#শাহাদাৎ_ই_যাহরা_সাঃ_আঃ সুরা হাশরের একুশ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ্ বলেন “কোরান যদি পর্বতের উপর নাজিল করতাম তাহলে তা ধুলিকনাতে পরিনত হয়ে যেতো” সেই কোরান আল্লাহ্ নাজিল করলেন কোথায়? তার প্রিয় হাবিবের কলবে (হৃদয়ে/অন্তরে)- (রেফারেন্স সুরা আশ শুয়ারা, আয়াত ১৯৪)। আর নিজের কলব সম্পর্কে হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ সঃ কি বলেছেন? আসুন কিছু হাদিস দেখিঃ একদা রাসূল (সা.) হযরত ফাতেমাকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে আসলেন এবং (উপস্থিত জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে) বললেন : “যে ফাতিমাকে চেনে সে তো চিনেছেই। আর যে তাকে চেনে না তার জেনে রাখা উচিত যে ফাতেমা মুহাম্মদের কন্যা। সে আমার শরীরের অংশ,আমার হৃদয়,আমার অন্তরাত্মা। সুতরাং যে তাকে কষ্ট দেবে সে আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে আল্লাহকে কষ্ট দিল।”- কাশফুল গুম্মাহ্,২য় খণ্ড,পৃ. ২৪। আরেক হাদিসে মাওলা মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন : “আমার কন্যা ফাতিমা পৃথিবীর প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সকল নারীদের নেত্রী। সে আমার দেহের অংশ এবং আমার নয়নের মণি। ফাতেমা আমার হৃদয়ের ফসল এবং দেহের মধ্যে আমার অন্তর সমতুল্য। ফাতেমা মানুষরূপী একটি হুর। যখন সে ইবাদতে দণ্ডায়মান হয় তখন পৃথিবীর বুকে নক্ষত্রসমূহের মত তাঁর জ্যোতি আসমানের ফেরেশতাদের জন্যে প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। আর তখন মহান স্রষ্টা তাঁর ফেরেশতাদের বলেন : “হে আমার ফেরেশতাকুল! আমার দাসী ফাতেমা,আমার অন্যান্য দাসীদের নেত্রী। তাঁর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ কর,দেখ সে আমার ইবাদতে দণ্ডায়মান এবং আমার ভয়ে তাঁর দেহ কম্পিত। সে মন দিয়ে আমার ইবাদতে মশগুল। তোমরা সাক্ষী থাক,আমি তাঁর অনুসারীদেরকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা করবো।”- আমালী,সাদুক,পৃ. ৯৯,১০০। রাসূল (সা.) বলেছেন : “যে ফাতেমাকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকে কষ্ট দেয় আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করলো।- বিহারুল আনওয়ার,৪৩তম খণ্ড,পৃ. ৩৯। মানাকিবে শাহরে আশুব,৩য় খণ্ড,পৃ. ১১২। কানযুল ফাওয়াইদ,কারাজেকি,মাকতাবাহ্ মুসতাফাভী,কোম,পৃ. ৩৬০,পঞ্চম অধ্যায়; রেসালাহ্ আত্ তায়া'জ্জুব। ফুসুল আল মুখতারাহ্,শেখ মুফিদ,পৃ. ৫৭। আর এ কথাগুলি কিন্তু নবী সঃ কন্যার মন রাখতে বা নিজের সন্তানের শান উচু করার জন্য বলেননি, আয়াত টা ভুলে যান নি আশা করি, যে, “কোন কিছুই তিনি আপন প্রবৃত্তির তাড়নায় বলেন না,তার প্রতিটি কথাই ওহী বলে গণ্য যা তার প্রতি অবতীর্ণ হয়।”- আন নাজম : ৩,৪।“ কাজেই এটা প্রমানিত যে হাদিসের বাক্যগুলিও মাওলা নিজ থেকে বলেননি, আল্লাহ্‌ পাক তাকে দিয়ে বলিয়েছেন। মুহাম্মদের সঃ কথা যদি সত্য হয়ে থাকে আপনারা রাজি'আল্লাহ বলে গলায় রক্ত তুলে ফেললেও লাভ হবেনা। তারা লানতের মালা অলরেডি গলায় পরে নিয়েছেআর যিনি লানতুল্লাহর মুখমন্ডল থেকে রাজি’আল্লাহর মুখোশ খুলে দিয়েছেন উনার নাম জনাবে ফাতেমা যাহরা। আর সেজন্যই তাকে বিদায় নিতে হয় দুনিয়া থেকে। মাওলা মুহাম্মদ সঃ মা ফাতেমা সাঃ আঃ কে দেখে দাঁড়িয়ে যেতেন। যা উনি আর কারো সন্মানেই করেননি। কায়েনাতের সবাই মাওলার সন্মানে উঠে দাড়াতো, কিন্তু আমার মাওলা সঃ মা ফাতেমা সাঃ আঃ দেখে দাঁড়িয়ে সন্মান জানাতেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, যখন হযরত ফাতেমা নবী (সা.) এর নিকট আসতেন তখন তিনি দাড়িয়ে তাঁকে স্বাগতম জানাতেন, তাঁর হাত ধরে চুমু খেতেন এবং তাঁকে নিজের জায়গায় বসাতেন। এটা কি মেয়ের প্রতি দেখানো বাবার সন্মান? নাকি নারীর প্রতি দেখানো পুরুষের সন্মান? কোনটাই না। যদি এর কোনটা হতো তাহলে দুটোই আমাদের জন্য সুন্নত হয়ে যেতো। আর আমাদের মোল্লারা সুন্নত ছাড়তে রাজীনা তাতে যদি ফরজও ছুটে যায় তবুও সুন্নত ছাড়বেনা ( চেইতেন না, সুন্নতের নামে আপনারা কি করেন তা সবাই জানে, ভরা রাস্তায় ঢিলা কুলুপ নিয়ে আপনারা ড্রাই ক্লিনিং এ লেগে যান সুন্নতের নামে।) বাবা যদি মেয়েকে দেখে দাড়াতেন তবে অন্তত কয়েকজন হলেও এই সুন্নত, পালন করতেন। আর পুরুষ যদি নারীকে দাঁড়িয়ে সন্মান করতেন তাহলে আরও কেউ কেউ দাবী করতেন যে রসুল আমাকে দেখেও দাঁড়াতেন। তাহলে কে দাঁড়াতেন কাকে দেখে? নবুয়ত দাঁড়াতেন ওহুদায়ে বতুল কে দেখে, রিসালাত দাঁড়াতেন উম্মে আবিহা কে দেখে। কোরানের মতে রসুল সঃ যা বলেন তা ওহী, আর রসুল সঃ বলেছেন ফাতেমা উম্মে আবিহা, ফাতিমা তার পিতার মা, আর মায়ের শান কে না জানে? মা না থাকলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হতোনা, মা না থাকলে সন্তানের লালন পালন হতোনা, মা না থাকলে যা যা হয় না বা হতোনা সবই রসুল সঃ এর জন্য মা ফাতেমা সাঃ আঃ পালন করেছেন। আর এ কারনেই তিনি উম্মে আবিহা। সেই ফাতেমার ঘরে,( যে ঘরে রসুল গিয়ে ব্যথামুক্ত হয়েছেন, যে ঘরে জিবরাঈল চাক্কি পিষেছেন, যে ঘরে মিকাইল দোলনা ঝুলিয়েছেন, যে ঘরের সামনে তারকা নাজিল হয়েছে, যে ঘরে জিবরাঈল মিসকিন সেজে এসেছেন) আগুন দেয়া হয়েছিলো, রসুলের হৃদয়ে (ফাতেমা) পদাঘাত করে পাজর ভেংগে দেয়া হয়েছিলো, লাথি মেরে হত্যা করা হয়েছিলো গর্ভের সন্তানকে। এমনভাবে হাত ভেংগে দেয়া হয়েছিলো যে সেই হাত দিয়ে বাকি হায়াতে জিন্দেগীতে তিনি তসবির দানা পর্যন্ত টানতে পারেন নি। হায় হায়, এগুলি কোন কাফেরে কিন্তু করেনি, এগুলি করেছে বড় দলের ওস্তাদেরা ( আমরা কাফের এ জন্য যে আমরা তাদের নাম, পরিচয় বলে দেই) রাসুল (সাঃ)-এর ইন্তেকালের পর আহলে বায়াতে রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর রাজশক্তি কর্তৃক এত অত্যাচারের পাহাড় নেমে আসে এবং তা সহ্য করতে না পেরে ফাতেমা যাহারা সর্বক্ষণ ক্রন্দন ও পিতার উদ্দেশ্যে ফরিয়াদ করতেন । লোকেরা মাওলা আলীর (আঃ) কাছে অভিযোগ করে এবং হযরত আলী (আঃ) জান্নাতুল বাক্বীতে একটি ছোট ঘর তৈরী করে দেন, যেখানে গিয়ে মা ফাতেমা রোজ বসে তাঁর বাবাকে স্বরন করে কাঁদতেন ( রাসুল (সাঃ) এর ঐ সময়কার উম্মতেরা হযরত ফাতেমা যাহারা (সাঃ আঃ) কে পিতার শোকে কান্না করার শব্দ কেও সহ্য করতে পারতেন না এখানেও উনাদের আপত্তি অভিযোগ ছিলো, রাসুল (সঃ) কন্যা কে আরো অনেক ভাবে কষ্ট দিতো ঐ সময়ের মুসলমানেরা, মন খুলে পিতা জন্য কাঁদবে কিন্তু সেটাও করতে দিতো না বরং অভিযোগ করতো তাদের ডিস্টার্ব হয় বলে ) । এটাই ইতিহাসে 'বাইতুল হুজন' বলে প্রসিদ্ধ, অর্থাৎ শোক এবং ক্রন্দন করার ঘর বা শোকের ঘর নামে পরিচিত । ঘটনার শুরু কিন্তু সেদিনে না বন্ধুরা। ভেবে দেখুন, রসুল সঃ এর ওফাতের আগপর্যন্ত সাহাবীগনই সকল যুদ্ধ করেছেন। রসুল সঃ এর ওফাতের পাচদিন গত না হতেই ফাতেমার (সাঃ আঃ) ঘরে পঞ্চাশজন বা আরও বেশি সৈনিক সহ হুকুমতের প্রথম খলিফার গুন্ডাবাহিনী আসে কোথা থেকে!!! আসলে এর শুরু হয়েছে বদরের যুদ্ধের পর থেকেই। এদের বাপ চাচা রা যখন বদরের যুদ্ধে কুকুরের মতো মারা পরে আলী এবং হামজা সহ অন্যান্য মুসলিমের হাতে। কাপুরুষের দল তখন থেকেই নিজের জীবন বাচানোর জন্য মুখে মুখে ইসলামের কথা বলে, যোগ দেয়। মনে মনে লাতের পুজাই করতে থাকে, এই লাতখোরদের কাছে লাতও ছিলো ব্যবসার উপকরন, এজন্য কেউ লাতের মন্দিরের পুরোহিত (বাকি সময় দর্জি), কেউ লাতের মন্দিরের সামনে কোষ্ঠী বিচার ( পরে মালিকাতুল আরবের পয়সা মেরে গনী) আবার কেউ অন্ধকারে মরুযাত্রীদের হত্যা করে লুঠ (পরবর্তীতে রাগী যুবক) করা সত্তেও ইসলাম কবুল করে শুধু মাত্র নিজেরা টিকে থাকবে বলেই নয়, এদের গুরুমা ছিলো পতিতালয়ের সর্দারনী এক রাজি’ল্লাহু’আনহা যে বদরে প্রায় সবই খুইয়েছিলো, সে এবন তার স্বামী বরাবরই উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসে, তার স্বামী ইবনে হার্ব ফান্ড তৈরী করে। আমরা জানি আরবদের প্রতিশোধস্পৃহা খুব বেশি, সে এটাকে পুজি করে। কাফেরদের যার যার আত্মীয় মারা গেছে মুসলিমদের হাতে তাদের কাছে গিয়ে প্রতিশোধ নিবে বলে ফান্ড কালেক্ট করে ( মনে আছে খন্দকের যুদ্ধে আমর কে ১৭ কাবিলার লোকে চাদা দিয়ে এনেছিলো?) এই ফান্ড যোগার এবং খরচ করতো পতিতার স্বামী ইবনে হার্ব। আর যেহেতু তারা কাফেরদের কাছ থেকে ফান্ড কালেক্ট করে কাজেই তারা কোন যুদ্ধেই সক্রিয় অংশগ্রহন করেনা, কাউকে হত্যা করা তো দুরের কথা ( আসলে এরা হুকুমতের লোভে এসেছিলো, পলিটিশিয়ান, আর সবাই জানে পলিটিশিয়ান কাউকে হত্যা করেনা,প্রক্সির মাধমে করায়) এদের বাধ ভেঙ্গে যায় গাদীরের দিনে, আলীকে মাওলা ঘোষনা তারা মেনে নিতে পারেনি, সেখান থেকেই তাদের খিলাফত দখল করার প্রস্তুতি চলতে থাকে। এতোদিনে ফান্ডও জমেছে বেশ, সৈন্য সংগ্রহও করা শুরু হয়। সকিফায় পায় চুড়ান্ত রূপ। ইসলামের মোড় এখান থেকে বিভক্ত হয়ে যায়। দ্বীনে ইসলাম আর হুকুমতে ইসলাম। এবার আসি ফাদাক প্রসংগেঃ আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না (সুরা বণি ইসরাঈল/২৬)। ইবনে আব্বাস ও আবু সাঈদ খুদরীর কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন এই আয়াতটি নাযিল হল, তখন নবী স. ফাতেমাকে ডেকে ফাদাক ও আওয়ালী নামক ভূ-খন্ড তাকে দান করলেন ও বললেন “এই অংশ মহান আল্লাহ তা’য়ালা তুমি ও তোমার বংশধরদের জন্য বন্টণ করছেন (সূয়ূতি, ৫/২৭৩; অলূসি, ১৫/৬২; মুত্তাকি হিন্দি, ৩/৭৬৭; যাহাবি/২২২৮, ইবনে কাসির. ৩/৩৬)। এই মর্মে মাওলা মুহাম্মদ সঃ অসিয়তনামাও লিখে যান, যার সাক্ষী ছিলেন হাসনাইন আঃ কিন্তু হুকুমতের প্রথম খলিফা (যার খিলাফতের একমাত্র যোগ্যতা তিনি ছিলেন সবচে বয়স্ক) তা অস্বীকার করে দখল করে নেন রাস্ট্রায়েত্বের কথা বলে তিনি তার ইলম দিয়ে ঘোষনা করেন নবীর ওয়ারিশ হয়না ( অথচ তিনি ভুলে গেলেন যে কোরানে ওয়ারিশের কথা বলা আছে, তিনি ভুলে গেলেন তা আমি মানিনা, তিনি কোরান পড়লে জানতেনই, তিনি উপেক্ষা করলেন খুমসের আয়াতও) চার ঘন্টা বিবি দাঁড়িয়ে থাকলেন, ফলাফল? নবীর স্বহস্তে লেখা অসিয়ত নামা ছিড়ে ফেলে দেয়ার আগে তাতে থুথু ছিটাতেও দেখলেন তিনি! (হায় হায়) হুকুমত লোভীরা বুঝে গিয়েছিলো এদের কে থামাতে হবে নইলে হুকুমতে টিকে থাকা যাবেনা, ফাদাক তো বাহানা! কাজেই এবারে আলীর বায়াত আদায় করতে হবে, তারা জানে যে আমাদের মতো লোকের কাছে আলী নত হবেনা, কাজেই সৈন্যদল নিয়ে তার বাড়ী আক্রমন করে। হায় হায়! আবার ঘুরে এলো সেই দিন! আমরা শুধু বুক চাপড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা! আবারও এলো রসুলের (সঃ) হাত ভাঙা, পাঁজর ভাঙার কারনে মৃত্যু বরণ করার দিন! ভাবছেন ব্যাটা শোকে পাগল হয়ে গেছে!? রসুলে হাত আবার কে ভাংলো? কেই বা রসুলের পাঁজর ভাঙল? নিচের হাদিস টা আবার খেয়াল করে দেখুন মাওলা মুহাম্মদ সঃ বলেছেনঃ ফাতিমা আমারই একটি অঙ্গ ,যে তাঁকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকে অসন্তুষ্ট করল” (ফাতহুল বারি শরহে সহীহ বুখারী- খণ্ড:৭ ,পৃ:৮৪ ,বুখারী- খণ্ড: ৬ ,পৃ: ৪৯১।) তাহলে কি আমি মিথ্যা বলেছি?! মাওলা মুহাম্মদ কি বলেন নাই যে, হে ফাতিমা খোদা তোমার অসন্তুষ্টিতে অসন্তুষ্ট এবং তোমার সন্তুষ্টে সন্তুষ্ট হয়” (মুসতাদরাক-এ-হাকিম- খণ্ড:৩ ,পৃ:১৫৪ ,মাজমাউজ জাওয়ায়েদ- খণ্ড:৯ ,পৃ:২০৩ ,বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত ও সহীহ বলে গন্য হয়েছে।) আপনার ঘরে আগুন দেয়া হলে আপনার গর্ভের বাচ্চাকে লাথি মেরে হত্যা করা হলে, আপনার পাঁজর ও হাত ভেঙ্গে ফেললে কি আপনি অসন্তুষ্ট হবেন? বুখারী ও মুসলিম সাহেব বলেছেন যে ফাতেমা সাঃ আঃ এর অসন্তুষ্টি তে আল্লাহ্‌ অসন্তুষ্ট হোন। তাহলে নিমকহারামের দল কাকে সন্তুস্ট করতে তার গৃহে আক্রমন করেছিলো?? সেই ঘর যেখানে জিবরাইল এসেছেন মিসকিন হয়ে!! যেখানে মিকাইল এসেছেন চাক্কি পিষতে!! যেই ঘরের মর্যাদা সম্পর্কে মাওলা মুহাম্মদ নিজে বলেছেন যে এই ঘর নবীদের ঘরের চেয়েও উত্তম! যে ঘর সম্পর্কে হাদিসশাস্ত্রবিদরা উল্লেখ করেছেন: যখন এই পবিত্র আয়াত নবী (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ হয়ঃ “ ফি বুয়ুতিন আজেনাল্লাহো আন তুরফায়া ওয়া য়ুজকারা ফিহাসমুহু ইউসাব্বিহু লাহুফিহা- বিলগুদুওবি ওয়াল আসাল।” (সুরা নূর- আয়াত ৩৬।) নবী করীম এই আয়াতটি মসজিদে তেলাওয়াত করলেন সেই সময় এক ব্যক্তি উঠে প্রশ্ন করলেন: হে মহানবী (সা.) এই ঘরগুলি বলতে ও তার গুরুত্ব বলতে কি বোঝায় ? (অর্থাৎ: কোন ঘর ও তার কি গুরুত্ব) । রাসূল (সা.) বললেন: নবীগণের গৃহগুলিকে বোঝানো হয়েছে।