সানাইন (আ.)العربيةفارسیاردو中国的ภาษาไทยहिंदीবাংলাIndonesiaAzəriSwahiliHausaTürkçeBosnianPусскийFrançaisEnglishনীড়পাতাইসলামী গ্রন্থাগারপ্রবন্ধঅডিও ভিডিওফটো গ্যালারিঅনুসন্ধান ওহি-গৃহে আক্রমণসূচিপত্রঅনুসন্ধানওহি-গৃহে আক্রমণ: মুহম্মদ রিজওয়ানুস সালাম খানপ্রকাশক: মাজমা-এ-যাখায়েরে ইসলামী কুম,ইরানবিভাগ:গ্রন্থাগর ›আহলে বাইত ›হযরত ফাতেমা (সা.আ.)ভিজিট: 5834ডাউনলোড: 1970 ওহি - গৃহে আক্রমণ১) রাসূল (সা.) এর বাণীতে হজরত ফাতিমা জাহরা (আ.) এর ইসমত (পাপশূন্যতা)২) কুরআন ও সুন্নতের আলোকে ফাতিমা (আ.)এর গৃহ সম্মানিত৩) ফাতিমা (আ.) এর ঘরের সম্মান হানিতথ্যসূত্র৩) ফাতিমা (আ.) এর ঘরের সম্মান হানিহ্যাঁ ,এতটা তাগিদ ও সুপারিশ করার পরেও আফসোস যে এমন কিছু অসম্মানজনক ব্যবহার নবী নন্দিনীর সাথে করা হয়েছে যে তা সহ্য করার মত নয়। আর এ এমন একটা সমস্যা যে কারো দোষ আড়াল করা ঠিক নয়।আমি এই ব্যাপারে সমস্ত উক্তি আহলে সুন্নত ওয়াল জমায়েতের গ্রন্থসমূহ হতে উল্লেখ করব ,যাতে এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে হজরত ফাতিমা জাহরা (সা.) এর গৃহের সম্মানহানি ও পরবর্তী ঘটনাগুলি ঐতিহাসিকভাবে অকাট্য সত্য এবং এটি কোন অসত্য ঘটনা নয়! যদিও খলিফাদের যুগে ব্যাপকভাবে আহলে বাইতের গুণ ও মর্যাদাকে গোপন করা হয়েছে ,কিন্তু ইতিহাসের পাতায় ও হাদীসের গ্রন্থসমূহে এখনও পর্যন্ত তা জীবন্ত ও রক্ষিত আছে। আর আমি প্রথম শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত এ সম্পর্কে লেখা গ্রন্থের নাম ও লেখকের নাম উল্লেখ করব।১। ইবনে আবি শায়বা ও তার“ আল মুসান্নিফ ” পুস্তকআবুবকর ইবনে আবি শায়বা (১৫৯-২৩৫) আল মুসান্নিফ গ্রন্থের লেখক সহিহ সনদের সাথে এইভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন:إنه حين بويع لابي بكر بعد رسول الله (ص) كان علي والزبير يدخلان علی فاطمة بنت رسول الله (ص)، فيشاورونها و يرتجعون في أمرهم، فلما بلغ ذلك عمر بن خطاب خرج حتي دخل علی فاطمة،فقال: يا بنت رسول الله (ص) والله ما أحدٌ أحب إلينا من أبيك وما من أحد أحب إلينا بعد أبيك منك، وأيم الله ما ذاك بمانعي إن اجتمع هؤلاء النفر عندك إن أمرتهم أن يحرق عليهم البيتقال: فلما خرج عمر جاؤوها، فقالت (ع): تعلمون أنّ عمر قد جاءني، وقد حلف بالله لئن عدتم ليحرقنّ عليكم البيت، وايم الله ليمضين لمّا حلف عليهঅর্থাৎ: যখন জনগণ আবুবকরের হাতে বাইয়াত করলেন ,হজরত আলী (আ.) ও যোবায়ের হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে পরামর্শ ও আলোচনা করছিলেন ,এই খবর উমর ইবনে খাত্তাবের কর্ণগোচর হল অতঃপর সে ফাতিমা (আ.) এর গৃহে এসে বলল: হে নবী নন্দিনী! আমার প্রিয়তম ব্যক্তি তোমার পিতা ,তোমার পিতার পর তুমি নিজে ; কিন্তু আল্লাহর কসম তোমাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না তোমার এই ঘরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদের উপর আগুন লাগানোর আদেশ দেওয়া থেকে যাতে তারা দগ্ধ হয়ে যায়। এই কথা বলে উমর চলে যায় ,অতঃপর হজরত আলী ও যোবায়ের গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন ,হজরত ফাতিমা (আ.) আলী (আ.) ও যোবায়েরকে বললেন: উমর আমার নিকটে এসেছিল আল্লার কসম খেয়ে বলছিল যে যদি তোমাদের এই“ ইজতেমা ” সমাবেশ বন্ধ না হয় ,দ্বিতীয় বার অব্যাহত থাকে তাহলে তোমাদের গৃহকে জ্বালিয়ে দেব। আল্লার কসম! যার জন্য আমি কসম খেয়েছি অবশ্যই আমি সেটা করব।১১উল্লেখ্য এই ঘটনাকে“ আল মুসান্নিফ ” গ্রন্থে সহিহ সনদের সাথে উল্লেখ করেছে।২। বালাজুরী ও তার“ আনসাবুল আশরাফ ” গ্রন্থআহমাদ বিন ইয়াহিয়া জাবির বাগদাদী বালাজুরী (মৃত্যু:২৭০) বিখ্যাত লেখক ও মহান ঐতিহাসিক এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিজের গ্রন্থ“ আনসাবুল আশরাফ ” এ এই ভাবে উল্লেখ করেছেন:إنّ أبابكر أرسل إلى علي يريد البيعة فلم يبايع، فجاء عمر و معه فتيلة: فتلقّته فاطمة علی البابفقالت فاطمة: بإبن الخطّاب: أتراك محرقاً عليّ بابي؟ قال: نعم و ذلك أقوى فيما جاء به أبوكঅর্থাৎ: আবুবকর হজরত আলী (আ.) এর বাইয়াত নেওয়ার জন্য (লোক) পাঠায় কিন্তু হজরত আলী (আ.) অস্বীকার করার ফলে উমর আগুনের ফলতে নিয়ে আসল ,দ্বারেই হজরত ফাতিমা (আ.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। হজরত ফাতিমা (আ.) বললেন: হে খাত্তাবের পুত্র! আমিতো দেখছি তুমি আমার ঘর জ্বালানোর পরিকল্পনা নিয়েছ ? উত্তরে উমর বলল: হ্যাঁ ,তোমার পিতা যার জন্য প্রেরিত হয়েছে (সেই কাজের সহযোগিতা ছাড়া অন্যকিছু নয়) আর এটা তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।১২৩। ইবনে কুতাইবা ও তার“ আল ইমামাত ওয়াস সিয়াসাত ” গ্রন্থবিখ্যাত ঐতিহাসিক আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা দিনাওয়ারী (২১২-২৭৬) তিনি সাহিত্যিকদের অন্যতম প্রধান ও ইসলামী ইতিহাস লেখকদের মধ্যে একজন ,তাঁর সংকলিত পুস্তক“ তাভিলে মুখতালাফুল হাদীছ ” ও“ আদাবুল কাতিব ” ইত্যাদি। তিনি তাঁর“ আল ইমামাত ওয়া সেয়াসাত ” গ্রন্থে এমনি লিপিবদ্ধ করেছেন:إنّ أبا بكر رضي الله عنه تفقد قوماً تخلّفوا عن بيعته عند علي كرّم الله وجهه فبعث إليهم عمر فجاء فناداهم وهم في دار علي، فأبوا أن يخرجوا فدعا بالحطب و قال: والّذي نفس عمر بيده لتخرجنّ أو لأحرقنّها علی من فيها، فقيل له: يا أبا حفص إنّ فيها فاطمة، فقال: وإن !অর্থাৎ: যাঁরা আবুবকরের হাতে বাইয়াত করেন নি তাঁরা হজরত আলী (আ.) এর গৃহে একত্রিত হয়ে ছিলেন ,আবুবকর খবর পাওয়ায় ওমরকে অনুসন্ধানের জন্য তাঁদের নিকটে পাঠাল ,সে হজরত আলী (আ.) এর গৃহে এসে সকলকে উচ্চস্বরে বলল ঘর থেকে বের হয়ে এস ,তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেন ,ফলে উমর কাঠ তলব করল এবং বলল: তাঁর কসম যার হাতে উমরের জীবন আছে সকলে বাইরে এস নইলে যে ঘরে তোমরা আছ আগুন লাগিয়ে দেব। এক ব্যক্তি উমরকে বলল: হে হাফসার পিতা এই ঘরে রাসুলের কন্যা ফাতিমা (আ.) আছেন ,উমর বলল: থাকে থাকুক!১৩ইবনে কুতাইবা এই ঘটনাকে সবথেকে বেদনা দায়ক এবং কষ্ট দায়ক বলে উল্লেখ করেছেন ,তিনি বলেন:ثمّ قام عمر فمشى معه جماعة حتى أتوا فاطمة فدقوا الباب، فلمّا سمعت أصواتهم نادت بأعلى صوتها يا أبتاه رسول الله ماذا لقيناك بعدك من إبن الخطّاب وإبن أبي قحافة فلمّا سمع القوم صوتها و بكائها إنصرفوا. وبقى عمر ومعه قوم فأخرجوا علياً فمضوا به إلي أبي بكر فقالوا له بايع، فقال: إنّ أنا أفعل فمه؟ فقالوا: إذاً والله الذي لا إله إلا هو نضرب عنقكঅর্থাৎ: উমর একদল লোকের সাথে হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে এসে ঘরের দরজা করাঘাত করল ,যখন ফাতিমা (আ.) এদের শব্দ শুনলেন উচ্চস্বরে বললেন: হে রাসুলুল্লাহ আপনার পর আমাদের উপর খাত্তাবের ছেলে এবং আবি কুহাফার পুত্র কি যে মুসিবত নিয়ে এসেছে! যখন উমরের সাথিরা হজরত জাহরা (আ.) এর চিৎকার ও কান্না শুনলেন ,ফিরে গেলেন ,কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক উমরের সাথে ছিল ,তারা হজরত আলী (আ.) কে ঘর থেকে বের করে আনল। আবুবকরের নিকটে নিয়ে এসে তাঁকে বলল: বাইয়াত করুন ,আলী (আ.) বললেন: যদি বাইয়াত না করি কি হবে ? তারা বলল: সেই খোদার শপথ যিনি ছাড়া কোন প্রতিপালক নেই ,তোমার শির গর্দান থেকে আলাদা করে দেব।১৪সুনিশ্চিতভাবে দুই খলীফার প্রেমিকদের জন্য ইতিহাসের এই অংশটুকু খুবই অসহনীয় ও অরুচিকর ,তাই কিছু সংখ্যক ব্যক্তি পরিকল্পনা নিয়ে বললেন যে ইবনে কুতাইবার পুস্তক অগ্রহণীয় কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন এ গ্রন্থ ইবনে কুতাইবার নয়। কিন্তু এ সত্ত্বেও যে ইবনে আবিল হাদীদ যিনি ইতিহাসের অভিজ্ঞ এক শিক্ষক এই পুস্তককে ইবনে কুতাইবার রচিত বলে স্বীকার করেন এবং সর্বদা এই পুস্তক থেকে প্রয়োজনে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। আফসোসের বিষয় যে এই পুস্তক বিকৃত করা হয়েছে এবং কিছু অংশকে বাদ দিয়ে মুদ্রণ করা হয়েছে কিন্তু সেই মূল ও অবিকৃত অংশটি ইবনে আবিল হাদীদ তাঁর শরহ্ নাহজুল বালাগা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।“ জরকলি ” এই পুস্তককে ইবনে কুতাইবার রচিত বলে মনে করেন,অতপর তিনি বলেন: কিছু সংখক আলেম এই ব্যপারে ভিন্ন মত রাখেন। অর্থাৎ এ গ্রন্থের বিষয়ে অন্যদের সংশয় ও সন্দেহ আছে বলে উল্লেখ করেছেন কিন্তু নিজেরা বলেননি যে তা ইবনে কুতাইবার রচিত নয়। যেমন ইলিয়াছ সারকিস১৫ এই পুস্তককে ইবনে কুতাইবার রচনা বলে গণ্য করেন।৪। তাবারী ও তাঁর ইতিহাস গ্রন্থমুহাম্মাদ বিন তাবারী (মৃত: ৩১০ হি:) নিজের ইতিহাসে ওহি-গৃহের সম্মানহানির ঘটনাকে এরূপ বর্ণনা করেছেন:أتي عمر بن الخطاب منزل علي و فيه طلحة و الزبير و رجالٌ من المحاجرين. فقال والله لأحرقنّ عليكم أو لتخرجنّ إلی البيعة. فخرج عليه الزبير مصلتاً بالسيف فعثر فسقط السيف من يده. فوثبوا عليه فأخذوهঅর্থাৎ: উমর ইবনে খাত্তাব হজরত আলী (আ.) এর গৃহে আসে সে সময় সেই গৃহে তালহা জুবায়ের ও মুহাজিরদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোকও ছিল ,সে তাদের সম্বোধন করে বলল: যদি বাইয়াতের জন্য ঘর থেকে বের না হও তাহলে আল্লাহর কসম ঘরে আগুন লাগিয়ে দেব ,জুবায়ের হাতে তলোয়ার নিয়ে ঘর থেকে বাইরে আসে ,হঠাৎ তার পা পিছলে যায় এবং তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যায় ,সেই সময় সকলে তার উপর আক্রমণ করে এবং তলোয়ার তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়।১৬ইতিহাস এই অংশটুকু দ্বারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রথম খলিফার বাইয়াত হুমকি ও ধমকি দিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে ,এই রকম বাইয়াতের কি মূল্য আছে ? পাঠকগণ নিজেরা ফয়সালা করুন।৫। ইব্নে আবদে রাব্বাহ ও তাঁর গ্রন্থ“ আল আক্বদুল ফরিদ ”শাহাবুদ্দীন আহমদ ওরফে“ ইবনে আবদে রাব্বাহ আন্দালুসী ”“ আল আক্বদুল ফরিদ ” গ্রন্থের লেখক (মৃত: ৪৬৩ হি:) নিজের গ্রন্থে একটি অংশে সাক্বিফার ইতিহাস বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে সেই ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন যারা আবুবকরের বাইয়াত অস্বীকার করেছেন:فأمّا علي والعباس والزبير فعقدوا في بيت فاطمة حتي بعثت إليهم أبوبكر عمر بن خطّاب ليخرجهم من بيت فاطمة وقال له: إن أبوا فقاتلهم، فأقبل بقبس من نار أن يضرم عليهم الدار، فلقيته فاطمة فقال: يابن الخطاب أجئت لتحرق دارنا؟ قال: نعم، أو تدخلوا فيما دخلت فيه الأمةঅর্থাৎ: হজরত আলী (আ.) ,আব্বাস (রা.) ও জোবায়ের ফাতিমা (আ.) এর গৃহে বসেছিলেন। আবুবকর উমরকে পাঠায় যাতে ওদেরকে গৃহ থেকে বের করে আনে আর বলে পাঠায় যে: যদি তারা গৃহ থেকে বের না হয় তালে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে! সেই সময় উমর বিন খাত্তাব সামান্য আগুন নিয়ে ফাতিমা (আ.) এর গৃহ জ্বালানোর জন্য অগ্রসর হল ,সেই সময় ফাতিমা (আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ হয় ,রাসুলের কন্যা বলেন: হে খাত্তাবের পুত্র আমার ঘর জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছ ? সে উত্তরে বলল: হ্যাঁ ,কিন্তু! যদি তোমরা নিজেরা তার মধ্যে (প্রথম খলিফার আনুগত্যের ছায়ায়) প্রবেশ করো যাতে উম্মত (অন্যরা) প্রবেশ করেছে তাহলে ভিন্ন কথা।