে না এমন মুসলমান খুবই কম। তবে যুগ যুগ ধরে আহলে বাইয়াতকে মাজলুম বানিয়ে কোনঠাসা করে রাখার অপতৎপরতা চালিয়েছে
মুসলমান নামধারী বকধার্মিক কিছু মোনাফেকের দল। তাই আজও কিছু মানব জগৎসংসারে বসবাস করে যারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করে থাকেন। সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা, সত্য ইতিহাস না জেনে নির্বোধের মত কথা
বলা এ যেন তাদের নিত্তনৈমিত্তিক পেশা। কতক লোক আজও ইমাম আলী (আঃ) এর মারেফাত লাভ না করার কারণে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামুলক কথাবার্তা বলেন যা বিবেকবহির্ভূত এবং অন্তঃসারশূন্য কাজ। অনেকেই
নানাবিধ প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে যদি খেলাফত আলী (আঃ) এর হক ছিল তবে কেন তিনি তার হক আদায় করতে আন্দোলন করেননি, কেন তিনি নিরবতাকে বেঁছে নিলেন, কেন প্রতিবাদ করেননি। যাই হোক এ জাতীয় প্রশ্ন করে
এক প্রকার বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে থাকেন। তাই আসুন ইনসাফের সুরে কথা বলি এবং সত্যকে জানার, বুঝায় ব্রতী হয় তাহলে আর বিষয়টি বুঝতে কষ্ট হবে না। এবার মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক।
এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, পয়গাম্বর (সাঃ) এর বেদনাময় ওফাতে গোটা মুসলিম সমাজ এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের উপর নেমে আসে যন্ত্রণার মহাপ্লাবন ও মহাসংকট। রাষ্ট্রে সর্বদা একটা টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি
বিরাজ করছিল বিশেষ করে খেলাফতের শাসন কর্তৃত্বের রদবদলের কারণে মুসলমানদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে এবং সার্বক্ষণিক একটা ভীতি কাজ করছিল যে, হয়তো আরবের নব দীক্ষিত মুসলমানরা
জাহিলিয়াতের পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন একটি নব প্রষ্ফুটিত ফুলের পাঁপড়ির ন্যায় সবেমাত্র উঁকি মেরে আত্মপ্রকাশ করেছিল যার ফলে জনগণ ইসলামের সাথে তখনও সখ্যতা গড়তে পারেনি বা
ইসলামী আন্দোলনকে তারা গুরুত্বহীন ভেবে পাশ কেটে চলেছে। ইমাম আলী (আঃ) এবং মহানবী (সাঃ) এর কিছু বিশ্বস্ত সাহাবা কেরাম সবেমাত্র রাসুলুল্লাহর (সাঃ) দাফন কাফন সুসম্পন্ন করতে না করতেই সাহাবাকেরামের
মাঝে দুটি দল খেলাফতের দাবিদার সেজে হৈ হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দেয়। দল দুটি হচ্ছে,
১) আনসারগণ যারা খাজরাজ জনগোষ্ঠীর লোক ছিল। তারা আগে থেকেই সাকিফায়ে বানী সাআদা নামক স্থানে সমবেত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় মুসলিম রাষ্ট্রের শাসন কর্তৃত্ব খাজরাজ গোত্রের প্রধান সাআদ বিন উবাদার হাতে ন্যস্ত
করতে হবে এবং সেই হবে পয়গাম্বর (সাঃ) এর জানেশিন বা উত্তরসূরি। কিন্তু আনসারদের মধ্যে ঐকমত্য না থাকায় বিশেষতঃ আউস ও খাজরাজ গোত্রের পারস্পরিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুরু হয় অন্তর্দ্বন্দ্ব। আউস গোত্রের
লোকেরা খাজরাজ গোত্রের প্রধান সাআদের সাথে শুধু বিরোধীতাই করেনি বরং তারা ক্ষমতা তার হাত থেকে নিয়ে মুহাজিরদের কারো হাতে দেয়ার পক্ষপাতি ছিল।
২) মুহাজিরগণ যদিও বানী সাকিফায় মুহাজিরদের উপস্থিত লোকের সংখ্যা সামান্য ছিল তথাপি এক ধরনের কৌশল অবলম্বনের ফলে সকলেই হযরত আবু বকরের প্রতি সমর্থন জানায়। আশে পাশের অনেকেই তাকে রাসুলুল্লাহর (সাঃ)
খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আর এ সুযোগে তিনি জনগণকে নিজের বাইয়াত করার আহ্বান জানান।
উক্ত দুটি দল ছাড়াও আরেকটি দল বিদ্যমান ছিল যারা ইমাম আলী (আঃ) এর জন্য ছিল নিবেদিত। এদের মধ্যে বানী হাশিম ও কিছুসংখ্যক বুযুর্গ সাহাবা কেরাম মনে করতেন খেলাফতের একমাত্র হকদার ইমাম আলী (আঃ)
এবং অন্য সবার চেয়ে ইমাম আলী নেতা ও রাহবার হিসেবে যোগ্য। এই দলটি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছিল যে, রাসূলুল্লাহর পবিত্র দেহ মোবারক সবেমাত্র দাফন হতে না হতেই মুহাজির ও আনসারদের মাঝে খলিফা মনোনয়ন নিয়ে
বাকবিতন্ডা, সংঘর্ষ বেঁধে গেছে। তারা নিজেদের বিরোধী মনোভাবকে মুহাজির ও আনসারদের বরং সমস্ত মুসলমানদের কর্ণকুহরে পৌঁছানোর অভিপ্রায়ে হযরত আবু বকরের খলিফা মনোনয়ন পন্থাকে বাতিল ঘোষণা করে সরাসরি
হযরত ফাতেমার গৃহাভিমুখে গমন করেন। অবশেষে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে ফাতেমার গৃহকে ত্যাগ করে মসজিদে গিয়ে অবস্থান নেন। নাজুক পরিস্থিতিতে তৃতীয় দলটি বিশেষ করে ইমাম আলী ও তার সঙ্গী সাথীরা দেখলেন যে
ইসলামী শাসন কর্তৃত্ব তার সঠিক হকদার ও প্রাপকের হাত থেকে কেড়ে নেয়া হচ্ছে এবং তার সাথে শরীয়তের মাঝেও কাঁটছাট করা হচ্ছে পাশাপাশি পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে মোড় নিল যে খেলাফতের সত্যিকারের আল্লাহর
মনোনীত ব্যক্তির স্থলে জনগণ দ্বারা নির্বাচিত ব্যক্তিকে জনসাধারণ রাসূলুল্লাহর প্রকৃত উত্তরসুরি ভাবতে শুরু করল। আর এমতাবস্থায় হযরত আলী (আঃ) এর ন্যায় মহোত্তম ব্যক্তির পক্ষে নিশ্চুপ থাকাটা মোটেও ভাল ঠেকেনি
তাই তিনি নিরবতাকে পিছনে ঠেলে জবানের তীক্ষ্ণতাকে কাজে লাগান। মসজিদে নব্বীতে আসার পর তাঁর কাছ থেকে বাইয়াত নেয়ার জন্য পিড়াপীড়ি করা হলে সমবেত মুহাজিরদের সম্বোধন করে বলেন, হে মুহাজিরগণ!
পয়গাম্বর (সাঃ) স্বয়ং যে হুকুমাতের ভিত্তি স্থাপন করেছেন সেটাকে তোমরা তাঁর পবিত্র অভিজাত বংশের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নিজেদের কুটিরে আবদ্ধ রাখার বৃথা চেষ্টা করোনা। আল্লাহর শপথ! মহানবীর পরিবার একাজের
জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম। কেননা তাদের মধ্যে (আহলে বাইত) এমন সমস্ত যোগ্য ও মেধাবান ব্যক্তিরা রয়েছে যারা কোরআনের সঠিক গুঢ়রহস্য জানে এবং দ্বীন ইসলামের জ্ঞানভান্ডার তাদের অধীনে সুরক্ষিত, পয়গাম্বর (সাঃ)
এর সুন্নাত সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত, তারাই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থাকে সুশৃংখলভাবে পরিচালনার ক্ষমতা রাখে, সমস্ত ফেতনা ফ্যাসাদের শিকড়কে তারাই উপড়ে ফেলতে পারে এবং বাইতুল মাল গাণিমতের সম্পদকে সুষমভাবে
একমাত্র তারাই বন্টন করার মনমানসিকতা রাখে। আর বাস্তবতা হচ্ছে এমন সকল যোগ্য পন্ডিত ব্যক্তিরা থাকতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা অন্যদের হাতে মানায় না। এমন যেন না হয় যে, তোমরা নফসের খায়েশ মোতাবেক চলতে গিয়ে
আল্লাহর পথ থেকে ছিটকে পড় এবং হাকীকাত থেকে মুখ ফিরিয়ে ভ্রান্তিতে হামাগুড়ি খেতে থাক। (সূত্রঃ আল ইমামত ওয়াসসিয়াসাত খ.১, প.১১)
উক্ত বক্তৃতায় ইমাম নিজের শ্র্রেষ্ঠত্বের বিষয়টিকে কত সুন্দর ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তাছাড়া এখানে অবৈধ খেলাফতের দাবিদারদের সাথে নিজের বিরোধী মনোভাবেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। শিয়া নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে
ইমাম আলী (আঃ) বানী হাশিমের একটি দল নিয়ে আবু বকরের নিকট যান এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব, যোগ্যতা, বীরত্বগাঁথা ইতিহাস, রণাঙ্গনের সাহসিকতা এ সমস্ত বিষয়কে তার সামনে তুলে ধরে বলেন, আমি পয়গাম্বরের
জীবদ্দশায় এবং তাঁর ওফাতের পর তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে উপযুক্ত। আমি তাঁর (সাঃ) উযির, উত্তরসূরি, জ্ঞানভান্ডার এবং গুপ্তরহস্য ভান্ডার। আমি হলাম সিদ্দিকে আকবার এবং সত্য মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী ন্যায়বান ব্যক্তি।
আমি সেই পুরুষ যে প্রথম মহানবীর উপর ঈমান আনার পর তাঁকে সত্যবাদী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমি মুশরিকদের সাথে রণক্ষেত্রে দৃঢ় ও অটলভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তি, সুন্নাত ও কিতাবের সর্বজান্তা, উসূলে দ্বীন ও ফুরুয়ে
দ্বীনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, ভাষার মাধুর্যতা আর বাক্যালংকারে আমার রয়েছে পুরোপুরি দখল। তবু কেন তোমরা আমার অধিকারের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছো?