তখনি হজরত আবুবকর উঠে হজরত আলী (আ.) ও ফাতিমা (সাঃ আঃ) এর গৃহের দিকে ইশারা করে বললেন: আচ্ছা এই গৃহ কি সেই গৃহের মধ্যে আছে ? উত্তরে নবী করীম (সা.) বললেন: হ্যাঁ, বরং তাদের থেকেও উত্তম।(দূররে মনছুর- খণ্ড:৬ ,পৃ:২০৩ ; তাফসিরে সুরা নূর। রুহুল মায়ানী- খণ্ড:১৮ ,পৃ:১৭৪।) সেই ঘরকে কেমন অসন্মান করা হয়েছে! অথচ মুমিনের কর্তব্য ছিলো সেই ঘরের প্রতি সর্বোচ্চ সন্মান প্রদর্শন করা। যে ঘর আল্লাহর নূরের কেন্দ্র এবং আল্লাহ যাকে সম্মান করার আদেশ দিয়েছেন তার সাথে অত্যন্ত সম্মান ও ভদ্রতার সঙ্গে আচরণ করা আবশ্যক।হায় নিকৃষ্ট! হায় জঘন্য!! ক্ষমতালোভী হারামীরা সেই গৃহের মর্যাদা তো দিলোই না, আমার মাওলার একমাত্র সন্তান যাকে তিনি কখনই মা ছাড়া ডাকেননি, যাকে তিনি উম্মে আবিহা বলেছেন তাকেও সেই নাজায়েজ মুসলিম নামধারী হন্তকের দল এভাবে আক্রমণ করলো! নবী করীম (সা.) দীর্ঘ নয় মাস পর্যন্ত নিজের কন্যার বাড়ি এসে তাঁর ও তাঁর স্বামীর উপর সালাম করতেন এবং এই আয়াতকে তেলাওয়াত করতেন: إ ِنَّمَا يُرِيدُ اللَّـهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا (সুরা আহযাব: ৩৩) (দূররে মনছুর- খণ্ড: ৬,পৃ: ৬০৬।) সেই ঘরের সাথে এমন আচরণ! সেই ঘরের বাসিন্দা যারা প্রত্যেকেই মাওলা মুহাম্মদের প্রাণস্বরূপ, তাদের সাথে কি ব্যবহার করলো!! হায় হায়! আবুবকর হজরত আলী (আ.) এর বাইয়াত নেওয়ার জন্য (লোক) পাঠায় কিন্তু হজরত আলী (আ.) অস্বীকার করার ফলে উমর আগুনের ফলতে নিয়ে আসল ,দ্বারেই হজরত ফাতিমা (আ.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। হজরত ফাতিমা (আ.) বললেন: হে খাত্তাবের পুত্র! আমিতো দেখছি তুমি আমার ঘর জ্বালানোর পরিকল্পনা নিয়েছ ? উত্তরে উমর বলল: হ্যাঁ ,তোমার পিতা যার জন্য প্রেরিত হয়েছে (সেই কাজের সহযোগিতা ছাড়া অন্যকিছু নয়) আর এটা তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।(আল ইমামাতো অল সেয়াসাতো- পৃ:১২ মুদ্রণ: মিশর।) বেজন্মা বলে কি!! নষ্ট খলিফার বায়াত নেয়া নাকি নবুয়তের চেয়েও গুরুত্বপুর্ন!!এদের জাহান্নামেও ঠাই হবে বলে মনে হয় না! যখন জনগণ আবুবকরের হাতে বাইয়াত করলেন ,হজরত আলী (আ.) ও যোবায়ের হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে পরামর্শ ও আলোচনা করছিলেন ,এই খবর উমর ইবনে খাত্তাবের কর্ণগোচর হল অতঃপর সে ফাতিমা (আ.) এর গৃহে এসে বলল: হে নবী নন্দিনী! আমার প্রিয়তম ব্যক্তি তোমার পিতা ,তোমার পিতার পর তুমি নিজে ; কিন্তু আল্লাহর কসম তোমাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না তোমার এই ঘরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদের উপর আগুন লাগানোর আদেশ দেওয়া থেকে যাতে তারা কিন্তু আল্লাহর কসম তোমাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না তোমার এই ঘরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদের উপর আগুন লাগানোর আদেশ দেওয়া থেকে যাতে তারা দগ্ধ হয়ে যায়। এই কথা বলে উমর চলে যায় ,অতঃপর হজরত আলী ও যোবায়ের গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন ,হজরত ফাতিমা (আ.) আলী (আ.) ও যোবায়েরকে বললেন: উমর আমার নিকটে এসেছিল আল্লার কসম খেয়ে বলছিল যে যদি তোমাদের এই“ ইজতেমা ” সমাবেশ বন্ধ না হয় ,দ্বিতীয় বার অব্যাহত থাকে তাহলে তোমাদের গৃহকে জ্বালিয়ে দেব। আল্লার কসম! যার জন্য আমি কসম খেয়েছি অবশ্যই আমি সেটা করব। (আনসাবুল আশরাফ- খণ্ড:১ ,পৃ:৫৮৬ ,মুদ্রণ: দারে-এ-মায়া’ রিফ ,কাহেরা।) দেখুন কি ইম্পর্ট্যান্ট ছিলো তাদের কাছে বায়াত, যে কারনে শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি তা করেও দেখিয়েছে! (এই বায়াত ছিলো হাতে হাত রেখে বায়াত) এর পরে হতে পারতো নবী ঘোষণা দেয়ঃ যার হাতে উমরের জান আছে তার কসম খেয়ে বলছি তোমরা ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে এস ,নইলে ঘরে যারা আছে তাদের সহ ঘরকে জ্বালিয়ে দেব। খোদাভীরু কিছু লোক আল্লাহর ভয়ে এবং রসুলের ঘরের সম্মান রক্ষার জন্য উমরের উদ্দেশ্যে বলল: “ হে হাফসার পিতা! এই ঘরে ফাতিমা (আ.) আছেন ” সে চিৎকার করে বলল:“ থাকে থাকুক!!” (আব্দুল ফাত্তাহ আব্দুল মক্বসুদ- আলী ইবনে আবীতালিব - খণ্ড:৪,পৃ:২৭৬-২৭৭।) শুধু তাই? দেখুন আরওঃ উমর হজরত ফাতিমা (আ.) এর গর্ভে লাথিমারে তাঁর গর্ভে মহসিন (নামে বাচ্চা) ছিল সে গর্ভপাত হয়ে যায়।(মিজানুল এ’ তেদাল - খণ্ড:৩ ,পৃ:৪৫৯।) মাওলা মুহাম্মদ সঃ দোয়া করার সময় প্রায়ই ফাতেমা যাহ্‌রা( সাঃ আঃ) কে বলতেন “ফাতেমা আমি দোয়া করি তুমি আমিন বলো” মাওলা মুহাম্মদ এর দোয়া যার আমিনের মুখাপেক্ষী তার নাম ফাতেমা। সেই ফাতেমা কে নির্মমভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।তার সামনে যখন রাসুলুল্লাহ সঃ এর ওসিয়ত ( বাগে ফেদাক এর) ছিড়ে ফেলা হয়( শুধু ছিড়েই ফেলেনি ছেড়ার আগে তাতে থুতু দিয়েছে দুশমনে যাহ্‌রা, যদিও আজ তাকেই হতে পারতো নবী মনে করা হয়।)চার ঘন্টা তার পিতার দরবারে দাঁড়িয়ে থেকে তার পিতার ওসিয়তের সাথে এমন ব্যবহার দেখে আর সইতে পারলেন না উম্মে আবিহা! মুহুর্তেই তার মাথার চুল সব সাদা হয়ে যায় (ইয়া উম্মে আবিহা! ইয়া যাহ্‌রা!!) রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘ফাতিমা আমার অস্তিত্বের অংশ। যে তাঁকে রাগান্বিত করে সে আমাকে রাগান্বিত করে।’নবী (সাঃ) আরও বলেন,‘ফাতিমা কোন ব্যাপারে রাগান্বিত হলে আল্লাহ্ও রাগান্বিত হন এবং ফাতিমার আনন্দে আল্লাহ্ও আনন্দিত হন।’ অথচ তার সাথে কেমন আচরন করা হয়েছে!এই আচরন যদি অন্য দেশের অন্য ধর্মের কেউ করতো তাহলে হয়তো বলা যেতো যে ওরা প্রতিশোধ নিয়েছে! এরা যে প্রতিশোধ টা নিলো তা কিসের ছিলো?? চিন্তা করে দেখার অনুরোধ। শুধু তাই নয়, ফাতেমার ঘর যে ঘর কে মাওলা মুহাম্মদ সঃ যে কোন নবীর ঘর থেকেও আফজাল বলে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। লাথি দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলেছে, সেই দরজায় চাপা পরেছেন উম্মে আবিহা, পাষণ্ডরা নিচে চাপা পরা মা ফাতেমার গায়ে পারা দিয়ে( কেউ কেউ পা দিয়ে আঘাত করে) ঘরে ঢুকেছেন। দরজার নিচে শুয়ে রসুলের অংশ, রসুলের মা চিৎকার করে বলেছেন “ও আলী!! আমার মহসীন শহীদ হয়ে গেছে!!! ও আলী আমার হাত ভেঙ্গে গেছে!! ও আলী আমার পাঁজর ভেঙ্গে গেছে! হায় হায়! এরপর ইসলামের নেতাগন ঘর তছনছ করে বেড়িয়ে যাওয়ার পরে ফিজ্জা( ফাতেমার সেবিকা) এসে উম্মে আবিহা কে তোলার পরে মা ফাতেমা বলেন আলী কোথায়? ফিজ্জা কেদে বলে মাওলা কে গলায় রশি বেধে টেনে নিয়ে গেছে। এই জুলুমের পর (মাওলা মুহাম্মদ (সা.) এর ওফাতের) নব্বুই দিনের মতো অতিক্রান্ত হয়েছে। তিন তিনটি মাস রাসূল(স.) এর কন্যা ফাতেমাতুজ্জাহরা (সা.) এর জন্যে ছিল যথেষ্ট কষ্টদায়ক। একদিকে রাসূলে খোদার অনুপস্থিতির বেদনা অপরদিকে একদল লোকের অত্যাচার-সব মিলিয়ে তিনি এতো বেশি বিরক্ত ছিলেন যে একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে কেবল একটিমাত্র জিনিসই তাঁকে কিছুটা স্বস্তি দিতো। সেটা হলো নবীজীর দেয়া একটি প্রতিশ্রুতি। নবীজী ওফাতকালে বলেছিলেন: কন্যা আমার! আমার পরে আমার খান্দান থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার কাছে আসবে। এ সময়টি আলী (আ) এবং তাঁর সন্তানদের জন্যে কঠিন সময় কাটছিলো। তিনি এমন এক মহীয়সী নারীকে হারাতে বসেছেন যাঁর উপস্থিতিতে তাঁর জীবনের মুহূর্তগুলো জ্ঞান-বিশ্বাস এবং ধৈর্যের পরাকাষ্ঠায় অলঙ্কৃত হয়ে ছিল। আলী (আ) তাঁর পরম বিশ্বস্ত স্ত্রীকে হারাতে বসেছেন যিনি প্রতি মুহূর্তে তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিলো তিনি এই পার্থিব জগতের সকল দুশ্চিন্তা ভুলতে বসেছেন। আলী (আ) ফাতেমা (সা) এর সর্বশেষ দৃষ্টিকে গভীরভাবে অনুসরণ করছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন এরপর আর তিনি ফাতেমা (সা) এর দৃষ্টির জ্যোতি দেখতে পাবেন না, যেই দৃষ্টি তাঁকে আন্তরিক প্রশান্তি দিতো। ফাতেমা (সা) এর কথায় নিরবতা ভাঙলো। তিনি বললেন: হে আলি! জেনে রাখো আর কয়েক মুহূর্ত পরই আমি আর তোমাদের মাঝে থাকছি না। বিদায় নেবার সময় এসে গেছে। আমার কথাগুলো শোনো। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল। বেহেশত এবং জাহান্নামের আগুন সত্য এবং বাস্তব। কিয়ামতের দিন অবশ্যই আসবে। তোমাকে ওসিয়্যৎ করছি , আমার ওফাতের পর আমাকে রাতের বেলা গোসল দিয়ো এবং রাতের বেলা দাফন করো; কাউকে খবর দেবে না। এরপর আমার শিয়রে সামনাসামনি বসো এবং কোরআন তিলাওয়াত করো আর দোয়া করো। তোমাকে আল্লাহর হাতে সঁপে যাচ্ছি। আমার সন্তানদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত সালাম এবং দরুদ পাঠালাম।" রেওয়ায়েত এ পাই, বিবি জাহরা সাঃ আঃ তার শেষ দিবসে মাওলা আলী আঃ কে বলেন যে তিনি আজ একটু ভালো বোধ করছেন, ভাঙ্গা হাত ও পাজরের ব্যথা তেমন অনুভব করছেন না, জ্বরও অনুভব করছেন না। তিনি বিছানায় উঠে বসলেন, আলী এবং ফিজ্জার সাহায্যে উঠে সন্তানদের গোসল করাতে শুরু করলেন, এবং গোসল শেষে কাপর পরিয়ে খাইয়ে তাদের চাচাতো ভাইয়ের বাসায় পাঠিয়ে দিলেন, এবং তিনি বাচ্চাদের কাপর কাচতে লাগলেন। মাওলা আলী তা দেখে অবাক হয়ে এর কারন জিজ্ঞেস করলেন। বিবি উত্তর দিলেন “আজ আমার শেষ দিন,আমি আমার বাচ্চাদের শেষ বারের মতো গোসল করিয়ে, খাইয়ে দিতে চেয়েছিলাম।তারা খুব দ্রুতই এতীম হয়ে যাচ্ছে।