১৭এই পর্যন্ত ফাতিমা (আ.) এর গৃহের সম্মানহানির বিষয়ে আলোচনা করলাম এ ব্যাপারে এইখানে শেষ করছি এবার দ্বিতীয় বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই যাতে এই অমানবিক ও অসৎ কর্মকে কার্যে পরিণত করা হয়েছে।যাইহোক এতক্ষণে এই বোঝা গেল যে তাদের ইচ্ছা ছিল হজরত আলী (আ.) ও তাঁর সঙ্গী সাথিদের ভয় ও হুমকি দিয়ে বাইয়াত করতে বাধ্য করা ,কিন্তু এই হুমকিকে কার্যে পরিণত করার কথাও ইতিহাসে প্রমানিত। এবার সেই কার্যগুলি বর্ণনা করতে চাই যে ,তারা এই মহা অপরাধে লিপ্তও হয়েছে।এ পর্যন্ত শুধুমাত্র খলিফা ও তার সহচরদের কু’ নিয়তকে (অসৎ উদ্দেশ্যের প্রতি) ইঙ্গিত করে শেষ করা হয়েছে। এক শ্রেণীর লোক এই ঘটনার উপর পরিষ্কার ভাবে আলোকপাত করতে পারে না কিংবা করতে চায়না। এ সত্যেও কিছু লোক আসল ঘটনা অর্থাৎ গৃহে আক্রমণ এর উপর ইঙ্গিত করেছেন এবং কিছু পরিমান সত্যের উপর থেকে মুখাবরণ তুলেছেন এবং সত্যকে ফাঁস করেছেন। এখানে সম্মানহানি ও আক্রমণের বিষয়ে ইশারা করব।এখানেও বিষয় বর্ণনার ক্ষেত্রে সময়ের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক বর্ণনাক্রমের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হবে৷৬। আবু ওবায়েদ এবং তার“ আল আমওয়াল ” পুস্তকআবু ওবায়েদ ক্বাসিম বিন সালাম (মৃত: ২২৪ হি:) তাঁর“ আল আমওয়াল ” (যার বিশ্বস্ততার ব্যপারে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা একমত) পুস্তকে বর্ণনা করেছেন:আব্দুর রহমান বিন আউফ বলেন: আমি আবুবকরের মৃত্যুশয্যায় তার সাথে সাক্ষাত করতে তার বাড়ি যাই অনেকক্ষণ কথাবার্তার পর আমাকে বলল: কামনা করি হায়! তিনটি কাজ যা আমি করেছি যদি না করতাম ,অনুরূপ আশাকরি হায়! তিনটি কাজ যা আমি করিনি যদি করতাম ,অনুরূপ ইচ্ছাহয় যে হায়! তিনটি জিনিস যদি রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করতাম।সেই তিনটি জিনিস যা আমি করেছি আর আফসোস করছি যে যদি না করতাম সে তিনটি হল এই যে:وددت إنّي لم أكشف بيت فاطمة تركته وإن أغلق علی الحربঅর্থাৎ: হায় আফসোস! ফাতিমা (আ.) এর গৃহের সম্মানকে রক্ষা করতাম আর অসম্মানিত না করে তাঁর নিজের অবস্থায় ছেড়ে দিতাম যদিও তা যুদ্ধের জন্য বন্ধ করা হয়ে ছিল।১৮আবু ওবায়েদ যখন বর্ণনায় এই স্থানে পৌছান” لم أكشف بيت فاطمة وتركته “ এই বাক্যকে বর্ণনা না করে” كذا و كذا “ ইত্যাদি ইত্যাদি বলে বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ সম্পূর্ণ ঘটনাকে বর্ণনা করেন নি এবং বলেন যে আমি এই ঘটনাকে উল্লেখ করতে চাইনা!কিন্তু যাইহোক“ আবু ওবায়েদ ” মাযহাবী পক্ষপাতিত্বের জন্য কিংবা অন্য কোন কারণে এই সত্যকে বর্ণনা করেন নি ; কিন্তু“ আল আমওয়াল ” পুস্তকের গবেষকেরা পাদটীকাতে লিখেছেন যে বাক্যকে সে বাদ দিয়েছে তা“ মিযানুল এ’ তেদাল ” গ্রন্থে এই রকম (যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি তেমনটি) জাহাবী বর্ণনা করেছেন ,তাছাড়া“ তিবরানী ” নিজের“ মো’ জামে ” এবং“ ইবনে আব্দু রাব্বাহ ”“ আকদুল ফরিদে ” এবং অন্যরা স্ব স্ব গ্রন্থে উপরোক্ত বাক্যটি বর্ণনা করেছেন। (চিন্তা করুন!)৭। তাবরানী ও মো’ জামে কবীরআবুল ক্বাসিম সোলেমান বিন আহমদ তাবরানী (২৬০ -৩৬০) (জাহাবী তার সম্পর্কে“ মিজানুল এ’ তেদালে ” বলেন যে তিনি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। )“ আল মো’ জামুল কবীর ” পুস্তকে (যার মুদ্রণ বহুবার হয়েছে) যেখানে আবুবকরের মৃত্যু ও তার বাণী সম্পর্কে লিখেছেন উল্লেখ্য যে ,আবুবকর মৃত্যুর সময় কিছু জিনিসের আশা করেছিল!হায় আফসোস! তিনটি কাজকে যদি না করতাম!হায় আফসোস! তিনটি কাজ যদি করতাম!হায় আফসোস! তিনটি জিনিস যদি রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করতাম! যে তিনটি কাজের ব্যাপারে বলেছিল ; যে যদি না করতাম ,সে তিনটি হল:أمّا الثلاث اللائي وددت أنّي لم أفعلهنّ، فوددت إني لم أكن أكشف بيت فاطمة و تركتهযে তিনটি কাজের জন্য আফসোস করছি তা হল যে হায় আফসোস যদি ফাতিমা (আ.) এর ঘরের অসম্মান না করতাম এবং তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিতাম!১৯এই আকাঙ্খা ব্যক্ত করাতে বোঝা যায় যে উমরের হুমকিকে বাস্তবে রূপ দেয়া হয়েছিল।৮। ইব্নে আব্দু রাব্বাহ ও“ আল আক্বদুল ফরিদ ”ইবনে আব্দু রাব্বাহ আন্দালুসী -“ আল আকদুল ফরীদ ” এর লেখক (মৃত: ৪৬৩ হিঃ) নিজের পুস্তকে আব্দুর রহমান বিন আওফ থেকে বর্ণনা করেছেন:আমি আবুবকরের অসুস্থতার সময় তাকে দেখতে যাই ,তিনি বলেন: হায় আফসোস! যদি তিনটি কাজ না করতাম আর তার মধ্যে একটি কাজ হল যে:وددت إني لم أكن أكشف بيت فاطمة عن شيئ و إن كانوا غلقوه علی الحربঅর্থাৎ হায় আফসোস! যদি ফাতিমা (আ.) এর গৃহকে উন্মোচন না করতাম যদিও তারা লড়াই করার জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকুক না কেন ৷২০এছাড়াও তাঁদের নাম উল্লেখ করব যাঁরা খলীফার এই বাক্যকে বর্ণনা করেছেন।৯।“ আল ওয়াফী বিল ওয়াফাইয়াত“ পুস্তকে নাজ্জামের কথাইব্রাহীম বিন সাইয়ার নাজ্জাম মো’ তিজালী (১৬০ -২৩১) যিনি আরবী পদ্য ও গদ্যে বাক্যের সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত তার রচিত বিভিন্ন পুস্তকে ,ফাতিমা (আ.) এর ঘরে অন্যদের উপস্থিতির পরের ঘটনাকে বর্ণনা করে বলেন:إنّ عمر ضرب بطن فاطمة يوم البيعة حتي ألقت المحسن من بطنهاঅর্থাৎ আবুবকরের বাইয়াতের দিনে ওমর ফাতেমা (আ.) এর উদরে আঘাত করে ,তাঁর গর্ভের শিশু (মহসিন) গর্ভপাত হয়ে যায়। (চিন্তা করুন!)১০। মোবররিদ্“ আল কামিল ” গ্রন্থেমুহম্মদ বিন এজীদ বিন আব্দুল আকবর বাগদাদী (২১০ -২৮৫) বিখ্যাত সাহিত্যিক ও লেখক তাঁর মুল্যবান পুস্তক“ আল কামিল ” এ প্রথম খলিফার আকাঙ্খার কথা আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন ,তিনি লেখেন:وددت إني لم أكن أكشف عن بيت فاطمة و تركته و لوأغلق علي الحربঅর্থাৎ: হায় ফাতিমা (আ.) এর ঘরের উপর আক্রমন না করতাম বরং তাঁকে তার নিজের অবস্থায় ছেড়ে দিতাম যদিও তা যুদ্ধের জন্য রুদ্ধ করা হয়েছিল।২১১১। মাসউদী ও“ মরুজুয্যাহাব ”মাসউদী (মৃত:৩২৫) তার মরুজুয্যাহাব গ্রন্থে লেখেন:আবুবকর মৃত্যুর পূর্বে যা কিছু বলেছে তা নিম্নে দেওয়া হল:তিনটি কাজ করেছি যদি না করতাম ,তার মধ্যে একটি এই যে:فوددت إني لم أكن فتشت بيت فاطمة و ذكر في ذلك كلاماً كثيراًঅর্থাৎ: হায় আফসোস! ফাতিমার ঘরের উপর আক্রমণ না করতাম। আর এ ব্যাপারে সে অনেক কিছু বলেছে।২২মাসউদীর যদিও মহানবী (সা.) এর আহলেবায়েত (আ.) এর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে ; কিন্তু এখানে খলিফার বার্তাকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করেছেন এবং শুধুমাত্র ইশারা করে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ এ বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে জানেন ও আল্লাহর বান্দারাও মোটামুটিভাবে জানেন।১২। ইবনে আবী দারেম্ ও“ মীজানুল এ’ তেদাল ” পুস্তক“ আহমদ বিন মুহম্মদ ” ওরফে“ ইবনে আবী দারেম্ ” মুহাদ্দীসে কুফী (মৃত: ৩৬৫ হিঃ) মুহম্মদ বিন আহমদ বিন হাম্মদ কুফী তার সম্পর্কে বলেছেন যে:” كان مستقيم الأمر، عامة دهره “ অর্থাৎ: উনি সারা জীবন সঠিক পথের পথিক ছিলেন।তার সামনে এই ঘটনাকে এভাবে বর্ণনা করা হল যে:إنّ عمر رفس فاطمة حتي أسقطت بمحسنঅর্থাৎ: উমর হজরত ফাতিমা (আ.) এর গর্ভে লাথিমারে তাঁর গর্ভে মহসিন (নামে বাচ্চা) ছিল সে গর্ভপাত হয়ে যায়।২৩ (চিন্তা করুন!)১৩। আব্দুল ফাত্তাহ আব্দুল মকছুদ ও“ আল ইমাম আলী ” পুস্তকতিনি তাঁর গ্রন্থে হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে আক্রমণের ঘটনাকে দু’ দুবার বর্ণনা করেছেন ,কিন্তু আমি তার মধ্যে একটি বর্ণনা করছি:-والذي نفس عمر بيده، ليخرجنّ أو لأحرقنّها علي من فيها ...!قالت له طائفة خانت الله، ورعت الرسول في عقبهيا أبا حفص، إنّ فيها فاطمةفصاح لايبالي: و إنواقترب وقرع الباب، ثمّ ضربه واقتحمه ...!অর্থাৎ: যার হাতে উমরের জান আছে তার কসম খেয়ে বলছি তোমরা ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে এস ,নইলে ঘরে যারা আছে তাদের সহ ঘরকে জ্বালিয়ে দেব।খোদাভীরু কিছু লোক আল্লাহর ভয়ে এবং রসুলের ঘরের সম্মান রক্ষার জন্য উমরের উদ্দেশ্যে বলল:“ হে হাফসার পিতা! এই ঘরে ফাতিমা (আ.) আছেন ”সে চিৎকার করে বলল:“ থাকে থাকুক!!”দরজার নিকট গিয়ে দরজায় কড়া নাড়ল ,অতঃপর ঘুঁসি ও লাথি মেরে দরজা ভেঙে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল।হজরত আলী (আ.) কে গ্রেফতার করে ।হজরত ফাতিমা (আ.) এর আর্তনাদও চিৎকার প্রবেশদ্বার থেকে শোনাগেল আর তিনি আর্তনাদ করে সাহায্য প্রার্থনা করছিলেন।২৪এই আলোচনাকে আর একটি হাদীস“ মাকাতিল ইব্নে আতীয়া ” এর আল ইমামাত ওয়াস সিয়াসাত গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করে সমাপ্ত করব ,(এছাড়াও এখন অনেক কিছু আছে যা বলা এখন সম্ভব নয় বলে রয়ে গেল)তিনি তাঁর পুস্তকে এমনি লিপিবদ্ধ করেছেন:إنّ أبابكر بعد ما أخذ البيعة لنفسه من الناس بالإرهاب والسيف والقوّه أرسل عمر، وقنفذاً وجماعة إلي دار علي وفاطمة عليهماالسلام وجمع عمر الحطاب علي دار فاطمة وأحرق باب الدارঅর্থাৎ: যখন আবুবকর জনগণকে হুমকি দিয়ে তলোয়ার দিয়ে বলপূর্বক বাইয়াত নিল ; উমর ,কুনফুজ ও একদল লোককে হজরত আলী ও হজরত ফাতিমার গৃহে পাঠাল ,উমর কাঠ একত্র করে ঘরের দ্বারকে আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দিল ।২৫এ রেওয়ায়েতের শেষে এমন কিছু কথা এসেছে যা এ কলম লিখতে অক্ষম।*****ফল : এতগুলো উজ্জল প্রমাণ ও দলিল তাদেরই গ্রন্থসমূহে বর্ণিত“‘ হওয়ার পরেও বলছে“ শাহাদাতের কল্পকাহিনী...!”এনসাফ কোথায় ?!এই সামান্য সনদযুক্ত প্রবন্ধটি যে পড়বে অবশ্যই সে বুঝতে পারবে যে রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের পর তাঁর শত্রুরা কেমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল ,শাসন ক্ষমতা ও খেলাফতকে অর্জন করার জন্য কি না করেছে ,সমস্ত স্বাধীন চিন্তাবিদ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের জন্য চুড়ান্ত যুক্তি-প্রমান পেশ করে দিলাম। কেন না আমি নিজের থেকে কোন কিছু লিখিনি আমি যাকিছু লিখেছি তা তাদের নিকট গ্রহণীয় পুস্তক সমূহ থেকে বর্ণনা ছাড়া অন্য কিছু করিনি।*****হে আল্লাহ তুমি তোমার সর্বশেষ খলিফা হজরত ফাতিমার সন্তান ইউসুফকে (ইমাম মাহ্দী (আ.) কে) শীঘ্র আবির্ভূব করুন এবং জগৎ কে অন্যায় থেকে মুক্তি দিন ,আমাদের সকলকে তাঁর প্রকৃত অনুসারীতে পরিণত করুন আমিন -।__________

