রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী ইমামত এবং খেলাফত ।আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ।সেই মহান সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া করছি যিনি তাঁর অগনিত নেয়ামত সমূহের মধ্যে থেকে অন্যতম নেয়ামত হিসেবে “ইমামত” পদ্বতির মত পবিত্র একটি নেয়ামত আমাদের দান করেছেন যার মাধ্যমে পথহারা পথিক সঠিক পথের দিশা পায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে ইহকাল এবং পরকালে চিরমুক্তি পায় ।প্রিয় পাঠক ,এখানে ছোট একটি প্রশ্নের অবসান করা দরকার ।অনেকেই মনে করেন যে , খলীফা ও ইমাম ভিন্ন জিনিষ । অনেকে এটাও মনে করেন যে , ইহজগতে মানুষকে শাসন করার জন্য খেলাফাত পদ্বতির প্রয়োজন এবং ধর্মীয় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইমামত পদ্বতির প্রয়োজন আছে ।কিন্তু প্রকৃত বিষয় হচ্ছে উভয়ই এক ও অভিন্ন । আল্লাহর নির্দেশে রাসূলের (সাঃ) ঘোষিত প্রতিনিধিগণই হলেন খলীফা এবং একইসাথে সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা ।অর্থাৎ আমাদের নেতা বা ইমামগণ হলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাঃ) প্রতিনিধি বা খলীফা । কাজেই দেখা যাচ্ছে যে , রাসূলের (সাঃ) রেখে যাওয়া খেলাফত অতি অবশ্যই ইমামতের মধ্যেই অন্তরর্নিহিত !এর জন্য ভিন্ন কোন চিন্তা বা ধারনা তৈরী করা হলে সেটা হবে ব্যক্তি , গোষ্ঠী বা মানুষের দ্বারা সৃষ্টিকৃত যা পবিত্র কোরআন ও হাদিস পরীপন্থী এবং মোটেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কতৃক অনুমোদিত ও স্বীকৃত নয় ।নিম্নে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাতে মনযোগ দেওয়ার জন্য বনীত আবেদন করছি ।সর্বশক্তিমান আল্লাহর চিরন্তন বিধান হচ্ছে , মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে তাঁর প্রতিনিধি বা খলীফা প্রেরণ করা । এই ধারা নবী রাসূল আগমনের মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত জারী ছিল ।“ – এটাই আল্লাহর বিধান যা পূর্ব থেকে চলে আসছে এবং তোমরা কখনই পাইবে না আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন — “ ।সুরা – ফাতহ / ২৩ ।পবিত্র কোরআনের আলোকে যদি আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব যে , মুসলমানদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ।মহান আল্লাহ হযরত ইব্রাহীমকে (আঃ) সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা নিযুক্ত করেছিলেন ।“ – এবং যখন ইবরাহীমের প্রভু তাকে পরীক্ষা করলেন সুনিদিষ্ট কিছু কথা দিয়ে এবং সেগুলো সে সম্পাদন করল , তিনি বললেন , “আমি তোমাকে মানবজাতির ইমাম বানিয়ে দিচ্ছি ।” সে বলল , “আর আমার বংশধর থেকেও?” তিনি বললেন , আমার অঙ্গীকার জালিমদের নিকট পৌঁছায় না —– “ ।সুরা – বাকারা / ১২৪ ।হযরত ইব্রাহিম (আঃ) একজন রেসালাত প্রাপ্ত নবী ও রাসুল হওয়া সত্ত্বেও আরও কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে কৃতকার্য হয়ে ইমামতের স্তরে পৌঁছেছেন ! এবং এ ইমামতের ধারা কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে মহান আল্লাহ নিজে ঘোষনা বা ওয়াদা) করেছেন ।তবে হ্যা ! হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) বংশের জালিমদের বেলায় ইমামতের ধারা প্রযোজ্য নহে ।একদিকে আল্লাহ ওয়াদা দিচ্ছেন অপরদিকে তাঁর ওয়াদার নিশ্চয়তা ও দৃঢ়তা গ্রহণকল্পে ঘোষণা করে জানিয়ে দিচ্ছেন ,” — সুতরাং তুমি আল্লাহ সম্পর্কে কখনই এইরুপ ধারনা কর না যে , তিনি তাঁর রাসুলদের সাথে সম্পাদিত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন । নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী , প্রতিশোধ গ্রহণকারী —- ” ।সুরা – ইবরাহীম / ৪৭ ।এখানে উল্লেখ্য যে , নবী-রাসুলগনের মনোনয়ন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের সামান্যতম এখতিয়ার নেই । ঠিক একইভাবে ইমামগনের মনোনয়ন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মানুষের সামান্যতম এখতিয়ার নেই । ইমামত মনোনয়ন এবং নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণই আল্লাহর একক ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল ।তাই এ প্রসঙ্গে আল্লাহ অত্যন্ত পরিস্কার করে বলেন —” —- তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন ও যাকে ইচ্ছা তাকেই মনোনীত করেন । এতে তাদের কোন ক্ষমতা নেই —– ” ।সুরা – কাসাস / ৬৮ ।“ – আমরা তাদেরকে ইমাম নির্বাচিত করেছিলাম আমাদের আদেশ অনুসারে হেদায়েত করতেন — “ ।সুরা – আম্বিয়া / ৭৩ ।“ – এবং তাদের মধ্যে আমরা নিয়োগ দিয়েছিলাম ইমামদের যারা আমাদের আদেশে পথ দেখায় — “ ।সুরা – সাজদাহ / ২৪ ।তারপর আল্লাহ এরশাদ করেন ,” —- এটাই আল্লাহর পথ ! স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকেই তিনি এর দ্বারা সৎ পথে পরিচালিত করেন…..। “সুরা – আনআম / ৮৮ ।মহান আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরন করেছেন । যেহেতু তাঁদের প্রত্যাগমণের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে সেহেতু মানবজাতি কি অন্ধকার পথে থাকবে ?সহজ জবাবটি হচ্ছে — কখনই নহে ।আল্লাহ বলেন ,” — এরা সেসব লোক যাদের আমরা গ্রন্থ , নির্দেশ ও নবুয়ত দান করেছিলাম । এখন যদি এসব লোক (কাফেরগন) নবুয়ত অস্বীকার করে তবে আমরা এই বিষয়ের দায়িত্ব এমন এক সম্প্রদায়ের উপর ন্যস্ত করেছি যারা সেটাকে অবিশ্বাস করে না —– ” ।সুরা – আনআম / ৮৯ ।পবিত্র কোরআনে বর্নিত এই আয়াতে এই বিশেষ বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হল , নবুয়তের ধারা শেষ হওয়ার পরে পরবর্তী কোন এক জাতির প্রতি ইঙ্গিত করা হচ্ছে যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারণ করা । এই বিষয়টি আমলে নিয়ে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে ইমামতের আনুগত্য ছাড়া অন্য কিছুই দৃশ্যমান হয় না ।যা নিম্নে খুবই সংক্ষেপে আলোচনা করা হচ্ছে ।নবুয়ত ধারার সমাপ্তির পরে সমগ্র মানবজাতির হেদায়েত ও পরিচালনার জন্য আল্লাহ্ কাদেরকে নির্বাচন করেছেন এ ব্যাপারে আল্লাহ বলছেন ।“ — নিশ্চয়ই আল্লাহ মনোনীত করেছেন আদম ও নূহকে এবং ইবরাহীমের বংশকে এবং ইমরানের বংশকে সমস্ত জাতির উপর —” ।সুরা – আলে ইমরান / ৩৩ ।পবিত্র কোরআন ও ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে , হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এসেছেন , সবাই ইব্রাহীমের (আঃ) পবিত্র বংশ থেকেই এবং কেয়ামত পর্যন্ত যত হাদী আসবেন তাঁরাও ইব্রাহীম (আঃ) তথা মুহাম্মদের (সাঃ) পবিত্র বংশ হতে , এটা পবিত্র কোরআনেরই চুড়ান্ত সিদ্বান্ত ।সুতরাং নবুয়ত ধারা সমাপ্তির পরে ইমামত একমাত্র রাসুলের (সাঃ) পুতঃপবিত্র বংশধরদের জন্য জন্যই মনোনীত ।পূর্বোক্ত আলোচনা সমূহের ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে , বিশ্বনবীর (সাঃ) ইন্তেকালের পর ইসলামী উম্মতের মাঝে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমাম বা নেতার অস্তিত্ব ছিল এবং থাকবে ।এ ব্যাপারে বিশ্বনবী (সাঃ) থেকে অসংখ্য হাদিস রয়েছে যার কতিপয় হাদিস নিম্নে তুলে ধরা হল ।যাবের বিন সামরাতেন বলেন , রাসুলকে (সাঃ) বলতে শুনেছি যে , “বারজন” প্রতিনিধি আর্বিভাবের পূর্ব পর্যন্ত এই অতীব সম্মানীত ধর্মের সমাপণ ঘটবে না । যাবের বললেন , জনগণ তাকবির ধ্বনিতে গগন মুখরিত করে তুলল । অতঃপর রাসুল (সাঃ) আস্তে কিছু কথা বললেন ।আমি আমার পিতাকে বললাম , কি বললেন ?পিতা বললেন , রাসুল (সাঃ) বললেন , তারা সবাই “কুরাইশ বংশের” হবেন ।সূত্র — সহীহ আল বুখারী , খন্ড -৬, হাদিস -৬৭১৬- (আধুনিক) / সহীহ আল বুখারী, খন্ড-৬, হাদিস -৩২৪২-(ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / সহীহ আল বুখারী, খন্ড-৬, হাদিস-৭২২২-আহলে হাদিস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত / সহীহ আল মুসলিম, খন্ড-৫, হাঃ-৪৫৫৪, ৪৫৫৫, ৪৫৫৭, ৪৫৫৮, ৪৫৫৯- (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / আবু দাউদ, খঃ-৫, হাঃ-৪২৩০, ৪২৩১-ইঃ ফাঃ; তিরমিজি, খঃ-২, পৃঃ-৪৫, মুসনাদে আহম্মদ খঃ-১, পৃঃ-৩৯৮, খঃ-৫, পৃঃ-৮৬, ১০৫-আরবী; মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৯৭, আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৫৮৮-উর্দু; মুস্তাদারাক হাকেম, খন্ড-৩, পৃঃ-৬১৭-১৮-ভারত / তারিখে বাগদাদ, খন্ড-১৪, পৃঃ-৩৫৩, হাদিস-৭৬৭৩-আরবি / মুনতাখারা কানজুল উম্মাল, খন্ড-৫, পৃঃ-৩১২-হায়দারাবাদ / তারিখ আল খোলাফা, পৃঃ-১০-আরবি / আস সাওয়ায়েকে আল মুহরেকা, ১৮৯-আরবি / ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৬৯৭-উর্দু / কানজুল উম্মাল, খন্ড-১২, পৃঃ-১৬৫, হাদিস-৩৪৫০১ ।রাসুল (সাঃ) বলেন , ‘আমার পরে “১২জন” ইমাম পর্যন্ত ইসলাম সমুন্নত থাকবে এবং তারা “কুরাইশ” বংশ থেকে’ ।সূত্র – সহীহ আল বুখারী, হাদিস-৬৭১৬; ৬৭৯৬ ।হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) নবী (সাঃ) এর বিশিষ্ট সাহাবী বর্ণনা করেন যে , আমি মহানবীকে (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলাম যে , আপনার ইন্তেকাল পরবর্তীকালে কতজন নেতা (ইমাম) হবেন ?নবী (সাঃ) বললেন যে, “বনী ইসরাইলের খতিবদের ন্যায় বারোজন হবে”। সুত্র – ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৪১৫ / সাওয়ায়েকে মুহরেকা, পৃঃ-১৩, (মিশর) / মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৯৬ ।“আমার পর বারোজন নেতা হবেন । তাঁরা সবাই বনি হাশেমগণের মধ্যে হতে হবেন” ।নবী (সাঃ) আবার অন্য এক হাদিসে বলেছেন যে, আমার পর “বারজন নেতা হবেন” তাঁরা সবাই “বনি হাশিমের” মধ্য হতে হবেন ।সুত্র – ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৪১৬ ( উর্দু) ।অন্য একটি হাদিস – সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে , তিনি বলেন , এমতাবস্থায় রাসুলের (সাঃ) নিকট উপস্থিত হলাম যে যখন হোসাইন (আঃ) তাঁর ঊরুর উপর ছিল এবং তিনি তাঁর চোখ ও ওষ্ঠতে চুম্বন দিচ্ছেন আর বলছেন যে , তুমি সাইয়্যেদের সন্তান সাইয়্যেদ এবং তুমি ইমামের সন্তান ইমাম , তুমি ঐশী প্রতিনিধির সন্তান ঐশী প্রতিনিধি । আর তুমি নয়জন ঐশী প্রতিনিধিরও বাবা , যাদের নবম ব্যক্তি হলেন কায়েম (ইমাম মাহদী) ।”সূত্র – ইয়ানাবী-উল্-মুয়াদ্দাহ্, (সুলাইমান বিন ইব্রাহীম কান্দুযি) ৭ম মুদ্রণ, ৩০৮ নং পৃষ্ঠা ।হাদিসে এসেছে নবী (সাঃ) বলেছেন যে , “দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হবেনা কিয়ামত পর্যন্ত অথবা বারজন খলীফার আগমন পর্যন্ত , তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছেন আলী ইবনে আবু তালিব অতঃপর হাসান তারপর হোসাইন (আঃ) তারপর মুহাম্মদ ইবনে আলী , আলী ইবনে মুহাম্মদ , হাসান ইবনে আলী এবং তাদের সর্ব শেষ হচ্ছেন আল মাহদী (আঃ) ”।সূত্র — সহীহ আল মুসলিম , ৬ষ্ঠ খণ্ড , পৃ- ৩-৪ / সহীহ আল বুখারী , ৪র্থ খণ্ড , পৃ- ১৫৬ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাহ , ১ম খণ্ড , পৃ- ৩৪৯ / সহীহ আত তিরমিযি ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩৪২ / সুনানে আবু দাউদ , ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩০২ / কানযূল উম্মাল , ১২তম খণ্ড ,পৃ- ১৬৫ ।এই প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন —প্রসিদ্ব আহলে সুন্নাত এর পন্ডিত শায়খ সুলাইমান কান্দুজী হানাফী তুর্কি কতৃক রচিত তার প্রসিদ্ব গ্রন্থ ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত নামক গ্রন্থে বর্ননা করেছেন যে ,নাছাল নামক একজন হিহুদী মহানবীর (সাঃ) নিকট আরজ করলেন যে ,ইয়া রাসুল (সাঃ) ! আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই যা কিছুদিন ধরে আমার মনকে অশান্ত রাখছে । কথা দিচ্ছি , আপনার জবাব যদি সঠিক হয় তাহলে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করব ।নবী (সাঃ) বললেন , হে আবু আম্মারা , তুমি প্রশ্ন করে যাও , কোন সমস্যা নাই ।অনুমতি পেয়ে ঐ ব্যক্তি প্রশ্ন শুরু করল ।প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে সে খুবই সন্তষ্ট হল এবং বলল যে , আপনি খুবই সঠিক জবাব দিয়েছেন ।