“ মাওলা আলী বললেন “হে রসুল কন্যা, তুমি কিভাবে জানলে? বিবি উত্তর দিলেন “বাবাকে স্বপ্নে দেখলাম তিনি বললেন আজ রাতে আমি উনার সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি, উনি আমাকে আমার অসিয়ত করে যেতে বলেছেন”। মাওলা আলীর চোখ ভিজে উঠলো। সবাইকে বাইরে যেতে বলে তিনি বললেন “ হে নবী কন্যা, তুমি তোমার অসিয়ত করো”। বিবি শুরু করলেন “আমার প্রিয় স্বামী, আপনি খুব ভাল করেই জানেন যে আমি কেন এগুলি করেছি। আমার অস্থিরতা ক্ষমা করুন; তারা আমার সাথে এবং আমার অসুস্থতার সময় এতটা কষ্ট সহ্য করেছে যে আমি তাদের জীবনের শেষ দিনগুলিতে খুশি দেখতে চাই। আমি খুবই খুশি এবং আমি খুব দু:খিতও। আমি খুশি এজন্য যে আমার সমস্যাগুলি খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে এবং আমি আমার বাবার সাথে দেখা করব এবং খুবই দুঃখিত এজন্য যে আমি আপনার মতো স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাবো।" “প্রিয় স্বামী মিথ্যার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই, মাওলা! যখন থেকে আমি আপনার সঙ্গী হয়েছি তখন থেকে আজব্দি কোনদিন কি আপনাকে অমান্য করেছি?” আলী জবাব দিলেন “এসব কি বলো!তুমি আমার অবাধ্য!! তুমি অনেক বেশি নিষ্ঠাবতী, আল্লাহর ভয়ে ভীত। তোমা থেকে আলাদা হওয়া, তোমাকে হারানো আমার জন্য অনেক বেশি বেদনাদায়ক, তবে এটা অনিবার্য গন্তব্য। সবাইকেই যেতে হবে। তবে তোমার মৃত্যু আমার মাওলা মুহাম্মদ সঃ কে হারানোর ব্যথা তাজা করে দিবে, নতুন বিপর্যয় ডেকে আনবে, ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। কি বেদনাদায়ক, তিক্ত ও করুণ দুর্যোগ। নিশ্চয় এটি এমন একটি দুর্যোগ, যার জন্য কোনও সান্তনা নেই এবং এর চে বড় বিপর্যয় নেই যার জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ নেই।" তারা দুজনেই কেঁদে উঠলেন এবং ইমাম আলী (আঃ) তার মাথা জড়িয়ে ধরে বললেন: “তোমার অসিয়ত করো। আমাকে নির্দেশ দাও; তুমি অবশ্যই আমাকে নিবেদিত দেখতে পাবে এবং তুমি আমাকে যা করতে বলবে আমি তা সম্পাদন করব। তোমার বিষয় আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে”। বিবি প্রথমে পারিবারিক বিষয়ে অসিয়ত করেন, পরে বলেন “যারা আমার ও আমার পরিবারের উপর জুলুম করেছে,অন্যায় করেছে তারা যেন আমার জানাজায় শরিক না হয়।কারন তারা আমার ও রাসুলুল্লাহ সঃ এর দুশমন। তাদের বা তাদের অনুসারীদের কাউকে আমার জন্য দুয়াতেও শরিক হতে দিবেন না। আমাকে রাতে গোসল দিয়ে রাতেই জানাজা করে দাফন করে দিবেন।আমি চাই আপনি আমার কবরের পাশে বসে কোরান তিলাওয়াত করুন।আমার মৃত্যু যেন আপনাকে লক্ষ্যচ্যুত না করে দেয়, আপনাকে আরও অনেক দিন দ্বীন ও মানবতার সেবা করতে হবে,আমার কস্টগুলি যেন আপনাকে ধইর্যহারা না করে দেয়। প্রিয় স্বামী, আমার মাওলা! আমাকে কথা দিন”। আলী বলেন “হ্যা বিবি, কথা দিচ্ছি। তোমাকে ফুলের মতো তোমার বাবার কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলাম, তোমাকে আমার সংসারে এনে যে কষ্ট আমি দিয়েছি, দয়া করে তুমি তোমার বাবার কাছে আমার নামে অভিযোগ কোরোনা, আমাকে ক্ষমা করে দিও”। বিবি যাহরা বলতে থাকেন “প্রিয় স্বামী!দয়া করে এসব বলবেন না, আমাকে আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ বাসতে পারতোনা, কেউ রাখতে পারতোনা। আমি জানি আপনি বাচ্চাদের কতো ভালোবাসেন, আপনাকে ওদের দিকে খেয়াল রাখতে বলাটা বেয়াদবি, তবু বলি হুসাইনের দিকে একটু বেশি খেয়াল দিবেন, ও বড় বেশি মা পাগল।আমি আহত হওয়ার আগপর্যন্ত সে আমার বুকে ঘুমিয়েছে, বুকে ব্যথার জন্য এই কয়দিন ও বঞ্চিত হয়েছে। মাওলা আলী বিবি যাহরার ভাঙ্গা হাতে হাত বুলিয়ে আদর করছিলেন।উনার তপ্ত অশ্রু বিবির হাতের উপর পরলে তা দেখে বিবি যাহরা বললেন “স্বামী কেদোনা! আমি জানি তোমার অন্তর কতো কোমল, বাইরে থেকে যাই দেখাক, তুমি ইতিমধ্যেই অনেক সহ্য করেছো, কিন্তু তোমাকে আরও অনেক সইতে হবে। এরপর বিবি যাহরা শুয়ে থেকেই গোসল করলেন, তিনি তার রবের সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুত ছিলেন তারপর আসমা বিনতে উমায়েস কে নির্দেশ দিলেন একটু অপেক্ষা করে বিবির নাম ধরে ডাকতে যদি উনি জবাব না দেন তো বুঝে নিতে যে উনি রবের কাছে চলে গেছেন। আসমা বিনতে উমায়েস কিছুক্ষন অপেক্ষা করে ডাকলেন, সাড়া পেলেন না। তিনি তখন বললেন “ ইয়া যাহরা, ও সর্বশ্রেস্টহ নবীর কন্যা!হে কন্টকাকীর্ণ পথে যারা হেটেছে তাদের সেরা! তারপর তিনি আন নাজমের ৯ নং আয়াত তিলাওয়াত করলেন। কোন উত্তর নেই, ঘর নীরব, আসমা বিনতে উমায়েস তখন যাহরা সাঃ আঃ দিকে এগিকে যান, গিয়ে দেখেন তিনি আর নেই, রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। (ইন্নালিল্লাহে......) সে সময়ই ইমাম হাসান ও হুসাইন বাসায় ঢুকেন, আসমা বিনতে উমায়েস কে জিজ্ঞেস করেন “মা কোথায়? আমাদের মা তো এ সময়ে ঘুমায় না!” আসমা জবাব দেন “হে রসুলের সন্তানেরা তোমাদের মা ঘুমায়নি, সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে”। ইমাম হাসান কথাটা শোনার সাথে সাথে ঝাপ দিয়ে মায়ের বুকে পরে, মায়ের মুখে চুমু দিয়ে বলে “ মা! আমার সাথে কথা বলো। নইলে আমি মরে যাবো মা, আমার সাথে কথা বলো”। ইমাম হুসাইন মায়ের পায়ে চুমু খেয়ে বলে “মাগো! আমি তোমার হুসাইন, আমি মরে যাবার আগেই আমার সাথে কথা বলো মা!” এরপর হুসাইন ইমাম হাসানের দিকে ফিরে বললেন “আল্লাহ্‌ তোমাকে আমাদের মা হারানোর কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দিন” বিবি যাহরার ওফাতের সময়টাতে মাওলা আলী কোথায় ছিলেন তা নিয়ে মতভেদ আছে, একদল বলেন তিনি যাহরার সাথেই ছিলেন, আরেকদল বলেন মসজিদে ছিলেন। হাসান হুসাইন মসজিদে গিয়ে বাবাকে মায়ের ওফাতের খবর দিলে মাওলা আলী অজ্ঞান হয়ে যান।যখন জ্ঞান ফিরে পান তখন তিনি কাদলেন, বললেন “কে এখন আমাকে সান্তনা দিবে, হে নবীকন্যা! আমার দুঃখ দুর্দশায় তুমিই আমাকে সান্তনা দিয়েছো এখন কে তোমার অভাব পুরন করবে!!একটি ফুল কলি অবস্থায় ছিঁড়ে ফেলা হলো । এটি জান্নাত হতে এসেছিল এবং জান্নাতেই চলে গেল । কিন্তু সুবাস রেখে গেল আমার মধ্যে। বিবির শাহাদাতে আমার মাওলা আলী রক্ত মাতম করেছেন। মদিনার লোকজন শুনেছে যে উনি চিৎকার করে কেদেছেন। এমন অবস্থায় এক লোক উনার দরজায় গিয়ে টোকা দেয়, মাওলা আলী এমন অবস্থায় বেড় হয়ে আসেন যে তার আমামা খুলে কাধে নেমে এসেছে! কপাল ফেটে রক্ত ঝরছে, অশ্রু আর রক্তে দাড়ি ভিজে গেছে। লোকটি এই অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করে মাওলা কি হয়েছে!! মাওলা ডুকরে কেদে উত্তর দেন "হে ইবনে নওফেল! আমার হাসান হুসাইন আজ এতিম হয়ে গেছে!! অন্য রেওয়ায়েত বিবি জাহরার এক দাসী আসমা বিনতে উমাইস তাঁর ওফাতের কাহিনী বর্ণনা করেন। ওফাতের দিন তিনি বাচ্চাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন এবং আসমাকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে তিনি তাঁর ইবাদাতের কক্ষে চলে যান। তিনি কিছুক্ষণ পর তাঁর কক্ষের মধ্যে জোরে জোরে তাকবীর ধ্বনি দিতে থাকেন। আসমা যখন তাঁর তাকবীর ধ্বনি আর শুনতে পেলেন না তখন মসজিদে গিয়ে আলী (আ.)-কে তাঁর স্ত্রীর ওফাতের খবর দিলেন। আসমার প্রতি নির্দেশ ছিল ছেলে-মেয়েরা ঘরে ফিরে এলে এ খবর দেয়ার পূর্বেই তাঁদের খাবার খাইয়ে দিতে হবে। আসমা সে কাজটিই করলেন। ইমাম হাসান ও হোসাইন এলে তিনি তাঁদের খাবার দিলেন। তাঁরা তাঁদের মায়ের হাতে ছাড়া খাবেন না বলে বায়না ধরলে আসমা তাঁদের মায়ের ওফাতের খবর দেন। তাঁরা মায়ের ঘরে প্রবেশ করার পর পরই ইমাম আলী (আ.) সেখানে উপস্থিত হন এবং নিজেকে সামলে নিয়ে কাফন-দাফনের প্রস্তুতি নেন। ইসলামের সাথে সাথে ইসলামের ইতিহাসও এই পরিবারের সাথে খুবই অমানবিক আচরণ করেছে। যে জন্য আমরা সহজে তাদের সম্পর্কে জানতে পারিনা। যাই হোক তাঁকে (বিবি যাহরা সাঃ আঃ) রাতের অন্ধকারে জান্নাতুল বাকী গোরস্তানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজায় কয়েকজন পারিবারিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মাওলা আলী আঃ বলেন “হে আল্লাহ্‌র রাসুল! দয়া করে আমার এবং আপনার কন্যার ছালাম নিন। যাকে আপনার সান্নিধ্য থেকে অনতি দূরে দাফন করা হচ্ছে এবং অতি শীঘ্র তিনি আপনার সাথে মিলিত হচ্ছেন।হে নবী মোস্তফা, আপনার প্রিয় কন্যার মৃত্যু আমাকে ধৈর্য এবং সান্ত্বনাহারা করেছে। আমি আমার সমস্ত সংযম হারিয়ে ফেলেছি। হে আলাহর রাসুল, আপনার বিচ্ছেদ ভোগ করার পর আমাকে আবার ধৈর্যের সাথে আকস্মিক এই মহাদুর্ঘটনা সহ্য করতে হবে।আমি আপনাকে আমার নিজ হাতে কবরে স্থাপন করেছিলাম। আমার বুকের উপর বিশ্রাম অবস্থায় আমার গ্রীবা এবং বুকের মধ্যখানে আপনার মস্তক অবস্থিত থাকা অবস্থায় আপনার দেহ হতে নফস বিদায়গ্রহণ করেছিল। নিশ্চয় আমরা আল্লাহ্‌র জন্য এবং তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।আপনার কন্যা যাকে আমার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল তা আমার কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হলো। এখন দুঃখ আমার সাথী হয়েছে এবং সুখ আমা হতে বিদায় নিয়েছে। এই দুঃখ এত তীব্র যে, অন্য সকল দুঃখকে এটি অভিভূত ও গ্রাস করে ফেলে এবং এটি আমাকে বিনিদ্র রজনী এবং নিরানন্দ দিনের মধ্যে ফেলে গেল।যতকাল আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত এবং শান্তির রাজ্যে আমার উভয়ের সঙ্গে মিলিত না করেন এখন হতে ততকাল আমার জীবন বিরামহীন একটি হৃদয়- বেদনায় পরিণত হলো। হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আপনার সাহাবীরা আপনার কন্যার প্রতি কি আচরণ করেছে এবং কিরূপ দুর্ব্যবহার করেছে তা তিনিই বলবেন।আপনার পরলোক গমনের পর অল্পকালের মধ্যেই তাঁর উপর যা কিছু ঘটেছে তার বিস্তারিত বিষয়াদি তাকেই জিজ্ঞেস করবেন। আপনার কাছে হতে এই ব্যবধান এত অল্পকালের যে লোকেরা এখনো আপনাকে স্মরণ করে এবং আপনার বিষয় বলাবলি করে।দয়া করে আমার বিদায় সম্ভাষণ ও ছালাম আপনারা উভয়েগ্রহণ করুন। এই বিদায় সম্ভাষণ ও সালাম একটি সরল হৃদয়ের ইচ্ছা বা উৎসর্গ। সে হৃদয় আপনাদের কোমল স্নেহের স্মৃতি তার কবরের দিকে সানন্দে বহন করবে।হে আল্লাহ্‌র মনোনীত নবী কন্যা! বিদায়। তুমি শান্তিতে বিশ্রাম করো। যে শান্তি হতে লোকেরা ইহজগতে তোমাকে বঞ্চিত করেছে। তোমার কবর ছেড়ে আমার স্বস্থানে যাওয়া দারা এটা বুঝায় না এ আমি তোমার সঙ্গলাভের দ্বারা শ্রান্ত হয়েছি।আহা যদি আমি আজীবন তোমার সঙ্গলাভ করতাম এই আমার আশা। যারা দুঃখের সাথে ধৈর্য ধারণ করে তাদের জন্য আল্লাহ পুরষ্কার সংরক্ষিত রেখেছেন। এই বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই যার কারণে আমি তোমার কবরের উপর স্থায়ী একটি বাসস্থান তৈরি করে থাকব। বিদায়!তোমার থাকুক আল্লাহ্‌র শান্তি ও আশীর্বাদ। (ভাব পাগলা আব্দ্দুল্লাহ) Ref: ১। তাবারি, ২য় খণ্ড, ১৯৮ পৃষ্ঠা । ২। ইবনে আব্দে রাব্বাহ লিখিত ' আকদুল ফরিদ ' ২য় খণ্ড, ১৭৯ পৃষ্ঠা , মিশরে মুদ্রিত। ৩। আবুল ফিদার ইতিহাস, ১ম খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা, মিশরে মুদ্রিত । ৪। আল্লামা ইবনে কাতিবা লিখিত কিতাবুল ইমামত ওয়া সিয়াসাত ১ম খণ্ড, ২০ পৃষ্ঠা, মিশরে মুদ্রিত ( এই পুস্তক এই বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তৃত একটি বর্ণনা দিয়েছে ) । ৫। মোরাভেজ- উল যাহাব মাসুদি, ১৫৯ পৃষ্ঠা । ৬। শাহরিসতানির লিখিত মিল্লাল ওয়া নাহাল ১ম খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠা, বোম্বাই, ভারত । ৭। শিবলী নোমানীর ' আল ফারুক ' ভারতে মুদ্রিত । ৮। ইবনে আবিল হাদিদের নাহজুল বালাগার ভাষ্য ।