৩) ফাতিমা (আ.) এর ঘরের সম্মান হানি

হ্যাঁ ,এতটা তাগিদ ও সুপারিশ করার পরেও আফসোস যে এমন কিছু অসম্মানজনক ব্যবহার নবী নন্দিনীর সাথে করা হয়েছে যে তা সহ্য করার মত নয়। আর এ এমন একটা সমস্যা যে কারো দোষ আড়াল করা ঠিক নয়।

আমি এই ব্যাপারে সমস্ত উক্তি আহলে সুন্নত ওয়াল জমায়েতের গ্রন্থসমূহ হতে উল্লেখ করব ,যাতে এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে হজরত ফাতিমা জাহরা (সা.) এর গৃহের সম্মানহানি ও পরবর্তী ঘটনাগুলি ঐতিহাসিকভাবে অকাট্য সত্য এবং এটি কোন অসত্য ঘটনা নয়! যদিও খলিফাদের যুগে ব্যাপকভাবে আহলে বাইতের গুণ ও মর্যাদাকে গোপন করা হয়েছে ,কিন্তু ইতিহাসের পাতায় ও হাদীসের গ্রন্থসমূহে এখনও পর্যন্ত তা জীবন্ত ও রক্ষিত আছে। আর আমি প্রথম শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত এ সম্পর্কে লেখা গ্রন্থের নাম ও লেখকের নাম উল্লেখ করব।

১। ইবনে আবি শায়বা ও তার আল মুসান্নিফ ” পুস্তক

আবুবকর ইবনে আবি শায়বা (১৫৯-২৩৫) আল মুসান্নিফ গ্রন্থের লেখক সহিহ সনদের সাথে এইভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন:

إنه حين بويع لابي بكر بعد رسول الله (ص) كان علي والزبير يدخلان علی فاطمة بنت رسول الله (ص)، فيشاورونها و يرتجعون في أمرهم، فلما بلغ ذلك عمر بن خطاب خرج حتي دخل علی فاطمة،

فقال: يا بنت رسول الله (ص) والله ما أحدٌ أحب إلينا من أبيك وما من أحد أحب إلينا بعد أبيك منك، وأيم الله ما ذاك بمانعي إن اجتمع هؤلاء النفر عندك إن أمرتهم أن يحرق عليهم البيت

قال: فلما خرج عمر جاؤوها، فقالت (ع): تعلمون أنّ عمر قد جاءني، وقد حلف بالله لئن عدتم ليحرقنّ عليكم البيت، وايم الله ليمضين لمّا حلف عليه

অর্থাৎ: যখন জনগণ আবুবকরের হাতে বাইয়াত করলেন ,হজরত আলী (আ.) ও যোবায়ের হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে পরামর্শ ও আলোচনা করছিলেন ,এই খবর উমর ইবনে খাত্তাবের কর্ণগোচর হল অতঃপর সে ফাতিমা (আ.) এর গৃহে এসে বলল: হে নবী নন্দিনী! আমার প্রিয়তম ব্যক্তি তোমার পিতা ,তোমার পিতার পর তুমি নিজে ; কিন্তু আল্লাহর কসম তোমাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না তোমার এই ঘরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদের উপর আগুন লাগানোর আদেশ দেওয়া থেকে যাতে তারা দগ্ধ হয়ে যায়। এই কথা বলে উমর চলে যায় ,অতঃপর হজরত আলী ও যোবায়ের গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন ,হজরত ফাতিমা (আ.) আলী (আ.) ও যোবায়েরকে বললেন: উমর আমার নিকটে এসেছিল আল্লার কসম খেয়ে বলছিল যে যদি তোমাদের এই ইজতেমা ” সমাবেশ বন্ধ না হয় ,দ্বিতীয় বার অব্যাহত থাকে তাহলে তোমাদের গৃহকে জ্বালিয়ে দেব। আল্লার কসম! যার জন্য আমি কসম খেয়েছি অবশ্যই আমি সেটা করব।১১

উল্লেখ্য এই ঘটনাকে আল মুসান্নিফ ” গ্রন্থে সহিহ সনদের সাথে উল্লেখ করেছে।

২। বালাজুরী ও তার আনসাবুল আশরাফ ” গ্রন্থ

আহমাদ বিন ইয়াহিয়া জাবির বাগদাদী বালাজুরী (মৃত্যু:২৭০) বিখ্যাত লেখক ও মহান ঐতিহাসিক এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিজের গ্রন্থ আনসাবুল আশরাফ ” এ এই ভাবে উল্লেখ করেছেন:

إنّ أبابكر أرسل إلى علي يريد البيعة فلم يبايع، فجاء عمر و معه فتيلة: فتلقّته فاطمة علی الباب

فقالت فاطمة: بإبن الخطّاب: أتراك محرقاً عليّ بابي؟ قال: نعم و ذلك أقوى فيما جاء به أبوك

অর্থাৎ: আবুবকর হজরত আলী (আ.) এর বাইয়াত নেওয়ার জন্য (লোক) পাঠায় কিন্তু হজরত আলী (আ.) অস্বীকার করার ফলে উমর আগুনের ফলতে নিয়ে আসল ,দ্বারেই হজরত ফাতিমা (আ.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। হজরত ফাতিমা (আ.) বললেন: হে খাত্তাবের পুত্র! আমিতো দেখছি তুমি আমার ঘর জ্বালানোর পরিকল্পনা নিয়েছ ? উত্তরে উমর বলল: হ্যাঁ ,তোমার পিতা যার জন্য প্রেরিত হয়েছে (সেই কাজের সহযোগিতা ছাড়া অন্যকিছু নয়) আর এটা তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।১২

৩। ইবনে কুতাইবা ও তার আল ইমামাত ওয়াস সিয়াসাত ” গ্রন্থ

বিখ্যাত ঐতিহাসিক আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা দিনাওয়ারী (২১২-২৭৬) তিনি সাহিত্যিকদের অন্যতম প্রধান ও ইসলামী ইতিহাস লেখকদের মধ্যে একজন ,তাঁর সংকলিত পুস্তক তাভিলে মুখতালাফুল হাদীছ ” ও আদাবুল কাতিব ” ইত্যাদি। তিনি তাঁর আল ইমামাত ওয়া সেয়াসাত ” গ্রন্থে এমনি লিপিবদ্ধ করেছেন:

إنّ أبا بكر رضي الله عنه تفقد قوماً تخلّفوا عن بيعته عند علي كرّم الله وجهه فبعث إليهم عمر فجاء فناداهم وهم في دار علي، فأبوا أن يخرجوا فدعا بالحطب و قال: والّذي نفس عمر بيده لتخرجنّ أو لأحرقنّها علی من فيها، فقيل له: يا أبا حفص إنّ فيها فاطمة، فقال: وإن !

অর্থাৎ: যাঁরা আবুবকরের হাতে বাইয়াত করেন নি তাঁরা হজরত আলী (আ.) এর গৃহে একত্রিত হয়ে ছিলেন ,আবুবকর খবর পাওয়ায় ওমরকে অনুসন্ধানের জন্য তাঁদের নিকটে পাঠাল ,সে হজরত আলী (আ.) এর গৃহে এসে সকলকে উচ্চস্বরে বলল ঘর থেকে বের হয়ে এস ,তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেন ,ফলে উমর কাঠ তলব করল এবং বলল: তাঁর কসম যার হাতে উমরের জীবন আছে সকলে বাইরে এস নইলে যে ঘরে তোমরা আছ আগুন লাগিয়ে দেব। এক ব্যক্তি উমরকে বলল: হে হাফসার পিতা এই ঘরে রাসুলের কন্যা ফাতিমা (আ.) আছেন ,উমর বলল: থাকে থাকুক!১৩

ইবনে কুতাইবা এই ঘটনাকে সবথেকে বেদনা দায়ক এবং কষ্ট দায়ক বলে উল্লেখ করেছেন ,তিনি বলেন:

ثمّ قام عمر فمشى معه جماعة حتى أتوا فاطمة فدقوا الباب، فلمّا سمعت أصواتهم نادت بأعلى صوتها يا أبتاه رسول الله ماذا لقيناك بعدك من إبن الخطّاب وإبن أبي قحافة فلمّا سمع القوم صوتها و بكائها إنصرفوا. وبقى عمر ومعه قوم فأخرجوا علياً فمضوا به إلي أبي بكر فقالوا له بايع، فقال: إنّ أنا أفعل فمه؟ فقالوا: إذاً والله الذي لا إله إلا هو نضرب عنقك

অর্থাৎ: উমর একদল লোকের সাথে হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে এসে ঘরের দরজা করাঘাত করল ,যখন ফাতিমা (আ.) এদের শব্দ শুনলেন উচ্চস্বরে বললেন: হে রাসুলুল্লাহ আপনার পর আমাদের উপর খাত্তাবের ছেলে এবং আবি কুহাফার পুত্র কি যে মুসিবত নিয়ে এসেছে! যখন উমরের সাথিরা হজরত জাহরা (আ.) এর চিৎকার ও কান্না শুনলেন ,ফিরে গেলেন ,কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক উমরের সাথে ছিল ,তারা হজরত আলী (আ.) কে ঘর থেকে বের করে আনল। আবুবকরের নিকটে নিয়ে এসে তাঁকে বলল: বাইয়াত করুন ,আলী (আ.) বললেন: যদি বাইয়াত না করি কি হবে ? তারা বলল: সেই খোদার শপথ যিনি ছাড়া কোন প্রতিপালক নেই ,তোমার শির গর্দান থেকে আলাদা করে দেব।১৪

সুনিশ্চিতভাবে দুই খলীফার প্রেমিকদের জন্য ইতিহাসের এই অংশটুকু খুবই অসহনীয় ও অরুচিকর ,তাই কিছু সংখ্যক ব্যক্তি পরিকল্পনা নিয়ে বললেন যে ইবনে কুতাইবার পুস্তক অগ্রহণীয় কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন এ গ্রন্থ ইবনে কুতাইবার নয়। কিন্তু এ সত্ত্বেও যে ইবনে আবিল হাদীদ যিনি ইতিহাসের অভিজ্ঞ এক শিক্ষক এই পুস্তককে ইবনে কুতাইবার রচিত বলে স্বীকার করেন এবং সর্বদা এই পুস্তক থেকে প্রয়োজনে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। আফসোসের বিষয় যে এই পুস্তক বিকৃত করা হয়েছে এবং কিছু অংশকে বাদ দিয়ে মুদ্রণ করা হয়েছে কিন্তু সেই মূল ও অবিকৃত অংশটি ইবনে আবিল হাদীদ তাঁর শরহ্ নাহজুল বালাগা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

“ জরকলি ” এই পুস্তককে ইবনে কুতাইবার রচিত বলে মনে করেন,অতপর তিনি বলেন: কিছু সংখক আলেম এই ব্যপারে ভিন্ন মত রাখেন। অর্থাৎ এ গ্রন্থের বিষয়ে অন্যদের সংশয় ও সন্দেহ আছে বলে উল্লেখ করেছেন কিন্তু নিজেরা বলেননি যে তা ইবনে কুতাইবার রচিত নয়। যেমন ইলিয়াছ সারকিস১৫ এই পুস্তককে ইবনে কুতাইবার রচনা বলে গণ্য করেন।

৪। তাবারী ও তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ

মুহাম্মাদ বিন তাবারী (মৃত: ৩১০ হি:) নিজের ইতিহাসে ওহি-গৃহের সম্মানহানির ঘটনাকে এরূপ বর্ণনা করেছেন:

أتي عمر بن الخطاب منزل علي و فيه طلحة و الزبير و رجالٌ من المحاجرين. فقال والله لأحرقنّ عليكم أو لتخرجنّ إلی البيعة. فخرج عليه الزبير مصلتاً بالسيف فعثر فسقط السيف من يده. فوثبوا عليه فأخذوه

অর্থাৎ: উমর ইবনে খাত্তাব হজরত আলী (আ.) এর গৃহে আসে সে সময় সেই গৃহে তালহা জুবায়ের ও মুহাজিরদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোকও ছিল ,সে তাদের সম্বোধন করে বলল: যদি বাইয়াতের জন্য ঘর থেকে বের না হও তাহলে আল্লাহর কসম ঘরে আগুন লাগিয়ে দেব ,জুবায়ের হাতে তলোয়ার নিয়ে ঘর থেকে বাইরে আসে ,হঠাৎ তার পা পিছলে যায় এবং তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যায় ,সেই সময় সকলে তার উপর আক্রমণ করে এবং তলোয়ার তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়।১৬

ইতিহাস এই অংশটুকু দ্বারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রথম খলিফার বাইয়াত হুমকি ও ধমকি দিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে ,এই রকম বাইয়াতের কি মূল্য আছে ? পাঠকগণ নিজেরা ফয়সালা করুন।