প্রশ্নের এক পর্যায় সে জিজ্ঞাসা করল যে , আমাকে বলে দিন , আপনার ইন্তেকালের পরে কে আপনার উত্তরাধিকারী হবে ?কেননা আজ পর্যন্ত কোন নবী বা রাসুল তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরীর নাম পরিচয় না বলে এই পৃথিবী ত্যাগ করেন নাই । যেমন আমাদের নবী হযরত মুসা (আঃ) বলে গেছেন যে , তাঁর অবর্তমানে হযরত ইউসা বিন নুন হলেন তাঁর উত্তরসূর বা স্থলাভিষিক্ত ।মহানবী (সাঃ) বললেন যে , “আমার পরে আমার উত্তরসূরী বা স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে আমার ভাই হযরত আলী ইবনে আবু তালিব এবং তাঁর পর আমার দুই সন্তান হাসান ও হোসাইন , অতঃপর কেয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট নয়জন ইমাম হোসাইন এর বংশ থেকে আগমন করবেন ।লোকটি বলল , “ইয়া মুহাম্মাদ (সাঃ) , দয়া করে অবশিষ্ট নয়জনের নাম বলে দিন” ।নবীজী (সাঃ) বললেন যে ,“হোসাইনের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জয়নুল আবেদীন হবে ,জয়নুল আবেদীনের অন্তধানের পর তাঁর স্বীয় পুত্র মোহাম্মাদ বাকের হবে ,মোহাম্মাদ বাকেরের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জাফর সাদিক হবে ,জাফর সাদিকের তিরোধানের পর তাঁর পুত্র মুসা কাজেম হবে ,মুসা কাজেমের ইহলোক ত্যাগের পর তাঁর পুত্র আলী রেজা হবে ,আলী রেজার ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র মুহাম্মাদ তাক্বী হবে ,মুহাম্মাদ তাক্বীর তিরোধানের পর তাঁর পূত্র আল নাক্বী হবে ,আল নাক্বীর ইহলোক ত্যাগের পরে তাঁর পূত্র হাসান আসকারী হবে ,হাসান আসকারীর ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র ইমাম মাহদী হবে সর্বশেষ বারতম ইমাম ।তাঁরা আল্লাহর হুজ্জাত বা জমিনের বুকে অকাট্য দলিল ।”এই জবাব পেয়ে পরক্ষনেই ঐ হিহুদী লোকটি মহানবীর (সাঃ) নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন ।সূত্র – ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত ,পৃ-৪৪১ (বৌরুত) / ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ৬৯১-৬৯৪ ( লাহোর,উর্দু) / ফারায়েদ নি , খন্ড-২ , পৃ- ১৩৩ , ৩১২ / সিয়ারানীও আল ইয়াওয়াক্বিত ওয়াল জওয়াহীর , খন্ড- ৩ পৃ- ৩২৭ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত – পৃঃ-৪২৭ (বৈরুত) / ইবনে আরাবী – ইবক্বাউল ক্বাইয়্যিম-২৬৬ / অধ্যায়ে , মানাকেবে ইবনে শাহার আশুব,খঃ-১, পৃঃ-২৮২ / রাওয়ানে যাভেদ, খঃ-২, পৃঃ-৭২ / কিফায়া আল আসার, খঃ-৭, পৃঃ-৭; (পুরোনো প্রিন্ট) / কিফায়া আল আসার, পৃঃ-৫৩, ৬৯; (কোম প্রিন্ট) / গায়াতুল মারাম, খঃ-১০, পৃঃ-২৬৭; ইসবাতুল হুদা, খঃ-৩, পৃঃ-১২৩ / নাযালুল আবরার , পৃঃ ১৭৪-১৭৫ / ইরাক থেকে মুদ্রিত , নুরুল আবছার / ফুসুলুল মুহিম্মা / মাতালিবুস সুউল ফী মানাকিবে আলে রাসূল, পৃঃ ৮৯; মিশর থেকে প্রকাশিত / ফারায়িদুস সিমতাইন ।সুপ্রিয় পাঠক ,“– স্মরন কর , সেদিনের ( কিয়ামত) কথা , যখন আমি সকল মানুষকে তাদের ইমামসহ আহবান করিব –” ।সুরা – বনী ঈসরাইল / ৭১ ।মহান আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত ইমামত পদ্বতির প্রসংঙ্গে মহানবী (সাঃ) বলেন যে , “যে ব্যক্তি তার নিজের যুগের ইমামের মারফত বা না চিনে মৃত্যুবরন করল , সে জাহেলিয়াতেের মৃত্যুবরন করল” ।সূত্র – সহীহ মুসলিম , খন্ড-২ ,পৃ- ১২৮ / মুসনাদে হাম্বল , খন্ড-৪ , পৃ-৯৬ / সহীহ আল মুসলিম , হাদিস আরবী-১৮৫১ , বাংলা-৪৬৪১ / সহীহ ইবনে হাব্বান , জামেয়া বাইনা সহীহ / সহীহ মুসলিম , খন্ড – ৩ , হাদিস – ১৮৫১ (লেবানন) / কানজুল উম্মাাল , খন্ড – ১ , পৃ- ১০৩ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ১৮৯ (উর্দ্দু) / মাজমা আজ জাওয়াইদ , খন্ড – ৫ , পৃ- ২১৮ / তাফসীরে ইবনে কাসির , খন্ড – ১ , পৃ- ৫১৭ (মিশর) / আস সুনান আল কুবরা , খন্ড – ৮ , পৃ- ১৫৬ / আল মুসনাদ , খন্ড – ৪ , পৃ- ৯৬ (মিশর) / জাওয়াহির আল মুদিয়া , খন্ড – ২ , পৃ- ৪৫৭ / শারাহ আল মাকাসিদ , খন্ড – ২ , পৃ- ২৭৫ / হিলিয়াতুল আউলিয়া , খন্ড – ৩ , পৃ- ২২৪ / মারেফাতে ইমামত ও বেলায়েত , পৃ- ১৫৬ ।১২ ইমাম সম্পর্কে রাসুলের (সাঃ) যে হাদিসটি বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায় , ষষ্ঠ ইমাম সাদেক (আঃ) থেকে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে ।তিনি সালমান ফার্সি (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে , রাসূল (সঃ) বলেছেন ,“আমি রাসুলের (সাঃ) কাছে উপস্থিত হলাম , তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন , ‘হে সালমান , আল্লাহ কোন নবী বা রাসুলকে পাঠান না যদি তার সাথে থাকে ১২ জন’।‘ইয়া রাসুলুল্লাহ , আমি তা দুই কিতাবের লোকদের কাছ থেকে জেনেছি’।‘হে সালমান , তুমি কি আমার ১২ জন সর্দারকে চেনো , যাদেরকে আল্লাহ আমার পরে ইমাম হিসেবে নির্বাচন করেছেন ?’‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) ভাল জানেন ।’‘হে সালমান , আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন পবিত্রতম আদি নুর থেকে এবং আমাকে ডাকলেন এবং আমি তার আদেশ মানলাম ।এরপর তিনি আলীকে (আঃ) আমার নুর থেকে সৃষ্টি করলেন এবং তিনি তাকে ডাকলেন এবং সে আদেশ মানলো ।আমার নুর ও আলীর নুর থেকে তিনি সৃষ্টি করলেন ফাতিমাকে (সাঃআঃ) । তিনি তাকে ডাকলেন এবং সে আদেশ মানলো ।আমার , আলীর (আঃ) ও ফাতিমার (সাঃআঃ) নূর থেকে সৃষ্টি করলেন আল হাসান (আঃ) ও আল হোসাইনকে (আঃ) ।তিনি তাদের ডাকলেন এবং তাঁরা তাঁর আদেশ মানলো ।আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর ৫টি নাম থেকে নাম দিয়েছেন ।আল্লাহ হলেন আল মাহমুদ (প্রশংসিত) এবং আমি মুহাম্মাদ (প্রশংসার যোগ্য) ।আল্লাহ হলেন আল আলী (উচ্চ) এবং এ হলো (আঃ) যে উচ্চ প্রশংসনীয় ,আল্লাহ হলেন ‘আল ফাতির যিনি শুন্য থেকে সৃষ্টি করেন এবং এ হল ফাতিমা (সাঃআঃ) ।আল্লাহ হলেন তিনি যার কাছে আছে হাসান অন্যের জন্য কল্যান এবং এ হল হাসান (আঃ) ।আল্লাহ হলেন মুহাসসিন পরম সুন্দর এবং এ হল হুসাইন (আঃ) ।তিনি ৯ জন ইমামকে সৃষ্টি করলেন আল হুসাইনের (আঃ) নুর থেকে এবং তাদেরকে ডাকলেন এবং তারা তাঁর আদেশ মানলো ।আল্লাহ উঁচু আকাশ , বিস্তৃত পৃথিবী , বাতাস , ফেরেশতা ও মানুষসহ সমগ্র সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করার পূর্ব থেকেই আমরা ছিলাম নূর । যারা তাঁর প্রশংসা করত , তাঁর কথা শুনতো এবং তাঁকে মেনে চলতো ।’‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ), আমার বাবা ও মা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক , ঐ ব্যক্তির জন্য কি আছে যে এ ব্যক্তিদের, সেভাবে স্বীকৃতি দেয় যেভাবে তাঁদের স্বীকৃতি দেয়া উচিত ?’‘হে সালমান , যেই তাদের স্বীকৃতি দেয় যেভাবে দেওয়া উচিত এবং তাঁদের উদাহরন অনুসরন করে , তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে এবং তাঁদের শত্রুদের কাছ থেকে মুক্ত থাকে , মহান আল্লাহর শপথ , সে আমাদের একজন । সে সেখানে ফেরত আসবে যেখানে আমরা ফেরত আসবো এবং সে সেখানে থাকবে যেখানে আমরা আছি ।’‘ইয়া রাসুল (সাঃ) ! তাঁদের নাম ও বংশধারা জানা না থাকলে কি বিশ্বাস আছে ?’‘না , সালমান ।’‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি তাঁদের কোথায় পাব ?’‘তুমি ইতিমধ্যেই আল হুসাইনকে (আঃ) জেনেছো , এরপর আসবে ইবাদাতকারীদের সদার আলী ইবনুল হুসাইন (যায়নুল আবেদীন) (আঃ), এরপর তার পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে আলী (আঃ)-পূর্বের ও পরের , নবী ও রাসুলদের জ্ঞান বিদীনকারী (আল-বাক্কির) ।এরপর জাফর ইবনে মুহাম্মাদ, আল্লাহর সত্যবাদী জিহবা (আল সাদিক) ।এরপর মুসা ইবনে জাফর (আঃ) , যে আল্লাহর ধৈযের মাধ্যমে তার রাগকে নিশ্চুপ রেখেছে (আল কাযিম) ।এরপর আলী ইবনে মুসা (আঃ) , যে আল্লাহর গোপন বিষয়ে সন্তুষ্ট আছে (আল রিদা) ।এরপর মুহাম্মাদ ইবনে আলী (আঃ) , আল্লাহর সৃষ্টির মাঝ থেকে নির্বাচিত জন (আল মুখতার) ।এরপর আলী ইবনে মুহাম্মাদ (আঃ) , যে আল্লাহর দিকে পথ প্রদর্শক (আল হাদী) ।এরপর আল হাসান ইবনে আলী (আঃ) , যে নিশ্চুপ-আল্লাহর গোপন বিষয়ের বিশ্বস্ত পাহারাদার (আল আসকারী) ।এরপর মিম হা দাল (মুহাম্মাদ) , যাকে ডাকা হয় ইবনে আল হাসান (আঃ) যে ঘোষক আল্লাহর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে ।’সালমান (রাঃ) বলেন , ‘আমি কাঁদলাম , এরপরে বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার জীবন তাদের সময় পযন্ত দীঘায়িত হোক ।’রাসুল (সাঃ) বললেন , হে সালমান , এটি তেলাওয়াত করে নাও —” — অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত দ্বয়ের প্রথমটির সময় আসন্ন হবে তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্বে আমাদের কতক কঠোর শক্তিশালী বান্দাদের প্রেরন করব এবং তারা তোমাদের গৃহসমূহে তোমাদের তন্ন তন্ন করে খুজবে এবং এ প্রতিশ্রুতি পূর্ন হওয়া অবশ্যস্ভাবী । অতঃপর তোমাদের জন্য পুনরায় তাদের উপর আক্রমন করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব এবং ধন সম্পদ ও পুত্র সন্তান দ্বারা তোমাদের সহায়তা করব এবং জনসংখ্যায় তোমাদের অধিক করব —- ” ।সুরা – বনী ইসরাঈল / ৫ , ৬ ।সালমান (রাঃ) বললেন , ‘আমি অনেক কাঁদলাম, এবং আমার আকাঙ্ক্ষা প্রচন্ড হয়ে দাঁড়ালো । আমি বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ , এটি কি আপনার কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি ?’‘হ্যাঁ , তাঁর শপথ যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন , এটি একটি প্রতিশ্রুতি আমার , আলীর , ফাতিমার , আল-হাসান , আল-হুসেইন এবং আল-হুসেইনের বংশ থেকে ৯ জন ইমামদের কাছ থেকে তোমার জন্য এবং তাদের জন্য যারা আমাদের সাথে আছে এবং যাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে ।যে তার বিশ্বাসে সত্যিকারভাবে আন্তরিক , তাহলে আল্লাহর শপথ সালমান , ইবলিস ও তার বাহিনীগুলো আসুক । যার আছে সত্যিকার আবিশ্বাস সে শাস্তি পাবে প্রত্যাঘাত ও নির্যাতন এবং উত্তরাধীকারের (অন্যদের দ্বারা) মাধ্যমে। তোমার রব কারও উপরে যুলুম করবেন না ।এই আয়াতে বলা হয়েছে —” —- আর আমরা চাই যাদেরকে দেশে হীনবল (অসহায়) করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করি ও তাদেরকে নেতা নিযুক্ত করি এবং তাদেরকে (সেই দেশের) উত্তরাধিকারী করি এবং তাদের পৃথিবীতে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করি এবং ফিরআউন , হামান ও তাদের বাহিনীকে যা তারা আশংকা করত তা দেখিয়ে দেই —– ।”.সুরা – কাসাস / ৫ , ৬ ।সালমান (রাঃ) বলেন , আমি আল্লাহর রাসুলের (সাঃ) কাছ থেকে বিদায় নিলাম সম্পুন ভ্রুক্ষেপহীন হয়ে ।কিভাবে সালমান মৃত্যুর সাথে দেখা করবে অথবা কীভাবে মৃত্যু তার সাথে দেখা করবে”।সূত্র – মিসবাহুস শারিয়াহ, লেখক — ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) ।আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত এই ইমামতের ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রদান করা হয়েছিল যা ইতঃপূর্বে কোন নবী রাসূলের ক্ষেত্রেও হয়নি । সাধারণত সকল নবী রাসূলগণই তাদের পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পরিচয় ব্যক্ত করেছেন ।কিন্তু ইমামতের বেলায় ভিন্ন ।হজ্ব ফেরৎ লক্ষাধিক হাজী সাহাবাগনকে সাথে নিয়ে গাদীরে খুম নামক স্থানে পৌঁছালে আল্লাহ রাসূলের (সাঃ) প্রতি কঠোর হুশিয়ারীমূলক নির্দেশ নাযিল করে সূরা মায়েদার ৬৭ নং আয়াতে বলেন —“ – হে রাসুল , পৌঁছে দাও যা তোমার কাছে অবতীর্ন হয়েছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে এবং যদি তুমি তা না কর , তুমি তাঁর রেসালতই পৌঁছে দাও নি এবং আল্লাহ তোমাকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করবেন । নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের দলকে পথ দেখান না —- “ ।সুরা – মাইদাহ / ৬৭ ।উক্ত আয়াতে এমন একটি নির্দেশ পৌছাঁনোর কথা বলা হচ্ছে যা না পৌছাঁলে রাসূলের (সাঃ) রিসালাত-ই বৃথা !কারন , ঐ নির্দেশটি রেসালাতের বিনিময়যোগ্য !আর তখনই কোন কিছু বিনিময় হয় যখন একটা আরেকটার পরিপূরক গুন সম্পন্ন হয় ।কি ছিল সেই নির্দেশ ?