 #শাহাদাৎ_ই_যাহরা_সাঃ_আঃ


সুরা হাশরের একুশ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ্ বলেন “কোরান যদি পর্বতের উপর নাজিল করতাম তাহলে তা ধুলিকনাতে পরিনত হয়ে যেতো” সেই কোরান আল্লাহ্ নাজিল করলেন কোথায়? তার প্রিয় হাবিবের কলবে (হৃদয়ে/অন্তরে)- (রেফারেন্স সুরা আশ শুয়ারা, আয়াত ১৯৪)। 


আর নিজের কলব সম্পর্কে হাবিবুল্লাহ মুহাম্মদ সঃ কি বলেছেন?

আসুন কিছু হাদিস দেখিঃ


একদা রাসূল (সা.) হযরত ফাতেমাকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে আসলেন এবং (উপস্থিত জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে) বললেন : “যে ফাতিমাকে চেনে সে তো চিনেছেই। আর যে তাকে চেনে না তার জেনে রাখা উচিত যে ফাতেমা মুহাম্মদের কন্যা। সে আমার শরীরের অংশ,আমার হৃদয়,আমার অন্তরাত্মা। সুতরাং যে তাকে কষ্ট দেবে সে আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে আল্লাহকে কষ্ট দিল।”- কাশফুল গুম্মাহ্,২য় খণ্ড,পৃ. ২৪। 


 আরেক হাদিসে মাওলা মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন : “আমার কন্যা ফাতিমা পৃথিবীর প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সকল নারীদের নেত্রী। সে আমার দেহের অংশ এবং আমার নয়নের মণি। ফাতেমা আমার হৃদয়ের ফসল এবং দেহের মধ্যে আমার অন্তর সমতুল্য। ফাতেমা মানুষরূপী একটি হুর। যখন সে ইবাদতে দণ্ডায়মান হয় তখন পৃথিবীর বুকে নক্ষত্রসমূহের মত তাঁর জ্যোতি আসমানের ফেরেশতাদের জন্যে প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। আর তখন মহান স্রষ্টা তাঁর ফেরেশতাদের বলেন : “হে আমার ফেরেশতাকুল! আমার দাসী ফাতেমা,আমার অন্যান্য দাসীদের নেত্রী। তাঁর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ কর,দেখ সে আমার ইবাদতে দণ্ডায়মান এবং আমার ভয়ে তাঁর দেহ কম্পিত। সে মন দিয়ে আমার ইবাদতে মশগুল। তোমরা সাক্ষী থাক,আমি তাঁর অনুসারীদেরকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা করবো।”- আমালী,সাদুক,পৃ. ৯৯,১০০।


রাসূল (সা.) বলেছেন : “যে ফাতেমাকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকে কষ্ট দেয় আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করলো।- বিহারুল আনওয়ার,৪৩তম খণ্ড,পৃ. ৩৯। মানাকিবে শাহরে আশুব,৩য় খণ্ড,পৃ. ১১২। কানযুল ফাওয়াইদ,কারাজেকি,মাকতাবাহ্ মুসতাফাভী,কোম,পৃ. ৩৬০,পঞ্চম অধ্যায়; রেসালাহ্ আত্ তায়া'জ্জুব। ফুসুল আল মুখতারাহ্,শেখ মুফিদ,পৃ. ৫৭।


আর এ কথাগুলি কিন্তু নবী সঃ কন্যার মন রাখতে বা নিজের সন্তানের শান উচু করার জন্য বলেননি, আয়াত টা ভুলে যান নি আশা করি, যে,


“কোন কিছুই তিনি আপন প্রবৃত্তির তাড়নায় বলেন না,তার প্রতিটি কথাই ওহী বলে গণ্য যা তার প্রতি অবতীর্ণ হয়।”- আন নাজম : ৩,৪।“


কাজেই এটা প্রমানিত যে হাদিসের বাক্যগুলিও মাওলা নিজ থেকে বলেননি, আল্লাহ্‌ পাক তাকে দিয়ে বলিয়েছেন। মুহাম্মদের সঃ কথা যদি সত্য হয়ে থাকে আপনারা রাজি'আল্লাহ বলে গলায় রক্ত তুলে ফেললেও লাভ হবেনা। তারা লানতের মালা অলরেডি গলায় পরে নিয়েছেআর যিনি লানতুল্লাহর মুখমন্ডল থেকে রাজি’আল্লাহর মুখোশ খুলে দিয়েছেন উনার নাম জনাবে ফাতেমা যাহরা। আর সেজন্যই তাকে বিদায় নিতে হয় দুনিয়া থেকে।


মাওলা মুহাম্মদ সঃ মা ফাতেমা সাঃ আঃ কে দেখে দাঁড়িয়ে যেতেন। যা উনি আর কারো সন্মানেই করেননি। কায়েনাতের সবাই মাওলার সন্মানে উঠে দাড়াতো, কিন্তু আমার মাওলা সঃ মা ফাতেমা সাঃ আঃ দেখে দাঁড়িয়ে সন্মান জানাতেন।


হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, যখন হযরত ফাতেমা নবী (সা.) এর নিকট আসতেন তখন তিনি দাড়িয়ে তাঁকে স্বাগতম জানাতেন, তাঁর হাত ধরে চুমু খেতেন এবং তাঁকে নিজের জায়গায় বসাতেন।


এটা কি মেয়ের প্রতি দেখানো বাবার সন্মান? নাকি নারীর প্রতি দেখানো পুরুষের সন্মান? কোনটাই না। যদি এর কোনটা হতো তাহলে দুটোই আমাদের জন্য সুন্নত হয়ে যেতো। আর আমাদের মোল্লারা সুন্নত ছাড়তে রাজীনা তাতে যদি ফরজও ছুটে যায় তবুও সুন্নত ছাড়বেনা ( চেইতেন না, সুন্নতের নামে আপনারা কি করেন তা সবাই জানে, ভরা রাস্তায় ঢিলা কুলুপ নিয়ে আপনারা ড্রাই ক্লিনিং এ লেগে যান সুন্নতের নামে।) বাবা যদি মেয়েকে দেখে দাড়াতেন তবে অন্তত কয়েকজন হলেও এই সুন্নত, পালন করতেন। আর পুরুষ যদি নারীকে দাঁড়িয়ে সন্মান করতেন তাহলে আরও কেউ কেউ দাবী করতেন যে রসুল আমাকে দেখেও দাঁড়াতেন।


তাহলে কে দাঁড়াতেন কাকে দেখে? নবুয়ত দাঁড়াতেন ওহুদায়ে বতুল কে দেখে, রিসালাত দাঁড়াতেন উম্মে আবিহা কে দেখে।


কোরানের মতে রসুল সঃ যা বলেন তা ওহী, আর রসুল সঃ বলেছেন ফাতেমা উম্মে আবিহা, ফাতিমা তার পিতার মা, আর মায়ের শান কে না জানে? মা না থাকলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হতোনা, মা না থাকলে সন্তানের লালন পালন হতোনা, মা না থাকলে যা যা হয় না বা হতোনা সবই রসুল সঃ এর জন্য মা ফাতেমা সাঃ আঃ পালন করেছেন। আর এ কারনেই তিনি উম্মে আবিহা। 


সেই ফাতেমার ঘরে,( যে ঘরে রসুল গিয়ে ব্যথামুক্ত হয়েছেন, যে ঘরে জিবরাঈল চাক্কি পিষেছেন, যে ঘরে মিকাইল দোলনা ঝুলিয়েছেন, যে ঘরের সামনে তারকা নাজিল হয়েছে, যে ঘরে জিবরাঈল মিসকিন সেজে এসেছেন) আগুন দেয়া হয়েছিলো, রসুলের হৃদয়ে (ফাতেমা) পদাঘাত করে পাজর ভেংগে দেয়া হয়েছিলো, লাথি মেরে হত্যা করা হয়েছিলো গর্ভের সন্তানকে। এমনভাবে হাত ভেংগে দেয়া হয়েছিলো যে সেই হাত দিয়ে বাকি হায়াতে জিন্দেগীতে তিনি তসবির দানা পর্যন্ত টানতে পারেন নি। হায় হায়, এগুলি কোন কাফেরে কিন্তু করেনি, এগুলি করেছে বড় দলের ওস্তাদেরা ( আমরা কাফের এ জন্য যে আমরা তাদের নাম, পরিচয় বলে দেই)


রাসুল (সাঃ)-এর ইন্তেকালের পর আহলে বায়াতে রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর রাজশক্তি কর্তৃক এত অত্যাচারের পাহাড় নেমে আসে এবং তা সহ্য করতে না পেরে ফাতেমা যাহারা সর্বক্ষণ ক্রন্দন ও পিতার উদ্দেশ্যে ফরিয়াদ করতেন । লোকেরা মাওলা আলীর (আঃ) কাছে অভিযোগ করে এবং হযরত আলী (আঃ) জান্নাতুল বাক্বীতে একটি ছোট ঘর তৈরী করে দেন, যেখানে গিয়ে মা ফাতেমা রোজ বসে তাঁর বাবাকে স্বরন করে কাঁদতেন ( রাসুল (সাঃ) এর ঐ সময়কার উম্মতেরা হযরত ফাতেমা যাহারা (সাঃ আঃ) কে পিতার শোকে কান্না করার শব্দ কেও সহ্য করতে পারতেন না এখানেও উনাদের আপত্তি অভিযোগ ছিলো, রাসুল (সঃ) কন্যা কে আরো অনেক ভাবে কষ্ট দিতো ঐ সময়ের মুসলমানেরা, মন খুলে পিতা জন্য কাঁদবে কিন্তু সেটাও করতে দিতো না বরং অভিযোগ করতো তাদের ডিস্টার্ব হয় বলে ) । এটাই ইতিহাসে 'বাইতুল হুজন' বলে প্রসিদ্ধ, অর্থাৎ শোক এবং ক্রন্দন করার ঘর বা শোকের ঘর নামে পরিচিত ।


ঘটনার শুরু কিন্তু সেদিনে না বন্ধুরা। ভেবে দেখুন, রসুল সঃ এর ওফাতের আগপর্যন্ত সাহাবীগনই সকল যুদ্ধ করেছেন। রসুল সঃ এর ওফাতের পাচদিন গত না হতেই ফাতেমার (সাঃ আঃ) ঘরে পঞ্চাশজন বা আরও বেশি সৈনিক সহ হুকুমতের প্রথম খলিফার গুন্ডাবাহিনী আসে কোথা থেকে!!! আসলে এর শুরু হয়েছে বদরের যুদ্ধের পর থেকেই। এদের বাপ চাচা রা যখন বদরের যুদ্ধে কুকুরের মতো মারা পরে আলী এবং হামজা সহ অন্যান্য মুসলিমের হাতে। কাপুরুষের দল তখন থেকেই নিজের জীবন বাচানোর জন্য মুখে মুখে ইসলামের কথা বলে, যোগ দেয়। মনে মনে লাতের পুজাই করতে থাকে, এই লাতখোরদের কাছে লাতও ছিলো ব্যবসার উপকরন, এজন্য কেউ লাতের মন্দিরের পুরোহিত (বাকি সময় দর্জি), কেউ লাতের মন্দিরের সামনে কোষ্ঠী বিচার ( পরে মালিকাতুল আরবের পয়সা মেরে গনী) আবার কেউ অন্ধকারে মরুযাত্রীদের হত্যা করে লুঠ (পরবর্তীতে রাগী যুবক) করা সত্তেও ইসলাম কবুল করে শুধু মাত্র নিজেরা টিকে থাকবে বলেই নয়, এদের গুরুমা ছিলো পতিতালয়ের সর্দারনী এক রাজি’ল্লাহু’আনহা যে বদরে প্রায় সবই খুইয়েছিলো, সে এবন তার স্বামী বরাবরই উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসে, তার স্বামী ইবনে হার্ব ফান্ড তৈরী করে। আমরা জানি আরবদের প্রতিশোধস্পৃহা খুব বেশি, সে এটাকে পুজি করে। কাফেরদের যার যার আত্মীয় মারা গেছে মুসলিমদের হাতে তাদের কাছে গিয়ে প্রতিশোধ নিবে বলে ফান্ড কালেক্ট করে ( মনে আছে খন্দকের যুদ্ধে আমর কে ১৭ কাবিলার লোকে চাদা দিয়ে এনেছিলো?) এই ফান্ড যোগার এবং খরচ করতো পতিতার স্বামী ইবনে হার্ব। আর যেহেতু তারা কাফেরদের কাছ থেকে ফান্ড কালেক্ট করে কাজেই তারা কোন যুদ্ধেই সক্রিয় অংশগ্রহন করেনা, কাউকে হত্যা করা তো দুরের কথা ( আসলে এরা হুকুমতের লোভে এসেছিলো, পলিটিশিয়ান, আর সবাই জানে পলিটিশিয়ান কাউকে হত্যা করেনা,প্রক্সির মাধমে করায়)


এদের বাধ ভেঙ্গে যায় গাদীরের দিনে, আলীকে মাওলা ঘোষনা তারা মেনে নিতে পারেনি, সেখান থেকেই তাদের খিলাফত দখল করার প্রস্তুতি চলতে থাকে। এতোদিনে ফান্ডও জমেছে বেশ, সৈন্য সংগ্রহও করা শুরু হয়। সকিফায় পায় চুড়ান্ত রূপ। ইসলামের মোড় এখান থেকে বিভক্ত হয়ে যায়। দ্বীনে ইসলাম আর হুকুমতে ইসলাম।


এবার আসি ফাদাক প্রসংগেঃ


আত্নীয়-স্বজনকে তার হক দান কর এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না (সুরা বণি ইসরাঈল/২৬)।


ইবনে আব্বাস ও আবু সাঈদ খুদরীর কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন এই আয়াতটি নাযিল হল, তখন নবী স. ফাতেমাকে ডেকে ফাদাক ও আওয়ালী নামক ভূ-খন্ড তাকে দান করলেন ও বললেন “এই অংশ মহান আল্লাহ তা’য়ালা তুমি ও তোমার বংশধরদের জন্য বন্টণ করছেন (সূয়ূতি, ৫/২৭৩; অলূসি, ১৫/৬২; মুত্তাকি হিন্দি, ৩/৭৬৭; যাহাবি/২২২৮, ইবনে কাসির. ৩/৩৬)।


এই মর্মে মাওলা মুহাম্মদ সঃ অসিয়তনামাও লিখে যান, যার সাক্ষী ছিলেন হাসনাইন আঃ কিন্তু হুকুমতের প্রথম খলিফা (যার খিলাফতের একমাত্র যোগ্যতা তিনি ছিলেন সবচে বয়স্ক) তা অস্বীকার করে দখল করে নেন রাস্ট্রায়েত্বের কথা বলে তিনি তার ইলম দিয়ে ঘোষনা করেন নবীর ওয়ারিশ হয়না ( অথচ তিনি ভুলে গেলেন যে কোরানে ওয়ারিশের কথা বলা আছে, তিনি ভুলে গেলেন তা আমি মানিনা, তিনি কোরান পড়লে জানতেনই, তিনি উপেক্ষা করলেন খুমসের আয়াতও) চার ঘন্টা বিবি দাঁড়িয়ে থাকলেন, ফলাফল? নবীর স্বহস্তে লেখা অসিয়ত নামা ছিড়ে ফেলে দেয়ার আগে তাতে থুথু ছিটাতেও দেখলেন তিনি! (হায় হায়)


হুকুমত লোভীরা বুঝে গিয়েছিলো এদের কে থামাতে হবে নইলে হুকুমতে টিকে থাকা যাবেনা, ফাদাক তো বাহানা! কাজেই এবারে আলীর বায়াত আদায় করতে হবে, তারা জানে যে আমাদের মতো লোকের কাছে আলী নত হবেনা, কাজেই সৈন্যদল নিয়ে তার বাড়ী আক্রমন করে।