৫। ইব্নে আবদে রাব্বাহ ও তাঁর গ্রন্থ আল আক্বদুল ফরিদ ”

শাহাবুদ্দীন আহমদ ওরফে ইবনে আবদে রাব্বাহ আন্দালুসী ” আল আক্বদুল ফরিদ ” গ্রন্থের লেখক (মৃত: ৪৬৩ হি:) নিজের গ্রন্থে একটি অংশে সাক্বিফার ইতিহাস বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে সেই ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন যারা আবুবকরের বাইয়াত অস্বীকার করেছেন:

فأمّا علي والعباس والزبير فعقدوا في بيت فاطمة حتي بعثت إليهم أبوبكر عمر بن خطّاب ليخرجهم من بيت فاطمة وقال له: إن أبوا فقاتلهم، فأقبل بقبس من نار أن يضرم عليهم الدار، فلقيته فاطمة فقال: يابن الخطاب أجئت لتحرق دارنا؟ قال: نعم، أو تدخلوا فيما دخلت فيه الأمة

অর্থাৎ: হজরত আলী (আ.) ,আব্বাস (রা.) ও জোবায়ের ফাতিমা (আ.) এর গৃহে বসেছিলেন। আবুবকর উমরকে পাঠায় যাতে ওদেরকে গৃহ থেকে বের করে আনে আর বলে পাঠায় যে: যদি তারা গৃহ থেকে বের না হয় তালে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে! সেই সময় উমর বিন খাত্তাব সামান্য আগুন নিয়ে ফাতিমা (আ.) এর গৃহ জ্বালানোর জন্য অগ্রসর হল ,সেই সময় ফাতিমা (আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ হয় ,রাসুলের কন্যা বলেন: হে খাত্তাবের পুত্র আমার ঘর জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছ ? সে উত্তরে বলল: হ্যাঁ ,কিন্তু! যদি তোমরা নিজেরা তার মধ্যে (প্রথম খলিফার আনুগত্যের ছায়ায়) প্রবেশ করো যাতে উম্মত (অন্যরা) প্রবেশ করেছে তাহলে ভিন্ন কথা।১৭

এই পর্যন্ত ফাতিমা (আ.) এর গৃহের সম্মানহানির বিষয়ে আলোচনা করলাম এ ব্যাপারে এইখানে শেষ করছি এবার দ্বিতীয় বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই যাতে এই অমানবিক ও অসৎ কর্মকে কার্যে পরিণত করা হয়েছে।

যাইহোক এতক্ষণে এই বোঝা গেল যে তাদের ইচ্ছা ছিল হজরত আলী (আ.) ও তাঁর সঙ্গী সাথিদের ভয় ও হুমকি দিয়ে বাইয়াত করতে বাধ্য করা ,কিন্তু এই হুমকিকে কার্যে পরিণত করার কথাও ইতিহাসে প্রমানিত। এবার সেই কার্যগুলি বর্ণনা করতে চাই যে ,তারা এই মহা অপরাধে লিপ্তও হয়েছে।

এ পর্যন্ত শুধুমাত্র খলিফা ও তার সহচরদের কু নিয়তকে (অসৎ উদ্দেশ্যের প্রতি) ইঙ্গিত করে শেষ করা হয়েছে। এক শ্রেণীর লোক এই ঘটনার উপর পরিষ্কার ভাবে আলোকপাত করতে পারে না কিংবা করতে চায়না। এ সত্যেও কিছু লোক আসল ঘটনা অর্থাৎ গৃহে আক্রমণ এর উপর ইঙ্গিত করেছেন এবং কিছু পরিমান সত্যের উপর থেকে মুখাবরণ তুলেছেন এবং সত্যকে ফাঁস করেছেন। এখানে সম্মানহানি ও আক্রমণের বিষয়ে ইশারা করব।

এখানেও বিষয় বর্ণনার ক্ষেত্রে সময়ের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক বর্ণনাক্রমের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হবে৷

৬। আবু ওবায়েদ এবং তার আল আমওয়াল ” পুস্তক

আবু ওবায়েদ ক্বাসিম বিন সালাম (মৃত: ২২৪ হি:) তাঁর আল আমওয়াল ” (যার বিশ্বস্ততার ব্যপারে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা একমত) পুস্তকে বর্ণনা করেছেন:

আব্দুর রহমান বিন আউফ বলেন: আমি আবুবকরের মৃত্যুশয্যায় তার সাথে সাক্ষাত করতে তার বাড়ি যাই অনেকক্ষণ কথাবার্তার পর আমাকে বলল: কামনা করি হায়! তিনটি কাজ যা আমি করেছি যদি না করতাম ,অনুরূপ আশাকরি হায়! তিনটি কাজ যা আমি করিনি যদি করতাম ,অনুরূপ ইচ্ছাহয় যে হায়! তিনটি জিনিস যদি রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করতাম।

সেই তিনটি জিনিস যা আমি করেছি আর আফসোস করছি যে যদি না করতাম সে তিনটি হল এই যে:

وددت إنّي لم أكشف بيت فاطمة تركته وإن أغلق علی الحرب

অর্থাৎ: হায় আফসোস! ফাতিমা (আ.) এর গৃহের সম্মানকে রক্ষা করতাম আর অসম্মানিত না করে তাঁর নিজের অবস্থায় ছেড়ে দিতাম যদিও তা যুদ্ধের জন্য বন্ধ করা হয়ে ছিল।১৮

আবু ওবায়েদ যখন বর্ণনায় এই স্থানে পৌছান لم أكشف بيت فاطمة وتركته  এই বাক্যকে বর্ণনা না করে كذا و كذا  ইত্যাদি ইত্যাদি বলে বর্ণনা করেছেন অর্থাৎ সম্পূর্ণ ঘটনাকে বর্ণনা করেন নি এবং বলেন যে আমি এই ঘটনাকে উল্লেখ করতে চাইনা!

কিন্তু যাইহোক আবু ওবায়েদ ” মাযহাবী পক্ষপাতিত্বের জন্য কিংবা অন্য কোন কারণে এই সত্যকে বর্ণনা করেন নি ; কিন্তু আল আমওয়াল ” পুস্তকের গবেষকেরা পাদটীকাতে লিখেছেন যে বাক্যকে সে বাদ দিয়েছে তা মিযানুল এ তেদাল ” গ্রন্থে এই রকম (যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি তেমনটি) জাহাবী বর্ণনা করেছেন ,তাছাড়া তিবরানী ” নিজের মো জামে ” এবং ইবনে আব্দু রাব্বাহ ” আকদুল ফরিদে ” এবং অন্যরা স্ব স্ব গ্রন্থে উপরোক্ত বাক্যটি বর্ণনা করেছেন। (চিন্তা করুন!)

৭। তাবরানী ও মো জামে কবীর

আবুল ক্বাসিম সোলেমান বিন আহমদ তাবরানী (২৬০ -৩৬০) (জাহাবী তার সম্পর্কে মিজানুল এ তেদালে ” বলেন যে তিনি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। ) আল মো জামুল কবীর ” পুস্তকে (যার মুদ্রণ বহুবার হয়েছে) যেখানে আবুবকরের মৃত্যু ও তার বাণী সম্পর্কে লিখেছেন উল্লেখ্য যে ,

আবুবকর মৃত্যুর সময় কিছু জিনিসের আশা করেছিল!

হায় আফসোস! তিনটি কাজকে যদি না করতাম!

হায় আফসোস! তিনটি কাজ যদি করতাম!

হায় আফসোস! তিনটি জিনিস যদি রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করতাম! যে তিনটি কাজের ব্যাপারে বলেছিল ; যে যদি না করতাম ,সে তিনটি হল:

أمّا الثلاث اللائي وددت أنّي لم أفعلهنّ، فوددت إني لم أكن أكشف بيت فاطمة و تركته

যে তিনটি কাজের জন্য আফসোস করছি তা হল যে হায় আফসোস যদি ফাতিমা (আ.) এর ঘরের অসম্মান না করতাম এবং তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিতাম!১৯

পর্ব ২ এই আকাঙ্খা ব্যক্ত করাতে বোঝা যায় যে উমরের হুমকিকে বাস্তবে রূপ দেয়া হয়েছিল।

৮। ইব্নে আব্দু রাব্বাহ ও আল আক্বদুল ফরিদ ”

ইবনে আব্দু রাব্বাহ আন্দালুসী - আল আকদুল ফরীদ ” এর লেখক (মৃত: ৪৬৩ হিঃ) নিজের পুস্তকে আব্দুর রহমান বিন আওফ থেকে বর্ণনা করেছেন:

আমি আবুবকরের অসুস্থতার সময় তাকে দেখতে যাই ,তিনি বলেন: হায় আফসোস! যদি তিনটি কাজ না করতাম আর তার মধ্যে একটি কাজ হল যে:

وددت إني لم أكن أكشف بيت فاطمة عن شيئ و إن كانوا غلقوه علی الحرب

অর্থাৎ হায় আফসোস! যদি ফাতিমা (আ.) এর গৃহকে উন্মোচন না করতাম যদিও তারা লড়াই করার জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকুক না কেন ৷২০

এছাড়াও তাঁদের নাম উল্লেখ করব যাঁরা খলীফার এই বাক্যকে বর্ণনা করেছেন।

৯। আল ওয়াফী বিল ওয়াফাইয়াত পুস্তকে নাজ্জামের কথা

ইব্রাহীম বিন সাইয়ার নাজ্জাম মো তিজালী (১৬০ -২৩১) যিনি আরবী পদ্য ও গদ্যে বাক্যের সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত তার রচিত বিভিন্ন পুস্তকে ,ফাতিমা (আ.) এর ঘরে অন্যদের উপস্থিতির পরের ঘটনাকে বর্ণনা করে বলেন:

إنّ عمر ضرب بطن فاطمة يوم البيعة حتي ألقت المحسن من بطنها

অর্থাৎ আবুবকরের বাইয়াতের দিনে ওমর ফাতেমা (আ.) এর উদরে আঘাত করে ,তাঁর গর্ভের শিশু (মহসিন) গর্ভপাত হয়ে যায়। (চিন্তা করুন!)

১০। মোবররিদ্ আল কামিল ” গ্রন্থে

মুহম্মদ বিন এজীদ বিন আব্দুল আকবর বাগদাদী (২১০ -২৮৫) বিখ্যাত সাহিত্যিক ও লেখক তাঁর মুল্যবান পুস্তক আল কামিল ” এ প্রথম খলিফার আকাঙ্খার কথা আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন ,তিনি লেখেন:

وددت إني لم أكن أكشف عن بيت فاطمة و تركته و لوأغلق علي الحرب

অর্থাৎ: হায় ফাতিমা (আ.) এর ঘরের উপর আক্রমন না করতাম বরং তাঁকে তার নিজের অবস্থায় ছেড়ে দিতাম যদিও তা যুদ্ধের জন্য রুদ্ধ করা হয়েছিল।২১

১১। মাসউদী ও মরুজুয্যাহাব ”

মাসউদী (মৃত:৩২৫) তার মরুজুয্যাহাব গ্রন্থে লেখেন:

আবুবকর মৃত্যুর পূর্বে যা কিছু বলেছে তা নিম্নে দেওয়া হল:

তিনটি কাজ করেছি যদি না করতাম ,তার মধ্যে একটি এই যে:

فوددت إني لم أكن فتشت بيت فاطمة و ذكر في ذلك كلاماً كثيراً

অর্থাৎ: হায় আফসোস! ফাতিমার ঘরের উপর আক্রমণ না করতাম। আর এ ব্যাপারে সে অনেক কিছু বলেছে।২২

মাসউদীর যদিও মহানবী (সা.) এর আহলেবায়েত (আ.) এর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে ; কিন্তু এখানে খলিফার বার্তাকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করেছেন এবং শুধুমাত্র ইশারা করে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ এ বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে জানেন ও আল্লাহর বান্দারাও মোটামুটিভাবে জানেন।

১২। ইবনে আবী দারেম্ ও মীজানুল এ তেদাল ” পুস্তক

“ আহমদ বিন মুহম্মদ ” ওরফে ইবনে আবী দারেম্ ” মুহাদ্দীসে কুফী (মৃত: ৩৬৫ হিঃ) মুহম্মদ বিন আহমদ বিন হাম্মদ কুফী তার সম্পর্কে বলেছেন যে: كان مستقيم الأمر، عامة دهره  অর্থাৎ: উনি সারা জীবন সঠিক পথের পথিক ছিলেন।

তার সামনে এই ঘটনাকে এভাবে বর্ণনা করা হল যে:

إنّ عمر رفس فاطمة حتي أسقطت بمحسن

অর্থাৎ: উমর হজরত ফাতিমা (আ.) এর গর্ভে লাথিমারে তাঁর গর্ভে মহসিন (নামে বাচ্চা) ছিল সে গর্ভপাত হয়ে যায়।২৩ (চিন্তা করুন!)

১৩। আব্দুল ফাত্তাহ আব্দুল মকছুদ ও আল ইমাম আলী ” পুস্তক

তিনি তাঁর গ্রন্থে হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে আক্রমণের ঘটনাকে দু দুবার বর্ণনা করেছেন ,কিন্তু আমি তার মধ্যে একটি বর্ণনা করছি:-

والذي نفس عمر بيده، ليخرجنّ أو لأحرقنّها علي من فيها ...!

قالت له طائفة خانت الله، ورعت الرسول في عقبه

يا أبا حفص، إنّ فيها فاطمة

فصاح لايبالي: و إن

واقترب وقرع الباب، ثمّ ضربه واقتحمه ...!

অর্থাৎ: যার হাতে উমরের জান আছে তার কসম খেয়ে বলছি তোমরা ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে এস ,নইলে ঘরে যারা আছে তাদের সহ ঘরকে জ্বালিয়ে দেব।

খোদাভীরু কিছু লোক আল্লাহর ভয়ে এবং রসুলের ঘরের সম্মান রক্ষার জন্য উমরের উদ্দেশ্যে বলল:

“ হে হাফসার পিতা! এই ঘরে ফাতিমা (আ.) আছেন ”

সে চিৎকার করে বলল: থাকে থাকুক!!