রাসূল (সাঃ) বিদায় হজ্জ শেষে ১ লক্ষ ২০ হাজার (কমবেশি) সাহাবাসহ মদীনার দিকে রওয়ানা হন । গাদীরে খুম নামক জায়গায় পৌছাঁলে উক্ত আয়াত নাযিল হয় ।এতক্ষণে সাহাবীগণ (রাঃ) বিভিন্ন দিকে যাত্রা শুরু করেন । রাসূল (সাঃ) দূত পাঠিয়ে সকলকে একত্রিত করেন । অতঃপর রাসূল (সাঃ) আল্লাহর নির্দেশ পৌছানোর লক্ষে একত্রিত লোক সম্মুখে ভাষণ দেন ।আল্লাহর গুণকীর্তন করে রাসূল (সাঃ) মূল বক্তব্যটি পেশ করেন । তিনি সকলকে জিজ্ঞেস করেন , আমি কি মুমিনদের মাওলা নই ?সকলে বলিল , হ্যা অবশ্যই ।রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করেন , আমি কি মুমিনদের জান-মালের চেয়ে অধিক প্রিয় নই ?সকলে বলিল , হ্যা অবশ্যই ।তারপর তিনি বলেন, “মান কুন্তো মওলাহু ফাহাজা আলীয়্যুন মওলা” অর্থাৎ আমি যার মাওলা এই আলী ও তার মাওলা ।নবীজী (সাঃ) আরও বলেন , আমার পরে সে (আলী) সকল মুমিনদের অভিবাবক ও স্থলাভিষিক্ত ।অতঃপর উপস্থিত সকলে মাওলা আলীর (আঃ) বেলায়াতের সাক্ষী প্রদান করেন । হযরত আবু বকর , হযরত ওমর এসে মাওলা আলীকে (আঃ) অভিন্দন জানিয়ে বলেন , হ্যা “আলী ইবনে আবু তালিব” ! আজ থেকে তুমি সকল মুমিনের মাওলা হয়ে গেলে ।তারপর সকলে গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হওয়ার মনস্থির করেন ।ইতিমধ্যে আল্লাহ সূরা মায়েদার ৫নং আয়াত নাজিল করে দিলেন —-” —- আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ন করলাম এবং তোমাদের জন্য ধর্ম হিসাবে ইসলামের প্রতি সন্তষ্ট হলাম —– ” ।সুরা – মায়েদা / ৩ ।নবুয়তের ধারা শেষ হওয়ার পূর্বেই এর (রিসালাতের) বাহক (সাঃ) কর্তৃক ইমামতকে স্বীকৃতি দিয়ে রিসালাতের উদ্দেশ্য ইমামতের উপর ন্যাস্ত হয় । রিসালাত ইমামতকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে । ইমামত রিসালাতকে আঁকড়ে ধরে পরবর্তী কাজ আঞ্জাম দিয়ে দ্বীনের প্রতিষ্ঠিত পথকে সুসংহত রাখে ।সমসাময়িক অনেক লোকজন রিসালাতকে যেমন অস্বীকার করেছে তেমনি ইমামতকেও ।তাই আল্লাহ্ বলেন ,” —- নিঃসন্দেহে তারা সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল যখন তা তাদের নিকট এসেছিল । সুতরাং অচিরেই তাদের কাছে যেসব ব্যাপারে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তার খবর এসে যাবে —– ” ।সুরা – আনআম / ৫ ।প্রিয় পাঠক ,পরিশেষে মহান আল্লাহর নিকট একটিই প্রার্থনা যে , আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত অশেষ করুনা , দয়া ও নেয়ামতের মিষ্টি সুপেয় পবিত্র বার ইমামত ধারার প্রতি সর্বক্ষন যেন প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারি ।রাসুলের (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইত তথা বার ইমামীয়ার (আঃ) আর্দশ বুকে ধারন করে যেন মৃত্যুবরন করতে পারি ।ইমামে যামানা (আঃফাঃ) এর যহুরকে ত্বরান্বিত করুন ।ঈলাহী আমীন

রাসুলের (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী ইমামত এবং খেলাফত ।
আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ।
সেই মহান সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া করছি যিনি তাঁর অগনিত নেয়ামত সমূহের মধ্যে থেকে অন্যতম নেয়ামত হিসেবে “ইমামত” পদ্বতির মত পবিত্র একটি নেয়ামত আমাদের দান করেছেন যার মাধ্যমে পথহারা পথিক সঠিক পথের দিশা পায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে ইহকাল এবং পরকালে চিরমুক্তি পায় ।
প্রিয় পাঠক ,
এখানে ছোট একটি প্রশ্নের অবসান করা দরকার ।
অনেকেই মনে করেন যে , খলীফা ও ইমাম ভিন্ন জিনিষ । অনেকে এটাও মনে করেন যে , ইহজগতে মানুষকে শাসন করার জন্য খেলাফাত পদ্বতির প্রয়োজন এবং ধর্মীয় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইমামত পদ্বতির প্রয়োজন আছে ।
কিন্তু প্রকৃত বিষয় হচ্ছে উভয়ই এক ও অভিন্ন । আল্লাহর নির্দেশে রাসূলের (সাঃ) ঘোষিত প্রতিনিধিগণই হলেন খলীফা এবং একইসাথে সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা ।
অর্থাৎ আমাদের নেতা বা ইমামগণ হলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাঃ) প্রতিনিধি বা খলীফা । কাজেই দেখা যাচ্ছে যে , রাসূলের (সাঃ) রেখে যাওয়া খেলাফত অতি অবশ্যই ইমামতের মধ্যেই অন্তরর্নিহিত !
এর জন্য ভিন্ন কোন চিন্তা বা ধারনা তৈরী করা হলে সেটা হবে ব্যক্তি , গোষ্ঠী বা মানুষের দ্বারা সৃষ্টিকৃত যা পবিত্র কোরআন ও হাদিস পরীপন্থী এবং মোটেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কতৃক অনুমোদিত ও স্বীকৃত নয় ।
নিম্নে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাতে মনযোগ দেওয়ার জন্য বনীত আবেদন করছি ।
সর্বশক্তিমান আল্লাহর চিরন্তন বিধান হচ্ছে , মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে তাঁর প্রতিনিধি বা খলীফা প্রেরণ করা । এই ধারা নবী রাসূল আগমনের মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত জারী ছিল ।
“ – এটাই আল্লাহর বিধান যা পূর্ব থেকে চলে আসছে এবং তোমরা কখনই পাইবে না আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন — “ ।
সুরা – ফাতহ / ২৩ ।
পবিত্র কোরআনের আলোকে যদি আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব যে , মুসলমানদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ।
মহান আল্লাহ হযরত ইব্রাহীমকে (আঃ) সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা নিযুক্ত করেছিলেন ।
“ – এবং যখন ইবরাহীমের প্রভু তাকে পরীক্ষা করলেন সুনিদিষ্ট কিছু কথা দিয়ে এবং সেগুলো সে সম্পাদন করল , তিনি বললেন , “আমি তোমাকে মানবজাতির ইমাম বানিয়ে দিচ্ছি ।” সে বলল , “আর আমার বংশধর থেকেও?” তিনি বললেন , আমার অঙ্গীকার জালিমদের নিকট পৌঁছায় না —– “ ।
সুরা – বাকারা / ১২৪ ।
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) একজন রেসালাত প্রাপ্ত নবী ও রাসুল হওয়া সত্ত্বেও আরও কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে কৃতকার্য হয়ে ইমামতের স্তরে পৌঁছেছেন ! এবং এ ইমামতের ধারা কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে মহান আল্লাহ নিজে ঘোষনা বা ওয়াদা) করেছেন ।
তবে হ্যা ! হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) বংশের জালিমদের বেলায় ইমামতের ধারা প্রযোজ্য নহে ।
একদিকে আল্লাহ ওয়াদা দিচ্ছেন অপরদিকে তাঁর ওয়াদার নিশ্চয়তা ও দৃঢ়তা গ্রহণকল্পে ঘোষণা করে জানিয়ে দিচ্ছেন ,
” — সুতরাং তুমি আল্লাহ সম্পর্কে কখনই এইরুপ ধারনা কর না যে , তিনি তাঁর রাসুলদের সাথে সম্পাদিত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন । নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী , প্রতিশোধ গ্রহণকারী —- ” ।
সুরা – ইবরাহীম / ৪৭ ।
এখানে উল্লেখ্য যে , নবী-রাসুলগনের মনোনয়ন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের সামান্যতম এখতিয়ার নেই । ঠিক একইভাবে ইমামগনের মনোনয়ন এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মানুষের সামান্যতম এখতিয়ার নেই । ইমামত মনোনয়ন এবং নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণই আল্লাহর একক ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল ।
তাই এ প্রসঙ্গে আল্লাহ অত্যন্ত পরিস্কার করে বলেন —
” —- তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন ও যাকে ইচ্ছা তাকেই মনোনীত করেন । এতে তাদের কোন ক্ষমতা নেই —– ” ।
সুরা – কাসাস / ৬৮ ।
“ – আমরা তাদেরকে ইমাম নির্বাচিত করেছিলাম আমাদের আদেশ অনুসারে হেদায়েত করতেন — “ ।
সুরা – আম্বিয়া / ৭৩ ।
“ – এবং তাদের মধ্যে আমরা নিয়োগ দিয়েছিলাম ইমামদের যারা আমাদের আদেশে পথ দেখায় — “ ।
সুরা – সাজদাহ / ২৪ ।
তারপর আল্লাহ এরশাদ করেন ,
” —- এটাই আল্লাহর পথ ! স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকেই তিনি এর দ্বারা সৎ পথে পরিচালিত করেন…..। “
সুরা – আনআম / ৮৮ ।
মহান আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরন করেছেন । যেহেতু তাঁদের প্রত্যাগমণের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে সেহেতু মানবজাতি কি অন্ধকার পথে থাকবে ?
সহজ জবাবটি হচ্ছে — কখনই নহে ।
আল্লাহ বলেন ,
” — এরা সেসব লোক যাদের আমরা গ্রন্থ , নির্দেশ ও নবুয়ত দান করেছিলাম । এখন যদি এসব লোক (কাফেরগন) নবুয়ত অস্বীকার করে তবে আমরা এই বিষয়ের দায়িত্ব এমন এক সম্প্রদায়ের উপর ন্যস্ত করেছি যারা সেটাকে অবিশ্বাস করে না —– ” ।
সুরা – আনআম / ৮৯ ।
পবিত্র কোরআনে বর্নিত এই আয়াতে এই বিশেষ বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হল , নবুয়তের ধারা শেষ হওয়ার পরে পরবর্তী কোন এক জাতির প্রতি ইঙ্গিত করা হচ্ছে যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারণ করা । এই বিষয়টি আমলে নিয়ে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে ইমামতের আনুগত্য ছাড়া অন্য কিছুই দৃশ্যমান হয় না ।
যা নিম্নে খুবই সংক্ষেপে আলোচনা করা হচ্ছে ।
নবুয়ত ধারার সমাপ্তির পরে সমগ্র মানবজাতির হেদায়েত ও পরিচালনার জন্য আল্লাহ্ কাদেরকে নির্বাচন করেছেন এ ব্যাপারে আল্লাহ বলছেন ।
“ — নিশ্চয়ই আল্লাহ মনোনীত করেছেন আদম ও নূহকে এবং ইবরাহীমের বংশকে এবং ইমরানের বংশকে সমস্ত জাতির উপর —” ।
সুরা – আলে ইমরান / ৩৩ ।
পবিত্র কোরআন ও ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে , হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এসেছেন , সবাই ইব্রাহীমের (আঃ) পবিত্র বংশ থেকেই এবং কেয়ামত পর্যন্ত যত হাদী আসবেন তাঁরাও ইব্রাহীম (আঃ) তথা মুহাম্মদের (সাঃ) পবিত্র বংশ হতে , এটা পবিত্র কোরআনেরই চুড়ান্ত সিদ্বান্ত ।
সুতরাং নবুয়ত ধারা সমাপ্তির পরে ইমামত একমাত্র রাসুলের (সাঃ) পুতঃপবিত্র বংশধরদের জন্য জন্যই মনোনীত ।
পূর্বোক্ত আলোচনা সমূহের ভিত্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে , বিশ্বনবীর (সাঃ) ইন্তেকালের পর ইসলামী উম্মতের মাঝে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমাম বা নেতার অস্তিত্ব ছিল এবং থাকবে ।
এ ব্যাপারে বিশ্বনবী (সাঃ) থেকে অসংখ্য হাদিস রয়েছে যার কতিপয় হাদিস নিম্নে তুলে ধরা হল ।
যাবের বিন সামরাতেন বলেন , রাসুলকে (সাঃ) বলতে শুনেছি যে , “বারজন” প্রতিনিধি আর্বিভাবের পূর্ব পর্যন্ত এই অতীব সম্মানীত ধর্মের সমাপণ ঘটবে না । যাবের বললেন , জনগণ তাকবির ধ্বনিতে গগন মুখরিত করে তুলল । অতঃপর রাসুল (সাঃ) আস্তে কিছু কথা বললেন ।
আমি আমার পিতাকে বললাম , কি বললেন ?
পিতা বললেন , রাসুল (সাঃ) বললেন , তারা সবাই “কুরাইশ বংশের” হবেন ।
সূত্র — সহীহ আল বুখারী , খন্ড -৬, হাদিস -৬৭১৬- (আধুনিক) / সহীহ আল বুখারী, খন্ড-৬, হাদিস -৩২৪২-(ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / সহীহ আল বুখারী, খন্ড-৬, হাদিস-৭২২২-আহলে হাদিস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত / সহীহ আল মুসলিম, খন্ড-৫, হাঃ-৪৫৫৪, ৪৫৫৫, ৪৫৫৭, ৪৫৫৮, ৪৫৫৯- (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / আবু দাউদ, খঃ-৫, হাঃ-৪২৩০, ৪২৩১-ইঃ ফাঃ; তিরমিজি, খঃ-২, পৃঃ-৪৫, মুসনাদে আহম্মদ খঃ-১, পৃঃ-৩৯৮, খঃ-৫, পৃঃ-৮৬, ১০৫-আরবী; মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৯৭, আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৫৮৮-উর্দু; মুস্তাদারাক হাকেম, খন্ড-৩, পৃঃ-৬১৭-১৮-ভারত / তারিখে বাগদাদ, খন্ড-১৪, পৃঃ-৩৫৩, হাদিস-৭৬৭৩-আরবি / মুনতাখারা কানজুল উম্মাল, খন্ড-৫, পৃঃ-৩১২-হায়দারাবাদ / তারিখ আল খোলাফা, পৃঃ-১০-আরবি / আস সাওয়ায়েকে আল মুহরেকা, ১৮৯-আরবি / ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৬৯৭-উর্দু / কানজুল উম্মাল, খন্ড-১২, পৃঃ-১৬৫, হাদিস-৩৪৫০১ ।
রাসুল (সাঃ) বলেন , ‘আমার পরে “১২জন” ইমাম পর্যন্ত ইসলাম সমুন্নত থাকবে এবং তারা “কুরাইশ” বংশ থেকে’ ।
সূত্র – সহীহ আল বুখারী, হাদিস-৬৭১৬; ৬৭৯৬ ।
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) নবী (সাঃ) এর বিশিষ্ট সাহাবী বর্ণনা করেন যে , আমি মহানবীকে (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলাম যে , আপনার ইন্তেকাল পরবর্তীকালে কতজন নেতা (ইমাম) হবেন ?