হায় হায়! আবার ঘুরে এলো সেই দিন! আমরা শুধু বুক চাপড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা! আবারও এলো রসুলের (সঃ) হাত ভাঙা, পাঁজর ভাঙার কারনে মৃত্যু বরণ করার দিন! ভাবছেন ব্যাটা শোকে পাগল হয়ে গেছে!? রসুলে হাত আবার কে ভাংলো? কেই বা রসুলের পাঁজর ভাঙল? নিচের হাদিস টা আবার খেয়াল করে দেখুন মাওলা মুহাম্মদ সঃ বলেছেনঃ 


ফাতিমা আমারই একটি অঙ্গ ,যে তাঁকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকে অসন্তুষ্ট করল” (ফাতহুল বারি শরহে সহীহ বুখারী- খণ্ড:৭ ,পৃ:৮৪ ,বুখারী- খণ্ড: ৬ ,পৃ: ৪৯১।)

তাহলে কি আমি মিথ্যা বলেছি?! মাওলা মুহাম্মদ কি বলেন নাই যে,

হে ফাতিমা খোদা তোমার অসন্তুষ্টিতে অসন্তুষ্ট এবং তোমার সন্তুষ্টে সন্তুষ্ট হয়” (মুসতাদরাক-এ-হাকিম- খণ্ড:৩ ,পৃ:১৫৪ ,মাজমাউজ জাওয়ায়েদ- খণ্ড:৯ ,পৃ:২০৩ ,বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত ও সহীহ বলে গন্য হয়েছে।) 


আপনার ঘরে আগুন দেয়া হলে আপনার গর্ভের বাচ্চাকে লাথি মেরে হত্যা করা হলে, আপনার পাঁজর ও হাত ভেঙ্গে ফেললে কি আপনি অসন্তুষ্ট হবেন? বুখারী ও মুসলিম সাহেব বলেছেন যে ফাতেমা সাঃ আঃ এর অসন্তুষ্টি তে আল্লাহ্‌ অসন্তুষ্ট হোন। তাহলে নিমকহারামের দল কাকে সন্তুস্ট করতে তার গৃহে আক্রমন করেছিলো?? সেই ঘর যেখানে জিবরাইল এসেছেন মিসকিন হয়ে!! যেখানে মিকাইল এসেছেন চাক্কি পিষতে!! যেই ঘরের মর্যাদা সম্পর্কে মাওলা মুহাম্মদ নিজে বলেছেন যে এই ঘর নবীদের ঘরের চেয়েও উত্তম!


যে ঘর সম্পর্কে হাদিসশাস্ত্রবিদরা উল্লেখ করেছেন: যখন এই পবিত্র আয়াত নবী (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ হয়ঃ

“ ফি বুয়ুতিন আজেনাল্লাহো আন তুরফায়া ওয়া য়ুজকারা ফিহাসমুহু ইউসাব্বিহু লাহুফিহা- বিলগুদুওবি ওয়াল আসাল।” (সুরা নূর- আয়াত ৩৬।) 


নবী করীম এই আয়াতটি মসজিদে তেলাওয়াত করলেন সেই সময় এক ব্যক্তি উঠে প্রশ্ন করলেন: হে মহানবী (সা.) এই ঘরগুলি বলতে ও তার গুরুত্ব বলতে কি বোঝায় ? (অর্থাৎ: কোন ঘর ও তার কি গুরুত্ব) ।


রাসূল (সা.) বললেন: নবীগণের গৃহগুলিকে বোঝানো হয়েছে।তখনি হজরত আবুবকর উঠে হজরত আলী (আ.) ও ফাতিমা (সাঃ আঃ) এর গৃহের দিকে ইশারা করে বললেন: আচ্ছা এই গৃহ কি সেই গৃহের মধ্যে আছে ?

উত্তরে নবী করীম (সা.) বললেন: হ্যাঁ, বরং তাদের থেকেও উত্তম।(দূররে মনছুর- খণ্ড:৬ ,পৃ:২০৩ ; তাফসিরে সুরা নূর। রুহুল মায়ানী- খণ্ড:১৮ ,পৃ:১৭৪।)


 সেই ঘরকে কেমন অসন্মান করা হয়েছে! অথচ মুমিনের কর্তব্য ছিলো সেই ঘরের প্রতি সর্বোচ্চ সন্মান প্রদর্শন করা। যে ঘর আল্লাহর নূরের কেন্দ্র এবং আল্লাহ যাকে সম্মান করার আদেশ দিয়েছেন তার সাথে অত্যন্ত সম্মান ও ভদ্রতার সঙ্গে আচরণ করা আবশ্যক।হায় নিকৃষ্ট! হায় জঘন্য!! ক্ষমতালোভী হারামীরা সেই গৃহের মর্যাদা তো দিলোই না, আমার মাওলার একমাত্র সন্তান যাকে তিনি কখনই মা ছাড়া ডাকেননি, যাকে তিনি উম্মে আবিহা বলেছেন তাকেও সেই নাজায়েজ মুসলিম নামধারী হন্তকের দল এভাবে আক্রমণ করলো! নবী করীম (সা.) দীর্ঘ নয় মাস পর্যন্ত নিজের কন্যার বাড়ি এসে তাঁর ও তাঁর স্বামীর উপর সালাম করতেন এবং এই আয়াতকে তেলাওয়াত করতেন:


إ ِنَّمَا يُرِيدُ اللَّـهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا

(সুরা আহযাব: ৩৩) (দূররে মনছুর- খণ্ড: ৬,পৃ: ৬০৬।)


সেই ঘরের সাথে এমন আচরণ! সেই ঘরের বাসিন্দা যারা প্রত্যেকেই মাওলা মুহাম্মদের প্রাণস্বরূপ, তাদের সাথে কি ব্যবহার করলো!! হায় হায়! 


আবুবকর হজরত আলী (আ.) এর বাইয়াত নেওয়ার জন্য (লোক) পাঠায় কিন্তু হজরত আলী (আ.) অস্বীকার করার ফলে উমর আগুনের ফলতে নিয়ে আসল ,দ্বারেই হজরত ফাতিমা (আ.) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। হজরত ফাতিমা (আ.) বললেন: হে খাত্তাবের পুত্র! আমিতো দেখছি তুমি আমার ঘর জ্বালানোর পরিকল্পনা নিয়েছ ? উত্তরে উমর বলল: হ্যাঁ ,তোমার পিতা যার জন্য প্রেরিত হয়েছে (সেই কাজের সহযোগিতা ছাড়া অন্যকিছু নয়) আর এটা তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।(আল ইমামাতো অল সেয়াসাতো- পৃ:১২ মুদ্রণ: মিশর।)


বেজন্মা বলে কি!! নষ্ট খলিফার বায়াত নেয়া নাকি নবুয়তের চেয়েও গুরুত্বপুর্ন!!এদের জাহান্নামেও ঠাই হবে বলে মনে হয় না!


যখন জনগণ আবুবকরের হাতে বাইয়াত করলেন ,হজরত আলী (আ.) ও যোবায়ের হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহে পরামর্শ ও আলোচনা করছিলেন ,এই খবর উমর ইবনে খাত্তাবের কর্ণগোচর হল অতঃপর সে ফাতিমা (আ.) এর গৃহে এসে বলল: হে নবী নন্দিনী! আমার প্রিয়তম ব্যক্তি তোমার পিতা ,তোমার পিতার পর তুমি নিজে ; কিন্তু আল্লাহর কসম তোমাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না তোমার এই ঘরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদের উপর আগুন লাগানোর আদেশ দেওয়া থেকে যাতে তারা কিন্তু আল্লাহর কসম তোমাদের এই ভালোবাসা আমার জন্য বাধা সৃষ্টি করবে না তোমার এই ঘরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদের উপর আগুন লাগানোর আদেশ দেওয়া থেকে যাতে তারা দগ্ধ হয়ে যায়। এই কথা বলে উমর চলে যায় ,অতঃপর হজরত আলী ও যোবায়ের গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন ,হজরত ফাতিমা (আ.) আলী (আ.) ও যোবায়েরকে বললেন: উমর আমার নিকটে এসেছিল আল্লার কসম খেয়ে বলছিল যে যদি তোমাদের এই“ ইজতেমা ” সমাবেশ বন্ধ না হয় ,দ্বিতীয় বার অব্যাহত থাকে তাহলে তোমাদের গৃহকে জ্বালিয়ে দেব। আল্লার কসম! যার জন্য আমি কসম খেয়েছি অবশ্যই আমি সেটা করব। (আনসাবুল আশরাফ- খণ্ড:১ ,পৃ:৫৮৬ ,মুদ্রণ: দারে-এ-মায়া’ রিফ ,কাহেরা।)


দেখুন কি ইম্পর্ট্যান্ট ছিলো তাদের কাছে বায়াত, যে কারনে শুধু হুমকি দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি তা করেও দেখিয়েছে! (এই বায়াত ছিলো হাতে হাত রেখে বায়াত) এর পরে হতে পারতো নবী ঘোষণা দেয়ঃ


যার হাতে উমরের জান আছে তার কসম খেয়ে বলছি তোমরা ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে এস ,নইলে ঘরে যারা আছে তাদের সহ ঘরকে জ্বালিয়ে দেব।


খোদাভীরু কিছু লোক আল্লাহর ভয়ে এবং রসুলের ঘরের সম্মান রক্ষার জন্য উমরের উদ্দেশ্যে বলল:

“ হে হাফসার পিতা! এই ঘরে ফাতিমা (আ.) আছেন ”

সে চিৎকার করে বলল:“ থাকে থাকুক!!” (আব্দুল ফাত্তাহ আব্দুল মক্বসুদ- আলী ইবনে আবীতালিব - খণ্ড:৪,পৃ:২৭৬-২৭৭।)


শুধু তাই? দেখুন আরওঃ


উমর হজরত ফাতিমা (আ.) এর গর্ভে লাথিমারে তাঁর গর্ভে মহসিন (নামে বাচ্চা) ছিল সে গর্ভপাত হয়ে যায়।(মিজানুল এ’ তেদাল - খণ্ড:৩ ,পৃ:৪৫৯।)


মাওলা মুহাম্মদ সঃ দোয়া করার সময় প্রায়ই ফাতেমা যাহ্‌রা( সাঃ আঃ) কে বলতেন “ফাতেমা আমি দোয়া করি তুমি আমিন বলো” মাওলা মুহাম্মদ এর দোয়া যার আমিনের মুখাপেক্ষী তার নাম ফাতেমা। সেই ফাতেমা কে নির্মমভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।তার সামনে যখন রাসুলুল্লাহ সঃ এর ওসিয়ত ( বাগে ফেদাক এর) ছিড়ে ফেলা হয়( শুধু ছিড়েই ফেলেনি ছেড়ার আগে তাতে থুতু দিয়েছে দুশমনে যাহ্‌রা, যদিও আজ তাকেই হতে পারতো নবী মনে করা হয়।)চার ঘন্টা তার পিতার দরবারে দাঁড়িয়ে থেকে তার পিতার ওসিয়তের সাথে এমন ব্যবহার দেখে আর সইতে পারলেন না উম্মে আবিহা! মুহুর্তেই তার মাথার চুল সব সাদা হয়ে যায় (ইয়া উম্মে আবিহা! ইয়া যাহ্‌রা!!)


রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘ফাতিমা আমার অস্তিত্বের অংশ। যে তাঁকে রাগান্বিত করে সে আমাকে রাগান্বিত করে।’নবী (সাঃ) আরও বলেন,‘ফাতিমা কোন ব্যাপারে রাগান্বিত হলে আল্লাহ্ও রাগান্বিত হন এবং ফাতিমার আনন্দে আল্লাহ্ও আনন্দিত হন।’ 


অথচ তার সাথে কেমন আচরন করা হয়েছে!এই আচরন যদি অন্য দেশের অন্য ধর্মের কেউ করতো তাহলে হয়তো বলা যেতো যে ওরা প্রতিশোধ নিয়েছে! এরা যে প্রতিশোধ টা নিলো তা কিসের ছিলো?? চিন্তা করে দেখার অনুরোধ। শুধু তাই নয়, ফাতেমার ঘর যে ঘর কে মাওলা মুহাম্মদ সঃ যে কোন নবীর ঘর থেকেও আফজাল বলে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। লাথি দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলেছে, সেই দরজায় চাপা পরেছেন উম্মে আবিহা, পাষণ্ডরা নিচে চাপা পরা মা ফাতেমার গায়ে পারা দিয়ে( কেউ কেউ পা দিয়ে আঘাত করে) ঘরে ঢুকেছেন। দরজার নিচে শুয়ে রসুলের অংশ, রসুলের মা চিৎকার করে বলেছেন “ও আলী!! আমার মহসীন শহীদ হয়ে গেছে!!! ও আলী আমার হাত ভেঙ্গে গেছে!! ও আলী আমার পাঁজর ভেঙ্গে গেছে! হায় হায়! এরপর ইসলামের নেতাগন ঘর তছনছ করে বেড়িয়ে যাওয়ার পরে ফিজ্জা( ফাতেমার সেবিকা) এসে উম্মে আবিহা কে তোলার পরে মা ফাতেমা বলেন আলী কোথায়? ফিজ্জা কেদে বলে মাওলা কে গলায় রশি বেধে টেনে নিয়ে গেছে। 


এই জুলুমের পর (মাওলা মুহাম্মদ (সা.) এর ওফাতের) নব্বুই দিনের মতো অতিক্রান্ত হয়েছে। তিন তিনটি মাস রাসূল(স.) এর কন্যা ফাতেমাতুজ্জাহরা (সা.) এর জন্যে ছিল যথেষ্ট কষ্টদায়ক। একদিকে রাসূলে খোদার অনুপস্থিতির বেদনা অপরদিকে একদল লোকের অত্যাচার-সব মিলিয়ে তিনি এতো বেশি বিরক্ত ছিলেন যে একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে কেবল একটিমাত্র জিনিসই তাঁকে কিছুটা স্বস্তি দিতো। সেটা হলো নবীজীর দেয়া একটি প্রতিশ্রুতি। নবীজী ওফাতকালে বলেছিলেন: কন্যা আমার! আমার পরে আমার খান্দান থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার কাছে আসবে।


এ সময়টি আলী (আ) এবং তাঁর সন্তানদের জন্যে কঠিন সময় কাটছিলো। তিনি এমন এক মহীয়সী নারীকে হারাতে বসেছেন যাঁর উপস্থিতিতে তাঁর জীবনের মুহূর্তগুলো জ্ঞান-বিশ্বাস এবং ধৈর্যের পরাকাষ্ঠায় অলঙ্কৃত হয়ে ছিল। আলী (আ) তাঁর পরম বিশ্বস্ত স্ত্রীকে হারাতে বসেছেন যিনি প্রতি মুহূর্তে তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিলো তিনি এই পার্থিব জগতের সকল দুশ্চিন্তা ভুলতে বসেছেন। আলী (আ) ফাতেমা (সা) এর সর্বশেষ দৃষ্টিকে গভীরভাবে অনুসরণ করছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন এরপর আর তিনি ফাতেমা (সা) এর দৃষ্টির জ্যোতি দেখতে পাবেন না, যেই দৃষ্টি তাঁকে আন্তরিক প্রশান্তি দিতো। ফাতেমা (সা) এর কথায় নিরবতা ভাঙলো। তিনি বললেন: হে আলি! জেনে রাখো আর কয়েক মুহূর্ত পরই আমি আর তোমাদের মাঝে থাকছি না। বিদায় নেবার সময় এসে গেছে। আমার কথাগুলো শোনো। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল। বেহেশত এবং জাহান্নামের আগুন সত্য এবং বাস্তব। কিয়ামতের দিন অবশ্যই আসবে। তোমাকে ওসিয়্যৎ করছি , আমার ওফাতের পর আমাকে রাতের বেলা গোসল দিয়ো এবং রাতের বেলা দাফন করো; কাউকে খবর দেবে না। এরপর আমার শিয়রে সামনাসামনি বসো এবং কোরআন তিলাওয়াত করো আর দোয়া করো। তোমাকে আল্লাহর হাতে সঁপে যাচ্ছি। আমার সন্তানদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত সালাম এবং দরুদ পাঠালাম।"