দরজার নিকট গিয়ে দরজায় কড়া নাড়ল ,অতঃপর ঘুঁসি ও লাথি মেরে দরজা ভেঙে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল।

হজরত আলী (আ.) কে গ্রেফতার করে ।

হজরত ফাতিমা (আ.) এর আর্তনাদও চিৎকার প্রবেশদ্বার থেকে শোনাগেল আর তিনি আর্তনাদ করে সাহায্য প্রার্থনা করছিলেন।২৪

এই আলোচনাকে আর একটি হাদীস মাকাতিল ইব্নে আতীয়া ” এর আল ইমামাত ওয়াস সিয়াসাত গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করে সমাপ্ত করব ,(এছাড়াও এখন অনেক কিছু আছে যা বলা এখন সম্ভব নয় বলে রয়ে গেল)

তিনি তাঁর পুস্তকে এমনি লিপিবদ্ধ করেছেন:

إنّ أبابكر بعد ما أخذ البيعة لنفسه من الناس بالإرهاب والسيف والقوّه أرسل عمر، وقنفذاً وجماعة إلي دار علي وفاطمة عليهماالسلام وجمع عمر الحطاب علي دار فاطمة وأحرق باب الدار

অর্থাৎ: যখন আবুবকর জনগণকে হুমকি দিয়ে তলোয়ার দিয়ে বলপূর্বক বাইয়াত নিল ; উমর ,কুনফুজ ও একদল লোককে হজরত আলী ও হজরত ফাতিমার গৃহে পাঠাল ,উমর কাঠ একত্র করে ঘরের দ্বারকে আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দিল ।২৫

এ রেওয়ায়েতের শেষে এমন কিছু কথা এসেছে যা এ কলম লিখতে অক্ষম।

*****

ফল : এতগুলো উজ্জল প্রমাণ ও দলিল তাদেরই গ্রন্থসমূহে বর্ণিত“‘ হওয়ার পরেও বলছে শাহাদাতের কল্পকাহিনী...!

এনসাফ কোথায় ?!

এই সামান্য সনদযুক্ত প্রবন্ধটি যে পড়বে অবশ্যই সে বুঝতে পারবে যে রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের পর তাঁর শত্রুরা কেমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল ,শাসন ক্ষমতা ও খেলাফতকে অর্জন করার জন্য কি না করেছে ,সমস্ত স্বাধীন চিন্তাবিদ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের জন্য চুড়ান্ত যুক্তি-প্রমান পেশ করে দিলাম। কেন না আমি নিজের থেকে কোন কিছু লিখিনি আমি যাকিছু লিখেছি তা তাদের নিকট গ্রহণীয় পুস্তক সমূহ থেকে বর্ণনা ছাড়া অন্য কিছু করিনি।

*****

হে আল্লাহ তুমি তোমার সর্বশেষ খলিফা হজরত ফাতিমার সন্তান ইউসুফকে (ইমাম মাহ্দী (আ.) কে) শীঘ্র আবির্ভূব করুন এবং জগৎ কে অন্যায় থেকে মুক্তি দিন ,আমাদের সকলকে তাঁর প্রকৃত অনুসারীতে পরিণত করুন আমিন -।

__________

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

হযরত আবুল ফযল আব্বাস (আ.)-এর শাহাদাত : পানি যেন চিরকাল লজ্জিত তাঁর কাছে! বর্ণনাকারী বলেন,ইমাম হুসাইন পিপাসায় কাতার হয়ে ফোরাতের তীরে উপস্থিত হলেন। সাথে রয়েছেন তার (সৎ) ভাই আব্বাস। ইবনে সা’দের বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ল দু’জনের ওপর। তাদের পথ বন্ধ করল। বনী দারাম গোত্রের এক দুরাচার আবুল ফযল আব্বাস-এর দিকে তীর নিক্ষেপ করলে তা তাঁর পবিত্র মুখে বিদ্ধ হয়। ইমাম হুসাইনই তা টেনে বের করে নেন,তার হাত রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। তিনি সেই রক্ত ছুড়ে ফেলে বললেন : ‘হে আল্লাহ ! এ জনগোষ্ঠী তোমার নবী নন্দিনীর সন্তানের ওপর এ জুলুম চালাচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে তোমার দরবারে বিচার দিচ্ছি। ইবনে সা’দের বাহিনী মুহূর্তের মধ্যে ইমাম হুসাইনের কাছ থেকে হযরত আব্বাসকে ছিনিয়ে নেয়। চতুর্মুখী আক্রমণ ও তরবারির সম্মিলিত আঘাতে হযরত আব্বাস শহীদ হন। তাঁর শাহাদাতে ইমাম হুসাইন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কবি তাই তো বলেছেন : ‘‘কতই না উত্তম ব্যক্তি –যার জন্য ইমাম হুসাইন কারবালার এ কঠিন মুসিবতের সময়ও কেঁদেছেন। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (সৎ) ভাই,তার বাবা ছিলেন আলী, তিনি তা আর কেউ নন রক্তাক্ত বদন আবুল ফযল আব্বাস। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের সহমর্মী,কোনো কিছুই তাকে এপথ থেকে সরাতে পারেনি। প্রচণ্ড পিপাসা নিয়ে ফোরাতের তীরে পৗছেন,কিন্তু ইমাম হুসাইন যেহেতু পান করেননি তিনিও তাই পানি মুখে নেননি।’অন্য কবি বলেন : ‘মুষ্টির মাঝে পানি নিলেন, মনভরে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করবেন কিন্তু যখনই ইমাম হুসাইনের পিপাসার কথা মনে পড়লো, হাতের মুঠোর পানিতে অশ্রু ফেলে ফিরে আসলেন।’হযরত আবুল ফযল আব্বাস-এর এ মহান আত্মত্যাগ সকল লেখক, চিন্তাশীলের দৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ।আল্লামা মজলিসী তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বিহারুল আনওয়ার’-এ লিখেছেন,‘হযরত আব্বাস ফোরাতের তীরে গেলেন। যখনই অঞ্জলি ভরে পানি পান করতে চাইলেন তখন হঠাৎ ইমাম হুসাইন ও তার আহলে বাইতের পানির পিপাসার যন্ত্রণার কথা মনে পড়ল। তাই তিনি পানি ফোরাতেই ফেলে দিলেন,পান করলেন না।’আরেকজন কবি বলেন : ‘আবুল ফযল আব্বাস তার সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণ ইমাম হুসাইনের জন্যই উৎসর্গ করেছেন। ইমাম হুসাইন পান করার পূর্বে তিনি নিজে পান করলেন না। মানুষের কর্মের সর্বোত্তম কর্ম ও মূল কাজই তিনি করলেন। আপনি তো গৗরবের দিবসে রাসূলের দুই নাতির ভাই, আর আপনিই তো পানি পানের দিবসে করেছেন আত্মত্যাগ, হে আবুল ফযল!’পানি টলটলায়মান, বাদশাহ তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত,উদ্যম তার অন্তরে হাতে রয়েছে পানির মশক,মুর্তাযার সিংহ শাবককে হামলা করলো এমনভাবেএ যেন অগণিত নেকড়ের মাঝে এক বাঘ।এমন একটি বদন কেউ দেখেনি যাতে কয়েক হাজার তীর,এমন একটি ফুল কেউ দেখেনি যাতে রয়েছে কয়েক হাজার কাঁটা। শেইখ মুফীদ তার ‘ইরশাদ’-এ এবং শেইখ তাবারসি তার ‘আ’লামুল ওয়ারা’-তে বলেছেন যে, সেনাবাহিনী ইমাম হুসাইনকে (আ.) আক্রমণ করলো এবং তার সৈন্যদের ছড়িয়ে দিলো এবং তাদের পিপাসা বৃদ্ধি পেলে ইমাম তার ভাই আব্বাস (আ.) কে নিয়ে ফোরাতের দিকে ঘোড়া ছোটালেন। উমর বিন সা’আদের বাহিনী তাদের পথ আটকে দিলো এবং বনি দারিম থেকে এক ব্যক্তি তাদের উদ্দেশ্যে বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, ফোরাতের দিকে তাদের রাস্তা বন্ধ করে দাও যেন তারা সেখানে পৌঁছতে না পারে।” ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” সে ক্রোধান্বিত হলো এবং ইমামের দিকে একটি তীর ছুঁড়ে মারলো যা তার থুতনি ভেদ করলো। ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং নিজের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন। এতে তার হাত রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে অভিযোগ করছি তারা কী আরচণ করছে তোমার রাসূলের (সা.) কন্যার সন্তানের সাথে।” এরপর তারা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ফিরে এলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী হযরত আব্বাস (আ.) কে ঘেরাও করে ফেললো এবং ইমাম হুসাইন (আ.) থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। আব্বাস একা একা যুদ্ধ করলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন। যায়েদ বিন ওয়ারখা হানাফি এবং হাকীম বিন তুফাইল তাঈ’ যৌথভাবে তাকে হত্যা করে তাকে বেশ কিছু আঘাতে আহত করার পর এবং তার নড়াচড়া করার মত শক্তি আর ছিলো না। সাইয়েদ ইবনে তাউস কিছুটা একই রকম বর্ণনা দিয়েছেন। হাসান বিন আলী তাবারসি বর্ণনা করেন যে, (বনি দারিম গোত্রের) অভিশপ্তের তীরটি ইমাম হুসাইন (আ.) এর কপালে বিদ্ধ হয় এবং আব্বাস তা তুলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী বর্ণনাটিই বেশী পরিচিত। তাবারি বর্ণনা করেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ বিন সায়েব থেকে, তিনি ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বিন নাবাতাহ থেকে যিনি বলেছেন, (কারবালায়) ইমাম হুসাইন (আ.) শহীদ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলো এমন একজন আমাকে বলেছে যে, যখন হোসেইনের সেনাদল প্রাণ হারালো তিনি তার ঘোড়ায় চড়লেন এবং ফোরাত নদীর দিকে গেলেন। বনি আবান বিন দারিম গোত্রের এক লোক বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, তার এবং ফোরাত নদীর মাঝখানে অবস্থান নাও যেন তার শিয়ারা (অনুসারীরা) তার সাথে যুক্ত হতে না পারে।” তিনি ঘোড়া ছোটালেন এবং সেনাবাহিনীও তাকে অনুসরণ করলো এবং ফোরাত নদীতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলো। ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” আবানি লোকটি একটি তীর ছুঁড়লো যা ইমামের থুতনি ভেদ করলো, ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং তার হাতের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন, যা রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অভিযোগ করি কী আচরণ তারা করছে আপনার রাসূল (সা.) এর কন্যার সন্তানের সাথে।” আল্লাহর শপথ, বেশী সময় যায় নি যখন আমি দেখলাম তার (আবানি লোকটির) প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়ে বসলো এবং কখনোই নিবারণ হলো না। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ আরও বলেন যে, আমি তার সাথে ছিলাম যে বাতাস করছিলো তাকে (আবানি লোকটিকে) এবং একটি মিষ্টি শরবত, এক জগ দুধ ও পানি রাখা ছিলো। সে বলছিলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর। তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” এক জগ অথবা এক কাপ পানি যা তার পরিবারের তৃষ্ণা মিটাচ্ছিলো, তাকে দেয়া হলো, সে তা পান করলো ও বমি করলো। এরপর কিছু সময় ঘুমালো। এরপর আবার সে বলতে শুরু করলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর, আমাকে পানি দাও, তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” আল্লাহর শপথ এ রকম কোন দৃশ্য এর আগে দেখা যায়নি এবং তার পেট উটের মত ফেটে গেলো। ইবনে নিমার বর্ণনা অনুযায়ী এই লোকটির নাম ছিলো যারাআহ বিন আবান বিন দারিম। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি থেকে যে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) কে দেখেছিলো, তিনি একটি খাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নদীর তীরের কাছেই, ফোরাত নদীতে যাওয়ার জন্য এবং আব্বাস ছিলেন তার সাথে। সে সময় উমর বিন সা’আদের জন্য উবায়দুল্লাহর চিঠি এসে পৌঁছায় যাতে লেখা ছিলো, “হুসাইন ও তার সাথীদের জন্য পানি সরবরাহ বন্ধ করে দাও এবং তাদেরকে এক ফোটাও স্বাদ নিতে দিও না।” উমর বিন সা’আদ পাঁচশত লোক দিয়ে আমর বিন হাজ্জাজকে পানির কাছে পাঠালো। আব্দুল্লাহ বিন হাসীন আযদি উচ্চকণ্ঠে বললো, “হে হুসাইন, তুমি কি দেখছো পানি বইছে বেহেশতের মত? আল্লাহর শপথ, তুমি এ থেকে এক ফোঁটাও পাবে না যতক্ষণ না তুমি ও তোমার সাথীরা তৃষ্ণায় ধ্বংস হয়ে যাও।” যারা’আহ বিন আবান বিন দারিম বললো, “তার ও ফোরাত নদীর মাঝে অবস্থান নাও।” এরপর সে একটি তীর ছোঁড়ে ইমামের দিকে যা তার থুতনিতে বিদ্ধ হয় এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ তাকে তৃষ্ণায় মরতে দাও এবং কখনোই তাকে ক্ষমা করো না।” ইমাম (আ.) এর জন্য এক পেয়ালা পানীয় আনা হলো কিন্তু তিনি তা পান করতে পারলেন না অনবরত রক্ত ঝরার কারণে। তিনি রক্তকে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন, “একইভাবে আকাশের দিকে।” শেইখ আব্দুস সামাদ বর্ণনা করেন আবুল ফারাজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন জওযি থেকে যে, এর পরে আবানি ব্যক্তিটি (যারআহ) পাকস্থলি পোড়া এবং ঠাণ্ডা পিঠের রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো এবং চিৎকার করতো। ‘উমদাতুত তালিব’-এর লেখক আব্বাস (আ.) এর সন্তানদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে, তার (আব্বাসের) কুনিয়া ছিলো আবুল ফযল এবং উপাধি ছিলো সাক্কা (পানি বহনকারী)। তাকে এ উপাধি দেয়া হয়েছিলো কারণ তিনি তার ভাইয়ের জন্য আশুরার দিন পানি আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই শহীদ হয়ে যান। তার কবরটি (ফোরাত) নদীর তীরে তার শাহাদাতের স্থানেই আছে। সে দিন তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (আ.) পতাকাবাহী। আবু নসর বুখারি বর্ণনা করেছেন মুফাযযাল বিন উমার থেকে যে, ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) বলেছেন, “আমার চাচা আব্বাস ছিলেন বুদ্ধিমান এবং তার ছিলো দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম হোসেইনের) সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং মুসিবতের ভিতর দিয়ে গেছেন শহীদ হওয়া পর্যন্ত। বনি হানিফা তার রক্তের দায়ভার বইছে। তিনি ছিলেন চৌত্রিশ বছর বয়েসী যখন তাকে হত্যা করা হয়। তার এবং উসমান, জাফর এবং আব্দুল্লাহরও মা ছিলেন উম্মুল বানীন, যিনি ছিলেন হিযাম বিন খালিদ বিন রাবি’আর কন্যা।

ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏কে কারা হত্যা করেছে? – ‏৩(ওহাবি, ‏নাসেবীদের ও আহলে সুন্নাহদের প্রপাগন্ডার জবাব)৪) ‏ইমাম হুসাইন আঃ ও তার সাথীদের ও নবী পরিবারের হত্যায় ইয়াজিদ, ‏সাহাবা, ‏সাহাবাদের পুত্ররা ও উসমানের ধর্মের লোকেরা সহ কারা জড়িত ছিল তার প্রমাণ। এই সব হত্যাকারিদের সাথে আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীদের সখ্যতা।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার কারিদের পরিচয়ঃ এর আগে উল্লখে করা হয়েছে যে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াদকে চিঠি লিখে মুহাম্মাদ বিন আকীলে হত্যা করার কথা বলেছিল। সেই মত ইবনে যিয়াদ তদন্ত্ব চালিয়ে মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করেঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখানে আমরা দুজনের নাম পেলাম যারা ইমাম হুসাইনের সাথি মুসলিম বিন আকীলের বিরুদ্ধে ইবনে যিয়াদের সেনা/পুলিশ ছিল, ‏১) ‏আমর বিন হারিস আল মাখযুমি ২) ‏মুহাম্মাদ বিন আশাসআমর বিন হারিস আল মাখযুমি কে?এখানে আমরা যে নতুন নাম পেলাম সে হল আমর বিন হারিস আল মাখযুমি যে কিনা কুফার পুলিশ প্রধান ছিল, (মুহাম্মাদ বিন আশাসের নাম আগেও এসেছে পরে এই ব্যাক্তির পরিচয় দেওয়া হবে) ‏এবং ইবনে আকীলের গ্রেফতারে প্রধান ভুমিকা রাখে।এই আমর বিন হারিস আল মাখযুমি একজন সাহাবী ছিলেন।যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ৪১৮ এ উল্লেখ করেছেঃكان عمرو من بقايا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين كانوا نزلوا الكوفة… له صحبة ورواية.“আমর বিনকে রাসুল সাঃ এর সাহাবীদের মধ্যে গন্য করা হয় এবং সে কুফার অভিবাসী হয়ে যায়…… ‏সে সাহাবী এবং রাসুল সাঃ এর থেকে বর্ননা করেছেন”।সাহাবীদের ও অন্যান্যদের জীবনীর উপরে ইবনে আসীরের লেখা বিখ্যাত কেতাব ‎‘উসুদুল গাবা’ ‏এর খন্ড ৪ পাতা ৯৮ এ আমর বিন হারিসের কথায় উল্লেখ করেছেনঃوولي لبني أمية بالكوفة وكانوا يميلون إليه ويثقون به وكان هواه معهم“তাকে বনি উমাইয়ারা নিয়োগ করেছিল কুফাতে, ‏তারা তাকে বিশ্বাস করত”।অনুরুপ ভাবে যাহাবি তার ‎‘আল কাশিফ’ ‏এর খন্ড ২ পাতা ৭৪, ‏৪১৪০ নং জীবনীতে, ‏ইবনে হাজর তার তাহযিব আত তাহযিব এর খন্ড ১ পাতা ৭৩২ এ জীবনী নং ৫০২৪ এ আমর বিন হারিসকে সাহাবী হিসাবে গননা করেছেন।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার ও লড়াইয়ের মুল হোতা আহলে সুন্নার কাছে অতি সম্মানিয় ব্যাক্তি। আহলে সুন্নাহ এনার থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তার হাদিস আহলে সুন্নাহর প্রধান প্রধান কেতাবে দেখা যায় যেমনঃ১) ‏সহিহ বুখারি।২) ‏সহিহ মুসলিম।৩) ‏সুনান আবু দাউদ।৪) ‏সুনান তিরমিযি।৫) ‏সুনান আন নাসাঈ।৬) ‏সুনান ইবনে মাজা।মুসতাদরাক আল হাকিম, ‏তাবারানি, ‏মুসনদে ইমাম আহমাদ আরো অনেক হাদিসের কিতাবে।মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করার সময় অস্ত্রের যুদ্ধ হয় এবং তাতে মুসলিম বিন আকীল ঘায়েল হয়ে যান এবং তাকে গ্রফতার করা হয়ঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৫ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃ“ ‏ঐতিহাসিকগন বলেন, ‏মুসলিম বিন আকীল যখন কুফার প্রশাসকের প্রাসাদদ্বারে পৌঁছল, ‏তখন সাহাবাদের ছেলেগনদের মধ্য থেকে তাঁর পরিচিত একদল আমির উমারা ছিলেন। ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের অনুমতির জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে মুসলিম গুরুতর আহত তাঁর মুখমণ্ডল ও কাপড় চোপড় রক্তে রঞ্জিত তিনি ভীষন পিপাসার্ত আর এই সময় সেখানে এক কলস ঠান্ডা পানি ছিল। তা থেকে পান করার জন্য তিনি কলসিটা ধরতে চাইলেন, ‏তখন তাদের এক ব্যাক্তি বলল ‎‘আল্লাহর কসম! ‏জাহান্নামের তপ্ত পানি পান করার পুর্বে তুমি তার থেকে পান করবে না’। তখন তিনি তাকে বললেন ‎‘তোমার সর্বনাশ হোক! ‏হে বাচ্চা! ‏আমার থেকে তুমি জাহান্নামের তপ্ত পানি এবং সেখানে চিরস্থায়ী হওয়ার বেশি উপযুক্ত’”।উপরের রেফারেন্স থেকে বোঝা গেল যে সাহাবী ও সাহাবীদের ছেলেপুলেরা কিভাবে ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দুত মুসলিম বিন আকীলের হত্যায় জড়িত।যেসব সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের নাম ইবনে কাসীর উল্লেখ করেননি, ‏কিন্তু তাবারিতে নাম পাওয়া যায় যেমন, ‏কাসীর বিন শাবিবাহ বিন আল হুসাইব আল হারিসি। ইবনে সাদ তার তাবাকাত এ এই তাবেই সমন্ধে উল্লেখ করেছেন ‎“সে উমার বিন খাত্তাব থেকে বর্ননা করেছে এবং সে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের গভর্নর ছিল’। ‎(খন্ড ৪ পাতা ১০৪)উপরের দলিল থেকে প্রমাণিত হল যে সাহাবা ও সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর সাথিদের হত্যায় জড়িত ছিল।উসমানের ধর্মের লোকেরা ইমাম হুসাইন আঃ ও তাঁর সাথিদের হত্যাকান্ডে জড়িতএ বিষয় প্রমানের জন্য সরাসরি কারবালার যুদ্ধ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং এক এক পক্ষ থেকে একজন একজন করে যুদ্ধ হচ্ছিল তখন হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দল থেকে নাফি বিন হিলাল বার হয়ে এসে বললেনঃ“আমি জামালি, ‏আলী আলির ধর্মে বিশ্বাস করি’।মুজাহিম আল হুরাইস নামে একজন বার হয়ে হুংকার ছাড়ল ‎‘আমি উসমানের ধর্ম অনুসরণ করি’।নাফি উত্তর দিল ‎‘বরং তুই শয়তানের ধর্ম অনুসরণ করিস’। আর পরে সে ‎(নাফি) ‏তাকে আক্রমণ করল ও হত্যা করল’। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৩৬,১৩৭)ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মোমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা): “হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল”।ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩৬৫ ইঃফা): “ইবনে যিয়াদ আল হারমাযুনের গভর্নরের আমর ইবনে সায়ীদের কাছে হুসাইনের নিহত হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে পত্র প্রেরণ করলো সে একজন ঘোষকে ডেকে এই খবর ঘোষনা দিল। বনূ হাসিমের মেয়েরা যখন এই সংবাদ শুনল তারা উচ্চস্বরে কান্না বিপাল করতে লাগলো। তখন আমর বিন সায়ীদ বলতে লাগলো এই হল উসমান বিন আফফানের শোকে বিলাপকারীণিদের বদলা”।সুতরাং ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর হত্যাকে উসমানের হত্যার বদলা নেওয়া হিসাবে দেখা হয় এবং উসমানীদের বা উসমানের শিয়া বা অনুসরণকারিদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়।ইবনে তাইমিয়া তার ‎“মিনহাজ আস সুন্নাতে’ “যদি নাসেবী ইবনে সাদকে উসমানী বলা হয়, ‏সেটা এইজন্য যে উসমানের জন্য তার প্রতিশোধ নেওয়া ও তাকে প্রশংসা করার জন্য”।ইবনে তাইমিয়া আর উল্লখে করেছে ‎وقد كان من شيعة عثمان من يسب عليا ويجهر بذلك على المنابر“উসমানের শিয়ারা প্রকাশ্যে মিম্বার থেকে আলিকে গালি দিত”।মুহাম্মাদ বিন আশাস ‎/ ‏আশআস কে?এর আগে বেশ কয়েক বার এই নাম উল্লেখ হয়েছে এখানে আর একবার রিভিশন করা হল।কুফায় এসে ইবনে যিয়াদ সরকারি পুলিশদের নির্দেশ দেয় যে মুসলিম বিন আকিলকে সহ তার সাহায্যকারিদের গ্রেফতার করার জন্য। এই কাজের জন্য ইয়ামানি গোত্র প্রধান কাসির বিন শিবাব ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে ভার দেয়। তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ৪৯;“কাসীর, ‏কালব গোত্রের একজনের সাথে দেখায় পায় যার নাম আবদুল আলা বিন ইয়াজিদ। সে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল মুসলিম বিন আকীলের ও অন্যান্য যুবকদের সাথে যুক্ত হতে। কাসীর তাকে পাকড়াও করে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে গেল এবং এই ব্যাক্তির ব্যাপারে বলল, ‏কিন্তু লোকটা বলল যে সে তার কাছে আসছিল। ইবনে যিয়াদ বলল, ‘নিশ্চই নিশ্চই! ‏আমার মনে পড়েছে তুমি আমকে এই ব্যাপারে ওয়াদা করেছিলে’! ‏ইবনে যিয়াদ তাকে গারদে দিতে বলল।মুহাম্মাদ বিন আশাস বনু উমারাহ গোত্রের ঘরদের দিকে গেল। উমারাহ বিন সালখিন আল আজদি তার কাছে এলো, ‏সে অস্ত্র নিয়ে ইবনে আকীলের কাছে যাচ্ছিল। মুহাম্মাদ বিন আশাস তাকে ধরে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠাল, ‏ইবনে যিয়াদ তাকে কারাগারে দিল”।‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখন আমরা দেখবো যে আহলে সুন্নাহরএই পুর্বপুরুষ মুহাম্মাদ বিন আশাস ও আহলে সুন্নাহর মধ্যে আঁতাত। যথারীতি আহলে সুন্নাহর ধর্মগুরু এই আহলে বাইত আঃ এর শত্রু। এর থেকে হাদিস শিক্ষা নিয়েছে আহলে সুন্নাহ আর অনেক ধর্ম গুরু। আমরা এই ব্যাক্তির হাদিস পাই নিম্নোক্ত হাদিসের কেতাব গুলিতেঃ১) ‏মুয়াত্তা এ ইমাম মালিক।২) ‏সুনানে ইমাম নাসাই।৩) ‏মুসনদে ইমাম হাম্বল।৪) ‏সুনান কুবরা, ‏বাইহাকী।মুসলিম এই ব্যক্তির নাতিপুতির থেকে হাদিস বর্ননা করেছেন।রেজাল শাস্ত্রে ইমামগণ যেমন ইবনে হিব্বান তাকে তার শিকাত এ উল্লেখ করেছেন। ‎(তাহযিব আল কামাল, ‏খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬)।ইবনে হাজর আস্কালানী তার তাকরীব আত তাহযীব এ তাকে তাবেঈন বলে উল্লেখ করেছেন এবং যার হাদিস কবুল করা যায় বলেছেন ‎(মকবুল)। ‎(খন্ড ২ পাতা ৫৭, ‏জীবনী নং ৫৭৬০)।এই মুহাম্মাদ ইবনে আশাস আহলে সুন্নাহর বড় সাহাবী পরিবারের সাথে যুক্ত, ‏তাহযিব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৫ ‎“মুহাম্মাদ বিন আশাস বিন কায়েস আল কিন্দি আবুল কাসেম আল কুফি, ‏তাঁর মা উম্মে ফারাহ বিন আবি কুহাফা যে আবু বকরের বোন”।আহলে বাইতের এই শত্রুকে মুখতার হত্যা করে। তাহযীব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬قتله المختار سنة ست وستين“আল মুখতার তাকে ৬৬ সনে হত্যা করে”।প্রসঙ্গত একটা কথা পাঠকদের বলে রাখি সে এই মুখতার রহঃ কে আহলে সুন্নাহরা গালি দেয় নামে পরে কাজ্জাব লেখে এবং নিন্দা মন্দ করে। অথচ ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏হত্যায় জড়িত প্রায় সব লোকদের এই মুখতার হত্যা করে। সেই কারনেই হয়ত মুখতারের মত লোককে আহলে সুন্নাহ দেখতে পারে না। অথচ মুখতার তাবেঈ ছিল ও সাহাবীর ছেলে ছিল। পরে ইনশাল্লাহ এই বিষয় আর আলোচনা করা হবে। হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের যে ব্যাক্তি সাজা দিয়েছে আহলে সুন্নাহর কাছে সেই মুখতার একজন জগন্য লোক ও মিথ্যাবাদী। এটাও প্রমান করে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের প্রতি আহলে সুন্নাহর মুহাব্বাতও আত্মিক একাত্ব।উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাসউমার বিন সাদ হচ্ছে বিখ্যাত সাহাবী সাদ ইবনে আবি ওক্কাস এর পুত্র। সে সাদ বিন আবি ওক্কাস উমার বিন খাত্তাবের দ্বারা গঠিত খলিফা কমিটির একজন সদস্য ছিলেন ও খলিফা হওয়ার প্রার্থী ছিলেন।এই উমার বিন সাদ কারবালায় ইয়াজিদের বাহিনীর সেনাপতি ছিল। এই উমার বিন সাদ যে ইয়াজিদকে চিঠি লিখেছিল যে কুফার গভর্নর নুমান বিন বাসীর দুর্বল লোক। এই উমার বিস সাদকে ইয়াজিদ তার চিঠিতে লিখেছিল যে আমার শীয়া। অর্থাৎ এই উমার বিন সাদ ইয়াজিদের শীয়া ছিল।