ইমাম আলী (আঃ) অন্য আরেকটি খুতবায় রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সক্ষম ক্ষমতাবান ও সর্বাপেক্ষা আল্লাহর বিধি বিধান সম্পর্কে সুঅভিজ্ঞ পন্ডিত একজন কোয়ালিটি সম্পন্ন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, হে জনতা! হুকুমত
পরিচালনার জন্য তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত যিনি জনতার মাঝে রাষ্ট্র চালানোর কলাকৌশলে অভিজ্ঞ এবং আল্লাহর বিধানকে ভাল করে জানেন। যার মধ্যে এই সামষ্টিক গুণাবলী অবর্তমান সে যদি খেলাফত লাভের চিন্তায় মগ্ন হয় এবং
নিজের ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ডকে চালাতে থাকে তবে সে কতল তো হবেই। (সূত্রঃ নাহাজুল বালাগা, খুতবা নং-১৬৮)
এটা ছিল ইমাম আলীর দূরদর্শিতা, যুক্তিবিদ্যার পরিচায়ক রহস্য। আর নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা শুধুমাত্র তাঁরই জবানীতে প্রকাশিত হয়নি বরং তাঁর ঘোরবিরোধীরাও একথা অকপটে স্বীকার করতে বাধ্য যে, ইমাম আলী যুগশ্রেষ্ঠ
মানব ও খেলাফতের যথাযোগ্য প্রাপক। প্রাধান্য রাখা সত্ত্বেও তাঁকে খেলাফত থেকে বঞ্চিত রেখে তাঁর অধিকারকে ভূ-লন্ঠিত করা হয়েছে। আবু উবাইদা জাররা যখন শুনতে পায় যে ইমাম আবু বকরের বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি
জানিয়েছে তখন ইমামের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, শাসন কর্তৃত্বকে আবু বকরের হাতে ছেড়ে দিন। আমি জানি আপনি এর জন্য শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। কারণ শ্রেষ্ঠত্বে, মর্যাদায়, ঈমানদার হিসেবে, জ্ঞানগরিমায়, দূরদর্শিতায়,
বংশমর্যাদায় এবং রাসুলুল্লাহর জামাতা হিসেবে আপনার সমতুল্য কেউই নেই। (সূত্রঃ আল ইমামা ওয়াসসিয়াসা, খ.১ পৃ. ১২)
ইমাম নিজের অধিকার পুনরুদ্ধারে শুধু বক্তৃতা ভাষণ বা স্মরণ করানোর উপরই ডিফেন্স করেননি ইতিহাসবেত্তাদের লেখনীতে জানা যায় পাশাপাশি তিনি কখনো কখনো ফাতেমা, হাসান-হোসাইনকে নিয়ে আনসারদের শীর্ষ নেতৃবর্গের
নিকট গমন করতেন যাতে করে খেলাফতকে তার হকদারের কাছে ফিরিয়ে আনা যায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো তাদের কাছ থেকে কোন প্রকার সাড়া পাননি। বিভিন্ন অজুহাতে তারা বলাবলি করত যে আলী নিজেই যদি সবার
আগে খেলাফতের চিন্তা করে এবং আমাদের কাছ থেকে বাইয়াত চায় তাহলে আমরা তো তার সমর্থন ব্যক্ত করতে পারিনা কখনো; কেননা তার পূর্বেও তো আমরা প্রথম খলিফার বাইয়াতকে নাকচ করে দিয়েছি? ইমাম তাদের
প্রশ্নোত্তরে বলতেন, আচ্ছা আপনাদের দৃষ্টিতে এটাই কি উত্তম হত যে আমি পয়গাম্বরের মৃতদেহকে ফেলে রেখে খেলাফতের মোহে ছুটে যেতাম এবং সবার কাছ থেকে বাইয়াতের আহ্বান জানাতাম? ইমামের কথার সমর্থনে হযরত
ফাতেমা যাহরা বলেন, আলী নিজের দায়িত্ব কর্তব্যকে সবার চেয়ে ভালই জানেন। যারা আলীর হককে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাধাদান করেছে তাদের হিসাব মহান আল্লাহর হাতে। (সূত্রঃ আল ইমামা ওয়াসসিয়াসা, খ.১, পৃ. ১২)
অবাধ্য সীমালংঘনকারী দলের সামনে ইমামের এটা ছিল প্রথম পদক্ষেপ যার মাধ্যমে তিনি আশাবাদী ছিলেন হয়তো আনসারদের বুযুর্গ ব্যক্তিবর্গকে বলে কয়ে অবহিত করে নিজের অধিকারকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে; কিন্তু
ইতিহাসের সাক্ষ্যমতে এতে তিনি কোন ফলাফল লাভ করতে পারেননি বরং তাঁর হককে পঁয়মাল করা হয়। এখন যদি কোন বিবেকবান ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয় পরিবেশের এমন অস্থিতিশীল, সংবেদনশীল, অরাজকতাপূর্ণ
ও টানটান উত্তেজনায় ইমাম আলীর পক্ষে কোন পন্থাবলম্বন করলে ভাল হত, শুধুমাত্র সমাজকে পর্যবেক্ষণ করা ও নিশ্চুপ থাকা নাকি যুদ্ধ ও আন্দোলনের ডাক দেয়া?
ইমাম আলী (আঃ) এর সামনে একটি মাত্র রাস্তা খোলা ছিলঃ
পরিস্থিতির এমন নাজুক অবস্থায় ইমামের সামনে একটি পথ ব্যতীত ভিন্ন কোন উপায় না থাকায় তিনি শুধু আনসার ও মুহাজিরদের বিভিন্ন উপদেশমুলক, পরামর্শমুলক, সাবধানমুলক এবং সমাধানমুলক বাণীর মাধ্যমে
পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন এবং জনগণের নিকট সত্যকে পরিষ্কার ও নিজের হুজ্জাতকে সমাপ্ত করেন। অন্য দিকে খলিফা ও তার সমমনা ব্যক্তিরা খেলাফতের রশিকে কবজা করার জন্য জোরাজুরি করতে লাগে এবং তারা নিজেদের
ক্ষমতাকে সমপ্রসারণের অভিসন্ধি নিয়ে উঠে পড়ে লেগে যায়। আর যুগের আবর্তে খেলাফতের মসনদে আরোহণকারীরা খেলাফতের বিষয়টিকে এমনভাবে জনতার মন-মস্তিষ্কে অনুপ্রবেশ করাতে থাকে যে এক সময় এটাকেই তারা
সঠিক প্রচলিত হুকুমাত হিসেবে মনে করতে লাগে এবং তাদের থেকে জীবনাদর্শ গ্রহণ করতে শুরু করে। সমাজের এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে মুহূর্তে মুহূর্তে মহানবীর পরিবারের উপর নেমে আসে দুর্ভোগ। বিপরীত দিকে
শাসকদের ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। এমতাবস্থায় ইমাম আলী (আঃ) এর দুটি পন্থা বেছে নেয়া ছাড়া আর কোন গত্যন্তর ছিল না।
ক) নবী বংশের সহায়তা করা এবং অনুরক্তদের নিয়ে লড়াই করে নিজের অধিকার ছিনিয়ে আনা।
খ) আর নয়তো নিরব থাকা ও সামাজিক বিষয়াদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া এবং ব্যক্তিগত, চারিত্রিক দায়দায়িত্বকেই শুধু আঞ্জাম দেয়া।
অতএব, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের আলোকে জানা যায় ইমাম যদি এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বিগ্রহের পন্থা অবলম্বন করতেন তাহলে এতে তৎকালীন নব জন্ম নেয়া ইসলামের ক্ষতি ও অমঙ্গল বৈ কোনই কল্যাণ হত না। যার ফলে দ্বিতীয়
পথ নির্বাচন ছাড়া ইমামের সামনে ভিন্ন কোন উপায়ন্তর ছিল না।
পয়গাম্বর (সাঃ) উম্মাতের মুর্তাদ হওয়ার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ছিলেনঃ
১। মহানবী (সাঃ) জীবদ্দশায় ইসলামী সমাজের ভবিষ্যত ও ভয়ানক পরিণাম সম্পর্কে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন এবং তিনি সমাজের অবাধ্যতা দেখে বুঝতে পেরেছিলেন যে মুসলমানদের মধ্যে কিছু দল তার মৃত্যুর পর সেই জাহিলিয়াতের
দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। সাথে সাথে ইলাহী বিধি আহকামকেও ভুলে যাবে। তাঁর এই ভাবনা আরো দৃঢ়তা লাভ করে উহুদের যুদ্ধের সময়। উহুদের যুদ্ধে যখন পয়গাম্বর (সাঃ) এর কতল হওয়ার অপপ্রচার শুরু হয় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী
হিসেবে দেখতে পান যে অধিকাংশ সাধুবেশী পাশে অবস্থানকারী বুযুর্গ ব্যক্তিরা যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করতে আরম্ভ করেছে। তারা পাহাড়, পর্বত ও ময়দানের আশেপাশে জান বাঁচাতে ছুটাছুটি করছে। আবার অনেকেই
আবু সুফিয়ান ও মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবাই এর পাশে থাকাকে নিরাপদ মনে করে ছুটে যায়। এসকল লোকদের আকিদা বিশ্বাস এতই নড়বড়ে ও দুর্বল ছিল যে আল্লাহর সম্পর্কে হীন ধারণা করতেও তাদের বুক ততটুকু কাঁপেনি।
এ সমস্ত ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচন করে পবিত্র কোরআন ইরশাদ করে, “স্মরণ কর, তোমরা যখন উপরের দিকে ছুটছিলে এবং পিছন ফিরে কারো প্রতি লক্ষ্য করছিলেনা আর রাসুল তোমাদের পিছন দিক হতে আহ্বান করছিল।
ফলে তিনি তোমাদের বিপদের উপর বিপদ দিলেন যাতে তোমরা যা হারিয়েছো অথবা যে বিপদ তোমাদের উপর এসেছিল তার জন্য তোমরা দুঃখিত না হও। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবহিত।
(সূত্রঃ আলে ইমরানঃ ১৫৩)
পয়গাম্বরের কিছু সঙ্গীরা আল্লাহ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করতে শুরু করল যেভাবে জাহিলিয়াতের লোকেরা করত তারা এটাও বলতে লাগে যে এছাড়া কি আমাদের জন্য আর কোন পথ খোলা ছিল?