নবী (সাঃ) বললেন যে, “বনী ইসরাইলের খতিবদের ন্যায় বারোজন হবে”। সুত্র – ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৪১৫ / সাওয়ায়েকে মুহরেকা, পৃঃ-১৩, (মিশর) / মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৯৬ ।
“আমার পর বারোজন নেতা হবেন । তাঁরা সবাই বনি হাশেমগণের মধ্যে হতে হবেন” ।
নবী (সাঃ) আবার অন্য এক হাদিসে বলেছেন যে, আমার পর “বারজন নেতা হবেন” তাঁরা সবাই “বনি হাশিমের” মধ্য হতে হবেন ।
সুত্র – ইয়া নাবিয়ুল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৪১৬ ( উর্দু) ।
অন্য একটি হাদিস – সালমান ফারসী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে , তিনি বলেন , এমতাবস্থায় রাসুলের (সাঃ) নিকট উপস্থিত হলাম যে যখন হোসাইন (আঃ) তাঁর ঊরুর উপর ছিল এবং তিনি তাঁর চোখ ও ওষ্ঠতে চুম্বন দিচ্ছেন আর বলছেন যে , তুমি সাইয়্যেদের সন্তান সাইয়্যেদ এবং তুমি ইমামের সন্তান ইমাম , তুমি ঐশী প্রতিনিধির সন্তান ঐশী প্রতিনিধি । আর তুমি নয়জন ঐশী প্রতিনিধিরও বাবা , যাদের নবম ব্যক্তি হলেন কায়েম (ইমাম মাহদী) ।”
সূত্র – ইয়ানাবী-উল্-মুয়াদ্দাহ্, (সুলাইমান বিন ইব্রাহীম কান্দুযি) ৭ম মুদ্রণ, ৩০৮ নং পৃষ্ঠা ।
হাদিসে এসেছে নবী (সাঃ) বলেছেন যে , “দ্বীন ইসলাম ধ্বংস হবেনা কিয়ামত পর্যন্ত অথবা বারজন খলীফার আগমন পর্যন্ত , তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছেন আলী ইবনে আবু তালিব অতঃপর হাসান তারপর হোসাইন (আঃ) তারপর মুহাম্মদ ইবনে আলী , আলী ইবনে মুহাম্মদ , হাসান ইবনে আলী এবং তাদের সর্ব শেষ হচ্ছেন আল মাহদী (আঃ) ”।
সূত্র — সহীহ আল মুসলিম , ৬ষ্ঠ খণ্ড , পৃ- ৩-৪ / সহীহ আল বুখারী , ৪র্থ খণ্ড , পৃ- ১৫৬ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাহ , ১ম খণ্ড , পৃ- ৩৪৯ / সহীহ আত তিরমিযি ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩৪২ / সুনানে আবু দাউদ , ৩য় খণ্ড , পৃ- ৩০২ / কানযূল উম্মাল , ১২তম খণ্ড ,পৃ- ১৬৫ ।
এই প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন —
প্রসিদ্ব আহলে সুন্নাত এর পন্ডিত শায়খ সুলাইমান কান্দুজী হানাফী তুর্কি কতৃক রচিত তার প্রসিদ্ব গ্রন্থ ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত নামক গ্রন্থে বর্ননা করেছেন যে ,
নাছাল নামক একজন হিহুদী মহানবীর (সাঃ) নিকট আরজ করলেন যে ,
ইয়া রাসুল (সাঃ) ! আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই যা কিছুদিন ধরে আমার মনকে অশান্ত রাখছে । কথা দিচ্ছি , আপনার জবাব যদি সঠিক হয় তাহলে আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করব ।
নবী (সাঃ) বললেন , হে আবু আম্মারা , তুমি প্রশ্ন করে যাও , কোন সমস্যা নাই ।
অনুমতি পেয়ে ঐ ব্যক্তি প্রশ্ন শুরু করল ।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে সে খুবই সন্তষ্ট হল এবং বলল যে , আপনি খুবই সঠিক জবাব দিয়েছেন ।
প্রশ্নের এক পর্যায় সে জিজ্ঞাসা করল যে , আমাকে বলে দিন , আপনার ইন্তেকালের পরে কে আপনার উত্তরাধিকারী হবে ?
কেননা আজ পর্যন্ত কোন নবী বা রাসুল তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরীর নাম পরিচয় না বলে এই পৃথিবী ত্যাগ করেন নাই । যেমন আমাদের নবী হযরত মুসা (আঃ) বলে গেছেন যে , তাঁর অবর্তমানে হযরত ইউসা বিন নুন হলেন তাঁর উত্তরসূর বা স্থলাভিষিক্ত ।
মহানবী (সাঃ) বললেন যে , “আমার পরে আমার উত্তরসূরী বা স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে আমার ভাই হযরত আলী ইবনে আবু তালিব এবং তাঁর পর আমার দুই সন্তান হাসান ও হোসাইন , অতঃপর কেয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট নয়জন ইমাম হোসাইন এর বংশ থেকে আগমন করবেন ।
লোকটি বলল , “ইয়া মুহাম্মাদ (সাঃ) , দয়া করে অবশিষ্ট নয়জনের নাম বলে দিন” ।
নবীজী (সাঃ) বললেন যে ,
“হোসাইনের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জয়নুল আবেদীন হবে ,
জয়নুল আবেদীনের অন্তধানের পর তাঁর স্বীয় পুত্র মোহাম্মাদ বাকের হবে ,
মোহাম্মাদ বাকেরের ইন্তেকালের পর তাঁর পুত্র জাফর সাদিক হবে ,
জাফর সাদিকের তিরোধানের পর তাঁর পুত্র মুসা কাজেম হবে ,
মুসা কাজেমের ইহলোক ত্যাগের পর তাঁর পুত্র আলী রেজা হবে ,
আলী রেজার ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র মুহাম্মাদ তাক্বী হবে ,
মুহাম্মাদ তাক্বীর তিরোধানের পর তাঁর পূত্র আল নাক্বী হবে ,
আল নাক্বীর ইহলোক ত্যাগের পরে তাঁর পূত্র হাসান আসকারী হবে ,
হাসান আসকারীর ইন্তেকালের পর তাঁর পূত্র ইমাম মাহদী হবে সর্বশেষ বারতম ইমাম ।
তাঁরা আল্লাহর হুজ্জাত বা জমিনের বুকে অকাট্য দলিল ।”
এই জবাব পেয়ে পরক্ষনেই ঐ হিহুদী লোকটি মহানবীর (সাঃ) নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহন করলেন ।
সূত্র – ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত ,পৃ-৪৪১ (বৌরুত) / ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ৬৯১-৬৯৪ ( লাহোর,উর্দু) / ফারায়েদ নি , খন্ড-২ , পৃ- ১৩৩ , ৩১২ / সিয়ারানীও আল ইয়াওয়াক্বিত ওয়াল জওয়াহীর , খন্ড- ৩ পৃ- ৩২৭ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত – পৃঃ-৪২৭ (বৈরুত) / ইবনে আরাবী – ইবক্বাউল ক্বাইয়্যিম-২৬৬ / অধ্যায়ে , মানাকেবে ইবনে শাহার আশুব,খঃ-১, পৃঃ-২৮২ / রাওয়ানে যাভেদ, খঃ-২, পৃঃ-৭২ / কিফায়া আল আসার, খঃ-৭, পৃঃ-৭; (পুরোনো প্রিন্ট) / কিফায়া আল আসার, পৃঃ-৫৩, ৬৯; (কোম প্রিন্ট) / গায়াতুল মারাম, খঃ-১০, পৃঃ-২৬৭; ইসবাতুল হুদা, খঃ-৩, পৃঃ-১২৩ / নাযালুল আবরার , পৃঃ ১৭৪-১৭৫ / ইরাক থেকে মুদ্রিত , নুরুল আবছার / ফুসুলুল মুহিম্মা / মাতালিবুস সুউল ফী মানাকিবে আলে রাসূল, পৃঃ ৮৯; মিশর থেকে প্রকাশিত / ফারায়িদুস সিমতাইন ।
সুপ্রিয় পাঠক ,
“– স্মরন কর , সেদিনের ( কিয়ামত) কথা , যখন আমি সকল মানুষকে তাদের ইমামসহ আহবান করিব –” ।
সুরা – বনী ঈসরাইল / ৭১ ।
মহান আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত ইমামত পদ্বতির প্রসংঙ্গে মহানবী (সাঃ) বলেন যে , “যে ব্যক্তি তার নিজের যুগের ইমামের মারফত বা না চিনে মৃত্যুবরন করল , সে জাহেলিয়াতেের মৃত্যুবরন করল” ।
সূত্র – সহীহ মুসলিম , খন্ড-২ ,পৃ- ১২৮ / মুসনাদে হাম্বল , খন্ড-৪ , পৃ-৯৬ / সহীহ আল মুসলিম , হাদিস আরবী-১৮৫১ , বাংলা-৪৬৪১ / সহীহ ইবনে হাব্বান , জামেয়া বাইনা সহীহ / সহীহ মুসলিম , খন্ড – ৩ , হাদিস – ১৮৫১ (লেবানন) / কানজুল উম্মাাল , খন্ড – ১ , পৃ- ১০৩ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ১৮৯ (উর্দ্দু) / মাজমা আজ জাওয়াইদ , খন্ড – ৫ , পৃ- ২১৮ / তাফসীরে ইবনে কাসির , খন্ড – ১ , পৃ- ৫১৭ (মিশর) / আস সুনান আল কুবরা , খন্ড – ৮ , পৃ- ১৫৬ / আল মুসনাদ , খন্ড – ৪ , পৃ- ৯৬ (মিশর) / জাওয়াহির আল মুদিয়া , খন্ড – ২ , পৃ- ৪৫৭ / শারাহ আল মাকাসিদ , খন্ড – ২ , পৃ- ২৭৫ / হিলিয়াতুল আউলিয়া , খন্ড – ৩ , পৃ- ২২৪ / মারেফাতে ইমামত ও বেলায়েত , পৃ- ১৫৬ ।
১২ ইমাম সম্পর্কে রাসুলের (সাঃ) যে হাদিসটি বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায় , ষষ্ঠ ইমাম সাদেক (আঃ) থেকে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে ।
তিনি সালমান ফার্সি (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে , রাসূল (সঃ) বলেছেন ,
“আমি রাসুলের (সাঃ) কাছে উপস্থিত হলাম , তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন , ‘হে সালমান , আল্লাহ কোন নবী বা রাসুলকে পাঠান না যদি তার সাথে থাকে ১২ জন’।
‘ইয়া রাসুলুল্লাহ , আমি তা দুই কিতাবের লোকদের কাছ থেকে জেনেছি’।
‘হে সালমান , তুমি কি আমার ১২ জন সর্দারকে চেনো , যাদেরকে আল্লাহ আমার পরে ইমাম হিসেবে নির্বাচন করেছেন ?’
‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) ভাল জানেন ।’
‘হে সালমান , আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন পবিত্রতম আদি নুর থেকে এবং আমাকে ডাকলেন এবং আমি তার আদেশ মানলাম ।
এরপর তিনি আলীকে (আঃ) আমার নুর থেকে সৃষ্টি করলেন এবং তিনি তাকে ডাকলেন এবং সে আদেশ মানলো ।
আমার নুর ও আলীর নুর থেকে তিনি সৃষ্টি করলেন ফাতিমাকে (সাঃআঃ) । তিনি তাকে ডাকলেন এবং সে আদেশ মানলো ।
আমার , আলীর (আঃ) ও ফাতিমার (সাঃআঃ) নূর থেকে সৃষ্টি করলেন আল হাসান (আঃ) ও আল হোসাইনকে (আঃ) ।
তিনি তাদের ডাকলেন এবং তাঁরা তাঁর আদেশ মানলো ।
আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর ৫টি নাম থেকে নাম দিয়েছেন ।
আল্লাহ হলেন আল মাহমুদ (প্রশংসিত) এবং আমি মুহাম্মাদ (প্রশংসার যোগ্য) ।
আল্লাহ হলেন আল আলী (উচ্চ) এবং এ হলো (আঃ) যে উচ্চ প্রশংসনীয় ,
আল্লাহ হলেন ‘আল ফাতির যিনি শুন্য থেকে সৃষ্টি করেন এবং এ হল ফাতিমা (সাঃআঃ) ।
আল্লাহ হলেন তিনি যার কাছে আছে হাসান অন্যের জন্য কল্যান এবং এ হল হাসান (আঃ) ।
আল্লাহ হলেন মুহাসসিন পরম সুন্দর এবং এ হল হুসাইন (আঃ) ।
তিনি ৯ জন ইমামকে সৃষ্টি করলেন আল হুসাইনের (আঃ) নুর থেকে এবং তাদেরকে ডাকলেন এবং তারা তাঁর আদেশ মানলো ।
আল্লাহ উঁচু আকাশ , বিস্তৃত পৃথিবী , বাতাস , ফেরেশতা ও মানুষসহ সমগ্র সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করার পূর্ব থেকেই আমরা ছিলাম নূর । যারা তাঁর প্রশংসা করত , তাঁর কথা শুনতো এবং তাঁকে মেনে চলতো ।’
‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ), আমার বাবা ও মা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক , ঐ ব্যক্তির জন্য কি আছে যে এ ব্যক্তিদের, সেভাবে স্বীকৃতি দেয় যেভাবে তাঁদের স্বীকৃতি দেয়া উচিত ?’
‘হে সালমান , যেই তাদের স্বীকৃতি দেয় যেভাবে দেওয়া উচিত এবং তাঁদের উদাহরন অনুসরন করে , তাঁদের সাথে বন্ধুত্ব রাখে এবং তাঁদের শত্রুদের কাছ থেকে মুক্ত থাকে , মহান আল্লাহর শপথ , সে আমাদের একজন । সে সেখানে ফেরত আসবে যেখানে আমরা ফেরত আসবো এবং সে সেখানে থাকবে যেখানে আমরা আছি ।’
‘ইয়া রাসুল (সাঃ) ! তাঁদের নাম ও বংশধারা জানা না থাকলে কি বিশ্বাস আছে ?’
‘না , সালমান ।’
‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি তাঁদের কোথায় পাব ?’
‘তুমি ইতিমধ্যেই আল হুসাইনকে (আঃ) জেনেছো , এরপর আসবে ইবাদাতকারীদের সদার আলী ইবনুল হুসাইন (যায়নুল আবেদীন) (আঃ), এরপর তার পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে আলী (আঃ)-পূর্বের ও পরের , নবী ও রাসুলদের জ্ঞান বিদীনকারী (আল-বাক্কির) ।
এরপর জাফর ইবনে মুহাম্মাদ, আল্লাহর সত্যবাদী জিহবা (আল সাদিক) ।
এরপর মুসা ইবনে জাফর (আঃ) , যে আল্লাহর ধৈযের মাধ্যমে তার রাগকে নিশ্চুপ রেখেছে (আল কাযিম) ।
এরপর আলী ইবনে মুসা (আঃ) , যে আল্লাহর গোপন বিষয়ে সন্তুষ্ট আছে (আল রিদা) ।
এরপর মুহাম্মাদ ইবনে আলী (আঃ) , আল্লাহর সৃষ্টির মাঝ থেকে নির্বাচিত জন (আল মুখতার) ।
এরপর আলী ইবনে মুহাম্মাদ (আঃ) , যে আল্লাহর দিকে পথ প্রদর্শক (আল হাদী) ।
এরপর আল হাসান ইবনে আলী (আঃ) , যে নিশ্চুপ-আল্লাহর গোপন বিষয়ের বিশ্বস্ত পাহারাদার (আল আসকারী) ।
এরপর মিম হা দাল (মুহাম্মাদ) , যাকে ডাকা হয় ইবনে আল হাসান (আঃ) যে ঘোষক আল্লাহর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে ।’
সালমান (রাঃ) বলেন , ‘আমি কাঁদলাম , এরপরে বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার জীবন তাদের সময় পযন্ত দীঘায়িত হোক ।’
রাসুল (সাঃ) বললেন , হে সালমান , এটি তেলাওয়াত করে নাও —
” — অতঃপর যখন প্রতিশ্রুত দ্বয়ের প্রথমটির সময় আসন্ন হবে তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্বে আমাদের কতক কঠোর শক্তিশালী বান্দাদের প্রেরন করব এবং তারা তোমাদের গৃহসমূহে তোমাদের তন্ন তন্ন করে খুজবে এবং এ প্রতিশ্রুতি পূর্ন হওয়া অবশ্যস্ভাবী । অতঃপর তোমাদের জন্য পুনরায় তাদের উপর আক্রমন করার ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব এবং ধন সম্পদ ও পুত্র সন্তান দ্বারা তোমাদের সহায়তা করব এবং জনসংখ্যায় তোমাদের অধিক করব —- ” ।
সুরা – বনী ইসরাঈল / ৫ , ৬ ।
সালমান (রাঃ) বললেন , ‘আমি অনেক কাঁদলাম, এবং আমার আকাঙ্ক্ষা প্রচন্ড হয়ে দাঁড়ালো । আমি বললাম , ইয়া রাসুলাল্লাহ , এটি কি আপনার কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি ?’