তখন কুফায় ইয়াজিদের শীয়ারা ‎– ‏ইয়াজিদের দলের লোকেরা ইয়াজিদকে চিঠি লেখেঃ“মুসলিম বিন আকীল কুফায় এসেছে আর শীয়ারা হুসাইন বিন আলির হয়ে তার হাতে বায়াত করছে। যদি আপনি কুফানদের চান তবে একজন কঠিন লোককে এখানে পাঠান যে আপনার হুকুম তালিম করবে এবং ওই কাজ করবে ঠিক সেই ভাবে আপনি আপানার শত্রুদের প্রতি ব্যবহার করেন। নুমান বিন বাশীর একজন দুর্বল লোক বা দুর্বলের মত ব্যবহার করছে”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯, ‏পাতা ৩০)এই ধরনের চিঠি যা ইয়াজিকে কুফা থেকে আহলে সুন্নাহর মোতবার লোকেরা লিখেছিল তাদের নামঃ১) ‏আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন সাইদ আল হাযরামি ২) ‏আম্মারা বিন উকবাহ ৩) ‏উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৩০)ইয়াজিদ বসরা/কুফার গভর্নর ইবনে যিয়াদকে চিঠি লেখেঃ“কুফা থেকে আমার শিয়ারা আমাকে লিখেছে যে ইবনে আকীল কুফাতে অবস্থান করছে এবং লোকজন জড়ো করছে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্রোহ করার জন্য। সুতারং তুমি যখন আমার এই পত্র পড়বে কুফায় যাও ও ইবনে আকীলকে খোঁজ এমন ভাবে যেন তুমি দানা খুজছো এবং তাকে খুঁজে বার কর। তাকে চেন দিয়ে বাধো, ‏হত্যা করো কিংবা বিতাড়িত করো’। ‎( ‏তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ১৮ এবং ৩১)এই উমার বিন সাদই প্রথম ব্যাক্তি যে কারবালার যুদ্ধে প্রথম তীর ছোটে এবং বলে সাক্ষী থেকে আমি প্রথম তীর ছুড়েছি।বুখারি তার তারিখ আস সাগীর এর উল্লেখ করেছেনঃأبو المعلي العجلي قال سمعت أبي أن الحسين لما نزلكربلاء فأول من طعن في سرادقه عمر بن سعد“আবু মুয়ালি আল ইজলি তার পিতা থেকে বর্ননা করেছেন যে ‎“ ‏যখন হুসাইন কারবালায় এল, ‏উমার বিন সাদ প্রথম ব্যাক্তি ছিল যে তাবুগুলির দড়িগুলি কেটে দিয়েছিল”। ‎(বুখারি তারিখ আস সগীর, ‏খন্ড ১ পাতা ১৭৮)ইমাম যাহাবি তার বিখ্যাত বই সিয়ার আলাম আন নাবুলা এখন খন্ড ৪ পাতা ৩৪৯ঃ এ উল্লেখ করেছেনঃ“উমার বিন সাদ, ‏সেনাপতি ছিল হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী বাহিনীর, ‏অতপর মুখতার তাকে হত্যা করে’।কয়েক বছর পরে মুখতার রহঃ যখন ইবনে যিয়াদ কে তাড়ায় আর একে একে ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদেরকে হত্যা করে তখন এই উমার বিন সাদকেও হত্যা করে।এখন দেখা যাক আহলে সুন্নাহর সাথে এই লানত প্রাপ্ত লোকের সখ্যতা ও আহলে সুন্নাহ কেমন ভাবে এই তাদের এই মহান ব্যাক্তির থেকে হাদিস ও ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে।আহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত হাফেজ ইবনে হজর আস্কালানি তার ‎‘তাহযীব আত তাহযীবে’র খন্ড ৭ পাতা ৩৯৬ এ ৭৪৭ নং বায়োগ্রাফিতে উল্লেখ করেছেন।عمر بن سعد بن أبي وقاص الزهري أبو حفص المدنيسكن الكوفة.روى عن أبيه وأبي سعيد الخدري.وعنه ابنه ابراهيم وابن ابنه أبو بكر بن حفصابن عمر وأبو إسحاق السبيعي والعيزار بن حريث ويزيدبن أبي مريم وقتادة والزهري ويزيد بن أبي حبيبوغيرهم“উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস আল যুহুরি আবু হাফস আল মাদানি কুফার বাসিন্দা। সে তার পিতা ও আবু সাইদ আল খুদরি থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন। আর তার ছেলে ইব্রাহিম, ‏পৌত্র আবু বকর বিন হাফস বিন উমার, ‏আবু ইসহাক আল সাবেই, ‏আইজার বিন হারিস, ‏ইয়াজিদ বিন আবি মরিয়াম, ‏কাতাদা, ‏যুহুরি ও ইয়াজিদ বিন আবি হাবীব ও অন্যান্যরা তার থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে হাজর আস্কালানী তার ‎‘তাকরিব আত তাহযীবে’র খণ্ড ১ পাতা ৭১৭ এ উমার বিন সাদ ইবনে আবি ওক্কাসকে ‎‘সুদুক’ (সত্যাবাদী/বিশস্ত হাদিস বর্ননাকারী, ‏সত্যবাদী ধর্ম শিক্ষা দাতা) ‏সেই সাথে উল্লখে করেছেন যে হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে সেনার আমীর ছিল!عمر بن سعد بن أبي وقاص المدني نزيل الكوفة صدوقولكن مقته الناس لكونه كان أميرا على الجيش الذينقتلوا الحسين بن عليআহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের ইমামদের ইমাম আল ইজলি এর কথা ‎‘তাহযীব আল কামাল খন্ড ২১ পাতা ৩৫৭ এ ‎(বায়োগ্রাফি নং ৪২৪০) ‏এ আমার পড়িঃوقال أحمد بن عبدالله العجلي (2): كان يروي عن أبيهأحاديث، وروى الناس عنه.وهو الذي قتل الحسين، وهو تابعي ثقة.“আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল ইজলি বলেছেন ‎‘ ‏সে ‎(উমার বিন সাদ) ‏তার পিতা থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করত, ‏এবং জনগণ তার থেকে বর্ননা করেছে। এবং হুসাইনের কাতিলদের একজন, ‏এবং শিকা তাবেঈ’।পাঠকগন দেখুন আহলে সুন্নাহর মহান ইমামের কাছে এই ব্যাক্তি ‎‘শিকা’ ‏অর্থাৎ বিশস্ত!।সালাফি ওহাবি ও উমাইয়া মেন্টালিটির প্রিয় রেজাল ও ইতিহাসের ইমাম, ‏ইমাম যাহাবি তার কেতাব ‎‘মিযান আল এতিদাল’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ১৯৮ এ উমার বিন সাদ লানতি এর সমন্ধে লিখেছেনঃهو في نفسه غير متهم “ব্যাক্তিত্ব হিসাবে তাকে তিরস্কার করা হয় না”।এই লানতি ব্যাক্তি থেকে আহলে সুন্নাহর মুহাদ্দেসগন প্রবল ভাবে হাদিস নিয়েছেন। যেমনঃ১) ‏ইমাম নাসাই, ‏তার সুনান আন নাসাই এ। সালাফিদের গুরু আলবানি এই হাদিসকে সাহিহ ও বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন।৩) ‏আহলে সুন্নাহর ফেকার ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনদে একাধিক বার এই লানতির থেকে হাদিস নিয়েছেন।*আরও মজার ব্যাপার সালাফিদের প্রিয় মুহাদ্দিস সুয়াইব আরনাউত মুসনদে আহমাদের তাহকিকে এই হাদিস গুলির সনদ ‎‘হাসান’ (উত্তম) ‏বলে সার্টিফাই করেছেন। ‎(দেখুন রেসালা পাবলিকেশনের, ‏ওস্তাদ সুউয়াইব আরনাউত কতৃক তাহাকিক করা মুসনদে আহমাদের খন্ড ৩ এর হাদিস নং ১৪৮৭, ‏১৫৩১, ‏১৫৭৫)*আহলে সুন্নাহর মুহাক্কিক শেইখ আহমাদ শাকির তার তাহাক্কিক কৃত মুসনদে আহমাদ ‎(দারুল হাদিস, ‏কায়রো থেকে প্রকাশিত) ‏এই উমার বিন সাদ লানতির হাদিসকে সাহিহ সনদ বলেছেন। ‎(হাদিস নং ১৫১৯ দেখুন)সুতারং একথা সহজেই বোঝা যায় যে আহলে সুন্নাহের সাথে হুসাইন আঃ এর কাতিলদের কত ঘনিষ্ঠতা এবং এটাও প্রমান হয় যে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীরা কোন দলের। বরং সরাসরি প্রমান হয় এরা যে আহলে সুন্নাহর দলের ও আহলে সুন্নাহর পুর্বজও বটে। যাদের উপর আহলে সুন্নাহর শিক্ষাদীক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আছে।উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ বা উবাইদুল্লাহ ইবনে আবিহাইবনে যিয়াদের পরিচয় দেওয়া লাগবে না। ইবনে যিয়াদ লাঃ কুফা ও বসরার গভর্নর ছিল। ইয়াজিদের নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে বিরুদ্ধে যুদ্ধের সেনা পাঠায় এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ হত্যা করে।ইমাম হুসাইন আঃ মক্কা ছেড়ে কুফায় যাত্রা করছেন সেটার খবর পাওয়ার পরে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াকে চিঠি লেখেঃ ইবনে কাসীর ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ৩১২ ‎( ‏বাংলা ইঃফা)“আমার কাছে সংবাদ পৌঁছিয়েছে যে, ‏হুসাইন কুফা অভিমুখে রওনা হয়েছে, ‏এর ফলে আমার গভর্নরদের মধ্যে তুমি পরিক্ষার সম্মুখীন হয়েছো। এই পরিক্ষার ফলের উপর তোমার মুক্তি ও সম্মান লাভ নির্ভর করবে। কিংবা ক্রীতদাসের মত দাসত্ব ও অপমান বহন করবে। আর এই কারণেই ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে ও ইয়াজিদের কাছে তাঁর মাথা পাঠিয়ে দেয়”।ইবনে হজর আশকালানি তার ‎‘তাজিল আল মুনফ’আ বিজওয়াইদ রিজাল আল আইম্মাতুল আরবা’ ‏এর খন্ড ১ পাতা ৮৪০ এ উল্লেখ করেছেনঃعبيد الله بن زِيَاد أَمِير الْكُوفَة لمعاوية ولابنه يزِيد وَهُوَالَّذِي جهز الجيوش من الْكُوفَة للحسين بن عَليّ رضىالله تَعَالَى عَنْهُمَا حَتَّى قتل بكربلاء وَكَانَ يعرف بِابْنمرْجَانَة وَهِي أمه وَقد ذكر لَهُ بن عَسَاكِر فِي تَارِيخدمشق تَرْجَمَة وَجرى ذكره فِي سنَن أبي دَاوُد وَلم يترجملَهُ الْمزي وَمن تَرْجَمته أَنه ولد فِي سنة اثْنَتَيْنِ أَو ثَلَاثوَثَلَاثِينَ وروى عَن سعد بن أبي وَقاص وَمُعَاوِيَة وَمَعْقِلبن يسَار وَابْن أُميَّة أخي بني جعدة وروى عَنهُ الْحسنالْبَصْرِيّ وَأَبُو الْمليح بن أُسَامَة“… ‏সে উমাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ, ‏কুফার আমির ছিল মুয়াবিয়া ও তার ছেলে ইয়াজিদের তরফ থেকে এবং সে কুফা থেকে সেনা বাহিনী প্রস্তুত করেছিল হুসাইনের ‎(রাঃ) ‏এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য কারবালায় তার কতল পর্যন্ত।সে ইবনে মারজানা নামে পরিচিত ছিল আর সে ‎(মারজানা) ‏তার মা ছিল।ইবনে আসাকির তারিখে দামিস্কে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন আর সুনানে আবু দাউদে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে………………. ‏এবং সে সাদ ইবনে আবি ওক্কাস, ‏মুয়াবিয়া, ‏মাকেল বিন ইয়াসির এবং বানি জাদাহ এর ভাই ইবনে উমাইয়া থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছে এবং তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মুমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে যিয়াদ মুয়াবিয়ার খাস লোক ছিল ‎(এর আগেও প্রমান দেওয়া হয়েছে) ‏এবং মুয়াবিয়ার থেকে হাদিস বর্ননা করেছেঃ ইবনে কাসীর তার ‎‘আল বেদায়া ওয়া আন নেহায়া’তে ‎(খণ্ড ৮ পাতা ৫০৬ বাং)قال ابن عساكر وروى الحديث عن معاوية وسعد بن أبي وقاص ومعقل بن يسار ، وحدث عنه الحسن البصري وأبوالمليح بن أسامة“ইবনে আসাকির বলেছেন যে,সে ‎(উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ) ‏মুয়াবিয়া, ‏সাদ ইবন আবি ওক্কাস,মাকাল বিন ইয়াসির থেকে হাদিস বর্ননা করেছে,আর তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা বর্ননা করেছে”।আহলে সুন্নাহদের কাছে যেমন মুয়াবিয়া মহান ব্যাক্তি এই ইবনে যিয়াদের কাছেও মুয়াবিয়া তেমন মহান,আহলে সুন্নাহ তাদের হাদিস ধর্ম শিক্ষা এই লানতির থেকে নিয়েছে।নাসেবীদের জন্য আরও দলিল দেওয়া হল ঠিক যেমন আহলে সুন্নাহর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মুমিনিন ও ষষ্ট খলিফা ইবনে যিয়াদের লাঃ এর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মোমিনিন ও খলিফা। এটা প্রমান করে যে আহলে সুন্নাহও ইবনে যিয়াদের অনুসারী।ইবনে যিয়াদ, ‏আমর বিন সাদকে লেখেঃ ইবনে কাসীর(বেদায়া আন নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা)“হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যাবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল। আর হুসাইন ও তার সাথিদের আমিরুল মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বায়াতের জন্য প্রস্তাব দাও”।এর আগে দেখানো করা হয়েছে যে ইয়াজিদ খ্রিস্টান উপদেষ্টা স্যার জনের পরামর্শে ইবনে যিয়াদকে কুফার গভর্নরের দায়িত্ব আবার দেয়। উপরের দলিলাদি থেকে প্রমাণিত হয় যে ইবনে যিয়াদ উসমানী ছিল এবং উসমানকে আমিরুল মোমিনিন মানত, ‏ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ মানে, ‏মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন বলে মানত ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীরা মানে।