পবিত্র কোরআন অন্য একটি আয়াতে পয়গাম্বরের ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর কিছু লোকের ছত্রভঙ্গ ও দ্বীন থেকে বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছিল। যেমন বলা হচ্ছে, মুহাম্মদ একজন রাসুল মাত্র; তার পূর্বে
বহু রাসূল গত হয়েছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে নিহত হয় তবে তোমরা কি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে? এবং কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনও আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না বরং আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন।
(সূত্রঃ আলে ইমরান আয়াত ১৪৪)
উক্ত আয়াত আসহাবে পয়গাম্বরকে দুটি ভাগে ভাগ করে দিয়েছে এক. জাহিলিয়াতের যুগে প্রত্যাবর্তনকারী দল, দুই. মজবুত ঈমানের উপর অবিচল অবস্থানকারী কৃতজ্ঞ দল।
২) বানী সাকিফার ঘটনা থেকে অনুধাবন করা যায় যে, মুসলমানদের মধ্যে নীল নকশা তৈরি, গোত্র ও বংশীয় বিদ্বেষ, জাহিলিয়াতের দিকে প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রমাণ করে যে, ঐ সমস্ত মুসলমানদের মনে
ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তখনও পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারেনি। ইসলাম ও ঈমান কেবলমাত্র তাদের অজ্ঞতাপূর্ণ চেহারায় ঢাকনার ন্যায় ঝুলছিল। ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায় ঐ সমস্ত জামাত, তাদের বক্তৃতা ভাষণ কোন কিছুই
মঙ্গলার্থে ছিল না। প্রত্যেকেই খেলাফতের রাজমুকুট তার যোগ্য ব্যক্তির হাতে না দিয়ে নিজের গায়ে জড়াতে চেয়েছে। উক্ত সংগঠনটি ইসলাম ও মুসলমানদের কোন ধরণের কল্যাণমুলক চিন্তা তো করেনই নি বরং ইসলামের ভঙ্গুর
কিশতিকে যিনি সমুদ্রের পারে নিয়ে মুক্তি দিতে পারেন তার কাছ থেকে খেলাফত লুন্ঠন করেছে। মোটকথা হলো ঐ সমস্ত লোকদের অন্তরে ইসলামী আকিদা তখনও পর্যন্ত স্থান পায়নি, জাহিলিয়াতের আদিখ্যেতা চালচলন
অভ্যাস তাদের মন মস্তিষ্ককে ঘিরে রেখেছিল এবং মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ বিগ্রহ, ফেরকাবাজী, দলে দলে বিভক্তির ফলে রাষ্ট্র ও সমাজ হুমকির মুখে পড়ে আর কিছু লোক শিরকে লিপ্ত হয়ে যায়।
৩) বানী সাকিফার ঘটনার পর ইমাম আলী (আঃ) এর প্রদত্ত ভাষণ এ বিষয়গুলোকে আরো পরিষ্কার করে। তিনি নিজের বক্তৃতায় ইসলামী উম্মাহর ঐক্য সংহতির গুরুত্ব এবং ছত্রভঙ্গতা, দলাদলির পরিণাম সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দৃষ্টান্তস্বরূপ, আবু সুফিয়ান যখন ইমাম আলীকে বাইয়াতের চাপ দিতে থাকে ইমাম জনসমাবেশের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, হে জনমন্ডলী! ফিতনার তরঙ্গের মাঝে শক্ত হাতে হাল ধরে মুক্তির নৌকা চালিয়ে যাও; বিভেদের পথ থেকে
ফিরে এসো; এবং অহংকারের মুকুট নামিয়ে ফেলো ........ যদি আমি বলেই ফেলি খেলাফতের কথা তবে তারা আমাকে বলবে ক্ষমতালোভী, আর যদি আমি নিশ্চুপ হয়ে থাকি তবে তারা বলবে আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত।
দুঃখের বিষয় এই যে, সকল উত্থান-পতনের মধ্যেও আমি টিকে আছি। আল্লাহর কসম, আবু তালিবের পুত্র মৃত্যুর সাথে এমনভাবে পরিচিত যেমন একটি শিশু তার মায়ের স্তনের সাথে। আমি নিরব রয়েছি আমার গুপ্ত জ্ঞানের
কারনে যা আমাকে দান করা হয়েছে। যদি আমি তা প্রকাশ করি তবে গভীর কূপ থেকে পানি উত্তোলনরত রশির মতো তোমরা কাঁপতে থাকবে। (সূত্রঃ নাহাজুল বালাগা, খুতবা নং-৫)
৪) নবমুসলিম সমপ্রদায়ের মধ্যে পয়গাম্বরের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ামাত্রই তাদের মাঝে কতক দল ধর্মত্যাগ করে জাহিলিয়াতের তাদের পূর্বপুরুষদের পথকে স্বাগত জানায়। প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে ইসলামী হুকুমতের বিরোধীতায় নেমে
পড়ে এবং ইসলামী কর দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রথম পদক্ষেপ হলো, মুসলমানদের মধ্যে যারা ঈমানে বলিষ্ঠ তাদেরকে সাথে নিয়ে মুর্তাদদের সাথে সংগ্রাম করা যাতে তারা পুনরায় শাসকদের আনুগত্য
প্রকাশ করে এবং ইসলামী আইন কানুনের কাছে মস্তকাবনত করে। এছাড়া অন্য একটি গ্রুপ ইয়ামানে (মুসাইলামা, সাজ্জাহ ও তালাইহা) মিথ্যে নবুয়াতের দাবিদার সেজে আরেকটি ফিতনার সৃষ্টি করে। তাই মুহাজির ও আনসারদের
মধ্যে যেখানে ঐক্য ফিরিয়ে আনা অসম্ভব, পার্শ্ববর্তী গোত্রসমূহের ইসলামকে বিদায় জানানো এবং বিভিন্ন স্থানে মিথ্যে নবুয়াতের দাবিদারদের উত্থান এ সমস্ত পরিস্থিতি সমূহে ইমাম আলী (আঃ) এর ন্যায় মহামানবের পক্ষে
নিজের অধিকার আদায়কল্পে কিয়াম করা মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ ছিলনা। ইমাম মিশরবাসীদের প্রতি একটি পত্রে উক্ত বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর কসম, আমি কখনো ভাবতে পারিনি যে আরবরা খেলাফতকে পয়গাম্বরের খান্দান
থেকে ছিনিয়ে নিবে বা এ থেকে আমাকে বিরত রাখবে। তারা যখন আমার বাইয়াত নিতে চাপ সৃষ্টি করছিল এ দেখে আমি আরো চমকে গেলাম। কিন্তু আমি হাত গুটিয়ে নিলাম। দেখলাম জনতার একটি দল ইসলামকে ত্যাগ করেছে
এবং তারা মুহাম্মদের দ্বীনকে ধ্বংসের পাঁয়তারায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপলব্ধি করলাম যে যদি ইসলাম ও মুসলমানদের সাহায্যার্থে এগিয়ে না যাই তাহলে তা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। আর দ্বীন ধ্বংস হওয়ার যন্ত্রণা আমার নিকট খানিক
দিনের হুকুমত না পাবার যন্ত্রণা অপেক্ষা অধিক বেশি যা বন্যার বানের মত অতিদ্রুত শেষ হয়ে যাবে। অতঃপর আমি ঐ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়ালাম এবং মুসলমানদের সহযোগিতা করতে প্রস্তত হলাম যাতে বাতিল অপসারিত
হয় আর জনতা ইসলামের নিরাপদ দূর্গে প্রবেশ করতে পারে। (নাহাজুল বালাগা)
উসমানের খেলাফতের সূচনালগ্নে যখন শূরা কমিটির সদস্যরা তার প্রতি রায় প্রকাশ করে ইমাম তাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেন, আপনারা সকলেই জানেন আমি খেলাফতের জন্য একমাত্র উপযুক্ত। এ মুহূর্তে যদিও আমার উপর জুলুম
করা হয় তবুও খেলাফতকে ছালাম জানালাম এবং শুধুমাত্র সওয়াবের আশায় আমি হুকুমতের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করছি।
ইবনে আবিল হাদীদের মন্তব্যঃ
ইমাম আলী (আঃ) নিজ দেশে পরবাসীর ন্যায় নিজেকে জনবিচ্ছিন্ন রাখলেন কিছু দিন। হযরত নবী দুলালী ফাতেমা যাহরা (সাঃ আঃ) তাঁকে নিজের অধিকার আদায় করার জন্য লড়াই করতে পরামর্শ দেন। মসজিদ থেকে মোয়াজ্জিনের
আযানের ধ্বনি আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ ভেসে আসছিল ইমাম ফাতেমার দিকে মুখ করে বলেন, তুমি কি চাও এই ধ্বনি বিলুপ্ত হয়ে যাক? ফাতেমা বলেন, কখনো না। তারপর ইমাম বলেন, তাহলে আমি যে পথ
নির্বাচন করেছি এটা আঁকড়ে থাকাটাই হবে উত্তম। (সূত্রঃ শারহে নাহজুল বালাগা ইবনে আবিল হাদীদ, খ.১১, পৃ.১১৩)
এতক্ষণ আলোচনার পর এখন আমরা ইমাম ঠান্ডা মাথায় সার্বজনীন কল্যাণ চিন্তা করে যে পদক্ষেপ নিলেন তার ফলাফল সম্পর্কে পরখ করে দেখব,
মহৎ উদ্দেশ্যের মূল্যায়নঃ
এ রকম খুব কম সমাজই চোখে পড়ে যেখানে যোগ্য পরিচালক বা রাহবারকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। একজন দক্ষ রাহবারের যে শর্তাবলী থাকা বাঞ্ছনীয় এ দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি তাহলে বলা যায় যে গোটা সমাজের মাঝে
এ কাজের জন্য হাতেগোনা কয়েকজনকে পাওয়া যাবে যারা এ দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত। সেই যোগ্য সমাজের রাহবারদের মধ্যে যিনি ঐশ্বী প্রদত্ত রাহবার হিসাবে মনোনীত তার দায় দায়িত্ব নিঃসন্দেহে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
আল্লাহ মনোনীত রাহবারগণ নিজের মাকাম বা পদমর্যাদাকে গুরুত্ব না দিয়ে একটি বৃহৎ ও মহৎ উদ্দেশ্য লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেন। আর খোদায়ী রাহবারগণ তো সেই মহৎ লক্ষ্যকে সমাজে বাস্তবায়ন করতেই প্রেরিত। তাদের
সামনে যখন দুটি রাস্তা উন্মোচন হয় তখন বাধ্য হয়ে একটি ত্যাগ করে অন্যটিকে বেছে নেন এবং নিজের মিশন বা অভিসন্ধিকে বাঁচানোর তাগিদে রাহবারত্বকে বিসর্জন দিয়ে দেন; কেননা এ ক্ষেত্রে মাকামের চেয়ে পবিত্র লক্ষ্যই
অগ্রাধিকার রাখে।
মুত্তাকিনদের মাওলা ইমাম আলী (আঃ) পয়গাম্বর (সাঃ) এর ওফাতের পর পরই ঠিক এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হোন। মানুষ যেভাবে কচি চারা গাছকে অতিযত্নে লালন করে ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে তার শাখা প্রশাখা,
ফল ফলাদি, শীতল ছায়া দ্বারা উপকার ভোগ করতে পারে তদ্রুপ মহানবী (সাঃ) ইমাম আলী (আঃ)কে লালন পালন করেন যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তার পবিত্র অস্তিত্ব থেকে লাভবান হতে পারে। ইমাম মহানবীর (সাঃ) মৃত্যুর
পর পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পারলেন যে যদি খেলাফতকে হস্তগত করা হয় তাহলে এমন জটিলতার উদয় হবে যে পয়গাম্বরের পবিত্র মিশন যা তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তা বিফলে যাবে।
পূর্ব শত্রুতা ও বিদ্বেষঃ
তৎকালীন ইসলামি সমাজ ব্যবস্থার দুরাবস্থা এবং মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ বিসম্বাদের ফলে মুসলমানদের মধ্যে চরম আক্রোশ ও রক্তারক্তি শুরু হয়। মদিনার ও বাহিরের অধিকাংশ সমপ্রদায় ইমাম আলী (আঃ)
এর প্রতি ছিল নির্দয়। তারা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আলী (আঃ) এর উপর আক্রোশে ফেটে পড়ে। কারণ এসকল গোত্রের লোকদের পূর্বপুরুষদের তিনি কুফরের পক্ষে অবস্থান করার জন্য শায়েস্তা করেন এবং বিভিন্ন
যুদ্ধক্ষেত্রে ইমামের হাতেই তারা নিহত হোন। যদিও সে সকল মুশরিকদের পরবর্তী প্রজন্ম ইসলামের সাথে বাহ্যিক বন্ধন তৈরি করে কিন্তু মনে মনে চরম বিদ্বেষ লালন করে আসছিল। আর এমতাবস্থায় যদি ইমাম নিজের শক্তিমত্তা
দিয়ে লড়াই করে স্বীয় অধিকারকে ছিনিয়ে আনতেন তাহলে এ লড়াই থেকে নিম্নের ফলাফল বের হয়ে আসতঃ
১। এ লড়াইয়ে নিজের অধিকাংশ প্রিয় সাথীদের হারাতে হত। তারা মাওলার জন্য মৃত্যুকে বরণ করলেও বিনিময়ে ইমামের হক ফিরিয়ে আনা সম্ভব হত না।
২। শুধু বিশ্বস্থ সাথীদের শাহাদতই নয় বরং বানী হাশিম ও প্রিয় ব্যক্তিদের আন্দোলনের কারণে পয়গাম্বরের সাহাবাদের মধ্যে যারা আলীর খেলাফতকে মানতে পারেনি তারা কখনো তাঁর কাছে মাথা নত করত না। ফলে মুসলমান সমাজ
নড়বড়ে হয়ে যেত। সাহাবীদের মধ্যে যদিও আলীর রাহবারিত্বকে অনেকে মানতে নারাজ ছিল; কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে তারা ইমামের সাথে ঐক্যমত ছিল।
৩। মুসলমানদের ঈমানী দূর্বলতার কারণে অন্যান্য প্রদেশে যাদের মধ্যে সবেমাত্র ইসলামের ছোঁয়া লেগেছিল তারাও ইসলাম বিদ্বেষী ও মুর্তাদদের সাথে যোগদান করে। তারা এক কাতারে শামিল হয় এবং সমাজের সঠিক দিকনির্দেশক না
থাকার ফলে তাদের মাঝ থেকে তাওহীদের চেরাগ চিরদিনের জন্য খামোশ হয়ে যেত। ইমাম আলী (আঃ) এমন একটা তিক্ত ভয়ানক পরিস্থিতিকে অতি কাছে থেকে অবলোকন করে নিরব থাকাটাই মঙ্গলজনক মনে করেন।
বিষয়টি আরো ভাল হবে যদি তা ইমামের জবান থেকে শ্রবণ করি।
আব্দুল্লাহ ইবনে জুনাদা বলেন, আমি আলী (আঃ) এর ক্ষমতায় আরোহণকালে একদিন মক্কা থেকে মদিনায় আসলাম। দেখলাম যে, জনতা মসজিদে পয়গাম্বরে একত্রিত হয়েছে এবং ইমামের প্রতীক্ষায় বসে আছে। ইমাম একটি
তরবারী সাথে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। সকলেই তার প্রতি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ পর তিনি মিম্বারে উঠে আল্লাহর স'তি গাওয়ার পর সবাইকে সম্বোধন করে বলেন, সাবধান হও হে জনমন্ডলী! পয়গাম্বরের
ওফাতের পর তোমাদের উচিত ছিল তিনি হুকুমাতের জন্য যাকে নির্বাচিত করে ছিলেন তার ব্যাপারে বিরোধীতা না করা। কেননা, আমরাই মহানবীর উত্তরসূরি, আহলে বাইয়াত। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো কুরাইশদের মধ্যে
একটি দল আমাদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে, খেলাফতকে আমাদের কাছ থেকে ছিনতাই করেছে এবং তা নিজেরদের কাছে রাখতে চেয়েছে। আল্লাহর কসম! যদি মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকত বা ইসলাম
থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় না থাকত অথবা ইসলাম নিঃশ্বেষ হওয়ার উপত্রুম না হত তবে তোমরা আলীর ভিন্ন রুপ দেখতে। (শারহে নাহজুল বালাগা ইবনে আবিল হাদীদ, খ.১, পৃ. ৩০৭)
মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করা ও ঐক্য বজায় রাখা ছিল ইমামের একটি মহান লক্ষ্য। তিনি ভাল করে জানতেন যে এই ঐক্যের কারণেই মহানবীর (সাঃ)আমলে স্বৈরবাদীদের ভীত নড়বড়ে হয়েছিল এবং ইসলামের বিকাশ ও
অগ্রগতি সম্ভব হয়েছিল। সুতরাং যদি এই বন্ধন ক্ষমতার জটিলতার কারণে বিনষ্ট হয় তাহলে মুসলমানরা এখতেলাফের মধ্যে নিমজ্জিত হবে। তাছাড়া কুরাইশদের মধ্যে যে দলটি ইসলামের অমঙ্গল চেয়েছিল তারা একটি অজুহাতে
ইসলামের মূলে আঘাত হানার অপচেষ্টা করবে।
সমস্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইমাম আলী (আঃ) কেন নিরবতাকেই যুদ্ধের উপর প্রাধান্য দিলেন তা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। একজন কবি বিষয়টি তার কবিতার চরণে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। যার অনুবাদ হলোঃ
আমি কখনো চিন্তাও করতে পারিনি উম্মতের নেতৃত্ব খান্দানে হাশিম ও আবুল হাসানের কাছ থেকে ছিনতাই করা হবে।
আলী কি প্রথম পুরুষ নন যিনি কেবলার দিকে নামাজ আদায় করেছেন? তিনি কি কোরআন ও সুন্নাতে তোমাদের চেয়ে জ্ঞানী নন? তিনি কি মহানবীর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন না? তিনি কি প্রত্যেকটি সমরে পয়গাম্বরকে সাহায্য করেননি?