রেওয়ায়েত এ পাই, বিবি জাহরা সাঃ আঃ তার শেষ দিবসে মাওলা আলী আঃ কে বলেন যে তিনি আজ একটু ভালো বোধ করছেন, ভাঙ্গা হাত ও পাজরের ব্যথা তেমন অনুভব করছেন না, জ্বরও অনুভব করছেন না। তিনি বিছানায় উঠে বসলেন, আলী এবং ফিজ্জার সাহায্যে উঠে সন্তানদের গোসল করাতে শুরু করলেন, এবং গোসল শেষে কাপর পরিয়ে খাইয়ে তাদের চাচাতো ভাইয়ের বাসায় পাঠিয়ে দিলেন, এবং তিনি বাচ্চাদের কাপর কাচতে লাগলেন। মাওলা আলী তা দেখে অবাক হয়ে এর কারন জিজ্ঞেস করলেন। বিবি উত্তর দিলেন “আজ আমার শেষ দিন,আমি আমার বাচ্চাদের শেষ বারের মতো গোসল করিয়ে, খাইয়ে দিতে চেয়েছিলাম।তারা খুব দ্রুতই এতীম হয়ে যাচ্ছে।“


মাওলা আলী বললেন “হে রসুল কন্যা, তুমি কিভাবে জানলে? বিবি উত্তর দিলেন “বাবাকে স্বপ্নে দেখলাম তিনি বললেন আজ রাতে আমি উনার সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি, উনি আমাকে আমার অসিয়ত করে যেতে বলেছেন”। মাওলা আলীর চোখ ভিজে উঠলো। সবাইকে বাইরে যেতে বলে তিনি বললেন “ হে নবী কন্যা, তুমি তোমার অসিয়ত করো”।


বিবি শুরু করলেন “আমার প্রিয় স্বামী, আপনি খুব ভাল করেই জানেন যে আমি কেন এগুলি করেছি। আমার অস্থিরতা ক্ষমা করুন; তারা আমার সাথে এবং আমার অসুস্থতার সময় এতটা কষ্ট সহ্য করেছে যে আমি তাদের জীবনের শেষ দিনগুলিতে খুশি দেখতে চাই। আমি খুবই খুশি এবং আমি খুব দু:খিতও। আমি খুশি এজন্য যে আমার সমস্যাগুলি খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে এবং আমি আমার বাবার সাথে দেখা করব এবং খুবই দুঃখিত এজন্য যে আমি আপনার মতো স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাবো।"


“প্রিয় স্বামী মিথ্যার সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই, মাওলা! যখন থেকে আমি আপনার সঙ্গী হয়েছি তখন থেকে আজব্দি কোনদিন কি আপনাকে অমান্য করেছি?”


আলী জবাব দিলেন “এসব কি বলো!তুমি আমার অবাধ্য!! তুমি অনেক বেশি নিষ্ঠাবতী, আল্লাহর ভয়ে ভীত। তোমা থেকে আলাদা হওয়া, তোমাকে হারানো আমার জন্য অনেক বেশি বেদনাদায়ক, তবে এটা অনিবার্য গন্তব্য। সবাইকেই যেতে হবে। তবে তোমার মৃত্যু আমার মাওলা মুহাম্মদ সঃ কে হারানোর ব্যথা তাজা করে দিবে, নতুন বিপর্যয় ডেকে আনবে, ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। কি বেদনাদায়ক, তিক্ত ও করুণ দুর্যোগ। নিশ্চয় এটি এমন একটি দুর্যোগ, যার জন্য কোনও সান্তনা নেই এবং এর চে বড় বিপর্যয় নেই যার জন্য কোনও ক্ষতিপূরণ নেই।"


তারা দুজনেই কেঁদে উঠলেন এবং ইমাম আলী (আঃ) তার মাথা জড়িয়ে ধরে বললেন: “তোমার অসিয়ত করো। আমাকে নির্দেশ দাও; তুমি অবশ্যই আমাকে নিবেদিত দেখতে পাবে এবং তুমি আমাকে যা করতে বলবে আমি তা সম্পাদন করব। তোমার বিষয় আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে”।


বিবি প্রথমে পারিবারিক বিষয়ে অসিয়ত করেন, পরে বলেন “যারা আমার ও আমার পরিবারের উপর জুলুম করেছে,অন্যায় করেছে তারা যেন আমার জানাজায় শরিক না হয়।কারন তারা আমার ও রাসুলুল্লাহ সঃ এর দুশমন। তাদের বা তাদের অনুসারীদের কাউকে আমার জন্য দুয়াতেও শরিক হতে দিবেন না। আমাকে রাতে গোসল দিয়ে রাতেই জানাজা করে দাফন করে দিবেন।আমি চাই আপনি আমার কবরের পাশে বসে কোরান তিলাওয়াত করুন।আমার মৃত্যু যেন আপনাকে লক্ষ্যচ্যুত না করে দেয়, আপনাকে আরও অনেক দিন দ্বীন ও মানবতার সেবা করতে হবে,আমার কস্টগুলি যেন আপনাকে ধইর্যহারা না করে দেয়। প্রিয় স্বামী, আমার মাওলা! আমাকে কথা দিন”।


আলী বলেন “হ্যা বিবি, কথা দিচ্ছি। তোমাকে ফুলের মতো তোমার বাবার কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলাম, তোমাকে আমার সংসারে এনে যে কষ্ট আমি দিয়েছি, দয়া করে তুমি তোমার বাবার কাছে আমার নামে অভিযোগ কোরোনা, আমাকে ক্ষমা করে দিও”।


বিবি যাহরা বলতে থাকেন “প্রিয় স্বামী!দয়া করে এসব বলবেন না, আমাকে আপনার চেয়ে ভালো আর কেউ বাসতে পারতোনা, কেউ রাখতে পারতোনা। আমি জানি আপনি বাচ্চাদের কতো ভালোবাসেন, আপনাকে ওদের দিকে খেয়াল রাখতে বলাটা বেয়াদবি, তবু বলি হুসাইনের দিকে একটু বেশি খেয়াল দিবেন, ও বড় বেশি মা পাগল।আমি আহত হওয়ার আগপর্যন্ত সে আমার বুকে ঘুমিয়েছে, বুকে ব্যথার জন্য এই কয়দিন ও বঞ্চিত হয়েছে।


মাওলা আলী বিবি যাহরার ভাঙ্গা হাতে হাত বুলিয়ে আদর করছিলেন।উনার তপ্ত অশ্রু বিবির হাতের উপর পরলে তা দেখে বিবি যাহরা বললেন “স্বামী কেদোনা! আমি জানি তোমার অন্তর কতো কোমল, বাইরে থেকে যাই দেখাক, তুমি ইতিমধ্যেই অনেক সহ্য করেছো, কিন্তু তোমাকে আরও অনেক সইতে হবে।


এরপর বিবি যাহরা শুয়ে থেকেই গোসল করলেন, তিনি তার রবের সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুত ছিলেন তারপর আসমা বিনতে উমায়েস কে নির্দেশ দিলেন একটু অপেক্ষা করে বিবির নাম ধরে ডাকতে যদি উনি জবাব না দেন তো বুঝে নিতে যে উনি রবের কাছে চলে গেছেন। আসমা বিনতে উমায়েস কিছুক্ষন অপেক্ষা করে ডাকলেন, সাড়া পেলেন না। তিনি তখন বললেন “ ইয়া যাহরা, ও সর্বশ্রেস্টহ নবীর কন্যা!হে কন্টকাকীর্ণ পথে যারা হেটেছে তাদের সেরা! তারপর তিনি আন নাজমের ৯ নং আয়াত তিলাওয়াত করলেন। কোন উত্তর নেই, ঘর নীরব, আসমা বিনতে উমায়েস তখন যাহরা সাঃ আঃ দিকে এগিকে যান, গিয়ে দেখেন তিনি আর নেই, রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। (ইন্নালিল্লাহে......)


সে সময়ই ইমাম হাসান ও হুসাইন বাসায় ঢুকেন, আসমা বিনতে উমায়েস কে জিজ্ঞেস করেন “মা কোথায়? আমাদের মা তো এ সময়ে ঘুমায় না!”


আসমা জবাব দেন “হে রসুলের সন্তানেরা তোমাদের মা ঘুমায়নি, সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে”।


ইমাম হাসান কথাটা শোনার সাথে সাথে ঝাপ দিয়ে মায়ের বুকে পরে, মায়ের মুখে চুমু দিয়ে বলে “ মা! আমার সাথে কথা বলো। নইলে আমি মরে যাবো মা, আমার সাথে কথা বলো”।


ইমাম হুসাইন মায়ের পায়ে চুমু খেয়ে বলে “মাগো! আমি তোমার হুসাইন, আমি মরে যাবার আগেই আমার সাথে কথা বলো মা!”


এরপর হুসাইন ইমাম হাসানের দিকে ফিরে বললেন “আল্লাহ্‌ তোমাকে আমাদের মা হারানোর কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দিন”


বিবি যাহরার ওফাতের সময়টাতে মাওলা আলী কোথায় ছিলেন তা নিয়ে মতভেদ আছে, একদল বলেন তিনি যাহরার সাথেই ছিলেন, আরেকদল বলেন মসজিদে ছিলেন।


হাসান হুসাইন মসজিদে গিয়ে বাবাকে মায়ের ওফাতের খবর দিলে মাওলা আলী অজ্ঞান হয়ে যান।যখন জ্ঞান ফিরে পান তখন তিনি কাদলেন, বললেন “কে এখন আমাকে সান্তনা দিবে, হে নবীকন্যা! আমার দুঃখ দুর্দশায় তুমিই আমাকে সান্তনা দিয়েছো এখন কে তোমার অভাব পুরন করবে!!একটি ফুল কলি অবস্থায় ছিঁড়ে ফেলা হলো । এটি জান্নাত হতে এসেছিল এবং জান্নাতেই চলে গেল । কিন্তু সুবাস রেখে গেল আমার মধ্যে।


বিবির শাহাদাতে আমার মাওলা আলী রক্ত মাতম করেছেন। মদিনার লোকজন শুনেছে যে উনি চিৎকার করে কেদেছেন। এমন অবস্থায় এক লোক উনার দরজায় গিয়ে টোকা দেয়, মাওলা আলী এমন অবস্থায় বেড় হয়ে আসেন যে তার আমামা খুলে কাধে নেমে এসেছে! কপাল ফেটে রক্ত ঝরছে, অশ্রু আর রক্তে দাড়ি ভিজে গেছে। লোকটি এই অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করে মাওলা কি হয়েছে!! মাওলা ডুকরে কেদে উত্তর দেন "হে ইবনে নওফেল! আমার হাসান হুসাইন আজ এতিম হয়ে গেছে!!


অন্য রেওয়ায়েত বিবি জাহরার এক দাসী আসমা বিনতে উমাইস তাঁর ওফাতের কাহিনী বর্ণনা করেন। ওফাতের দিন তিনি বাচ্চাদের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন এবং আসমাকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে তিনি তাঁর ইবাদাতের কক্ষে চলে যান। তিনি কিছুক্ষণ পর তাঁর কক্ষের মধ্যে জোরে জোরে তাকবীর ধ্বনি দিতে থাকেন। আসমা যখন তাঁর তাকবীর ধ্বনি আর শুনতে পেলেন না তখন মসজিদে গিয়ে আলী (আ.)-কে তাঁর স্ত্রীর ওফাতের খবর দিলেন।


আসমার প্রতি নির্দেশ ছিল ছেলে-মেয়েরা ঘরে ফিরে এলে এ খবর দেয়ার পূর্বেই তাঁদের খাবার খাইয়ে দিতে হবে। আসমা সে কাজটিই করলেন। ইমাম হাসান ও হোসাইন এলে তিনি তাঁদের খাবার দিলেন। তাঁরা তাঁদের মায়ের হাতে ছাড়া খাবেন না বলে বায়না ধরলে আসমা তাঁদের মায়ের ওফাতের খবর দেন। তাঁরা মায়ের ঘরে প্রবেশ করার পর পরই ইমাম আলী (আ.) সেখানে উপস্থিত হন এবং নিজেকে সামলে নিয়ে কাফন-দাফনের প্রস্তুতি নেন।


ইসলামের সাথে সাথে ইসলামের ইতিহাসও এই পরিবারের সাথে খুবই অমানবিক আচরণ করেছে। যে জন্য আমরা সহজে তাদের সম্পর্কে জানতে পারিনা। যাই হোক

তাঁকে (বিবি যাহরা সাঃ আঃ) রাতের অন্ধকারে জান্নাতুল বাকী গোরস্তানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজায় কয়েকজন পারিবারিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মাওলা আলী আঃ বলেন “হে আল্লাহ্‌র রাসুল! দয়া করে আমার এবং আপনার কন্যার ছালাম নিন। যাকে আপনার সান্নিধ্য থেকে অনতি দূরে দাফন করা হচ্ছে এবং অতি শীঘ্র তিনি আপনার সাথে মিলিত হচ্ছেন।হে নবী মোস্তফা, আপনার প্রিয় কন্যার মৃত্যু আমাকে ধৈর্য এবং সান্ত্বনাহারা করেছে। আমি আমার সমস্ত সংযম হারিয়ে ফেলেছি। হে আলাহর রাসুল, আপনার বিচ্ছেদ ভোগ করার পর আমাকে আবার ধৈর্যের সাথে আকস্মিক এই মহাদুর্ঘটনা সহ্য করতে হবে।আমি আপনাকে আমার নিজ হাতে কবরে স্থাপন করেছিলাম। আমার বুকের উপর বিশ্রাম অবস্থায় আমার গ্রীবা এবং বুকের মধ্যখানে আপনার মস্তক অবস্থিত থাকা অবস্থায় আপনার দেহ হতে নফস বিদায়গ্রহণ করেছিল। নিশ্চয় আমরা আল্লাহ্‌র জন্য এবং তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।আপনার কন্যা যাকে আমার কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল তা আমার কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হলো। এখন দুঃখ আমার সাথী হয়েছে এবং সুখ আমা হতে বিদায় নিয়েছে। এই দুঃখ এত তীব্র যে, অন্য সকল দুঃখকে এটি অভিভূত ও গ্রাস করে ফেলে এবং এটি আমাকে বিনিদ্র রজনী এবং নিরানন্দ দিনের মধ্যে ফেলে গেল।যতকাল আল্লাহ আমাকে তাঁর রহমত এবং শান্তির রাজ্যে আমার উভয়ের সঙ্গে মিলিত না করেন এখন হতে ততকাল আমার জীবন বিরামহীন একটি হৃদয়- বেদনায় পরিণত হলো। হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আপনার সাহাবীরা আপনার কন্যার প্রতি কি আচরণ করেছে এবং কিরূপ দুর্ব্যবহার করেছে তা তিনিই বলবেন।আপনার পরলোক গমনের পর অল্পকালের মধ্যেই তাঁর উপর যা কিছু ঘটেছে তার বিস্তারিত বিষয়াদি তাকেই জিজ্ঞেস করবেন। আপনার কাছে হতে এই ব্যবধান এত অল্পকালের যে লোকেরা এখনো আপনাকে স্মরণ করে এবং আপনার বিষয় বলাবলি করে।দয়া করে আমার বিদায় সম্ভাষণ ও ছালাম আপনারা উভয়েগ্রহণ করুন। এই বিদায় সম্ভাষণ ও সালাম একটি সরল হৃদয়ের ইচ্ছা বা উৎসর্গ। সে হৃদয় আপনাদের কোমল স্নেহের স্মৃতি তার কবরের দিকে সানন্দে বহন করবে।হে আল্লাহ্‌র মনোনীত নবী কন্যা! বিদায়। তুমি শান্তিতে বিশ্রাম করো। যে শান্তি হতে লোকেরা ইহজগতে তোমাকে বঞ্চিত করেছে। তোমার কবর ছেড়ে আমার স্বস্থানে যাওয়া দারা এটা বুঝায় না এ আমি তোমার সঙ্গলাভের দ্বারা শ্রান্ত হয়েছি।আহা যদি আমি আজীবন তোমার সঙ্গলাভ করতাম এই আমার আশা। যারা দুঃখের সাথে ধৈর্য ধারণ করে তাদের জন্য আল্লাহ পুরষ্কার সংরক্ষিত রেখেছেন। এই বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই যার কারণে আমি তোমার কবরের উপর স্থায়ী একটি বাসস্থান তৈরি করে থাকব। বিদায়!তোমার থাকুক আল্লাহ্‌র শান্তি ও আশীর্বাদ।