আহলে সুন্নাহ যে ইবনে যিয়াদের উত্তর পুরুষ তা উপরের দলিল সমূহ থেকে প্রমাণিত হয়। শিমর বিন যুলজোশান আল মানুল লাঃশিমর বিন যুলজোশান ইমাম হুসাইন আঃ কে তার ধড় থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করে। আহলে সুন্নাহর এই শিমর বিন যুলজোশানকে নিয়ে মহা বিপদে আছে না পারে গিলতে না পারে উগরাতে। গলায় এমন ভাবে আটকিয়ে আছে যে আহলে সুন্নাহ আওয়াজ করেতে পারে না, ‏কিছু বলতে চাইলে গ্যা গোঁ আওয়াজ বার হয়। ফলে আহলে সুন্নাহর ওই আওয়াজ সুনে বলে যে শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আলির ‎(আঃ) ‏এর দলে ছিল ফলে সে শিয়া ছিল। এজন্য তারা একটা রেফারেন্স দেয়ঃআল কুম্মিয়ের কেতাব ‎‘সাফিনাতুন নাজাতের’ ‏খন্ড ৪ পাতা ৪৯২ তে আল কুম্মি লিখেছেন ‎“আমি বলি, ‏শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মোমিনিনের সেনা বাহিনীতে ছিল”।সুতরাং ইতিহাসিক ভাবে যেটা এসেছে, ‏শিমর লানাতুল্লাহ আলইহি সিফফিনের যুদ্ধে ইমাম আলী আঃ এর পক্ষে ছিলো। সুতরাং তাঁদের প্রোপ্যাগান্ডা যথারিতি শুরু!! ‏শিমর শিয়া ছিল, ‏শিমর শিয়া ছিল!!এই কথার জবাবঃ ১) ‏তালহা, ‏যুবাইর ইমাম আলী আঃ এর হাতে হাত রেখে বায়াত করেছিল। এখন যারা যে যুক্তিতে বলে শিমর শীআ ছিল তারা তালহা ও যুবাইরকে কি বলবেন? ‏শিয়া ‎?২) ‏যখন ইমাম আলী আঃ এর বায়াত হয় তখন যারাই ইমাম আলী আঃ কে মেনেছিল তারা পরবর্তী ইসলামে শাসক হিসাবে মেনেছিল, ‏তাঁদের মধ্যে সাধারণ লোক, ‏সুন্নি আকীদা এর লোক- ‏যারা আবু বকর উমার ও উসমানের খিলাফাতকে বৈধ মনে করে এবং শুধু মাত্র সাধারণ লোকজন ‎(যাদের কাছে কে খলিফা হল কোন যাই আসে না) ‏ও শীয়া আকীদার লোক ছিল-যারা ইমাম আলী আঃ কেই একমাত্র বৈধ খলিফা মনে করত। ‎(এ বিষয় প্রথম অধ্যায় আলোচনা বিশদ করা হয়েছে।) ‏সুতরাং ইমাম আলী এর হাতে বায়াত হলেই বা সিফফিনে আলী আঃ এর সেনা দলে থাকলেই যে সে শীয়া ছিল তার কোন প্রমান নেই।কেননা আহলে সুন্নার প্রচুর লোক আলী আঃ এর হাতে বায়াত হয়েছিল ও সিফফিনেও আলী আঃ এর সেনা দলে ছিল।৩) ‏৩৮ হিজরিতে যখন সিফফিনের যুদ্ধে যারাই ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল সবাই আকাইদ এ শীয়া ছিল না। রাষ্ট্র এর প্রধান হিশাবে ইমাম আলী আঃ এর দলে সুন্নি সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে বহু গোত্র ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল। শিমর ও ইমাম আলী আঃ এর দলে ছিল।৬১ হিজরিতে কারো দ্বারা অনুষ্ঠিত কাজ ৩৭/৩৮ হিজরিতে সেই ব্যাক্তি কোথায় ছিল সেটা দিয়ে বিচার হয় না। বহু লোক ধর্মপ্রান মুসলিম ছিল পরে নাস্তিক হয়ে গিয়েছে। এমন কি আল্লাহের রাসুল সাঃ এর এক ওহি লেখক ও মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।সুতারং শিমর ৬১ হিজরিতে কার দলের হয়ে কার নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করেছে সেটা বিবেচ্য। ৬১ হিজরিতে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে যিয়াদের চিঠি নিয়ে শিমর লাঃ কারবালায় আসে এবং ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করে।৪) ‏নাসেবীদের জন্য কাউন্টার প্রশ্নঃ নাসিবিরা যদি এক কথায়ে বলতে চায় যে সিফফিনে ইমাম আলী আঃ এর দলে যারা ছিল তারা শিয়া তবে মুয়াবিয়ার দলে কারা ছিল? ‏নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাহরা আর নাসিবিরা।আহলে সুন্নাহর খেলাফতি আকীদায় পরম্পরার দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে যে শিমর আহলে সুন্নাহর মাজহাবের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তি ছিল। আহলে সুন্নাহরা আবু বকর ‎,উমার, ‏উসমান ও আলি আঃ এর খিলাফাত মানে এবং তারপরে মুয়াবিয়াকে মানে এবং অতি উচ্চ ধরনা রাখে, ‏তার পরে ইয়াজিদেকে খলিফা/আমীর মানে এবং এর পরে উমাইয়া ও আব্বাসিদের তার পরে তুর্কিদের খলিফা হিসাবে মান্য করে।শিমর সিফফিনে আলী আঃ এর দলে ছিলে তার পরে মুয়াবিয়ার খিলাফত মান্য করে তার পরে ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন মানত।৫) ‏এখন আমি দেখাব শিমর এর মেলামেশা, ‏সখ্যতা কাদের সাথে ছিল। আহলে সুন্নার বড় বড় আলেম দের সাথে ছিল।ইমাম আবু ইশাক ‎(মৃঃ১২৯) ‏আহলে সুন্নাহর বড় মাপের তাবেই যার সম্বন্ধে সুন্নি রেজাল শাস্ত্রের ইমাম গনদের অন্যতম ইমাম যাহাবি তার সিয়ার আলাম আন নাবুলাতে লিখেছেনঃ ‎-“শেইখ, ‏আলেম, ‏কুফার মুহাদ্দিস ‎” (খণ্ড ৫ পাতা ৩৯২)তারিখে হুফফাজ- ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“ফুযাউইল বলেছেন ‎‘ ‏আবু ইশাক প্রত্যেক তিন দিনে কুরআন খতম করতেন………… ‏তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন, ‏তাকওয়া ধারী, ‏জ্ঞানের পাত্র ছিলেন, ‏আরও গুনাগুন ছিল”। ‎(খণ্ড ১ পাতা ১১১)এখন দেখুন আবু ইশাক আর শিমর লানাতুল্লাহ আলাইহি একসাথে নামায পড়ছেন। এখানে বোঝা যায় শিমর কে ছিল।মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“আবু ইশাক বলেছেন, ‏শিমর আমাদের সাথে নামায পড়ত আর বলত যে ‎‘ও আল্লাহ তুমি যান আমি সৎ লোক তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও’। আমি বললাম ‎‘আল্লাহ কেন তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন যখন তুমি রসূল আল্লাহের সন্তানের হত্যায় অংশগ্রহণ করেছ’? ‏সে ‎(শিমর) ‏বলল ‎‘তোমার অহ! ‏আমি কি করতাম? ‏আমাদের শাসক এই রকম করতে বলেছিল। আমরা তাদের অবাধ্য হয়নি……………’। আমি ‎(আবু ইশাক) ‏বললাম ‎‘বাহ ভাল অজুহাত! ‏নিশ্চয়ই হুকুম মান্য করা শুধু ভাল কাজের জন্য হয়’।” ( ‏খণ্ড ২ পাতা ২৮০)উপরের শিমর আর আবু ইশহাকের কথা থেকে এটা পরিষ্কার যে শিমর কাদের সাথে নামায পড়ত, ‏উঠাবসা করত। আরও এটা জানা যায় যে শিমর কার হুকুমে ইমাম হুসাইন আঃ কে হত্যা করেছিল!শিমার শুধু সুন্নি ছিল না, ‏সুন্নিরা শিমারের থেকে শিক্ষা নিয়েছে, ‏হাদীস নিয়েছে!মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবি, ‏শিমারের জীবনীর আলোচনাতে ‎[ شمر ] 3742 – شمر بن ذى الجوشن، أبو السابغة الضبابى. عن أبيه. وعنه أبو إسحاق السبيعى.“……………… ‏আবু ইশাক তার( ‏শিমর) ‏থেকে বর্ণনা করেছেন”আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে শিমরের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন!শাবাষ বিন রাবেইঃহুসাইন আঃ কে আহলে সুন্নাহর পিতৃপুরুষদের মধ্যে যারা চিঠি লিখেছিল তাদের নেতা ছিল এই ব্যাক্তি। এই ব্যাক্তি কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে আমর বিন সাদের বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। এর ব্যাপারে আগেই সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এখানে আহলে সুন্নাহর এই পিতৃব্যের আরো একটু আলোচনা করা হলঃআহলে সুন্নাহর রেজাল ও হাদিস শাস্ত্রের ইমাম যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’র খন্ড ৪ পাতা ১৫০ এ উল্লেখ করেছেনঃشَبَثُ بنُ رِبْعِيٍّ * التَّمِيْمِيُّ اليَرْبُوْعِيُّأَحَدُ الأَشْرَافِ وَالفُرْسَانِ، كَانَ مِمَّنْ خَرَجَ عَلَى عَلِيٍّ، وَأَنْكَرَعَلَيْهِ التَّحْكِيْمَ، ثُمَّ تَابَ وَأَنَابَ.وَحَدَّثَ عَنْ: عَلِيٍّ،وَحُذَيْفَةَ.وَعَنْهُ: مُحَمَّدُ بنُ كَعْبٍ القُرَظِيُّ، وَسُلَيْمَانُالتَّيْمِيُّ.لَهُ حَدِيْثٌ وَاحِدٌ فِي (سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ)“আশরফ ও বাহাদুর একজন…………সে আলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং সালিশি মানতে অস্বীকার করেছিল, ‏পরে তওবা করেছিল। সে হাদিস বর্ননা করেছে আলী, ‏হুজাইফা থেকে এবং তার থেকে মুহাম্মাদ বিন ক’আব আল কারদ্বি ও সুলাইমান তামিমি হাদিস বর্ননা করেছে, ‏সুনান আবি দাউদে তার একটা হাদিস উল্লখে আছে”।ইবনে মাজা তার থেকে হাদিস নিয়েছে, ‏বুখারিরি ওস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক ও ইবনে আবি শায়বা তাদের নিজ নিজ মুসান্নাফে শাবাষ থেকে হাদিস বর্ননা করেছে। আহলে সুন্নাহর বড় রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ইবনে হিব্বান তাকে তাঁর শিকাত এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে সে ভুল করেছে ‎(হাদিস বর্ননায়)।এ লানতি আহলে সুন্নাহর কাছে মর্যাদা রাখে তা উপরে দলিল সমূহ থেকে বোঝা যাচ্ছে। এর থেকে আহলে সুন্নাহ হাদিস নিয়েছে ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে!আবু দাউদের হাদিসঃحَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَاعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِكَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ شَبَثِ بْنِ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامعَنْ …النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْخَبَرِআবু দাউদ এই হাদিসে কোন কমেন্ট করেনি সুতারং আবু দাউদ এই হাদিসের সনদ সহিহ মানত। কেননা আবু দাউদ বলেছেন যে আমার কেতাবে কোন হাদিসে সমস্যা থাকলে তাকে সেখানে আমি মন্তব্য লিখব, ‏আর আমি কোন মন্তব্য না করার অর্থ সেই হাদিস বিসস্ত। ‎( ‏সুত্র সওকানির ‎‘নিল আল আওতার’ ‏খন্ড ১ পাতা ১৫)ইমাম নাসাইয়ের সুনান আল কাবীরের হাদিসের অংশ বিশেষঃأخبرنا أحمد بن عمرو بن السرح قال أخبرنا بن وهبقال أخبرني عمرو بن مالك وحيوة بن شريح عن بنالهاد عن محمد بن كعب عن شبث بن ربعي عن …عليبن أبي طالب قال قدم على رسول الله صلى الله عليهوسلم سبي فقال علي لفاطمةসুতারং ইমাম হুসাইন আঃ কে চিঠি লিখে এবং পরে ইয়াজিদের বাহিনীতে যোগ দেওয়া ‎‘মহান’ ‏লোকের সাথে আহলে সুন্নাহের প্রগাড় সম্পর্কের ও সম্পৃক্ততা একটা প্রমানিত ও উন্মুক্ত ব্যাপার। আহলে সুন্নাহর শিক্ষা দীক্ষা সেই সন হত্যাকারীদের সাথে সম্পর্কিত। আরো প্রমান হয় যে আহলে সুন্নাহর বরং এই সব লোকদের উত্তরসুরি।ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যা কারীদের মাযহাবের আরো কিছু প্রমানঃইমাম হুসাইন আঃ এর শাহাদতের পরে শিয়াদের ইমামত এর ধারার ইমাম হন যাইনুল আবেদিন আঃ যাকে ঘিরে আকাইদি শিয়াদের আনাগোনা ছিল, ‏তাঁর কাছ থেকে শিয়ারা শিক্ষা গ্রহন করত। সহিফাহ এ সাজ্জাদিয়া ইমাম যাইনুল আবেদিন আঃ এর দোয়ার কেতাব।অপর দিকে আহলে সুন্নাহরা তাদের নেতাদের কাছে যেত ও শিক্ষা গ্রহন করতো ফতোয়া গ্রহন করত। যেমন আহলে সুন্নাহর দ্বীনের এক অংশ যার উপর নির্ভর করে সেই ইবনে উমার। ইবনে উমার ইয়াজিদের এক ভক্ত ছিল এর আগে দেখানো হয়েছে যে টাকা খেয়ে ইয়াজিদকে ইবনে উমার বায়াত করে। ইবনে উমার ইয়াজিদের জন্য প্রবল ভাবে ক্যানভাস করেঃসাহিহ আল বুখারিঃ ইফাঃ অনলাইনঃ ৬৬২৬। ‎“সুলায়মান ইবনু হারব ‎(রহঃ) … ‏নাফি ‎(রহঃ) ‏থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ‏যখন মদিনার লোকেরা ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়া ‎(রাঃ) ‏এর বায়আত ভঙ্গ করল, ‏তখন ইবনু উমর ‎(রাঃ) ‏তার বিশেষ ভক্তবৃন্দ ও সন্তানদের সমবেত করলেন এবং বললেন, ‏আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ‏কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ‎?