সিফফিনের যুদ্ধে বানী আসাদের এক ব্যক্তি ইমামকে জিজ্ঞাসা করেন, কুরাইশগণ কিভাবে আপনার মত ব্যক্তিকে খেলাফত থেকে বঞ্চিত করলো? ইমাম তার এই অসময়ে প্রশ্ন করার জন্য অসন্তষ্ট হলেন কারণ অনেক ইমামের
পক্ষাবলম্বনকারী সিপাহীরা অন্য খলিফাদের উপর বিশ্বাস করত। তার এহেন প্রশ্নের কারণে তাদের সারিতে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। ইমাম ব্যথিত হৃদয়ে বলেন, পয়গাম্বরের প্রতি অনুরাগের কারণে এবং যেহেতু প্রত্যেক মুসলমান প্রশ্ন করার
হক রাখে তাই তোমাকে এ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলব উম্মতের পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের হাতেই ছিল এবং আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মহানবীর সাথে। কিন্তু একদল কৃপণতা প্রকাশ করল এবং একদল চোখ বন্ধ করে রাখল।
তাদের ও আমাদের মাঝে ফয়সালা দান করবে আল্লাহপাক এবং আমরা সকলেই তার কাছে ফিরে যাব।

পরিশেষে বলব, এ ধরনের আরো বহু কারণ বিদ্যমান ছিল যার কারণে ইমাম ইসলাম রক্ষার্থে নিজের অধিকার থেকে হাত গুটিয়ে নেন এবং প্রায় পঁচিশ বছর নিরব থেকে বুক ভরা বেদনা নিয়ে দিনাতিপাত করেন

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

হযরত আবুল ফযল আব্বাস (আ.)-এর শাহাদাত : পানি যেন চিরকাল লজ্জিত তাঁর কাছে! বর্ণনাকারী বলেন,ইমাম হুসাইন পিপাসায় কাতার হয়ে ফোরাতের তীরে উপস্থিত হলেন। সাথে রয়েছেন তার (সৎ) ভাই আব্বাস। ইবনে সা’দের বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ল দু’জনের ওপর। তাদের পথ বন্ধ করল। বনী দারাম গোত্রের এক দুরাচার আবুল ফযল আব্বাস-এর দিকে তীর নিক্ষেপ করলে তা তাঁর পবিত্র মুখে বিদ্ধ হয়। ইমাম হুসাইনই তা টেনে বের করে নেন,তার হাত রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। তিনি সেই রক্ত ছুড়ে ফেলে বললেন : ‘হে আল্লাহ ! এ জনগোষ্ঠী তোমার নবী নন্দিনীর সন্তানের ওপর এ জুলুম চালাচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে তোমার দরবারে বিচার দিচ্ছি। ইবনে সা’দের বাহিনী মুহূর্তের মধ্যে ইমাম হুসাইনের কাছ থেকে হযরত আব্বাসকে ছিনিয়ে নেয়। চতুর্মুখী আক্রমণ ও তরবারির সম্মিলিত আঘাতে হযরত আব্বাস শহীদ হন। তাঁর শাহাদাতে ইমাম হুসাইন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কবি তাই তো বলেছেন : ‘‘কতই না উত্তম ব্যক্তি –যার জন্য ইমাম হুসাইন কারবালার এ কঠিন মুসিবতের সময়ও কেঁদেছেন। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (সৎ) ভাই,তার বাবা ছিলেন আলী, তিনি তা আর কেউ নন রক্তাক্ত বদন আবুল ফযল আব্বাস। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের সহমর্মী,কোনো কিছুই তাকে এপথ থেকে সরাতে পারেনি। প্রচণ্ড পিপাসা নিয়ে ফোরাতের তীরে পৗছেন,কিন্তু ইমাম হুসাইন যেহেতু পান করেননি তিনিও তাই পানি মুখে নেননি।’অন্য কবি বলেন : ‘মুষ্টির মাঝে পানি নিলেন, মনভরে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করবেন কিন্তু যখনই ইমাম হুসাইনের পিপাসার কথা মনে পড়লো, হাতের মুঠোর পানিতে অশ্রু ফেলে ফিরে আসলেন।’হযরত আবুল ফযল আব্বাস-এর এ মহান আত্মত্যাগ সকল লেখক, চিন্তাশীলের দৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ।আল্লামা মজলিসী তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বিহারুল আনওয়ার’-এ লিখেছেন,‘হযরত আব্বাস ফোরাতের তীরে গেলেন। যখনই অঞ্জলি ভরে পানি পান করতে চাইলেন তখন হঠাৎ ইমাম হুসাইন ও তার আহলে বাইতের পানির পিপাসার যন্ত্রণার কথা মনে পড়ল। তাই তিনি পানি ফোরাতেই ফেলে দিলেন,পান করলেন না।’আরেকজন কবি বলেন : ‘আবুল ফযল আব্বাস তার সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণ ইমাম হুসাইনের জন্যই উৎসর্গ করেছেন। ইমাম হুসাইন পান করার পূর্বে তিনি নিজে পান করলেন না। মানুষের কর্মের সর্বোত্তম কর্ম ও মূল কাজই তিনি করলেন। আপনি তো গৗরবের দিবসে রাসূলের দুই নাতির ভাই, আর আপনিই তো পানি পানের দিবসে করেছেন আত্মত্যাগ, হে আবুল ফযল!’পানি টলটলায়মান, বাদশাহ তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত,উদ্যম তার অন্তরে হাতে রয়েছে পানির মশক,মুর্তাযার সিংহ শাবককে হামলা করলো এমনভাবেএ যেন অগণিত নেকড়ের মাঝে এক বাঘ।এমন একটি বদন কেউ দেখেনি যাতে কয়েক হাজার তীর,এমন একটি ফুল কেউ দেখেনি যাতে রয়েছে কয়েক হাজার কাঁটা। শেইখ মুফীদ তার ‘ইরশাদ’-এ এবং শেইখ তাবারসি তার ‘আ’লামুল ওয়ারা’-তে বলেছেন যে, সেনাবাহিনী ইমাম হুসাইনকে (আ.) আক্রমণ করলো এবং তার সৈন্যদের ছড়িয়ে দিলো এবং তাদের পিপাসা বৃদ্ধি পেলে ইমাম তার ভাই আব্বাস (আ.) কে নিয়ে ফোরাতের দিকে ঘোড়া ছোটালেন। উমর বিন সা’আদের বাহিনী তাদের পথ আটকে দিলো এবং বনি দারিম থেকে এক ব্যক্তি তাদের উদ্দেশ্যে বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, ফোরাতের দিকে তাদের রাস্তা বন্ধ করে দাও যেন তারা সেখানে পৌঁছতে না পারে।” ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” সে ক্রোধান্বিত হলো এবং ইমামের দিকে একটি তীর ছুঁড়ে মারলো যা তার থুতনি ভেদ করলো। ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং নিজের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন। এতে তার হাত রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে অভিযোগ করছি তারা কী আরচণ করছে তোমার রাসূলের (সা.) কন্যার সন্তানের সাথে।” এরপর তারা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ফিরে এলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী হযরত আব্বাস (আ.) কে ঘেরাও করে ফেললো এবং ইমাম হুসাইন (আ.) থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। আব্বাস একা একা যুদ্ধ করলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন। যায়েদ বিন ওয়ারখা হানাফি এবং হাকীম বিন তুফাইল তাঈ’ যৌথভাবে তাকে হত্যা করে তাকে বেশ কিছু আঘাতে আহত করার পর এবং তার নড়াচড়া করার মত শক্তি আর ছিলো না। সাইয়েদ ইবনে তাউস কিছুটা একই রকম বর্ণনা দিয়েছেন। হাসান বিন আলী তাবারসি বর্ণনা করেন যে, (বনি দারিম গোত্রের) অভিশপ্তের তীরটি ইমাম হুসাইন (আ.) এর কপালে বিদ্ধ হয় এবং আব্বাস তা তুলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী বর্ণনাটিই বেশী পরিচিত। তাবারি বর্ণনা করেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ বিন সায়েব থেকে, তিনি ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বিন নাবাতাহ থেকে যিনি বলেছেন, (কারবালায়) ইমাম হুসাইন (আ.) শহীদ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলো এমন একজন আমাকে বলেছে যে, যখন হোসেইনের সেনাদল প্রাণ হারালো তিনি তার ঘোড়ায় চড়লেন এবং ফোরাত নদীর দিকে গেলেন। বনি আবান বিন দারিম গোত্রের এক লোক বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, তার এবং ফোরাত নদীর মাঝখানে অবস্থান নাও যেন তার শিয়ারা (অনুসারীরা) তার সাথে যুক্ত হতে না পারে।” তিনি ঘোড়া ছোটালেন এবং সেনাবাহিনীও তাকে অনুসরণ করলো এবং ফোরাত নদীতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলো। ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” আবানি লোকটি একটি তীর ছুঁড়লো যা ইমামের থুতনি ভেদ করলো, ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং তার হাতের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন, যা রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অভিযোগ করি কী আচরণ তারা করছে আপনার রাসূল (সা.) এর কন্যার সন্তানের সাথে।” আল্লাহর শপথ, বেশী সময় যায় নি যখন আমি দেখলাম তার (আবানি লোকটির) প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়ে বসলো এবং কখনোই নিবারণ হলো না। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ আরও বলেন যে, আমি তার সাথে ছিলাম যে বাতাস করছিলো তাকে (আবানি লোকটিকে) এবং একটি মিষ্টি শরবত, এক জগ দুধ ও পানি রাখা ছিলো। সে বলছিলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর। তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” এক জগ অথবা এক কাপ পানি যা তার পরিবারের তৃষ্ণা মিটাচ্ছিলো, তাকে দেয়া হলো, সে তা পান করলো ও বমি করলো। এরপর কিছু সময় ঘুমালো। এরপর আবার সে বলতে শুরু করলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর, আমাকে পানি দাও, তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” আল্লাহর শপথ এ রকম কোন দৃশ্য এর আগে দেখা যায়নি এবং তার পেট উটের মত ফেটে গেলো। ইবনে নিমার বর্ণনা অনুযায়ী এই লোকটির নাম ছিলো যারাআহ বিন আবান বিন দারিম। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি থেকে যে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) কে দেখেছিলো, তিনি একটি খাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নদীর তীরের কাছেই, ফোরাত নদীতে যাওয়ার জন্য এবং আব্বাস ছিলেন তার সাথে। সে সময় উমর বিন সা’আদের জন্য উবায়দুল্লাহর চিঠি এসে পৌঁছায় যাতে লেখা ছিলো, “হুসাইন ও তার সাথীদের জন্য পানি সরবরাহ বন্ধ করে দাও এবং তাদেরকে এক ফোটাও স্বাদ নিতে দিও না।” উমর বিন সা’আদ পাঁচশত লোক দিয়ে আমর বিন হাজ্জাজকে পানির কাছে পাঠালো। আব্দুল্লাহ বিন হাসীন আযদি উচ্চকণ্ঠে বললো, “হে হুসাইন, তুমি কি দেখছো পানি বইছে বেহেশতের মত? আল্লাহর শপথ, তুমি এ থেকে এক ফোঁটাও পাবে না যতক্ষণ না তুমি ও তোমার সাথীরা তৃষ্ণায় ধ্বংস হয়ে যাও।” যারা’আহ বিন আবান বিন দারিম বললো, “তার ও ফোরাত নদীর মাঝে অবস্থান নাও।” এরপর সে একটি তীর ছোঁড়ে ইমামের দিকে যা তার থুতনিতে বিদ্ধ হয় এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ তাকে তৃষ্ণায় মরতে দাও এবং কখনোই তাকে ক্ষমা করো না।” ইমাম (আ.) এর জন্য এক পেয়ালা পানীয় আনা হলো কিন্তু তিনি তা পান করতে পারলেন না অনবরত রক্ত ঝরার কারণে। তিনি রক্তকে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন, “একইভাবে আকাশের দিকে।” শেইখ আব্দুস সামাদ বর্ণনা করেন আবুল ফারাজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন জওযি থেকে যে, এর পরে আবানি ব্যক্তিটি (যারআহ) পাকস্থলি পোড়া এবং ঠাণ্ডা পিঠের রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো এবং চিৎকার করতো। ‘উমদাতুত তালিব’-এর লেখক আব্বাস (আ.) এর সন্তানদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে, তার (আব্বাসের) কুনিয়া ছিলো আবুল ফযল এবং উপাধি ছিলো সাক্কা (পানি বহনকারী)। তাকে এ উপাধি দেয়া হয়েছিলো কারণ তিনি তার ভাইয়ের জন্য আশুরার দিন পানি আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই শহীদ হয়ে যান। তার কবরটি (ফোরাত) নদীর তীরে তার শাহাদাতের স্থানেই আছে। সে দিন তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (আ.) পতাকাবাহী। আবু নসর বুখারি বর্ণনা করেছেন মুফাযযাল বিন উমার থেকে যে, ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) বলেছেন, “আমার চাচা আব্বাস ছিলেন বুদ্ধিমান এবং তার ছিলো দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম হোসেইনের) সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং মুসিবতের ভিতর দিয়ে গেছেন শহীদ হওয়া পর্যন্ত। বনি হানিফা তার রক্তের দায়ভার বইছে। তিনি ছিলেন চৌত্রিশ বছর বয়েসী যখন তাকে হত্যা করা হয়। তার এবং উসমান, জাফর এবং আব্দুল্লাহরও মা ছিলেন উম্মুল বানীন, যিনি ছিলেন হিযাম বিন খালিদ বিন রাবি’আর কন্যা।

ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏কে কারা হত্যা করেছে? – ‏৩(ওহাবি, ‏নাসেবীদের ও আহলে সুন্নাহদের প্রপাগন্ডার জবাব)৪) ‏ইমাম হুসাইন আঃ ও তার সাথীদের ও নবী পরিবারের হত্যায় ইয়াজিদ, ‏সাহাবা, ‏সাহাবাদের পুত্ররা ও উসমানের ধর্মের লোকেরা সহ কারা জড়িত ছিল তার প্রমাণ। এই সব হত্যাকারিদের সাথে আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীদের সখ্যতা।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার কারিদের পরিচয়ঃ এর আগে উল্লখে করা হয়েছে যে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াদকে চিঠি লিখে মুহাম্মাদ বিন আকীলে হত্যা করার কথা বলেছিল। সেই মত ইবনে যিয়াদ তদন্ত্ব চালিয়ে মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করেঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখানে আমরা দুজনের নাম পেলাম যারা ইমাম হুসাইনের সাথি মুসলিম বিন আকীলের বিরুদ্ধে ইবনে যিয়াদের সেনা/পুলিশ ছিল, ‏১) ‏আমর বিন হারিস আল মাখযুমি ২) ‏মুহাম্মাদ বিন আশাসআমর বিন হারিস আল মাখযুমি কে?এখানে আমরা যে নতুন নাম পেলাম সে হল আমর বিন হারিস আল মাখযুমি যে কিনা কুফার পুলিশ প্রধান ছিল, (মুহাম্মাদ বিন আশাসের নাম আগেও এসেছে পরে এই ব্যাক্তির পরিচয় দেওয়া হবে) ‏এবং ইবনে আকীলের গ্রেফতারে প্রধান ভুমিকা রাখে।এই আমর বিন হারিস আল মাখযুমি একজন সাহাবী ছিলেন।যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ৪১৮ এ উল্লেখ করেছেঃكان عمرو من بقايا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين كانوا نزلوا الكوفة… له صحبة ورواية.“আমর বিনকে রাসুল সাঃ এর সাহাবীদের মধ্যে গন্য করা হয় এবং সে কুফার অভিবাসী হয়ে যায়…… ‏সে সাহাবী এবং রাসুল সাঃ এর থেকে বর্ননা করেছেন”।সাহাবীদের ও অন্যান্যদের জীবনীর উপরে ইবনে আসীরের লেখা বিখ্যাত কেতাব ‎‘উসুদুল গাবা’ ‏এর খন্ড ৪ পাতা ৯৮ এ আমর বিন হারিসের কথায় উল্লেখ করেছেনঃوولي لبني أمية بالكوفة وكانوا يميلون إليه ويثقون به وكان هواه معهم“তাকে বনি উমাইয়ারা নিয়োগ করেছিল কুফাতে, ‏তারা তাকে বিশ্বাস করত”।অনুরুপ ভাবে যাহাবি তার ‎‘আল কাশিফ’ ‏এর খন্ড ২ পাতা ৭৪, ‏৪১৪০ নং জীবনীতে, ‏ইবনে হাজর তার তাহযিব আত তাহযিব এর খন্ড ১ পাতা ৭৩২ এ জীবনী নং ৫০২৪ এ আমর বিন হারিসকে সাহাবী হিসাবে গননা করেছেন।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার ও লড়াইয়ের মুল হোতা আহলে সুন্নার কাছে অতি সম্মানিয় ব্যাক্তি। আহলে সুন্নাহ এনার থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তার হাদিস আহলে সুন্নাহর প্রধান প্রধান কেতাবে দেখা যায় যেমনঃ১) ‏সহিহ বুখারি।২) ‏সহিহ মুসলিম।৩) ‏সুনান আবু দাউদ।৪) ‏সুনান তিরমিযি।৫) ‏সুনান আন নাসাঈ।৬) ‏সুনান ইবনে মাজা।মুসতাদরাক আল হাকিম, ‏তাবারানি, ‏মুসনদে ইমাম আহমাদ আরো অনেক হাদিসের কিতাবে।মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করার সময় অস্ত্রের যুদ্ধ হয় এবং তাতে মুসলিম বিন আকীল ঘায়েল হয়ে যান এবং তাকে গ্রফতার করা হয়ঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৫ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃ“ ‏ঐতিহাসিকগন বলেন, ‏মুসলিম বিন আকীল যখন কুফার প্রশাসকের প্রাসাদদ্বারে পৌঁছল, ‏তখন সাহাবাদের ছেলেগনদের মধ্য থেকে তাঁর পরিচিত একদল আমির উমারা ছিলেন। ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের অনুমতির জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে মুসলিম গুরুতর আহত তাঁর মুখমণ্ডল ও কাপড় চোপড় রক্তে রঞ্জিত তিনি ভীষন পিপাসার্ত আর এই সময় সেখানে এক কলস ঠান্ডা পানি ছিল। তা থেকে পান করার জন্য তিনি কলসিটা ধরতে চাইলেন, ‏তখন তাদের এক ব্যাক্তি বলল ‎‘আল্লাহর কসম! ‏জাহান্নামের তপ্ত পানি পান করার পুর্বে তুমি তার থেকে পান করবে না’। তখন তিনি তাকে বললেন ‎‘তোমার সর্বনাশ হোক! ‏হে বাচ্চা! ‏আমার থেকে তুমি জাহান্নামের তপ্ত পানি এবং সেখানে চিরস্থায়ী হওয়ার বেশি উপযুক্ত’”।উপরের রেফারেন্স থেকে বোঝা গেল যে সাহাবী ও সাহাবীদের ছেলেপুলেরা কিভাবে ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দুত মুসলিম বিন আকীলের হত্যায় জড়িত।যেসব সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের নাম ইবনে কাসীর উল্লেখ করেননি, ‏কিন্তু তাবারিতে নাম পাওয়া যায় যেমন, ‏কাসীর বিন শাবিবাহ বিন আল হুসাইব আল হারিসি। ইবনে সাদ তার তাবাকাত এ এই তাবেই সমন্ধে উল্লেখ করেছেন ‎“সে উমার বিন খাত্তাব থেকে বর্ননা করেছে এবং সে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের গভর্নর ছিল’। ‎(খন্ড ৪ পাতা ১০৪)উপরের দলিল থেকে প্রমাণিত হল যে সাহাবা ও সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর সাথিদের হত্যায় জড়িত ছিল।উসমানের ধর্মের লোকেরা ইমাম হুসাইন আঃ ও তাঁর সাথিদের হত্যাকান্ডে জড়িতএ বিষয় প্রমানের জন্য সরাসরি কারবালার যুদ্ধ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং এক এক পক্ষ থেকে একজন একজন করে যুদ্ধ হচ্ছিল তখন হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দল থেকে নাফি বিন হিলাল বার হয়ে এসে বললেনঃ“আমি জামালি, ‏আলী আলির ধর্মে বিশ্বাস করি’।মুজাহিম আল হুরাইস নামে একজন বার হয়ে হুংকার ছাড়ল ‎‘আমি উসমানের ধর্ম অনুসরণ করি’।নাফি উত্তর দিল ‎‘বরং তুই শয়তানের ধর্ম অনুসরণ করিস’। আর পরে সে ‎(নাফি) ‏তাকে আক্রমণ করল ও হত্যা করল’। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৩৬,১৩৭)ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মোমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা): “হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল”।ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩৬৫ ইঃফা): “ইবনে যিয়াদ আল হারমাযুনের গভর্নরের আমর ইবনে সায়ীদের কাছে হুসাইনের নিহত হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে পত্র প্রেরণ করলো সে একজন ঘোষকে ডেকে এই খবর ঘোষনা দিল। বনূ হাসিমের মেয়েরা যখন এই সংবাদ শুনল তারা উচ্চস্বরে কান্না বিপাল করতে লাগলো। তখন আমর বিন সায়ীদ বলতে লাগলো এই হল উসমান বিন আফফানের শোকে বিলাপকারীণিদের বদলা”।সুতরাং ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর হত্যাকে উসমানের হত্যার বদলা নেওয়া হিসাবে দেখা হয় এবং উসমানীদের বা উসমানের শিয়া বা অনুসরণকারিদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়।