‘হ্যাঁ , তাঁর শপথ যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন , এটি একটি প্রতিশ্রুতি আমার , আলীর , ফাতিমার , আল-হাসান , আল-হুসেইন এবং আল-হুসেইনের বংশ থেকে ৯ জন ইমামদের কাছ থেকে তোমার জন্য এবং তাদের জন্য যারা আমাদের সাথে আছে এবং যাদের প্রতি যুলুম করা হয়েছে ।
যে তার বিশ্বাসে সত্যিকারভাবে আন্তরিক , তাহলে আল্লাহর শপথ সালমান , ইবলিস ও তার বাহিনীগুলো আসুক । যার আছে সত্যিকার আবিশ্বাস সে শাস্তি পাবে প্রত্যাঘাত ও নির্যাতন এবং উত্তরাধীকারের (অন্যদের দ্বারা) মাধ্যমে। তোমার রব কারও উপরে যুলুম করবেন না ।
এই আয়াতে বলা হয়েছে —
” —- আর আমরা চাই যাদেরকে দেশে হীনবল (অসহায়) করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করি ও তাদেরকে নেতা নিযুক্ত করি এবং তাদেরকে (সেই দেশের) উত্তরাধিকারী করি এবং তাদের পৃথিবীতে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করি এবং ফিরআউন , হামান ও তাদের বাহিনীকে যা তারা আশংকা করত তা দেখিয়ে দেই —– ।”.
সুরা – কাসাস / ৫ , ৬ ।


সালমান (রাঃ) বলেন , আমি আল্লাহর রাসুলের (সাঃ) কাছ থেকে বিদায় নিলাম সম্পুন ভ্রুক্ষেপহীন হয়ে ।
কিভাবে সালমান মৃত্যুর সাথে দেখা করবে অথবা কীভাবে মৃত্যু তার সাথে দেখা করবে”।
সূত্র – মিসবাহুস শারিয়াহ, লেখক — ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) ।
আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত এই ইমামতের ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় প্রদান করা হয়েছিল যা ইতঃপূর্বে কোন নবী রাসূলের ক্ষেত্রেও হয়নি । সাধারণত সকল নবী রাসূলগণই তাদের পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের পরিচয় ব্যক্ত করেছেন ।
কিন্তু ইমামতের বেলায় ভিন্ন ।
হজ্ব ফেরৎ লক্ষাধিক হাজী সাহাবাগনকে সাথে নিয়ে গাদীরে খুম নামক স্থানে পৌঁছালে আল্লাহ রাসূলের (সাঃ) প্রতি কঠোর হুশিয়ারীমূলক নির্দেশ নাযিল করে সূরা মায়েদার ৬৭ নং আয়াতে বলেন —
“ – হে রাসুল , পৌঁছে দাও যা তোমার কাছে অবতীর্ন হয়েছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে এবং যদি তুমি তা না কর , তুমি তাঁর রেসালতই পৌঁছে দাও নি এবং আল্লাহ তোমাকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করবেন । নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের দলকে পথ দেখান না —- “ ।
সুরা – মাইদাহ / ৬৭ ।
উক্ত আয়াতে এমন একটি নির্দেশ পৌছাঁনোর কথা বলা হচ্ছে যা না পৌছাঁলে রাসূলের (সাঃ) রিসালাত-ই বৃথা !
কারন , ঐ নির্দেশটি রেসালাতের বিনিময়যোগ্য !
আর তখনই কোন কিছু বিনিময় হয় যখন একটা আরেকটার পরিপূরক গুন সম্পন্ন হয় ।
কি ছিল সেই নির্দেশ ?
রাসূল (সাঃ) বিদায় হজ্জ শেষে ১ লক্ষ ২০ হাজার (কমবেশি) সাহাবাসহ মদীনার দিকে রওয়ানা হন । গাদীরে খুম নামক জায়গায় পৌছাঁলে উক্ত আয়াত নাযিল হয় ।
এতক্ষণে সাহাবীগণ (রাঃ) বিভিন্ন দিকে যাত্রা শুরু করেন । রাসূল (সাঃ) দূত পাঠিয়ে সকলকে একত্রিত করেন । অতঃপর রাসূল (সাঃ) আল্লাহর নির্দেশ পৌছানোর লক্ষে একত্রিত লোক সম্মুখে ভাষণ দেন ।
আল্লাহর গুণকীর্তন করে রাসূল (সাঃ) মূল বক্তব্যটি পেশ করেন । তিনি সকলকে জিজ্ঞেস করেন , আমি কি মুমিনদের মাওলা নই ?
সকলে বলিল , হ্যা অবশ্যই ।
রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করেন , আমি কি মুমিনদের জান-মালের চেয়ে অধিক প্রিয় নই ?
সকলে বলিল , হ্যা অবশ্যই ।
তারপর তিনি বলেন, “মান কুন্তো মওলাহু ফাহাজা আলীয়্যুন মওলা” অর্থাৎ আমি যার মাওলা এই আলী ও তার মাওলা ।
নবীজী (সাঃ) আরও বলেন , আমার পরে সে (আলী) সকল মুমিনদের অভিবাবক ও স্থলাভিষিক্ত ।
অতঃপর উপস্থিত সকলে মাওলা আলীর (আঃ) বেলায়াতের সাক্ষী প্রদান করেন । হযরত আবু বকর , হযরত ওমর এসে মাওলা আলীকে (আঃ) অভিন্দন জানিয়ে বলেন , হ্যা “আলী ইবনে আবু তালিব” ! আজ থেকে তুমি সকল মুমিনের মাওলা হয়ে গেলে ।
তারপর সকলে গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হওয়ার মনস্থির করেন ।
ইতিমধ্যে আল্লাহ সূরা মায়েদার ৫নং আয়াত নাজিল করে দিলেন —-
” —- আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ন করলাম এবং তোমাদের জন্য ধর্ম হিসাবে ইসলামের প্রতি সন্তষ্ট হলাম —– ” ।
সুরা – মায়েদা / ৩ ।
নবুয়তের ধারা শেষ হওয়ার পূর্বেই এর (রিসালাতের) বাহক (সাঃ) কর্তৃক ইমামতকে স্বীকৃতি দিয়ে রিসালাতের উদ্দেশ্য ইমামতের উপর ন্যাস্ত হয় । রিসালাত ইমামতকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে । ইমামত রিসালাতকে আঁকড়ে ধরে পরবর্তী কাজ আঞ্জাম দিয়ে দ্বীনের প্রতিষ্ঠিত পথকে সুসংহত রাখে ।
সমসাময়িক অনেক লোকজন রিসালাতকে যেমন অস্বীকার করেছে তেমনি ইমামতকেও ।
তাই আল্লাহ্ বলেন ,
” —- নিঃসন্দেহে তারা সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল যখন তা তাদের নিকট এসেছিল । সুতরাং অচিরেই তাদের কাছে যেসব ব্যাপারে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তার খবর এসে যাবে —– ” ।
সুরা – আনআম / ৫ ।
প্রিয় পাঠক ,
পরিশেষে মহান আল্লাহর নিকট একটিই প্রার্থনা যে , আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত অশেষ করুনা , দয়া ও নেয়ামতের মিষ্টি সুপেয় পবিত্র বার ইমামত ধারার প্রতি সর্বক্ষন যেন প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারি ।
রাসুলের (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইত তথা বার ইমামীয়ার (আঃ) আর্দশ বুকে ধারন করে যেন মৃত্যুবরন করতে পারি ।
ইমামে যামানা (আঃফাঃ) এর যহুরকে ত্বরান্বিত করুন ।
ঈলাহী আমীন

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

হযরত আবুল ফযল আব্বাস (আ.)-এর শাহাদাত : পানি যেন চিরকাল লজ্জিত তাঁর কাছে! বর্ণনাকারী বলেন,ইমাম হুসাইন পিপাসায় কাতার হয়ে ফোরাতের তীরে উপস্থিত হলেন। সাথে রয়েছেন তার (সৎ) ভাই আব্বাস। ইবনে সা’দের বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ল দু’জনের ওপর। তাদের পথ বন্ধ করল। বনী দারাম গোত্রের এক দুরাচার আবুল ফযল আব্বাস-এর দিকে তীর নিক্ষেপ করলে তা তাঁর পবিত্র মুখে বিদ্ধ হয়। ইমাম হুসাইনই তা টেনে বের করে নেন,তার হাত রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। তিনি সেই রক্ত ছুড়ে ফেলে বললেন : ‘হে আল্লাহ ! এ জনগোষ্ঠী তোমার নবী নন্দিনীর সন্তানের ওপর এ জুলুম চালাচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে তোমার দরবারে বিচার দিচ্ছি। ইবনে সা’দের বাহিনী মুহূর্তের মধ্যে ইমাম হুসাইনের কাছ থেকে হযরত আব্বাসকে ছিনিয়ে নেয়। চতুর্মুখী আক্রমণ ও তরবারির সম্মিলিত আঘাতে হযরত আব্বাস শহীদ হন। তাঁর শাহাদাতে ইমাম হুসাইন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কবি তাই তো বলেছেন : ‘‘কতই না উত্তম ব্যক্তি –যার জন্য ইমাম হুসাইন কারবালার এ কঠিন মুসিবতের সময়ও কেঁদেছেন। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (সৎ) ভাই,তার বাবা ছিলেন আলী, তিনি তা আর কেউ নন রক্তাক্ত বদন আবুল ফযল আব্বাস। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের সহমর্মী,কোনো কিছুই তাকে এপথ থেকে সরাতে পারেনি। প্রচণ্ড পিপাসা নিয়ে ফোরাতের তীরে পৗছেন,কিন্তু ইমাম হুসাইন যেহেতু পান করেননি তিনিও তাই পানি মুখে নেননি।’অন্য কবি বলেন : ‘মুষ্টির মাঝে পানি নিলেন, মনভরে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করবেন কিন্তু যখনই ইমাম হুসাইনের পিপাসার কথা মনে পড়লো, হাতের মুঠোর পানিতে অশ্রু ফেলে ফিরে আসলেন।’হযরত আবুল ফযল আব্বাস-এর এ মহান আত্মত্যাগ সকল লেখক, চিন্তাশীলের দৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ।আল্লামা মজলিসী তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বিহারুল আনওয়ার’-এ লিখেছেন,‘হযরত আব্বাস ফোরাতের তীরে গেলেন। যখনই অঞ্জলি ভরে পানি পান করতে চাইলেন তখন হঠাৎ ইমাম হুসাইন ও তার আহলে বাইতের পানির পিপাসার যন্ত্রণার কথা মনে পড়ল। তাই তিনি পানি ফোরাতেই ফেলে দিলেন,পান করলেন না।’আরেকজন কবি বলেন : ‘আবুল ফযল আব্বাস তার সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণ ইমাম হুসাইনের জন্যই উৎসর্গ করেছেন। ইমাম হুসাইন পান করার পূর্বে তিনি নিজে পান করলেন না। মানুষের কর্মের সর্বোত্তম কর্ম ও মূল কাজই তিনি করলেন। আপনি তো গৗরবের দিবসে রাসূলের দুই নাতির ভাই, আর আপনিই তো পানি পানের দিবসে করেছেন আত্মত্যাগ, হে আবুল ফযল!’পানি টলটলায়মান, বাদশাহ তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত,উদ্যম তার অন্তরে হাতে রয়েছে পানির মশক,মুর্তাযার সিংহ শাবককে হামলা করলো এমনভাবেএ যেন অগণিত নেকড়ের মাঝে এক বাঘ।এমন একটি বদন কেউ দেখেনি যাতে কয়েক হাজার তীর,এমন একটি ফুল কেউ দেখেনি যাতে রয়েছে কয়েক হাজার কাঁটা। শেইখ মুফীদ তার ‘ইরশাদ’-এ এবং শেইখ তাবারসি তার ‘আ’লামুল ওয়ারা’-তে বলেছেন যে, সেনাবাহিনী ইমাম হুসাইনকে (আ.) আক্রমণ করলো এবং তার সৈন্যদের ছড়িয়ে দিলো এবং তাদের পিপাসা বৃদ্ধি পেলে ইমাম তার ভাই আব্বাস (আ.) কে নিয়ে ফোরাতের দিকে ঘোড়া ছোটালেন। উমর বিন সা’আদের বাহিনী তাদের পথ আটকে দিলো এবং বনি দারিম থেকে এক ব্যক্তি তাদের উদ্দেশ্যে বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, ফোরাতের দিকে তাদের রাস্তা বন্ধ করে দাও যেন তারা সেখানে পৌঁছতে না পারে।” ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” সে ক্রোধান্বিত হলো এবং ইমামের দিকে একটি তীর ছুঁড়ে মারলো যা তার থুতনি ভেদ করলো। ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং নিজের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন। এতে তার হাত রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে অভিযোগ করছি তারা কী আরচণ করছে তোমার রাসূলের (সা.) কন্যার সন্তানের সাথে।” এরপর তারা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ফিরে এলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী হযরত আব্বাস (আ.) কে ঘেরাও করে ফেললো এবং ইমাম হুসাইন (আ.) থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। আব্বাস একা একা যুদ্ধ করলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন। যায়েদ বিন ওয়ারখা হানাফি এবং হাকীম বিন তুফাইল তাঈ’ যৌথভাবে তাকে হত্যা করে তাকে বেশ কিছু আঘাতে আহত করার পর এবং তার নড়াচড়া করার মত শক্তি আর ছিলো না। সাইয়েদ ইবনে তাউস কিছুটা একই রকম বর্ণনা দিয়েছেন। হাসান বিন আলী তাবারসি বর্ণনা করেন যে, (বনি দারিম গোত্রের) অভিশপ্তের তীরটি ইমাম হুসাইন (আ.) এর কপালে বিদ্ধ হয় এবং আব্বাস তা তুলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী বর্ণনাটিই বেশী পরিচিত। তাবারি বর্ণনা করেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ বিন সায়েব থেকে, তিনি ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বিন নাবাতাহ থেকে যিনি বলেছেন, (কারবালায়) ইমাম হুসাইন (আ.) শহীদ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলো এমন একজন আমাকে বলেছে যে, যখন হোসেইনের সেনাদল প্রাণ হারালো তিনি তার ঘোড়ায় চড়লেন এবং ফোরাত নদীর দিকে গেলেন। বনি আবান বিন দারিম গোত্রের এক লোক বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, তার এবং ফোরাত নদীর মাঝখানে অবস্থান নাও যেন তার শিয়ারা (অনুসারীরা) তার সাথে যুক্ত হতে না পারে।” তিনি ঘোড়া ছোটালেন এবং সেনাবাহিনীও তাকে অনুসরণ করলো এবং ফোরাত নদীতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলো। ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” আবানি লোকটি একটি তীর ছুঁড়লো যা ইমামের থুতনি ভেদ করলো, ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং তার হাতের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন, যা রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অভিযোগ করি কী আচরণ তারা করছে আপনার রাসূল (সা.) এর কন্যার সন্তানের সাথে।” আল্লাহর শপথ, বেশী সময় যায় নি যখন আমি দেখলাম তার (আবানি লোকটির) প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়ে বসলো এবং কখনোই নিবারণ হলো না। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ আরও বলেন যে, আমি তার সাথে ছিলাম যে বাতাস করছিলো তাকে (আবানি লোকটিকে) এবং একটি মিষ্টি শরবত, এক জগ দুধ ও পানি রাখা ছিলো। সে বলছিলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর। তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” এক জগ অথবা এক কাপ পানি যা তার পরিবারের তৃষ্ণা মিটাচ্ছিলো, তাকে দেয়া হলো, সে তা পান করলো ও বমি করলো। এরপর কিছু সময় ঘুমালো। এরপর আবার সে বলতে শুরু করলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর, আমাকে পানি দাও, তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” আল্লাহর শপথ এ রকম কোন দৃশ্য এর আগে দেখা যায়নি এবং তার পেট উটের মত ফেটে গেলো। ইবনে নিমার বর্ণনা অনুযায়ী এই লোকটির নাম ছিলো যারাআহ বিন আবান বিন দারিম। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি থেকে যে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) কে দেখেছিলো, তিনি একটি খাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নদীর তীরের কাছেই, ফোরাত নদীতে যাওয়ার জন্য এবং আব্বাস ছিলেন তার সাথে। সে সময় উমর বিন সা’আদের জন্য উবায়দুল্লাহর চিঠি এসে পৌঁছায় যাতে লেখা ছিলো, “হুসাইন ও তার সাথীদের জন্য পানি সরবরাহ বন্ধ করে দাও এবং তাদেরকে এক ফোটাও স্বাদ নিতে দিও না।” উমর বিন সা’আদ পাঁচশত লোক দিয়ে আমর বিন হাজ্জাজকে পানির কাছে পাঠালো। আব্দুল্লাহ বিন হাসীন আযদি উচ্চকণ্ঠে বললো, “হে হুসাইন, তুমি কি দেখছো পানি বইছে বেহেশতের মত? আল্লাহর শপথ, তুমি এ থেকে এক ফোঁটাও পাবে না যতক্ষণ না তুমি ও তোমার সাথীরা তৃষ্ণায় ধ্বংস হয়ে যাও।” যারা’আহ বিন আবান বিন দারিম বললো, “তার ও ফোরাত নদীর মাঝে অবস্থান নাও।” এরপর সে একটি তীর ছোঁড়ে ইমামের দিকে যা তার থুতনিতে বিদ্ধ হয় এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ তাকে তৃষ্ণায় মরতে দাও এবং কখনোই তাকে ক্ষমা করো না।” ইমাম (আ.) এর জন্য এক পেয়ালা পানীয় আনা হলো কিন্তু তিনি তা পান করতে পারলেন না অনবরত রক্ত ঝরার কারণে। তিনি রক্তকে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন, “একইভাবে আকাশের দিকে।” শেইখ আব্দুস সামাদ বর্ণনা করেন আবুল ফারাজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন জওযি থেকে যে, এর পরে আবানি ব্যক্তিটি (যারআহ) পাকস্থলি পোড়া এবং ঠাণ্ডা পিঠের রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো এবং চিৎকার করতো। ‘উমদাতুত তালিব’-এর লেখক আব্বাস (আ.) এর সন্তানদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে, তার (আব্বাসের) কুনিয়া ছিলো আবুল ফযল এবং উপাধি ছিলো সাক্কা (পানি বহনকারী)। তাকে এ উপাধি দেয়া হয়েছিলো কারণ তিনি তার ভাইয়ের জন্য আশুরার দিন পানি আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই শহীদ হয়ে যান। তার কবরটি (ফোরাত) নদীর তীরে তার শাহাদাতের স্থানেই আছে। সে দিন তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (আ.) পতাকাবাহী। আবু নসর বুখারি বর্ণনা করেছেন মুফাযযাল বিন উমার থেকে যে, ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) বলেছেন, “আমার চাচা আব্বাস ছিলেন বুদ্ধিমান এবং তার ছিলো দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম হোসেইনের) সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং মুসিবতের ভিতর দিয়ে গেছেন শহীদ হওয়া পর্যন্ত। বনি হানিফা তার রক্তের দায়ভার বইছে। তিনি ছিলেন চৌত্রিশ বছর বয়েসী যখন তাকে হত্যা করা হয়। তার এবং উসমান, জাফর এবং আব্দুল্লাহরও মা ছিলেন উম্মুল বানীন, যিনি ছিলেন হিযাম বিন খালিদ বিন রাবি’আর কন্যা।

ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏কে কারা হত্যা করেছে? – ‏৩(ওহাবি, ‏নাসেবীদের ও আহলে সুন্নাহদের প্রপাগন্ডার জবাব)৪) ‏ইমাম হুসাইন আঃ ও তার সাথীদের ও নবী পরিবারের হত্যায় ইয়াজিদ, ‏সাহাবা, ‏সাহাবাদের পুত্ররা ও উসমানের ধর্মের লোকেরা সহ কারা জড়িত ছিল তার প্রমাণ। এই সব হত্যাকারিদের সাথে আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীদের সখ্যতা।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার কারিদের পরিচয়ঃ এর আগে উল্লখে করা হয়েছে যে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াদকে চিঠি লিখে মুহাম্মাদ বিন আকীলে হত্যা করার কথা বলেছিল। সেই মত ইবনে যিয়াদ তদন্ত্ব চালিয়ে মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করেঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখানে আমরা দুজনের নাম পেলাম যারা ইমাম হুসাইনের সাথি মুসলিম বিন আকীলের বিরুদ্ধে ইবনে যিয়াদের সেনা/পুলিশ ছিল, ‏১) ‏আমর বিন হারিস আল মাখযুমি ২) ‏মুহাম্মাদ বিন আশাসআমর বিন হারিস আল মাখযুমি কে?এখানে আমরা যে নতুন নাম পেলাম সে হল আমর বিন হারিস আল মাখযুমি যে কিনা কুফার পুলিশ প্রধান ছিল, (মুহাম্মাদ বিন আশাসের নাম আগেও এসেছে পরে এই ব্যাক্তির পরিচয় দেওয়া হবে) ‏এবং ইবনে আকীলের গ্রেফতারে প্রধান ভুমিকা রাখে।এই আমর বিন হারিস আল মাখযুমি একজন সাহাবী ছিলেন।যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ৪১৮ এ উল্লেখ করেছেঃكان عمرو من بقايا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين كانوا نزلوا الكوفة… له صحبة ورواية.“আমর বিনকে রাসুল সাঃ এর সাহাবীদের মধ্যে গন্য করা হয় এবং সে কুফার অভিবাসী হয়ে যায়…… ‏সে সাহাবী এবং রাসুল সাঃ এর থেকে বর্ননা করেছেন”।সাহাবীদের ও অন্যান্যদের জীবনীর উপরে ইবনে আসীরের লেখা বিখ্যাত কেতাব ‎‘উসুদুল গাবা’ ‏এর খন্ড ৪ পাতা ৯৮ এ আমর বিন হারিসের কথায় উল্লেখ করেছেনঃوولي لبني أمية بالكوفة وكانوا يميلون إليه ويثقون به وكان هواه معهم“তাকে বনি উমাইয়ারা নিয়োগ করেছিল কুফাতে, ‏তারা তাকে বিশ্বাস করত”।অনুরুপ ভাবে যাহাবি তার ‎‘আল কাশিফ’ ‏এর খন্ড ২ পাতা ৭৪, ‏৪১৪০ নং জীবনীতে, ‏ইবনে হাজর তার তাহযিব আত তাহযিব এর খন্ড ১ পাতা ৭৩২ এ জীবনী নং ৫০২৪ এ আমর বিন হারিসকে সাহাবী হিসাবে গননা করেছেন।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার ও লড়াইয়ের মুল হোতা আহলে সুন্নার কাছে অতি সম্মানিয় ব্যাক্তি। আহলে সুন্নাহ এনার থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তার হাদিস আহলে সুন্নাহর প্রধান প্রধান কেতাবে দেখা যায় যেমনঃ১) ‏সহিহ বুখারি।২) ‏সহিহ মুসলিম।৩) ‏সুনান আবু দাউদ।৪) ‏সুনান তিরমিযি।৫) ‏সুনান আন নাসাঈ।৬) ‏সুনান ইবনে মাজা।মুসতাদরাক আল হাকিম, ‏তাবারানি, ‏মুসনদে ইমাম আহমাদ আরো অনেক হাদিসের কিতাবে।মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করার সময় অস্ত্রের যুদ্ধ হয় এবং তাতে মুসলিম বিন আকীল ঘায়েল হয়ে যান এবং তাকে গ্রফতার করা হয়ঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৫ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃ“ ‏ঐতিহাসিকগন বলেন, ‏মুসলিম বিন আকীল যখন কুফার প্রশাসকের প্রাসাদদ্বারে পৌঁছল, ‏তখন সাহাবাদের ছেলেগনদের মধ্য থেকে তাঁর পরিচিত একদল আমির উমারা ছিলেন। ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের অনুমতির জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে মুসলিম গুরুতর আহত তাঁর মুখমণ্ডল ও কাপড় চোপড় রক্তে রঞ্জিত তিনি ভীষন পিপাসার্ত আর এই সময় সেখানে এক কলস ঠান্ডা পানি ছিল। তা থেকে পান করার জন্য তিনি কলসিটা ধরতে চাইলেন, ‏তখন তাদের এক ব্যাক্তি বলল ‎‘আল্লাহর কসম! ‏জাহান্নামের তপ্ত পানি পান করার পুর্বে তুমি তার থেকে পান করবে না’। তখন তিনি তাকে বললেন ‎‘তোমার সর্বনাশ হোক! ‏হে বাচ্চা! ‏আমার থেকে তুমি জাহান্নামের তপ্ত পানি এবং সেখানে চিরস্থায়ী হওয়ার বেশি উপযুক্ত’”।উপরের রেফারেন্স থেকে বোঝা গেল যে সাহাবী ও সাহাবীদের ছেলেপুলেরা কিভাবে ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দুত মুসলিম বিন আকীলের হত্যায় জড়িত।যেসব সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের নাম ইবনে কাসীর উল্লেখ করেননি, ‏কিন্তু তাবারিতে নাম পাওয়া যায় যেমন, ‏কাসীর বিন শাবিবাহ বিন আল হুসাইব আল হারিসি। ইবনে সাদ তার তাবাকাত এ এই তাবেই সমন্ধে উল্লেখ করেছেন ‎“সে উমার বিন খাত্তাব থেকে বর্ননা করেছে এবং সে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের গভর্নর ছিল’। ‎(খন্ড ৪ পাতা ১০৪)উপরের দলিল থেকে প্রমাণিত হল যে সাহাবা ও সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর সাথিদের হত্যায় জড়িত ছিল।উসমানের ধর্মের লোকেরা ইমাম হুসাইন আঃ ও তাঁর সাথিদের হত্যাকান্ডে জড়িতএ বিষয় প্রমানের জন্য সরাসরি কারবালার যুদ্ধ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং এক এক পক্ষ থেকে একজন একজন করে যুদ্ধ হচ্ছিল তখন হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দল থেকে নাফি বিন হিলাল বার হয়ে এসে বললেনঃ“আমি জামালি, ‏আলী আলির ধর্মে বিশ্বাস করি’।মুজাহিম আল হুরাইস নামে একজন বার হয়ে হুংকার ছাড়ল ‎‘আমি উসমানের ধর্ম অনুসরণ করি’।নাফি উত্তর দিল ‎‘বরং তুই শয়তানের ধর্ম অনুসরণ করিস’। আর পরে সে ‎(নাফি) ‏তাকে আক্রমণ করল ও হত্যা করল’। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৩৬,১৩৭)ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মোমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা): “হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল”।ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩৬৫ ইঃফা): “ইবনে যিয়াদ আল হারমাযুনের গভর্নরের আমর ইবনে সায়ীদের কাছে হুসাইনের নিহত হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে পত্র প্রেরণ করলো সে একজন ঘোষকে ডেকে এই খবর ঘোষনা দিল। বনূ হাসিমের মেয়েরা যখন এই সংবাদ শুনল তারা উচ্চস্বরে কান্না বিপাল করতে লাগলো। তখন আমর বিন সায়ীদ বলতে লাগলো এই হল উসমান বিন আফফানের শোকে বিলাপকারীণিদের বদলা”।সুতরাং ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর হত্যাকে উসমানের হত্যার বদলা নেওয়া হিসাবে দেখা হয় এবং উসমানীদের বা উসমানের শিয়া বা অনুসরণকারিদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়।ইবনে তাইমিয়া তার ‎“মিনহাজ আস সুন্নাতে’ “যদি নাসেবী ইবনে সাদকে উসমানী বলা হয়, ‏সেটা এইজন্য যে উসমানের জন্য তার প্রতিশোধ নেওয়া ও তাকে প্রশংসা করার জন্য”।ইবনে তাইমিয়া আর উল্লখে করেছে ‎وقد كان من شيعة عثمان من يسب عليا ويجهر بذلك على المنابر“উসমানের শিয়ারা প্রকাশ্যে মিম্বার থেকে আলিকে গালি দিত”।মুহাম্মাদ বিন আশাস ‎/ ‏আশআস কে?এর আগে বেশ কয়েক বার এই নাম উল্লেখ হয়েছে এখানে আর একবার রিভিশন করা হল।কুফায় এসে ইবনে যিয়াদ সরকারি পুলিশদের নির্দেশ দেয় যে মুসলিম বিন আকিলকে সহ তার সাহায্যকারিদের গ্রেফতার করার জন্য। এই কাজের জন্য ইয়ামানি গোত্র প্রধান কাসির বিন শিবাব ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে ভার দেয়। তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ৪৯;“কাসীর, ‏কালব গোত্রের একজনের সাথে দেখায় পায় যার নাম আবদুল আলা বিন ইয়াজিদ। সে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল মুসলিম বিন আকীলের ও অন্যান্য যুবকদের সাথে যুক্ত হতে। কাসীর তাকে পাকড়াও করে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে গেল এবং এই ব্যাক্তির ব্যাপারে বলল, ‏কিন্তু লোকটা বলল যে সে তার কাছে আসছিল। ইবনে যিয়াদ বলল, ‘নিশ্চই নিশ্চই! ‏আমার মনে পড়েছে তুমি আমকে এই ব্যাপারে ওয়াদা করেছিলে’! ‏ইবনে যিয়াদ তাকে গারদে দিতে বলল।মুহাম্মাদ বিন আশাস বনু উমারাহ গোত্রের ঘরদের দিকে গেল। উমারাহ বিন সালখিন আল আজদি তার কাছে এলো, ‏সে অস্ত্র নিয়ে ইবনে আকীলের কাছে যাচ্ছিল। মুহাম্মাদ বিন আশাস তাকে ধরে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠাল, ‏ইবনে যিয়াদ তাকে কারাগারে দিল”।‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখন আমরা দেখবো যে আহলে সুন্নাহরএই পুর্বপুরুষ মুহাম্মাদ বিন আশাস ও আহলে সুন্নাহর মধ্যে আঁতাত। যথারীতি আহলে সুন্নাহর ধর্মগুরু এই আহলে বাইত আঃ এর শত্রু। এর থেকে হাদিস শিক্ষা নিয়েছে আহলে সুন্নাহ আর অনেক ধর্ম গুরু। আমরা এই ব্যাক্তির হাদিস পাই নিম্নোক্ত হাদিসের কেতাব গুলিতেঃ১) ‏মুয়াত্তা এ ইমাম মালিক।২) ‏সুনানে ইমাম নাসাই।