ইবনে তাইমিয়া তার ‎“মিনহাজ আস সুন্নাতে’ “যদি নাসেবী ইবনে সাদকে উসমানী বলা হয়, ‏সেটা এইজন্য যে উসমানের জন্য তার প্রতিশোধ নেওয়া ও তাকে প্রশংসা করার জন্য”।ইবনে তাইমিয়া আর উল্লখে করেছে ‎وقد كان من شيعة عثمان من يسب عليا ويجهر بذلك على المنابر“উসমানের শিয়ারা প্রকাশ্যে মিম্বার থেকে আলিকে গালি দিত”।মুহাম্মাদ বিন আশাস ‎/ ‏আশআস কে?এর আগে বেশ কয়েক বার এই নাম উল্লেখ হয়েছে এখানে আর একবার রিভিশন করা হল।কুফায় এসে ইবনে যিয়াদ সরকারি পুলিশদের নির্দেশ দেয় যে মুসলিম বিন আকিলকে সহ তার সাহায্যকারিদের গ্রেফতার করার জন্য। এই কাজের জন্য ইয়ামানি গোত্র প্রধান কাসির বিন শিবাব ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে ভার দেয়। তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ৪৯;“কাসীর, ‏কালব গোত্রের একজনের সাথে দেখায় পায় যার নাম আবদুল আলা বিন ইয়াজিদ। সে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল মুসলিম বিন আকীলের ও অন্যান্য যুবকদের সাথে যুক্ত হতে। কাসীর তাকে পাকড়াও করে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে গেল এবং এই ব্যাক্তির ব্যাপারে বলল, ‏কিন্তু লোকটা বলল যে সে তার কাছে আসছিল। ইবনে যিয়াদ বলল, ‘নিশ্চই নিশ্চই! ‏আমার মনে পড়েছে তুমি আমকে এই ব্যাপারে ওয়াদা করেছিলে’! ‏ইবনে যিয়াদ তাকে গারদে দিতে বলল।মুহাম্মাদ বিন আশাস বনু উমারাহ গোত্রের ঘরদের দিকে গেল। উমারাহ বিন সালখিন আল আজদি তার কাছে এলো, ‏সে অস্ত্র নিয়ে ইবনে আকীলের কাছে যাচ্ছিল। মুহাম্মাদ বিন আশাস তাকে ধরে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠাল, ‏ইবনে যিয়াদ তাকে কারাগারে দিল”।‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখন আমরা দেখবো যে আহলে সুন্নাহরএই পুর্বপুরুষ মুহাম্মাদ বিন আশাস ও আহলে সুন্নাহর মধ্যে আঁতাত। যথারীতি আহলে সুন্নাহর ধর্মগুরু এই আহলে বাইত আঃ এর শত্রু। এর থেকে হাদিস শিক্ষা নিয়েছে আহলে সুন্নাহ আর অনেক ধর্ম গুরু। আমরা এই ব্যাক্তির হাদিস পাই নিম্নোক্ত হাদিসের কেতাব গুলিতেঃ১) ‏মুয়াত্তা এ ইমাম মালিক।২) ‏সুনানে ইমাম নাসাই।৩) ‏মুসনদে ইমাম হাম্বল।৪) ‏সুনান কুবরা, ‏বাইহাকী।মুসলিম এই ব্যক্তির নাতিপুতির থেকে হাদিস বর্ননা করেছেন।রেজাল শাস্ত্রে ইমামগণ যেমন ইবনে হিব্বান তাকে তার শিকাত এ উল্লেখ করেছেন। ‎(তাহযিব আল কামাল, ‏খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬)।ইবনে হাজর আস্কালানী তার তাকরীব আত তাহযীব এ তাকে তাবেঈন বলে উল্লেখ করেছেন এবং যার হাদিস কবুল করা যায় বলেছেন ‎(মকবুল)। ‎(খন্ড ২ পাতা ৫৭, ‏জীবনী নং ৫৭৬০)।এই মুহাম্মাদ ইবনে আশাস আহলে সুন্নাহর বড় সাহাবী পরিবারের সাথে যুক্ত, ‏তাহযিব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৫ ‎“মুহাম্মাদ বিন আশাস বিন কায়েস আল কিন্দি আবুল কাসেম আল কুফি, ‏তাঁর মা উম্মে ফারাহ বিন আবি কুহাফা যে আবু বকরের বোন”।আহলে বাইতের এই শত্রুকে মুখতার হত্যা করে। তাহযীব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬قتله المختار سنة ست وستين“আল মুখতার তাকে ৬৬ সনে হত্যা করে”।প্রসঙ্গত একটা কথা পাঠকদের বলে রাখি সে এই মুখতার রহঃ কে আহলে সুন্নাহরা গালি দেয় নামে পরে কাজ্জাব লেখে এবং নিন্দা মন্দ করে। অথচ ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏হত্যায় জড়িত প্রায় সব লোকদের এই মুখতার হত্যা করে। সেই কারনেই হয়ত মুখতারের মত লোককে আহলে সুন্নাহ দেখতে পারে না। অথচ মুখতার তাবেঈ ছিল ও সাহাবীর ছেলে ছিল। পরে ইনশাল্লাহ এই বিষয় আর আলোচনা করা হবে। হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের যে ব্যাক্তি সাজা দিয়েছে আহলে সুন্নাহর কাছে সেই মুখতার একজন জগন্য লোক ও মিথ্যাবাদী। এটাও প্রমান করে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের প্রতি আহলে সুন্নাহর মুহাব্বাতও আত্মিক একাত্ব।উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাসউমার বিন সাদ হচ্ছে বিখ্যাত সাহাবী সাদ ইবনে আবি ওক্কাস এর পুত্র। সে সাদ বিন আবি ওক্কাস উমার বিন খাত্তাবের দ্বারা গঠিত খলিফা কমিটির একজন সদস্য ছিলেন ও খলিফা হওয়ার প্রার্থী ছিলেন।এই উমার বিন সাদ কারবালায় ইয়াজিদের বাহিনীর সেনাপতি ছিল। এই উমার বিন সাদ যে ইয়াজিদকে চিঠি লিখেছিল যে কুফার গভর্নর নুমান বিন বাসীর দুর্বল লোক। এই উমার বিস সাদকে ইয়াজিদ তার চিঠিতে লিখেছিল যে আমার শীয়া। অর্থাৎ এই উমার বিন সাদ ইয়াজিদের শীয়া ছিল।তখন কুফায় ইয়াজিদের শীয়ারা ‎– ‏ইয়াজিদের দলের লোকেরা ইয়াজিদকে চিঠি লেখেঃ“মুসলিম বিন আকীল কুফায় এসেছে আর শীয়ারা হুসাইন বিন আলির হয়ে তার হাতে বায়াত করছে। যদি আপনি কুফানদের চান তবে একজন কঠিন লোককে এখানে পাঠান যে আপনার হুকুম তালিম করবে এবং ওই কাজ করবে ঠিক সেই ভাবে আপনি আপানার শত্রুদের প্রতি ব্যবহার করেন। নুমান বিন বাশীর একজন দুর্বল লোক বা দুর্বলের মত ব্যবহার করছে”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯, ‏পাতা ৩০)এই ধরনের চিঠি যা ইয়াজিকে কুফা থেকে আহলে সুন্নাহর মোতবার লোকেরা লিখেছিল তাদের নামঃ১) ‏আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন সাইদ আল হাযরামি ২) ‏আম্মারা বিন উকবাহ ৩) ‏উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৩০)ইয়াজিদ বসরা/কুফার গভর্নর ইবনে যিয়াদকে চিঠি লেখেঃ“কুফা থেকে আমার শিয়ারা আমাকে লিখেছে যে ইবনে আকীল কুফাতে অবস্থান করছে এবং লোকজন জড়ো করছে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্রোহ করার জন্য। সুতারং তুমি যখন আমার এই পত্র পড়বে কুফায় যাও ও ইবনে আকীলকে খোঁজ এমন ভাবে যেন তুমি দানা খুজছো এবং তাকে খুঁজে বার কর। তাকে চেন দিয়ে বাধো, ‏হত্যা করো কিংবা বিতাড়িত করো’। ‎( ‏তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ১৮ এবং ৩১)এই উমার বিন সাদই প্রথম ব্যাক্তি যে কারবালার যুদ্ধে প্রথম তীর ছোটে এবং বলে সাক্ষী থেকে আমি প্রথম তীর ছুড়েছি।বুখারি তার তারিখ আস সাগীর এর উল্লেখ করেছেনঃأبو المعلي العجلي قال سمعت أبي أن الحسين لما نزلكربلاء فأول من طعن في سرادقه عمر بن سعد“আবু মুয়ালি আল ইজলি তার পিতা থেকে বর্ননা করেছেন যে ‎“ ‏যখন হুসাইন কারবালায় এল, ‏উমার বিন সাদ প্রথম ব্যাক্তি ছিল যে তাবুগুলির দড়িগুলি কেটে দিয়েছিল”। ‎(বুখারি তারিখ আস সগীর, ‏খন্ড ১ পাতা ১৭৮)ইমাম যাহাবি তার বিখ্যাত বই সিয়ার আলাম আন নাবুলা এখন খন্ড ৪ পাতা ৩৪৯ঃ এ উল্লেখ করেছেনঃ“উমার বিন সাদ, ‏সেনাপতি ছিল হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী বাহিনীর, ‏অতপর মুখতার তাকে হত্যা করে’।কয়েক বছর পরে মুখতার রহঃ যখন ইবনে যিয়াদ কে তাড়ায় আর একে একে ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদেরকে হত্যা করে তখন এই উমার বিন সাদকেও হত্যা করে।এখন দেখা যাক আহলে সুন্নাহর সাথে এই লানত প্রাপ্ত লোকের সখ্যতা ও আহলে সুন্নাহ কেমন ভাবে এই তাদের এই মহান ব্যাক্তির থেকে হাদিস ও ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে।আহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত হাফেজ ইবনে হজর আস্কালানি তার ‎‘তাহযীব আত তাহযীবে’র খন্ড ৭ পাতা ৩৯৬ এ ৭৪৭ নং বায়োগ্রাফিতে উল্লেখ করেছেন।عمر بن سعد بن أبي وقاص الزهري أبو حفص المدنيسكن الكوفة.روى عن أبيه وأبي سعيد الخدري.وعنه ابنه ابراهيم وابن ابنه أبو بكر بن حفصابن عمر وأبو إسحاق السبيعي والعيزار بن حريث ويزيدبن أبي مريم وقتادة والزهري ويزيد بن أبي حبيبوغيرهم“উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস আল যুহুরি আবু হাফস আল মাদানি কুফার বাসিন্দা। সে তার পিতা ও আবু সাইদ আল খুদরি থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন। আর তার ছেলে ইব্রাহিম, ‏পৌত্র আবু বকর বিন হাফস বিন উমার, ‏আবু ইসহাক আল সাবেই, ‏আইজার বিন হারিস, ‏ইয়াজিদ বিন আবি মরিয়াম, ‏কাতাদা, ‏যুহুরি ও ইয়াজিদ বিন আবি হাবীব ও অন্যান্যরা তার থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে হাজর আস্কালানী তার ‎‘তাকরিব আত তাহযীবে’র খণ্ড ১ পাতা ৭১৭ এ উমার বিন সাদ ইবনে আবি ওক্কাসকে ‎‘সুদুক’ (সত্যাবাদী/বিশস্ত হাদিস বর্ননাকারী, ‏সত্যবাদী ধর্ম শিক্ষা দাতা) ‏সেই সাথে উল্লখে করেছেন যে হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে সেনার আমীর ছিল!عمر بن سعد بن أبي وقاص المدني نزيل الكوفة صدوقولكن مقته الناس لكونه كان أميرا على الجيش الذينقتلوا الحسين بن عليআহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের ইমামদের ইমাম আল ইজলি এর কথা ‎‘তাহযীব আল কামাল খন্ড ২১ পাতা ৩৫৭ এ ‎(বায়োগ্রাফি নং ৪২৪০) ‏এ আমার পড়িঃوقال أحمد بن عبدالله العجلي (2): كان يروي عن أبيهأحاديث، وروى الناس عنه.