৩) ‏মুসনদে ইমাম হাম্বল।৪) ‏সুনান কুবরা, ‏বাইহাকী।মুসলিম এই ব্যক্তির নাতিপুতির থেকে হাদিস বর্ননা করেছেন।রেজাল শাস্ত্রে ইমামগণ যেমন ইবনে হিব্বান তাকে তার শিকাত এ উল্লেখ করেছেন। ‎(তাহযিব আল কামাল, ‏খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬)।ইবনে হাজর আস্কালানী তার তাকরীব আত তাহযীব এ তাকে তাবেঈন বলে উল্লেখ করেছেন এবং যার হাদিস কবুল করা যায় বলেছেন ‎(মকবুল)। ‎(খন্ড ২ পাতা ৫৭, ‏জীবনী নং ৫৭৬০)।এই মুহাম্মাদ ইবনে আশাস আহলে সুন্নাহর বড় সাহাবী পরিবারের সাথে যুক্ত, ‏তাহযিব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৫ ‎“মুহাম্মাদ বিন আশাস বিন কায়েস আল কিন্দি আবুল কাসেম আল কুফি, ‏তাঁর মা উম্মে ফারাহ বিন আবি কুহাফা যে আবু বকরের বোন”।আহলে বাইতের এই শত্রুকে মুখতার হত্যা করে। তাহযীব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬قتله المختار سنة ست وستين“আল মুখতার তাকে ৬৬ সনে হত্যা করে”।প্রসঙ্গত একটা কথা পাঠকদের বলে রাখি সে এই মুখতার রহঃ কে আহলে সুন্নাহরা গালি দেয় নামে পরে কাজ্জাব লেখে এবং নিন্দা মন্দ করে। অথচ ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏হত্যায় জড়িত প্রায় সব লোকদের এই মুখতার হত্যা করে। সেই কারনেই হয়ত মুখতারের মত লোককে আহলে সুন্নাহ দেখতে পারে না। অথচ মুখতার তাবেঈ ছিল ও সাহাবীর ছেলে ছিল। পরে ইনশাল্লাহ এই বিষয় আর আলোচনা করা হবে। হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের যে ব্যাক্তি সাজা দিয়েছে আহলে সুন্নাহর কাছে সেই মুখতার একজন জগন্য লোক ও মিথ্যাবাদী। এটাও প্রমান করে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের প্রতি আহলে সুন্নাহর মুহাব্বাতও আত্মিক একাত্ব।উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাসউমার বিন সাদ হচ্ছে বিখ্যাত সাহাবী সাদ ইবনে আবি ওক্কাস এর পুত্র। সে সাদ বিন আবি ওক্কাস উমার বিন খাত্তাবের দ্বারা গঠিত খলিফা কমিটির একজন সদস্য ছিলেন ও খলিফা হওয়ার প্রার্থী ছিলেন।এই উমার বিন সাদ কারবালায় ইয়াজিদের বাহিনীর সেনাপতি ছিল। এই উমার বিন সাদ যে ইয়াজিদকে চিঠি লিখেছিল যে কুফার গভর্নর নুমান বিন বাসীর দুর্বল লোক। এই উমার বিস সাদকে ইয়াজিদ তার চিঠিতে লিখেছিল যে আমার শীয়া। অর্থাৎ এই উমার বিন সাদ ইয়াজিদের শীয়া ছিল।তখন কুফায় ইয়াজিদের শীয়ারা ‎– ‏ইয়াজিদের দলের লোকেরা ইয়াজিদকে চিঠি লেখেঃ“মুসলিম বিন আকীল কুফায় এসেছে আর শীয়ারা হুসাইন বিন আলির হয়ে তার হাতে বায়াত করছে। যদি আপনি কুফানদের চান তবে একজন কঠিন লোককে এখানে পাঠান যে আপনার হুকুম তালিম করবে এবং ওই কাজ করবে ঠিক সেই ভাবে আপনি আপানার শত্রুদের প্রতি ব্যবহার করেন। নুমান বিন বাশীর একজন দুর্বল লোক বা দুর্বলের মত ব্যবহার করছে”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯, ‏পাতা ৩০)এই ধরনের চিঠি যা ইয়াজিকে কুফা থেকে আহলে সুন্নাহর মোতবার লোকেরা লিখেছিল তাদের নামঃ১) ‏আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন সাইদ আল হাযরামি ২) ‏আম্মারা বিন উকবাহ ৩) ‏উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৩০)ইয়াজিদ বসরা/কুফার গভর্নর ইবনে যিয়াদকে চিঠি লেখেঃ“কুফা থেকে আমার শিয়ারা আমাকে লিখেছে যে ইবনে আকীল কুফাতে অবস্থান করছে এবং লোকজন জড়ো করছে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্রোহ করার জন্য। সুতারং তুমি যখন আমার এই পত্র পড়বে কুফায় যাও ও ইবনে আকীলকে খোঁজ এমন ভাবে যেন তুমি দানা খুজছো এবং তাকে খুঁজে বার কর। তাকে চেন দিয়ে বাধো, ‏হত্যা করো কিংবা বিতাড়িত করো’। ‎( ‏তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ১৮ এবং ৩১)এই উমার বিন সাদই প্রথম ব্যাক্তি যে কারবালার যুদ্ধে প্রথম তীর ছোটে এবং বলে সাক্ষী থেকে আমি প্রথম তীর ছুড়েছি।বুখারি তার তারিখ আস সাগীর এর উল্লেখ করেছেনঃأبو المعلي العجلي قال سمعت أبي أن الحسين لما نزلكربلاء فأول من طعن في سرادقه عمر بن سعد“আবু মুয়ালি আল ইজলি তার পিতা থেকে বর্ননা করেছেন যে ‎“ ‏যখন হুসাইন কারবালায় এল, ‏উমার বিন সাদ প্রথম ব্যাক্তি ছিল যে তাবুগুলির দড়িগুলি কেটে দিয়েছিল”। ‎(বুখারি তারিখ আস সগীর, ‏খন্ড ১ পাতা ১৭৮)ইমাম যাহাবি তার বিখ্যাত বই সিয়ার আলাম আন নাবুলা এখন খন্ড ৪ পাতা ৩৪৯ঃ এ উল্লেখ করেছেনঃ“উমার বিন সাদ, ‏সেনাপতি ছিল হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী বাহিনীর, ‏অতপর মুখতার তাকে হত্যা করে’।কয়েক বছর পরে মুখতার রহঃ যখন ইবনে যিয়াদ কে তাড়ায় আর একে একে ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদেরকে হত্যা করে তখন এই উমার বিন সাদকেও হত্যা করে।এখন দেখা যাক আহলে সুন্নাহর সাথে এই লানত প্রাপ্ত লোকের সখ্যতা ও আহলে সুন্নাহ কেমন ভাবে এই তাদের এই মহান ব্যাক্তির থেকে হাদিস ও ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে।আহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত হাফেজ ইবনে হজর আস্কালানি তার ‎‘তাহযীব আত তাহযীবে’র খন্ড ৭ পাতা ৩৯৬ এ ৭৪৭ নং বায়োগ্রাফিতে উল্লেখ করেছেন।عمر بن سعد بن أبي وقاص الزهري أبو حفص المدنيسكن الكوفة.روى عن أبيه وأبي سعيد الخدري.وعنه ابنه ابراهيم وابن ابنه أبو بكر بن حفصابن عمر وأبو إسحاق السبيعي والعيزار بن حريث ويزيدبن أبي مريم وقتادة والزهري ويزيد بن أبي حبيبوغيرهم“উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস আল যুহুরি আবু হাফস আল মাদানি কুফার বাসিন্দা। সে তার পিতা ও আবু সাইদ আল খুদরি থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন। আর তার ছেলে ইব্রাহিম, ‏পৌত্র আবু বকর বিন হাফস বিন উমার, ‏আবু ইসহাক আল সাবেই, ‏আইজার বিন হারিস, ‏ইয়াজিদ বিন আবি মরিয়াম, ‏কাতাদা, ‏যুহুরি ও ইয়াজিদ বিন আবি হাবীব ও অন্যান্যরা তার থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে হাজর আস্কালানী তার ‎‘তাকরিব আত তাহযীবে’র খণ্ড ১ পাতা ৭১৭ এ উমার বিন সাদ ইবনে আবি ওক্কাসকে ‎‘সুদুক’ (সত্যাবাদী/বিশস্ত হাদিস বর্ননাকারী, ‏সত্যবাদী ধর্ম শিক্ষা দাতা) ‏সেই সাথে উল্লখে করেছেন যে হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে সেনার আমীর ছিল!عمر بن سعد بن أبي وقاص المدني نزيل الكوفة صدوقولكن مقته الناس لكونه كان أميرا على الجيش الذينقتلوا الحسين بن عليআহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের ইমামদের ইমাম আল ইজলি এর কথা ‎‘তাহযীব আল কামাল খন্ড ২১ পাতা ৩৫৭ এ ‎(বায়োগ্রাফি নং ৪২৪০) ‏এ আমার পড়িঃوقال أحمد بن عبدالله العجلي (2): كان يروي عن أبيهأحاديث، وروى الناس عنه.وهو الذي قتل الحسين، وهو تابعي ثقة.“আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল ইজলি বলেছেন ‎‘ ‏সে ‎(উমার বিন সাদ) ‏তার পিতা থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করত, ‏এবং জনগণ তার থেকে বর্ননা করেছে। এবং হুসাইনের কাতিলদের একজন, ‏এবং শিকা তাবেঈ’।পাঠকগন দেখুন আহলে সুন্নাহর মহান ইমামের কাছে এই ব্যাক্তি ‎‘শিকা’ ‏অর্থাৎ বিশস্ত!।সালাফি ওহাবি ও উমাইয়া মেন্টালিটির প্রিয় রেজাল ও ইতিহাসের ইমাম, ‏ইমাম যাহাবি তার কেতাব ‎‘মিযান আল এতিদাল’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ১৯৮ এ উমার বিন সাদ লানতি এর সমন্ধে লিখেছেনঃهو في نفسه غير متهم “ব্যাক্তিত্ব হিসাবে তাকে তিরস্কার করা হয় না”।এই লানতি ব্যাক্তি থেকে আহলে সুন্নাহর মুহাদ্দেসগন প্রবল ভাবে হাদিস নিয়েছেন। যেমনঃ১) ‏ইমাম নাসাই, ‏তার সুনান আন নাসাই এ। সালাফিদের গুরু আলবানি এই হাদিসকে সাহিহ ও বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন।৩) ‏আহলে সুন্নাহর ফেকার ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনদে একাধিক বার এই লানতির থেকে হাদিস নিয়েছেন।*আরও মজার ব্যাপার সালাফিদের প্রিয় মুহাদ্দিস সুয়াইব আরনাউত মুসনদে আহমাদের তাহকিকে এই হাদিস গুলির সনদ ‎‘হাসান’ (উত্তম) ‏বলে সার্টিফাই করেছেন। ‎(দেখুন রেসালা পাবলিকেশনের, ‏ওস্তাদ সুউয়াইব আরনাউত কতৃক তাহাকিক করা মুসনদে আহমাদের খন্ড ৩ এর হাদিস নং ১৪৮৭, ‏১৫৩১, ‏১৫৭৫)*আহলে সুন্নাহর মুহাক্কিক শেইখ আহমাদ শাকির তার তাহাক্কিক কৃত মুসনদে আহমাদ ‎(দারুল হাদিস, ‏কায়রো থেকে প্রকাশিত) ‏এই উমার বিন সাদ লানতির হাদিসকে সাহিহ সনদ বলেছেন। ‎(হাদিস নং ১৫১৯ দেখুন)সুতারং একথা সহজেই বোঝা যায় যে আহলে সুন্নাহের সাথে হুসাইন আঃ এর কাতিলদের কত ঘনিষ্ঠতা এবং এটাও প্রমান হয় যে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীরা কোন দলের। বরং সরাসরি প্রমান হয় এরা যে আহলে সুন্নাহর দলের ও আহলে সুন্নাহর পুর্বজও বটে। যাদের উপর আহলে সুন্নাহর শিক্ষাদীক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আছে।উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ বা উবাইদুল্লাহ ইবনে আবিহাইবনে যিয়াদের পরিচয় দেওয়া লাগবে না। ইবনে যিয়াদ লাঃ কুফা ও বসরার গভর্নর ছিল। ইয়াজিদের নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে বিরুদ্ধে যুদ্ধের সেনা পাঠায় এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ হত্যা করে।ইমাম হুসাইন আঃ মক্কা ছেড়ে কুফায় যাত্রা করছেন সেটার খবর পাওয়ার পরে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াকে চিঠি লেখেঃ ইবনে কাসীর ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ৩১২ ‎( ‏বাংলা ইঃফা)“আমার কাছে সংবাদ পৌঁছিয়েছে যে, ‏হুসাইন কুফা অভিমুখে রওনা হয়েছে, ‏এর ফলে আমার গভর্নরদের মধ্যে তুমি পরিক্ষার সম্মুখীন হয়েছো। এই পরিক্ষার ফলের উপর তোমার মুক্তি ও সম্মান লাভ নির্ভর করবে। কিংবা ক্রীতদাসের মত দাসত্ব ও অপমান বহন করবে। আর এই কারণেই ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে ও ইয়াজিদের কাছে তাঁর মাথা পাঠিয়ে দেয়”।ইবনে হজর আশকালানি তার ‎‘তাজিল আল মুনফ’আ বিজওয়াইদ রিজাল আল আইম্মাতুল আরবা’ ‏এর খন্ড ১ পাতা ৮৪০ এ উল্লেখ করেছেনঃعبيد الله بن زِيَاد أَمِير الْكُوفَة لمعاوية ولابنه يزِيد وَهُوَالَّذِي جهز الجيوش من الْكُوفَة للحسين بن عَليّ رضىالله تَعَالَى عَنْهُمَا حَتَّى قتل بكربلاء وَكَانَ يعرف بِابْنمرْجَانَة وَهِي أمه وَقد ذكر لَهُ بن عَسَاكِر فِي تَارِيخدمشق تَرْجَمَة وَجرى ذكره فِي سنَن أبي دَاوُد وَلم يترجملَهُ الْمزي وَمن تَرْجَمته أَنه ولد فِي سنة اثْنَتَيْنِ أَو ثَلَاثوَثَلَاثِينَ وروى عَن سعد بن أبي وَقاص وَمُعَاوِيَة وَمَعْقِلبن يسَار وَابْن أُميَّة أخي بني جعدة وروى عَنهُ الْحسنالْبَصْرِيّ وَأَبُو الْمليح بن أُسَامَة“… ‏সে উমাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ, ‏কুফার আমির ছিল মুয়াবিয়া ও তার ছেলে ইয়াজিদের তরফ থেকে এবং সে কুফা থেকে সেনা বাহিনী প্রস্তুত করেছিল হুসাইনের ‎(রাঃ) ‏এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য কারবালায় তার কতল পর্যন্ত।সে ইবনে মারজানা নামে পরিচিত ছিল আর সে ‎(মারজানা) ‏তার মা ছিল।ইবনে আসাকির তারিখে দামিস্কে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন আর সুনানে আবু দাউদে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে………………. ‏এবং সে সাদ ইবনে আবি ওক্কাস, ‏মুয়াবিয়া, ‏মাকেল বিন ইয়াসির এবং বানি জাদাহ এর ভাই ইবনে উমাইয়া থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছে এবং তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মুমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে যিয়াদ মুয়াবিয়ার খাস লোক ছিল ‎(এর আগেও প্রমান দেওয়া হয়েছে) ‏এবং মুয়াবিয়ার থেকে হাদিস বর্ননা করেছেঃ ইবনে কাসীর তার ‎‘আল বেদায়া ওয়া আন নেহায়া’তে ‎(খণ্ড ৮ পাতা ৫০৬ বাং)قال ابن عساكر وروى الحديث عن معاوية وسعد بن أبي وقاص ومعقل بن يسار ، وحدث عنه الحسن البصري وأبوالمليح بن أسامة“ইবনে আসাকির বলেছেন যে,সে ‎(উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ) ‏মুয়াবিয়া, ‏সাদ ইবন আবি ওক্কাস,মাকাল বিন ইয়াসির থেকে হাদিস বর্ননা করেছে,আর তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা বর্ননা করেছে”।আহলে সুন্নাহদের কাছে যেমন মুয়াবিয়া মহান ব্যাক্তি এই ইবনে যিয়াদের কাছেও মুয়াবিয়া তেমন মহান,আহলে সুন্নাহ তাদের হাদিস ধর্ম শিক্ষা এই লানতির থেকে নিয়েছে।নাসেবীদের জন্য আরও দলিল দেওয়া হল ঠিক যেমন আহলে সুন্নাহর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মুমিনিন ও ষষ্ট খলিফা ইবনে যিয়াদের লাঃ এর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মোমিনিন ও খলিফা। এটা প্রমান করে যে আহলে সুন্নাহও ইবনে যিয়াদের অনুসারী।ইবনে যিয়াদ, ‏আমর বিন সাদকে লেখেঃ ইবনে কাসীর(বেদায়া আন নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা)“হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যাবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল। আর হুসাইন ও তার সাথিদের আমিরুল মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বায়াতের জন্য প্রস্তাব দাও”।এর আগে দেখানো করা হয়েছে যে ইয়াজিদ খ্রিস্টান উপদেষ্টা স্যার জনের পরামর্শে ইবনে যিয়াদকে কুফার গভর্নরের দায়িত্ব আবার দেয়। উপরের দলিলাদি থেকে প্রমাণিত হয় যে ইবনে যিয়াদ উসমানী ছিল এবং উসমানকে আমিরুল মোমিনিন মানত, ‏ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ মানে, ‏মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন বলে মানত ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীরা মানে।আহলে সুন্নাহ যে ইবনে যিয়াদের উত্তর পুরুষ তা উপরের দলিল সমূহ থেকে প্রমাণিত হয়। শিমর বিন যুলজোশান আল মানুল লাঃশিমর বিন যুলজোশান ইমাম হুসাইন আঃ কে তার ধড় থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করে। আহলে সুন্নাহর এই শিমর বিন যুলজোশানকে নিয়ে মহা বিপদে আছে না পারে গিলতে না পারে উগরাতে। গলায় এমন ভাবে আটকিয়ে আছে যে আহলে সুন্নাহ আওয়াজ করেতে পারে না, ‏কিছু বলতে চাইলে গ্যা গোঁ আওয়াজ বার হয়। ফলে আহলে সুন্নাহর ওই আওয়াজ সুনে বলে যে শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আলির ‎(আঃ) ‏এর দলে ছিল ফলে সে শিয়া ছিল। এজন্য তারা একটা রেফারেন্স দেয়ঃআল কুম্মিয়ের কেতাব ‎‘সাফিনাতুন নাজাতের’ ‏খন্ড ৪ পাতা ৪৯২ তে আল কুম্মি লিখেছেন ‎“আমি বলি, ‏শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মোমিনিনের সেনা বাহিনীতে ছিল”।সুতরাং ইতিহাসিক ভাবে যেটা এসেছে, ‏শিমর লানাতুল্লাহ আলইহি সিফফিনের যুদ্ধে ইমাম আলী আঃ এর পক্ষে ছিলো। সুতরাং তাঁদের প্রোপ্যাগান্ডা যথারিতি শুরু!! ‏শিমর শিয়া ছিল, ‏শিমর শিয়া ছিল!!এই কথার জবাবঃ ১) ‏তালহা, ‏যুবাইর ইমাম আলী আঃ এর হাতে হাত রেখে বায়াত করেছিল। এখন যারা যে যুক্তিতে বলে শিমর শীআ ছিল তারা তালহা ও যুবাইরকে কি বলবেন? ‏শিয়া ‎?২) ‏যখন ইমাম আলী আঃ এর বায়াত হয় তখন যারাই ইমাম আলী আঃ কে মেনেছিল তারা পরবর্তী ইসলামে শাসক হিসাবে মেনেছিল, ‏তাঁদের মধ্যে সাধারণ লোক, ‏সুন্নি আকীদা এর লোক- ‏যারা আবু বকর উমার ও উসমানের খিলাফাতকে বৈধ মনে করে এবং শুধু মাত্র সাধারণ লোকজন ‎(যাদের কাছে কে খলিফা হল কোন যাই আসে না) ‏ও শীয়া আকীদার লোক ছিল-যারা ইমাম আলী আঃ কেই একমাত্র বৈধ খলিফা মনে করত। ‎(এ বিষয় প্রথম অধ্যায় আলোচনা বিশদ করা হয়েছে।) ‏সুতরাং ইমাম আলী এর হাতে বায়াত হলেই বা সিফফিনে আলী আঃ এর সেনা দলে থাকলেই যে সে শীয়া ছিল তার কোন প্রমান নেই।কেননা আহলে সুন্নার প্রচুর লোক আলী আঃ এর হাতে বায়াত হয়েছিল ও সিফফিনেও আলী আঃ এর সেনা দলে ছিল।৩) ‏৩৮ হিজরিতে যখন সিফফিনের যুদ্ধে যারাই ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল সবাই আকাইদ এ শীয়া ছিল না। রাষ্ট্র এর প্রধান হিশাবে ইমাম আলী আঃ এর দলে সুন্নি সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে বহু গোত্র ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল। শিমর ও ইমাম আলী আঃ এর দলে ছিল।৬১ হিজরিতে কারো দ্বারা অনুষ্ঠিত কাজ ৩৭/৩৮ হিজরিতে সেই ব্যাক্তি কোথায় ছিল সেটা দিয়ে বিচার হয় না। বহু লোক ধর্মপ্রান মুসলিম ছিল পরে নাস্তিক হয়ে গিয়েছে। এমন কি আল্লাহের রাসুল সাঃ এর এক ওহি লেখক ও মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।সুতারং শিমর ৬১ হিজরিতে কার দলের হয়ে কার নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করেছে সেটা বিবেচ্য। ৬১ হিজরিতে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে যিয়াদের চিঠি নিয়ে শিমর লাঃ কারবালায় আসে এবং ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করে।৪) ‏নাসেবীদের জন্য কাউন্টার প্রশ্নঃ নাসিবিরা যদি এক কথায়ে বলতে চায় যে সিফফিনে ইমাম আলী আঃ এর দলে যারা ছিল তারা শিয়া তবে মুয়াবিয়ার দলে কারা ছিল? ‏নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাহরা আর নাসিবিরা।আহলে সুন্নাহর খেলাফতি আকীদায় পরম্পরার দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে যে শিমর আহলে সুন্নাহর মাজহাবের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তি ছিল। আহলে সুন্নাহরা আবু বকর ‎,উমার, ‏উসমান ও আলি আঃ এর খিলাফাত মানে এবং তারপরে মুয়াবিয়াকে মানে এবং অতি উচ্চ ধরনা রাখে, ‏তার পরে ইয়াজিদেকে খলিফা/আমীর মানে এবং এর পরে উমাইয়া ও আব্বাসিদের তার পরে তুর্কিদের খলিফা হিসাবে মান্য করে।শিমর সিফফিনে আলী আঃ এর দলে ছিলে তার পরে মুয়াবিয়ার খিলাফত মান্য করে তার পরে ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন মানত।৫) ‏এখন আমি দেখাব শিমর এর মেলামেশা, ‏সখ্যতা কাদের সাথে ছিল। আহলে সুন্নার বড় বড় আলেম দের সাথে ছিল।ইমাম আবু ইশাক ‎(মৃঃ১২৯) ‏আহলে সুন্নাহর বড় মাপের তাবেই যার সম্বন্ধে সুন্নি রেজাল শাস্ত্রের ইমাম গনদের অন্যতম ইমাম যাহাবি তার সিয়ার আলাম আন নাবুলাতে লিখেছেনঃ ‎-“শেইখ, ‏আলেম, ‏কুফার মুহাদ্দিস ‎” (খণ্ড ৫ পাতা ৩৯২)তারিখে হুফফাজ- ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“ফুযাউইল বলেছেন ‎‘ ‏আবু ইশাক প্রত্যেক তিন দিনে কুরআন খতম করতেন………… ‏তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন, ‏তাকওয়া ধারী, ‏জ্ঞানের পাত্র ছিলেন, ‏আরও গুনাগুন ছিল”। ‎(খণ্ড ১ পাতা ১১১)এখন দেখুন আবু ইশাক আর শিমর লানাতুল্লাহ আলাইহি একসাথে নামায পড়ছেন। এখানে বোঝা যায় শিমর কে ছিল।মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“আবু ইশাক বলেছেন, ‏শিমর আমাদের সাথে নামায পড়ত আর বলত যে ‎‘ও আল্লাহ তুমি যান আমি সৎ লোক তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও’। আমি বললাম ‎‘আল্লাহ কেন তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন যখন তুমি রসূল আল্লাহের সন্তানের হত্যায় অংশগ্রহণ করেছ’? ‏সে ‎(শিমর) ‏বলল ‎‘তোমার অহ! ‏আমি কি করতাম? ‏আমাদের শাসক এই রকম করতে বলেছিল। আমরা তাদের অবাধ্য হয়নি……………’। আমি ‎(আবু ইশাক) ‏বললাম ‎‘বাহ ভাল অজুহাত! ‏নিশ্চয়ই হুকুম মান্য করা শুধু ভাল কাজের জন্য হয়’।” ( ‏খণ্ড ২ পাতা ২৮০)উপরের শিমর আর আবু ইশহাকের কথা থেকে এটা পরিষ্কার যে শিমর কাদের সাথে নামায পড়ত, ‏উঠাবসা করত। আরও এটা জানা যায় যে শিমর কার হুকুমে ইমাম হুসাইন আঃ কে হত্যা করেছিল!শিমার শুধু সুন্নি ছিল না, ‏সুন্নিরা শিমারের থেকে শিক্ষা নিয়েছে, ‏হাদীস নিয়েছে!মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবি, ‏শিমারের জীবনীর আলোচনাতে ‎[ شمر ] 3742 – شمر بن ذى الجوشن، أبو السابغة الضبابى. عن أبيه. وعنه أبو إسحاق السبيعى.“……………… ‏আবু ইশাক তার( ‏শিমর) ‏থেকে বর্ণনা করেছেন”আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে শিমরের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন!শাবাষ বিন রাবেইঃহুসাইন আঃ কে আহলে সুন্নাহর পিতৃপুরুষদের মধ্যে যারা চিঠি লিখেছিল তাদের নেতা ছিল এই ব্যাক্তি। এই ব্যাক্তি কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে আমর বিন সাদের বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। এর ব্যাপারে আগেই সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এখানে আহলে সুন্নাহর এই পিতৃব্যের আরো একটু আলোচনা করা হলঃআহলে সুন্নাহর রেজাল ও হাদিস শাস্ত্রের ইমাম যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’র খন্ড ৪ পাতা ১৫০ এ উল্লেখ করেছেনঃشَبَثُ بنُ رِبْعِيٍّ * التَّمِيْمِيُّ اليَرْبُوْعِيُّأَحَدُ الأَشْرَافِ وَالفُرْسَانِ، كَانَ مِمَّنْ خَرَجَ عَلَى عَلِيٍّ، وَأَنْكَرَعَلَيْهِ التَّحْكِيْمَ، ثُمَّ تَابَ وَأَنَابَ.وَحَدَّثَ عَنْ: عَلِيٍّ،وَحُذَيْفَةَ.وَعَنْهُ: مُحَمَّدُ بنُ كَعْبٍ القُرَظِيُّ، وَسُلَيْمَانُالتَّيْمِيُّ.لَهُ حَدِيْثٌ وَاحِدٌ فِي (سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ)“আশরফ ও বাহাদুর একজন…………সে আলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং সালিশি মানতে অস্বীকার করেছিল, ‏পরে তওবা করেছিল। সে হাদিস বর্ননা করেছে আলী, ‏হুজাইফা থেকে এবং তার থেকে মুহাম্মাদ বিন ক’আব আল কারদ্বি ও সুলাইমান তামিমি হাদিস বর্ননা করেছে, ‏সুনান আবি দাউদে তার একটা হাদিস উল্লখে আছে”।ইবনে মাজা তার থেকে হাদিস নিয়েছে, ‏বুখারিরি ওস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক ও ইবনে আবি শায়বা তাদের নিজ নিজ মুসান্নাফে শাবাষ থেকে হাদিস বর্ননা করেছে। আহলে সুন্নাহর বড় রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ইবনে হিব্বান তাকে তাঁর শিকাত এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে সে ভুল করেছে ‎(হাদিস বর্ননায়)।এ লানতি আহলে সুন্নাহর কাছে মর্যাদা রাখে তা উপরে দলিল সমূহ থেকে বোঝা যাচ্ছে। এর থেকে আহলে সুন্নাহ হাদিস নিয়েছে ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে!আবু দাউদের হাদিসঃحَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَاعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِكَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ شَبَثِ بْنِ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامعَنْ …النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْخَبَرِআবু দাউদ এই হাদিসে কোন কমেন্ট করেনি সুতারং আবু দাউদ এই হাদিসের সনদ সহিহ মানত। কেননা আবু দাউদ বলেছেন যে আমার কেতাবে কোন হাদিসে সমস্যা থাকলে তাকে সেখানে আমি মন্তব্য লিখব, ‏আর আমি কোন মন্তব্য না করার অর্থ সেই হাদিস বিসস্ত। ‎( ‏সুত্র সওকানির ‎‘নিল আল আওতার’ ‏খন্ড ১ পাতা ১৫)ইমাম নাসাইয়ের সুনান আল কাবীরের হাদিসের অংশ বিশেষঃأخبرنا أحمد بن عمرو بن السرح قال أخبرنا بن وهبقال أخبرني عمرو بن مالك وحيوة بن شريح عن بنالهاد عن محمد بن كعب عن شبث بن ربعي عن …عليبن أبي طالب قال قدم على رسول الله صلى الله عليهوسلم سبي فقال علي لفاطمةসুতারং ইমাম হুসাইন আঃ কে চিঠি লিখে এবং পরে ইয়াজিদের বাহিনীতে যোগ দেওয়া ‎‘মহান’ ‏লোকের সাথে আহলে সুন্নাহের প্রগাড় সম্পর্কের ও সম্পৃক্ততা একটা প্রমানিত ও উন্মুক্ত ব্যাপার। আহলে সুন্নাহর শিক্ষা দীক্ষা সেই সন হত্যাকারীদের সাথে সম্পর্কিত। আরো প্রমান হয় যে আহলে সুন্নাহর বরং এই সব লোকদের উত্তরসুরি।ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যা কারীদের মাযহাবের আরো কিছু প্রমানঃইমাম হুসাইন আঃ এর শাহাদতের পরে শিয়াদের ইমামত এর ধারার ইমাম হন যাইনুল আবেদিন আঃ যাকে ঘিরে আকাইদি শিয়াদের আনাগোনা ছিল, ‏তাঁর কাছ থেকে শিয়ারা শিক্ষা গ্রহন করত। সহিফাহ এ সাজ্জাদিয়া ইমাম যাইনুল আবেদিন আঃ এর দোয়ার কেতাব।অপর দিকে আহলে সুন্নাহরা তাদের নেতাদের কাছে যেত ও শিক্ষা গ্রহন করতো ফতোয়া গ্রহন করত। যেমন আহলে সুন্নাহর দ্বীনের এক অংশ যার উপর নির্ভর করে সেই ইবনে উমার। ইবনে উমার ইয়াজিদের এক ভক্ত ছিল এর আগে দেখানো হয়েছে যে টাকা খেয়ে ইয়াজিদকে ইবনে উমার বায়াত করে। ইবনে উমার ইয়াজিদের জন্য প্রবল ভাবে ক্যানভাস করেঃসাহিহ আল বুখারিঃ ইফাঃ অনলাইনঃ ৬৬২৬। ‎“সুলায়মান ইবনু হারব ‎(রহঃ) … ‏নাফি ‎(রহঃ) ‏থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ‏যখন মদিনার লোকেরা ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়া ‎(রাঃ) ‏এর বায়আত ভঙ্গ করল, ‏তখন ইবনু উমর ‎(রাঃ) ‏তার বিশেষ ভক্তবৃন্দ ও সন্তানদের সমবেত করলেন এবং বললেন, ‏আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ‏কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ‎?