وهو الذي قتل الحسين، وهو تابعي ثقة.“আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল ইজলি বলেছেন ‎‘ ‏সে ‎(উমার বিন সাদ) ‏তার পিতা থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করত, ‏এবং জনগণ তার থেকে বর্ননা করেছে। এবং হুসাইনের কাতিলদের একজন, ‏এবং শিকা তাবেঈ’।পাঠকগন দেখুন আহলে সুন্নাহর মহান ইমামের কাছে এই ব্যাক্তি ‎‘শিকা’ ‏অর্থাৎ বিশস্ত!।সালাফি ওহাবি ও উমাইয়া মেন্টালিটির প্রিয় রেজাল ও ইতিহাসের ইমাম, ‏ইমাম যাহাবি তার কেতাব ‎‘মিযান আল এতিদাল’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ১৯৮ এ উমার বিন সাদ লানতি এর সমন্ধে লিখেছেনঃهو في نفسه غير متهم “ব্যাক্তিত্ব হিসাবে তাকে তিরস্কার করা হয় না”।এই লানতি ব্যাক্তি থেকে আহলে সুন্নাহর মুহাদ্দেসগন প্রবল ভাবে হাদিস নিয়েছেন। যেমনঃ১) ‏ইমাম নাসাই, ‏তার সুনান আন নাসাই এ। সালাফিদের গুরু আলবানি এই হাদিসকে সাহিহ ও বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন।৩) ‏আহলে সুন্নাহর ফেকার ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনদে একাধিক বার এই লানতির থেকে হাদিস নিয়েছেন।*আরও মজার ব্যাপার সালাফিদের প্রিয় মুহাদ্দিস সুয়াইব আরনাউত মুসনদে আহমাদের তাহকিকে এই হাদিস গুলির সনদ ‎‘হাসান’ (উত্তম) ‏বলে সার্টিফাই করেছেন। ‎(দেখুন রেসালা পাবলিকেশনের, ‏ওস্তাদ সুউয়াইব আরনাউত কতৃক তাহাকিক করা মুসনদে আহমাদের খন্ড ৩ এর হাদিস নং ১৪৮৭, ‏১৫৩১, ‏১৫৭৫)*আহলে সুন্নাহর মুহাক্কিক শেইখ আহমাদ শাকির তার তাহাক্কিক কৃত মুসনদে আহমাদ ‎(দারুল হাদিস, ‏কায়রো থেকে প্রকাশিত) ‏এই উমার বিন সাদ লানতির হাদিসকে সাহিহ সনদ বলেছেন। ‎(হাদিস নং ১৫১৯ দেখুন)সুতারং একথা সহজেই বোঝা যায় যে আহলে সুন্নাহের সাথে হুসাইন আঃ এর কাতিলদের কত ঘনিষ্ঠতা এবং এটাও প্রমান হয় যে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীরা কোন দলের। বরং সরাসরি প্রমান হয় এরা যে আহলে সুন্নাহর দলের ও আহলে সুন্নাহর পুর্বজও বটে। যাদের উপর আহলে সুন্নাহর শিক্ষাদীক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আছে।উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ বা উবাইদুল্লাহ ইবনে আবিহাইবনে যিয়াদের পরিচয় দেওয়া লাগবে না। ইবনে যিয়াদ লাঃ কুফা ও বসরার গভর্নর ছিল। ইয়াজিদের নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে বিরুদ্ধে যুদ্ধের সেনা পাঠায় এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ হত্যা করে।ইমাম হুসাইন আঃ মক্কা ছেড়ে কুফায় যাত্রা করছেন সেটার খবর পাওয়ার পরে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াকে চিঠি লেখেঃ ইবনে কাসীর ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ৩১২ ‎( ‏বাংলা ইঃফা)“আমার কাছে সংবাদ পৌঁছিয়েছে যে, ‏হুসাইন কুফা অভিমুখে রওনা হয়েছে, ‏এর ফলে আমার গভর্নরদের মধ্যে তুমি পরিক্ষার সম্মুখীন হয়েছো। এই পরিক্ষার ফলের উপর তোমার মুক্তি ও সম্মান লাভ নির্ভর করবে। কিংবা ক্রীতদাসের মত দাসত্ব ও অপমান বহন করবে। আর এই কারণেই ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে ও ইয়াজিদের কাছে তাঁর মাথা পাঠিয়ে দেয়”।ইবনে হজর আশকালানি তার ‎‘তাজিল আল মুনফ’আ বিজওয়াইদ রিজাল আল আইম্মাতুল আরবা’ ‏এর খন্ড ১ পাতা ৮৪০ এ উল্লেখ করেছেনঃعبيد الله بن زِيَاد أَمِير الْكُوفَة لمعاوية ولابنه يزِيد وَهُوَالَّذِي جهز الجيوش من الْكُوفَة للحسين بن عَليّ رضىالله تَعَالَى عَنْهُمَا حَتَّى قتل بكربلاء وَكَانَ يعرف بِابْنمرْجَانَة وَهِي أمه وَقد ذكر لَهُ بن عَسَاكِر فِي تَارِيخدمشق تَرْجَمَة وَجرى ذكره فِي سنَن أبي دَاوُد وَلم يترجملَهُ الْمزي وَمن تَرْجَمته أَنه ولد فِي سنة اثْنَتَيْنِ أَو ثَلَاثوَثَلَاثِينَ وروى عَن سعد بن أبي وَقاص وَمُعَاوِيَة وَمَعْقِلبن يسَار وَابْن أُميَّة أخي بني جعدة وروى عَنهُ الْحسنالْبَصْرِيّ وَأَبُو الْمليح بن أُسَامَة“… ‏সে উমাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ, ‏কুফার আমির ছিল মুয়াবিয়া ও তার ছেলে ইয়াজিদের তরফ থেকে এবং সে কুফা থেকে সেনা বাহিনী প্রস্তুত করেছিল হুসাইনের ‎(রাঃ) ‏এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য কারবালায় তার কতল পর্যন্ত।সে ইবনে মারজানা নামে পরিচিত ছিল আর সে ‎(মারজানা) ‏তার মা ছিল।ইবনে আসাকির তারিখে দামিস্কে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন আর সুনানে আবু দাউদে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে………………. ‏এবং সে সাদ ইবনে আবি ওক্কাস, ‏মুয়াবিয়া, ‏মাকেল বিন ইয়াসির এবং বানি জাদাহ এর ভাই ইবনে উমাইয়া থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছে এবং তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মুমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে যিয়াদ মুয়াবিয়ার খাস লোক ছিল ‎(এর আগেও প্রমান দেওয়া হয়েছে) ‏এবং মুয়াবিয়ার থেকে হাদিস বর্ননা করেছেঃ ইবনে কাসীর তার ‎‘আল বেদায়া ওয়া আন নেহায়া’তে ‎(খণ্ড ৮ পাতা ৫০৬ বাং)قال ابن عساكر وروى الحديث عن معاوية وسعد بن أبي وقاص ومعقل بن يسار ، وحدث عنه الحسن البصري وأبوالمليح بن أسامة“ইবনে আসাকির বলেছেন যে,সে ‎(উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ) ‏মুয়াবিয়া, ‏সাদ ইবন আবি ওক্কাস,মাকাল বিন ইয়াসির থেকে হাদিস বর্ননা করেছে,আর তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা বর্ননা করেছে”।আহলে সুন্নাহদের কাছে যেমন মুয়াবিয়া মহান ব্যাক্তি এই ইবনে যিয়াদের কাছেও মুয়াবিয়া তেমন মহান,আহলে সুন্নাহ তাদের হাদিস ধর্ম শিক্ষা এই লানতির থেকে নিয়েছে।নাসেবীদের জন্য আরও দলিল দেওয়া হল ঠিক যেমন আহলে সুন্নাহর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মুমিনিন ও ষষ্ট খলিফা ইবনে যিয়াদের লাঃ এর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মোমিনিন ও খলিফা। এটা প্রমান করে যে আহলে সুন্নাহও ইবনে যিয়াদের অনুসারী।ইবনে যিয়াদ, ‏আমর বিন সাদকে লেখেঃ ইবনে কাসীর(বেদায়া আন নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা)“হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যাবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল। আর হুসাইন ও তার সাথিদের আমিরুল মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বায়াতের জন্য প্রস্তাব দাও”।এর আগে দেখানো করা হয়েছে যে ইয়াজিদ খ্রিস্টান উপদেষ্টা স্যার জনের পরামর্শে ইবনে যিয়াদকে কুফার গভর্নরের দায়িত্ব আবার দেয়। উপরের দলিলাদি থেকে প্রমাণিত হয় যে ইবনে যিয়াদ উসমানী ছিল এবং উসমানকে আমিরুল মোমিনিন মানত, ‏ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ মানে, ‏মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন বলে মানত ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীরা মানে।আহলে সুন্নাহ যে ইবনে যিয়াদের উত্তর পুরুষ তা উপরের দলিল সমূহ থেকে প্রমাণিত হয়। শিমর বিন যুলজোশান আল মানুল লাঃশিমর বিন যুলজোশান ইমাম হুসাইন আঃ কে তার ধড় থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করে। আহলে সুন্নাহর এই শিমর বিন যুলজোশানকে নিয়ে মহা বিপদে আছে না পারে গিলতে না পারে উগরাতে। গলায় এমন ভাবে আটকিয়ে আছে যে আহলে সুন্নাহ আওয়াজ করেতে পারে না, ‏কিছু বলতে চাইলে গ্যা গোঁ আওয়াজ বার হয়। ফলে আহলে সুন্নাহর ওই আওয়াজ সুনে বলে যে শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আলির ‎(আঃ) ‏এর দলে ছিল ফলে সে শিয়া ছিল। এজন্য তারা একটা রেফারেন্স দেয়ঃআল কুম্মিয়ের কেতাব ‎‘সাফিনাতুন নাজাতের’ ‏খন্ড ৪ পাতা ৪৯২ তে আল কুম্মি লিখেছেন ‎“আমি বলি, ‏শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মোমিনিনের সেনা বাহিনীতে ছিল”।সুতরাং ইতিহাসিক ভাবে যেটা এসেছে, ‏শিমর লানাতুল্লাহ আলইহি সিফফিনের যুদ্ধে ইমাম আলী আঃ এর পক্ষে ছিলো। সুতরাং তাঁদের প্রোপ্যাগান্ডা যথারিতি শুরু!! ‏শিমর শিয়া ছিল, ‏শিমর শিয়া ছিল!!এই কথার জবাবঃ ১) ‏তালহা, ‏যুবাইর ইমাম আলী আঃ এর হাতে হাত রেখে বায়াত করেছিল। এখন যারা যে যুক্তিতে বলে শিমর শীআ ছিল তারা তালহা ও যুবাইরকে কি বলবেন? ‏শিয়া ‎?২) ‏যখন ইমাম আলী আঃ এর বায়াত হয় তখন যারাই ইমাম আলী আঃ কে মেনেছিল তারা পরবর্তী ইসলামে শাসক হিসাবে মেনেছিল, ‏তাঁদের মধ্যে সাধারণ লোক, ‏সুন্নি আকীদা এর লোক- ‏যারা আবু বকর উমার ও উসমানের খিলাফাতকে বৈধ মনে করে এবং শুধু মাত্র সাধারণ লোকজন ‎(যাদের কাছে কে খলিফা হল কোন যাই আসে না) ‏ও শীয়া আকীদার লোক ছিল-যারা ইমাম আলী আঃ কেই একমাত্র বৈধ খলিফা মনে করত। ‎(এ বিষয় প্রথম অধ্যায় আলোচনা বিশদ করা হয়েছে।) ‏সুতরাং ইমাম আলী এর হাতে বায়াত হলেই বা সিফফিনে আলী আঃ এর সেনা দলে থাকলেই যে সে শীয়া ছিল তার কোন প্রমান নেই।কেননা আহলে সুন্নার প্রচুর লোক আলী আঃ এর হাতে বায়াত হয়েছিল ও সিফফিনেও আলী আঃ এর সেনা দলে ছিল।৩) ‏৩৮ হিজরিতে যখন সিফফিনের যুদ্ধে যারাই ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল সবাই আকাইদ এ শীয়া ছিল না। রাষ্ট্র এর প্রধান হিশাবে ইমাম আলী আঃ এর দলে সুন্নি সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে বহু গোত্র ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল। শিমর ও ইমাম আলী আঃ এর দলে ছিল।৬১ হিজরিতে কারো দ্বারা অনুষ্ঠিত কাজ ৩৭/৩৮ হিজরিতে সেই ব্যাক্তি কোথায় ছিল সেটা দিয়ে বিচার হয় না। বহু লোক ধর্মপ্রান মুসলিম ছিল পরে নাস্তিক হয়ে গিয়েছে। এমন কি আল্লাহের রাসুল সাঃ এর এক ওহি লেখক ও মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।সুতারং শিমর ৬১ হিজরিতে কার দলের হয়ে কার নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করেছে সেটা বিবেচ্য। ৬১ হিজরিতে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে যিয়াদের চিঠি নিয়ে শিমর লাঃ কারবালায় আসে এবং ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করে।৪) ‏নাসেবীদের জন্য কাউন্টার প্রশ্নঃ নাসিবিরা যদি এক কথায়ে বলতে চায় যে সিফফিনে ইমাম আলী আঃ এর দলে যারা ছিল তারা শিয়া তবে মুয়াবিয়ার দলে কারা ছিল? ‏নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাহরা আর নাসিবিরা।আহলে সুন্নাহর খেলাফতি আকীদায় পরম্পরার দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে যে শিমর আহলে সুন্নাহর মাজহাবের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তি ছিল। আহলে সুন্নাহরা আবু বকর ‎,উমার, ‏উসমান ও আলি আঃ এর খিলাফাত মানে এবং তারপরে মুয়াবিয়াকে মানে এবং অতি উচ্চ ধরনা রাখে, ‏তার পরে ইয়াজিদেকে খলিফা/আমীর মানে এবং এর পরে উমাইয়া ও আব্বাসিদের তার পরে তুর্কিদের খলিফা হিসাবে মান্য করে।শিমর সিফফিনে আলী আঃ এর দলে ছিলে তার পরে মুয়াবিয়ার খিলাফত মান্য করে তার পরে ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন মানত।৫) ‏এখন আমি দেখাব শিমর এর মেলামেশা, ‏সখ্যতা কাদের সাথে ছিল। আহলে সুন্নার বড় বড় আলেম দের সাথে ছিল।ইমাম আবু ইশাক ‎(মৃঃ১২৯) ‏আহলে সুন্নাহর বড় মাপের তাবেই যার সম্বন্ধে সুন্নি রেজাল শাস্ত্রের ইমাম গনদের অন্যতম ইমাম যাহাবি তার সিয়ার আলাম আন নাবুলাতে লিখেছেনঃ ‎-“শেইখ, ‏আলেম, ‏কুফার মুহাদ্দিস ‎” (খণ্ড ৫ পাতা ৩৯২)তারিখে হুফফাজ- ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“ফুযাউইল বলেছেন ‎‘ ‏আবু ইশাক প্রত্যেক তিন দিনে কুরআন খতম করতেন………… ‏তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন, ‏তাকওয়া ধারী, ‏জ্ঞানের পাত্র ছিলেন, ‏আরও গুনাগুন ছিল”। ‎(খণ্ড ১ পাতা ১১১)এখন দেখুন আবু ইশাক আর শিমর লানাতুল্লাহ আলাইহি একসাথে নামায পড়ছেন। এখানে বোঝা যায় শিমর কে ছিল।মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“আবু ইশাক বলেছেন, ‏শিমর আমাদের সাথে নামায পড়ত আর বলত যে ‎‘ও আল্লাহ তুমি যান আমি সৎ লোক তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও’। আমি বললাম ‎‘আল্লাহ কেন তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন যখন তুমি রসূল আল্লাহের সন্তানের হত্যায় অংশগ্রহণ করেছ’? ‏সে ‎(শিমর) ‏বলল ‎‘তোমার অহ! ‏আমি কি করতাম? ‏আমাদের শাসক এই রকম করতে বলেছিল। আমরা তাদের অবাধ্য হয়নি……………’। আমি ‎(আবু ইশাক) ‏বললাম ‎‘বাহ ভাল অজুহাত! ‏নিশ্চয়ই হুকুম মান্য করা শুধু ভাল কাজের জন্য হয়’।” ( ‏খণ্ড ২ পাতা ২৮০)উপরের শিমর আর আবু ইশহাকের কথা থেকে এটা পরিষ্কার যে শিমর কাদের সাথে নামায পড়ত, ‏উঠাবসা করত। আরও এটা জানা যায় যে শিমর কার হুকুমে ইমাম হুসাইন আঃ কে হত্যা করেছিল!শিমার শুধু সুন্নি ছিল না, ‏সুন্নিরা শিমারের থেকে শিক্ষা নিয়েছে, ‏হাদীস নিয়েছে!মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবি, ‏শিমারের জীবনীর আলোচনাতে ‎[ شمر ] 3742 – شمر بن ذى الجوشن، أبو السابغة الضبابى. عن أبيه. وعنه أبو إسحاق السبيعى.“……………… ‏আবু ইশাক তার( ‏শিমর) ‏থেকে বর্ণনা করেছেন”আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে শিমরের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন!শাবাষ বিন রাবেইঃহুসাইন আঃ কে আহলে সুন্নাহর পিতৃপুরুষদের মধ্যে যারা চিঠি লিখেছিল তাদের নেতা ছিল এই ব্যাক্তি। এই ব্যাক্তি কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে আমর বিন সাদের বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। এর ব্যাপারে আগেই সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এখানে আহলে সুন্নাহর এই পিতৃব্যের আরো একটু আলোচনা করা হলঃআহলে সুন্নাহর রেজাল ও হাদিস শাস্ত্রের ইমাম যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’র খন্ড ৪ পাতা ১৫০ এ উল্লেখ করেছেনঃشَبَثُ بنُ رِبْعِيٍّ * التَّمِيْمِيُّ اليَرْبُوْعِيُّأَحَدُ الأَشْرَافِ وَالفُرْسَانِ، كَانَ مِمَّنْ خَرَجَ عَلَى عَلِيٍّ، وَأَنْكَرَعَلَيْهِ التَّحْكِيْمَ، ثُمَّ تَابَ وَأَنَابَ.وَحَدَّثَ عَنْ: عَلِيٍّ،وَحُذَيْفَةَ.وَعَنْهُ: مُحَمَّدُ بنُ كَعْبٍ القُرَظِيُّ، وَسُلَيْمَانُالتَّيْمِيُّ.لَهُ حَدِيْثٌ وَاحِدٌ فِي (سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ)“আশরফ ও বাহাদুর একজন…………সে আলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং সালিশি মানতে অস্বীকার করেছিল, ‏পরে তওবা করেছিল। সে হাদিস বর্ননা করেছে আলী, ‏হুজাইফা থেকে এবং তার থেকে মুহাম্মাদ বিন ক’আব আল কারদ্বি ও সুলাইমান তামিমি হাদিস বর্ননা করেছে, ‏সুনান আবি দাউদে তার একটা হাদিস উল্লখে আছে”।ইবনে মাজা তার থেকে হাদিস নিয়েছে, ‏বুখারিরি ওস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক ও ইবনে আবি শায়বা তাদের নিজ নিজ মুসান্নাফে শাবাষ থেকে হাদিস বর্ননা করেছে। আহলে সুন্নাহর বড় রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ইবনে হিব্বান তাকে তাঁর শিকাত এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে সে ভুল করেছে ‎(হাদিস বর্ননায়)।এ লানতি আহলে সুন্নাহর কাছে মর্যাদা রাখে তা উপরে দলিল সমূহ থেকে বোঝা যাচ্ছে। এর থেকে আহলে সুন্নাহ হাদিস নিয়েছে ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে!আবু দাউদের হাদিসঃحَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَاعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِكَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ شَبَثِ بْنِ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامعَنْ …النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْخَبَرِআবু দাউদ এই হাদিসে কোন কমেন্ট করেনি সুতারং আবু দাউদ এই হাদিসের সনদ সহিহ মানত। কেননা আবু দাউদ বলেছেন যে আমার কেতাবে কোন হাদিসে সমস্যা থাকলে তাকে সেখানে আমি মন্তব্য লিখব, ‏আর আমি কোন মন্তব্য না করার অর্থ সেই হাদিস বিসস্ত। ‎( ‏সুত্র সওকানির ‎‘নিল আল আওতার’ ‏খন্ড ১ পাতা ১৫)ইমাম নাসাইয়ের সুনান আল কাবীরের হাদিসের অংশ বিশেষঃأخبرنا أحمد بن عمرو بن السرح قال أخبرنا بن وهبقال أخبرني عمرو بن مالك وحيوة بن شريح عن بنالهاد عن محمد بن كعب عن شبث بن ربعي عن …عليبن أبي طالب قال قدم على رسول الله صلى الله عليهوسلم سبي فقال علي لفاطمةসুতারং ইমাম হুসাইন আঃ কে চিঠি লিখে এবং পরে ইয়াজিদের বাহিনীতে যোগ দেওয়া ‎‘মহান’ ‏লোকের সাথে আহলে সুন্নাহের প্রগাড় সম্পর্কের ও সম্পৃক্ততা একটা প্রমানিত ও উন্মুক্ত ব্যাপার। আহলে সুন্নাহর শিক্ষা দীক্ষা সেই সন হত্যাকারীদের সাথে সম্পর্কিত। আরো প্রমান হয় যে আহলে সুন্নাহর বরং এই সব লোকদের উত্তরসুরি।ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যা কারীদের মাযহাবের আরো কিছু প্রমানঃইমাম হুসাইন আঃ এর শাহাদতের পরে শিয়াদের ইমামত এর ধারার ইমাম হন যাইনুল আবেদিন আঃ যাকে ঘিরে আকাইদি শিয়াদের আনাগোনা ছিল, ‏তাঁর কাছ থেকে শিয়ারা শিক্ষা গ্রহন করত। সহিফাহ এ সাজ্জাদিয়া ইমাম যাইনুল আবেদিন আঃ এর দোয়ার কেতাব।অপর দিকে আহলে সুন্নাহরা তাদের নেতাদের কাছে যেত ও শিক্ষা গ্রহন করতো ফতোয়া গ্রহন করত। যেমন আহলে সুন্নাহর দ্বীনের এক অংশ যার উপর নির্ভর করে সেই ইবনে উমার। ইবনে উমার ইয়াজিদের এক ভক্ত ছিল এর আগে দেখানো হয়েছে যে টাকা খেয়ে ইয়াজিদকে ইবনে উমার বায়াত করে। ইবনে উমার ইয়াজিদের জন্য প্রবল ভাবে ক্যানভাস করেঃসাহিহ আল বুখারিঃ ইফাঃ অনলাইনঃ ৬৬২৬। ‎“সুলায়মান ইবনু হারব ‎(রহঃ) … ‏নাফি ‎(রহঃ) ‏থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ‏যখন মদিনার লোকেরা ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়া ‎(রাঃ) ‏এর বায়আত ভঙ্গ করল, ‏তখন ইবনু উমর ‎(রাঃ) ‏তার বিশেষ ভক্তবৃন্দ ও সন্তানদের সমবেত করলেন এবং বললেন, ‏আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ‏কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ‎?