(ভাব পাগলা আব্দ্দুল্লাহ)


Ref:

১। তাবারি, ২য় খণ্ড, ১৯৮ পৃষ্ঠা ।

২। ইবনে আব্দে রাব্বাহ লিখিত ' আকদুল ফরিদ ' ২য় খণ্ড, ১৭৯ পৃষ্ঠা , মিশরে মুদ্রিত।

৩। আবুল ফিদার ইতিহাস, ১ম খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা, মিশরে মুদ্রিত ।

৪। আল্লামা ইবনে কাতিবা লিখিত কিতাবুল ইমামত ওয়া সিয়াসাত ১ম খণ্ড, ২০ পৃষ্ঠা, মিশরে মুদ্রিত ( এই পুস্তক এই বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তৃত একটি বর্ণনা দিয়েছে ) ।

৫। মোরাভেজ- উল যাহাব মাসুদি, ১৫৯ পৃষ্ঠা ।

৬। শাহরিসতানির লিখিত মিল্লাল ওয়া নাহাল ১ম খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠা, বোম্বাই, ভারত ।

৭। শিবলী নোমানীর ' আল ফারুক ' ভারতে মুদ্রিত ।

৮। ইবনে আবিল হাদিদের নাহজুল বালাগার ভাষ্য ।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

হযরত আবুল ফযল আব্বাস (আ.)-এর শাহাদাত : পানি যেন চিরকাল লজ্জিত তাঁর কাছে! বর্ণনাকারী বলেন,ইমাম হুসাইন পিপাসায় কাতার হয়ে ফোরাতের তীরে উপস্থিত হলেন। সাথে রয়েছেন তার (সৎ) ভাই আব্বাস। ইবনে সা’দের বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ল দু’জনের ওপর। তাদের পথ বন্ধ করল। বনী দারাম গোত্রের এক দুরাচার আবুল ফযল আব্বাস-এর দিকে তীর নিক্ষেপ করলে তা তাঁর পবিত্র মুখে বিদ্ধ হয়। ইমাম হুসাইনই তা টেনে বের করে নেন,তার হাত রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। তিনি সেই রক্ত ছুড়ে ফেলে বললেন : ‘হে আল্লাহ ! এ জনগোষ্ঠী তোমার নবী নন্দিনীর সন্তানের ওপর এ জুলুম চালাচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে তোমার দরবারে বিচার দিচ্ছি। ইবনে সা’দের বাহিনী মুহূর্তের মধ্যে ইমাম হুসাইনের কাছ থেকে হযরত আব্বাসকে ছিনিয়ে নেয়। চতুর্মুখী আক্রমণ ও তরবারির সম্মিলিত আঘাতে হযরত আব্বাস শহীদ হন। তাঁর শাহাদাতে ইমাম হুসাইন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কবি তাই তো বলেছেন : ‘‘কতই না উত্তম ব্যক্তি –যার জন্য ইমাম হুসাইন কারবালার এ কঠিন মুসিবতের সময়ও কেঁদেছেন। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (সৎ) ভাই,তার বাবা ছিলেন আলী, তিনি তা আর কেউ নন রক্তাক্ত বদন আবুল ফযল আব্বাস। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের সহমর্মী,কোনো কিছুই তাকে এপথ থেকে সরাতে পারেনি। প্রচণ্ড পিপাসা নিয়ে ফোরাতের তীরে পৗছেন,কিন্তু ইমাম হুসাইন যেহেতু পান করেননি তিনিও তাই পানি মুখে নেননি।’অন্য কবি বলেন : ‘মুষ্টির মাঝে পানি নিলেন, মনভরে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করবেন কিন্তু যখনই ইমাম হুসাইনের পিপাসার কথা মনে পড়লো, হাতের মুঠোর পানিতে অশ্রু ফেলে ফিরে আসলেন।’হযরত আবুল ফযল আব্বাস-এর এ মহান আত্মত্যাগ সকল লেখক, চিন্তাশীলের দৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ।আল্লামা মজলিসী তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বিহারুল আনওয়ার’-এ লিখেছেন,‘হযরত আব্বাস ফোরাতের তীরে গেলেন। যখনই অঞ্জলি ভরে পানি পান করতে চাইলেন তখন হঠাৎ ইমাম হুসাইন ও তার আহলে বাইতের পানির পিপাসার যন্ত্রণার কথা মনে পড়ল। তাই তিনি পানি ফোরাতেই ফেলে দিলেন,পান করলেন না।’আরেকজন কবি বলেন : ‘আবুল ফযল আব্বাস তার সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণ ইমাম হুসাইনের জন্যই উৎসর্গ করেছেন। ইমাম হুসাইন পান করার পূর্বে তিনি নিজে পান করলেন না। মানুষের কর্মের সর্বোত্তম কর্ম ও মূল কাজই তিনি করলেন। আপনি তো গৗরবের দিবসে রাসূলের দুই নাতির ভাই, আর আপনিই তো পানি পানের দিবসে করেছেন আত্মত্যাগ, হে আবুল ফযল!’পানি টলটলায়মান, বাদশাহ তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত,উদ্যম তার অন্তরে হাতে রয়েছে পানির মশক,মুর্তাযার সিংহ শাবককে হামলা করলো এমনভাবেএ যেন অগণিত নেকড়ের মাঝে এক বাঘ।এমন একটি বদন কেউ দেখেনি যাতে কয়েক হাজার তীর,এমন একটি ফুল কেউ দেখেনি যাতে রয়েছে কয়েক হাজার কাঁটা। শেইখ মুফীদ তার ‘ইরশাদ’-এ এবং শেইখ তাবারসি তার ‘আ’লামুল ওয়ারা’-তে বলেছেন যে, সেনাবাহিনী ইমাম হুসাইনকে (আ.) আক্রমণ করলো এবং তার সৈন্যদের ছড়িয়ে দিলো এবং তাদের পিপাসা বৃদ্ধি পেলে ইমাম তার ভাই আব্বাস (আ.) কে নিয়ে ফোরাতের দিকে ঘোড়া ছোটালেন। উমর বিন সা’আদের বাহিনী তাদের পথ আটকে দিলো এবং বনি দারিম থেকে এক ব্যক্তি তাদের উদ্দেশ্যে বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, ফোরাতের দিকে তাদের রাস্তা বন্ধ করে দাও যেন তারা সেখানে পৌঁছতে না পারে।” ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” সে ক্রোধান্বিত হলো এবং ইমামের দিকে একটি তীর ছুঁড়ে মারলো যা তার থুতনি ভেদ করলো। ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং নিজের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন। এতে তার হাত রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে অভিযোগ করছি তারা কী আরচণ করছে তোমার রাসূলের (সা.) কন্যার সন্তানের সাথে।” এরপর তারা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ফিরে এলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী হযরত আব্বাস (আ.) কে ঘেরাও করে ফেললো এবং ইমাম হুসাইন (আ.) থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। আব্বাস একা একা যুদ্ধ করলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন। যায়েদ বিন ওয়ারখা হানাফি এবং হাকীম বিন তুফাইল তাঈ’ যৌথভাবে তাকে হত্যা করে তাকে বেশ কিছু আঘাতে আহত করার পর এবং তার নড়াচড়া করার মত শক্তি আর ছিলো না। সাইয়েদ ইবনে তাউস কিছুটা একই রকম বর্ণনা দিয়েছেন। হাসান বিন আলী তাবারসি বর্ণনা করেন যে, (বনি দারিম গোত্রের) অভিশপ্তের তীরটি ইমাম হুসাইন (আ.) এর কপালে বিদ্ধ হয় এবং আব্বাস তা তুলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী বর্ণনাটিই বেশী পরিচিত। তাবারি বর্ণনা করেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ বিন সায়েব থেকে, তিনি ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বিন নাবাতাহ থেকে যিনি বলেছেন, (কারবালায়) ইমাম হুসাইন (আ.) শহীদ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলো এমন একজন আমাকে বলেছে যে, যখন হোসেইনের সেনাদল প্রাণ হারালো তিনি তার ঘোড়ায় চড়লেন এবং ফোরাত নদীর দিকে গেলেন। বনি আবান বিন দারিম গোত্রের এক লোক বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, তার এবং ফোরাত নদীর মাঝখানে অবস্থান নাও যেন তার শিয়ারা (অনুসারীরা) তার সাথে যুক্ত হতে না পারে।” তিনি ঘোড়া ছোটালেন এবং সেনাবাহিনীও তাকে অনুসরণ করলো এবং ফোরাত নদীতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলো। ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” আবানি লোকটি একটি তীর ছুঁড়লো যা ইমামের থুতনি ভেদ করলো, ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং তার হাতের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন, যা রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অভিযোগ করি কী আচরণ তারা করছে আপনার রাসূল (সা.) এর কন্যার সন্তানের সাথে।” আল্লাহর শপথ, বেশী সময় যায় নি যখন আমি দেখলাম তার (আবানি লোকটির) প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়ে বসলো এবং কখনোই নিবারণ হলো না। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ আরও বলেন যে, আমি তার সাথে ছিলাম যে বাতাস করছিলো তাকে (আবানি লোকটিকে) এবং একটি মিষ্টি শরবত, এক জগ দুধ ও পানি রাখা ছিলো। সে বলছিলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর। তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” এক জগ অথবা এক কাপ পানি যা তার পরিবারের তৃষ্ণা মিটাচ্ছিলো, তাকে দেয়া হলো, সে তা পান করলো ও বমি করলো। এরপর কিছু সময় ঘুমালো। এরপর আবার সে বলতে শুরু করলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর, আমাকে পানি দাও, তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” আল্লাহর শপথ এ রকম কোন দৃশ্য এর আগে দেখা যায়নি এবং তার পেট উটের মত ফেটে গেলো। ইবনে নিমার বর্ণনা অনুযায়ী এই লোকটির নাম ছিলো যারাআহ বিন আবান বিন দারিম। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি থেকে যে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) কে দেখেছিলো, তিনি একটি খাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নদীর তীরের কাছেই, ফোরাত নদীতে যাওয়ার জন্য এবং আব্বাস ছিলেন তার সাথে। সে সময় উমর বিন সা’আদের জন্য উবায়দুল্লাহর চিঠি এসে পৌঁছায় যাতে লেখা ছিলো, “হুসাইন ও তার সাথীদের জন্য পানি সরবরাহ বন্ধ করে দাও এবং তাদেরকে এক ফোটাও স্বাদ নিতে দিও না।” উমর বিন সা’আদ পাঁচশত লোক দিয়ে আমর বিন হাজ্জাজকে পানির কাছে পাঠালো। আব্দুল্লাহ বিন হাসীন আযদি উচ্চকণ্ঠে বললো, “হে হুসাইন, তুমি কি দেখছো পানি বইছে বেহেশতের মত? আল্লাহর শপথ, তুমি এ থেকে এক ফোঁটাও পাবে না যতক্ষণ না তুমি ও তোমার সাথীরা তৃষ্ণায় ধ্বংস হয়ে যাও।” যারা’আহ বিন আবান বিন দারিম বললো, “তার ও ফোরাত নদীর মাঝে অবস্থান নাও।” এরপর সে একটি তীর ছোঁড়ে ইমামের দিকে যা তার থুতনিতে বিদ্ধ হয় এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ তাকে তৃষ্ণায় মরতে দাও এবং কখনোই তাকে ক্ষমা করো না।” ইমাম (আ.) এর জন্য এক পেয়ালা পানীয় আনা হলো কিন্তু তিনি তা পান করতে পারলেন না অনবরত রক্ত ঝরার কারণে। তিনি রক্তকে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন, “একইভাবে আকাশের দিকে।” শেইখ আব্দুস সামাদ বর্ণনা করেন আবুল ফারাজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন জওযি থেকে যে, এর পরে আবানি ব্যক্তিটি (যারআহ) পাকস্থলি পোড়া এবং ঠাণ্ডা পিঠের রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো এবং চিৎকার করতো। ‘উমদাতুত তালিব’-এর লেখক আব্বাস (আ.) এর সন্তানদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে, তার (আব্বাসের) কুনিয়া ছিলো আবুল ফযল এবং উপাধি ছিলো সাক্কা (পানি বহনকারী)। তাকে এ উপাধি দেয়া হয়েছিলো কারণ তিনি তার ভাইয়ের জন্য আশুরার দিন পানি আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই শহীদ হয়ে যান। তার কবরটি (ফোরাত) নদীর তীরে তার শাহাদাতের স্থানেই আছে। সে দিন তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (আ.) পতাকাবাহী। আবু নসর বুখারি বর্ণনা করেছেন মুফাযযাল বিন উমার থেকে যে, ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) বলেছেন, “আমার চাচা আব্বাস ছিলেন বুদ্ধিমান এবং তার ছিলো দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম হোসেইনের) সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং মুসিবতের ভিতর দিয়ে গেছেন শহীদ হওয়া পর্যন্ত। বনি হানিফা তার রক্তের দায়ভার বইছে। তিনি ছিলেন চৌত্রিশ বছর বয়েসী যখন তাকে হত্যা করা হয়। তার এবং উসমান, জাফর এবং আব্দুল্লাহরও মা ছিলেন উম্মুল বানীন, যিনি ছিলেন হিযাম বিন খালিদ বিন রাবি’আর কন্যা।

ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏কে কারা হত্যা করেছে? – ‏৩(ওহাবি, ‏নাসেবীদের ও আহলে সুন্নাহদের প্রপাগন্ডার জবাব)৪) ‏ইমাম হুসাইন আঃ ও তার সাথীদের ও নবী পরিবারের হত্যায় ইয়াজিদ, ‏সাহাবা, ‏সাহাবাদের পুত্ররা ও উসমানের ধর্মের লোকেরা সহ কারা জড়িত ছিল তার প্রমাণ। এই সব হত্যাকারিদের সাথে আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীদের সখ্যতা।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার কারিদের পরিচয়ঃ এর আগে উল্লখে করা হয়েছে যে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াদকে চিঠি লিখে মুহাম্মাদ বিন আকীলে হত্যা করার কথা বলেছিল। সেই মত ইবনে যিয়াদ তদন্ত্ব চালিয়ে মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করেঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখানে আমরা দুজনের নাম পেলাম যারা ইমাম হুসাইনের সাথি মুসলিম বিন আকীলের বিরুদ্ধে ইবনে যিয়াদের সেনা/পুলিশ ছিল, ‏১) ‏আমর বিন হারিস আল মাখযুমি ২) ‏মুহাম্মাদ বিন আশাসআমর বিন হারিস আল মাখযুমি কে?এখানে আমরা যে নতুন নাম পেলাম সে হল আমর বিন হারিস আল মাখযুমি যে কিনা কুফার পুলিশ প্রধান ছিল, (মুহাম্মাদ বিন আশাসের নাম আগেও এসেছে পরে এই ব্যাক্তির পরিচয় দেওয়া হবে) ‏এবং ইবনে আকীলের গ্রেফতারে প্রধান ভুমিকা রাখে।এই আমর বিন হারিস আল মাখযুমি একজন সাহাবী ছিলেন।যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ৪১৮ এ উল্লেখ করেছেঃكان عمرو من بقايا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين كانوا نزلوا الكوفة… له صحبة ورواية.“আমর বিনকে রাসুল সাঃ এর সাহাবীদের মধ্যে গন্য করা হয় এবং সে কুফার অভিবাসী হয়ে যায়…… ‏সে সাহাবী এবং রাসুল সাঃ এর থেকে বর্ননা করেছেন”।সাহাবীদের ও অন্যান্যদের জীবনীর উপরে ইবনে আসীরের লেখা বিখ্যাত কেতাব ‎‘উসুদুল গাবা’ ‏এর খন্ড ৪ পাতা ৯৮ এ আমর বিন হারিসের কথায় উল্লেখ করেছেনঃوولي لبني أمية بالكوفة وكانوا يميلون إليه ويثقون به وكان هواه معهم“তাকে বনি উমাইয়ারা নিয়োগ করেছিল কুফাতে, ‏তারা তাকে বিশ্বাস করত”।অনুরুপ ভাবে যাহাবি তার ‎‘আল কাশিফ’ ‏এর খন্ড ২ পাতা ৭৪, ‏৪১৪০ নং জীবনীতে, ‏ইবনে হাজর তার তাহযিব আত তাহযিব এর খন্ড ১ পাতা ৭৩২ এ জীবনী নং ৫০২৪ এ আমর বিন হারিসকে সাহাবী হিসাবে গননা করেছেন।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার ও লড়াইয়ের মুল হোতা আহলে সুন্নার কাছে অতি সম্মানিয় ব্যাক্তি। আহলে সুন্নাহ এনার থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তার হাদিস আহলে সুন্নাহর প্রধান প্রধান কেতাবে দেখা যায় যেমনঃ১) ‏সহিহ বুখারি।২) ‏সহিহ মুসলিম।৩) ‏সুনান আবু দাউদ।৪) ‏সুনান তিরমিযি।৫) ‏সুনান আন নাসাঈ।৬) ‏সুনান ইবনে মাজা।মুসতাদরাক আল হাকিম, ‏তাবারানি, ‏মুসনদে ইমাম আহমাদ আরো অনেক হাদিসের কিতাবে।মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করার সময় অস্ত্রের যুদ্ধ হয় এবং তাতে মুসলিম বিন আকীল ঘায়েল হয়ে যান এবং তাকে গ্রফতার করা হয়ঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৫ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃ“ ‏ঐতিহাসিকগন বলেন, ‏মুসলিম বিন আকীল যখন কুফার প্রশাসকের প্রাসাদদ্বারে পৌঁছল, ‏তখন সাহাবাদের ছেলেগনদের মধ্য থেকে তাঁর পরিচিত একদল আমির উমারা ছিলেন। ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের অনুমতির জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে মুসলিম গুরুতর আহত তাঁর মুখমণ্ডল ও কাপড় চোপড় রক্তে রঞ্জিত তিনি ভীষন পিপাসার্ত আর এই সময় সেখানে এক কলস ঠান্ডা পানি ছিল। তা থেকে পান করার জন্য তিনি কলসিটা ধরতে চাইলেন, ‏তখন তাদের এক ব্যাক্তি বলল ‎‘আল্লাহর কসম! ‏জাহান্নামের তপ্ত পানি পান করার পুর্বে তুমি তার থেকে পান করবে না’। তখন তিনি তাকে বললেন ‎‘তোমার সর্বনাশ হোক! ‏হে বাচ্চা! ‏আমার থেকে তুমি জাহান্নামের তপ্ত পানি এবং সেখানে চিরস্থায়ী হওয়ার বেশি উপযুক্ত’”।উপরের রেফারেন্স থেকে বোঝা গেল যে সাহাবী ও সাহাবীদের ছেলেপুলেরা কিভাবে ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দুত মুসলিম বিন আকীলের হত্যায় জড়িত।যেসব সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের নাম ইবনে কাসীর উল্লেখ করেননি, ‏কিন্তু তাবারিতে নাম পাওয়া যায় যেমন, ‏কাসীর বিন শাবিবাহ বিন আল হুসাইব আল হারিসি। ইবনে সাদ তার তাবাকাত এ এই তাবেই সমন্ধে উল্লেখ করেছেন ‎“সে উমার বিন খাত্তাব থেকে বর্ননা করেছে এবং সে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের গভর্নর ছিল’। ‎(খন্ড ৪ পাতা ১০৪)উপরের দলিল থেকে প্রমাণিত হল যে সাহাবা ও সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর সাথিদের হত্যায় জড়িত ছিল।উসমানের ধর্মের লোকেরা ইমাম হুসাইন আঃ ও তাঁর সাথিদের হত্যাকান্ডে জড়িতএ বিষয় প্রমানের জন্য সরাসরি কারবালার যুদ্ধ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং এক এক পক্ষ থেকে একজন একজন করে যুদ্ধ হচ্ছিল তখন হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দল থেকে নাফি বিন হিলাল বার হয়ে এসে বললেনঃ“আমি জামালি, ‏আলী আলির ধর্মে বিশ্বাস করি’।মুজাহিম আল হুরাইস নামে একজন বার হয়ে হুংকার ছাড়ল ‎‘আমি উসমানের ধর্ম অনুসরণ করি’।নাফি উত্তর দিল ‎‘বরং তুই শয়তানের ধর্ম অনুসরণ করিস’। আর পরে সে ‎(নাফি) ‏তাকে আক্রমণ করল ও হত্যা করল’। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৩৬,১৩৭)ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মোমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা): “হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল”।ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩৬৫ ইঃফা): “ইবনে যিয়াদ আল হারমাযুনের গভর্নরের আমর ইবনে সায়ীদের কাছে হুসাইনের নিহত হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে পত্র প্রেরণ করলো সে একজন ঘোষকে ডেকে এই খবর ঘোষনা দিল। বনূ হাসিমের মেয়েরা যখন এই সংবাদ শুনল তারা উচ্চস্বরে কান্না বিপাল করতে লাগলো। তখন আমর বিন সায়ীদ বলতে লাগলো এই হল উসমান বিন আফফানের শোকে বিলাপকারীণিদের বদলা”।সুতরাং ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর হত্যাকে উসমানের হত্যার বদলা নেওয়া হিসাবে দেখা হয় এবং উসমানীদের বা উসমানের শিয়া বা অনুসরণকারিদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়।ইবনে তাইমিয়া তার ‎“মিনহাজ আস সুন্নাতে’ “যদি নাসেবী ইবনে সাদকে উসমানী বলা হয়, ‏সেটা এইজন্য যে উসমানের জন্য তার প্রতিশোধ নেওয়া ও তাকে প্রশংসা করার জন্য”।ইবনে তাইমিয়া আর উল্লখে করেছে ‎وقد كان من شيعة عثمان من يسب عليا ويجهر بذلك على المنابر“উসমানের শিয়ারা প্রকাশ্যে মিম্বার থেকে আলিকে গালি দিত”।মুহাম্মাদ বিন আশাস ‎/ ‏আশআস কে?এর আগে বেশ কয়েক বার এই নাম উল্লেখ হয়েছে এখানে আর একবার রিভিশন করা হল।কুফায় এসে ইবনে যিয়াদ সরকারি পুলিশদের নির্দেশ দেয় যে মুসলিম বিন আকিলকে সহ তার সাহায্যকারিদের গ্রেফতার করার জন্য। এই কাজের জন্য ইয়ামানি গোত্র প্রধান কাসির বিন শিবাব ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে ভার দেয়। তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ৪৯;“কাসীর, ‏কালব গোত্রের একজনের সাথে দেখায় পায় যার নাম আবদুল আলা বিন ইয়াজিদ। সে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল মুসলিম বিন আকীলের ও অন্যান্য যুবকদের সাথে যুক্ত হতে। কাসীর তাকে পাকড়াও করে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে গেল এবং এই ব্যাক্তির ব্যাপারে বলল, ‏কিন্তু লোকটা বলল যে সে তার কাছে আসছিল। ইবনে যিয়াদ বলল, ‘নিশ্চই নিশ্চই! ‏আমার মনে পড়েছে তুমি আমকে এই ব্যাপারে ওয়াদা করেছিলে’! ‏ইবনে যিয়াদ তাকে গারদে দিতে বলল।মুহাম্মাদ বিন আশাস বনু উমারাহ গোত্রের ঘরদের দিকে গেল। উমারাহ বিন সালখিন আল আজদি তার কাছে এলো, ‏সে অস্ত্র নিয়ে ইবনে আকীলের কাছে যাচ্ছিল। মুহাম্মাদ বিন আশাস তাকে ধরে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠাল, ‏ইবনে যিয়াদ তাকে কারাগারে দিল”।‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখন আমরা দেখবো যে আহলে সুন্নাহরএই পুর্বপুরুষ মুহাম্মাদ বিন আশাস ও আহলে সুন্নাহর মধ্যে আঁতাত। যথারীতি আহলে সুন্নাহর ধর্মগুরু এই আহলে বাইত আঃ এর শত্রু। এর থেকে হাদিস শিক্ষা নিয়েছে আহলে সুন্নাহ আর অনেক ধর্ম গুরু। আমরা এই ব্যাক্তির হাদিস পাই নিম্নোক্ত হাদিসের কেতাব গুলিতেঃ১) ‏মুয়াত্তা এ ইমাম মালিক।২) ‏সুনানে ইমাম নাসাই।৩) ‏মুসনদে ইমাম হাম্বল।৪) ‏সুনান কুবরা, ‏বাইহাকী।মুসলিম এই ব্যক্তির নাতিপুতির থেকে হাদিস বর্ননা করেছেন।রেজাল শাস্ত্রে ইমামগণ যেমন ইবনে হিব্বান তাকে তার শিকাত এ উল্লেখ করেছেন। ‎(তাহযিব আল কামাল, ‏খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬)।ইবনে হাজর আস্কালানী তার তাকরীব আত তাহযীব এ তাকে তাবেঈন বলে উল্লেখ করেছেন এবং যার হাদিস কবুল করা যায় বলেছেন ‎(মকবুল)। ‎(খন্ড ২ পাতা ৫৭, ‏জীবনী নং ৫৭৬০)।এই মুহাম্মাদ ইবনে আশাস আহলে সুন্নাহর বড় সাহাবী পরিবারের সাথে যুক্ত, ‏তাহযিব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৫ ‎“মুহাম্মাদ বিন আশাস বিন কায়েস আল কিন্দি আবুল কাসেম আল কুফি, ‏তাঁর মা উম্মে ফারাহ বিন আবি কুহাফা যে আবু বকরের বোন”।আহলে বাইতের এই শত্রুকে মুখতার হত্যা করে। তাহযীব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬قتله المختار سنة ست وستين“আল মুখতার তাকে ৬৬ সনে হত্যা করে”।প্রসঙ্গত একটা কথা পাঠকদের বলে রাখি সে এই মুখতার রহঃ কে আহলে সুন্নাহরা গালি দেয় নামে পরে কাজ্জাব লেখে এবং নিন্দা মন্দ করে। অথচ ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏হত্যায় জড়িত প্রায় সব লোকদের এই মুখতার হত্যা করে। সেই কারনেই হয়ত মুখতারের মত লোককে আহলে সুন্নাহ দেখতে পারে না। অথচ মুখতার তাবেঈ ছিল ও সাহাবীর ছেলে ছিল। পরে ইনশাল্লাহ এই বিষয় আর আলোচনা করা হবে। হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের যে ব্যাক্তি সাজা দিয়েছে আহলে সুন্নাহর কাছে সেই মুখতার একজন জগন্য লোক ও মিথ্যাবাদী। এটাও প্রমান করে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের প্রতি আহলে সুন্নাহর মুহাব্বাতও আত্মিক একাত্ব।উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাসউমার বিন সাদ হচ্ছে বিখ্যাত সাহাবী সাদ ইবনে আবি ওক্কাস এর পুত্র। সে সাদ বিন আবি ওক্কাস উমার বিন খাত্তাবের দ্বারা গঠিত খলিফা কমিটির একজন সদস্য ছিলেন ও খলিফা হওয়ার প্রার্থী ছিলেন।এই উমার বিন সাদ কারবালায় ইয়াজিদের বাহিনীর সেনাপতি ছিল। এই উমার বিন সাদ যে ইয়াজিদকে চিঠি লিখেছিল যে কুফার গভর্নর নুমান বিন বাসীর দুর্বল লোক। এই উমার বিস সাদকে ইয়াজিদ তার চিঠিতে লিখেছিল যে আমার শীয়া। অর্থাৎ এই উমার বিন সাদ ইয়াজিদের শীয়া ছিল।তখন কুফায় ইয়াজিদের শীয়ারা ‎– ‏ইয়াজিদের দলের লোকেরা ইয়াজিদকে চিঠি লেখেঃ“মুসলিম বিন আকীল কুফায় এসেছে আর শীয়ারা হুসাইন বিন আলির হয়ে তার হাতে বায়াত করছে। যদি আপনি কুফানদের চান তবে একজন কঠিন লোককে এখানে পাঠান যে আপনার হুকুম তালিম করবে এবং ওই কাজ করবে ঠিক সেই ভাবে আপনি আপানার শত্রুদের প্রতি ব্যবহার করেন। নুমান বিন বাশীর একজন দুর্বল লোক বা দুর্বলের মত ব্যবহার করছে”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯, ‏পাতা ৩০)এই ধরনের চিঠি যা ইয়াজিকে কুফা থেকে আহলে সুন্নাহর মোতবার লোকেরা লিখেছিল তাদের নামঃ১) ‏আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন সাইদ আল হাযরামি ২) ‏আম্মারা বিন উকবাহ ৩) ‏উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৩০)ইয়াজিদ বসরা/কুফার গভর্নর ইবনে যিয়াদকে চিঠি লেখেঃ“কুফা থেকে আমার শিয়ারা আমাকে লিখেছে যে ইবনে আকীল কুফাতে অবস্থান করছে এবং লোকজন জড়ো করছে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্রোহ করার জন্য। সুতারং তুমি যখন আমার এই পত্র পড়বে কুফায় যাও ও ইবনে আকীলকে খোঁজ এমন ভাবে যেন তুমি দানা খুজছো এবং তাকে খুঁজে বার কর। তাকে চেন দিয়ে বাধো, ‏হত্যা করো কিংবা বিতাড়িত করো’। ‎( ‏তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ১৮ এবং ৩১)এই উমার বিন সাদই প্রথম ব্যাক্তি যে কারবালার যুদ্ধে প্রথম তীর ছোটে এবং বলে সাক্ষী থেকে আমি প্রথম তীর ছুড়েছি।বুখারি তার তারিখ আস সাগীর এর উল্লেখ করেছেনঃأبو المعلي العجلي قال سمعت أبي أن الحسين لما نزلكربلاء فأول من طعن في سرادقه عمر بن سعد“আবু মুয়ালি আল ইজলি তার পিতা থেকে বর্ননা করেছেন যে ‎“ ‏যখন হুসাইন কারবালায় এল, ‏উমার বিন সাদ প্রথম ব্যাক্তি ছিল যে তাবুগুলির দড়িগুলি কেটে দিয়েছিল”। ‎(বুখারি তারিখ আস সগীর, ‏খন্ড ১ পাতা ১৭৮)ইমাম যাহাবি তার বিখ্যাত বই সিয়ার আলাম আন নাবুলা এখন খন্ড ৪ পাতা ৩৪৯ঃ এ উল্লেখ করেছেনঃ“উমার বিন সাদ, ‏সেনাপতি ছিল হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী বাহিনীর, ‏অতপর মুখতার তাকে হত্যা করে’।কয়েক বছর পরে মুখতার রহঃ যখন ইবনে যিয়াদ কে তাড়ায় আর একে একে ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদেরকে হত্যা করে তখন এই উমার বিন সাদকেও হত্যা করে।এখন দেখা যাক আহলে সুন্নাহর সাথে এই লানত প্রাপ্ত লোকের সখ্যতা ও আহলে সুন্নাহ কেমন ভাবে এই তাদের এই মহান ব্যাক্তির থেকে হাদিস ও ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে।আহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত হাফেজ ইবনে হজর আস্কালানি তার ‎‘তাহযীব আত তাহযীবে’র খন্ড ৭ পাতা ৩৯৬ এ ৭৪৭ নং বায়োগ্রাফিতে উল্লেখ করেছেন।عمر بن سعد بن أبي وقاص الزهري أبو حفص المدنيسكن الكوفة.روى عن أبيه وأبي سعيد الخدري.وعنه ابنه ابراهيم وابن ابنه أبو بكر بن حفصابن عمر وأبو إسحاق السبيعي والعيزار بن حريث ويزيدبن أبي مريم وقتادة والزهري ويزيد بن أبي حبيبوغيرهم“উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস আল যুহুরি আবু হাফস আল মাদানি কুফার বাসিন্দা। সে তার পিতা ও আবু সাইদ আল খুদরি থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন। আর তার ছেলে ইব্রাহিম, ‏পৌত্র আবু বকর বিন হাফস বিন উমার, ‏আবু ইসহাক আল সাবেই, ‏আইজার বিন হারিস, ‏ইয়াজিদ বিন আবি মরিয়াম, ‏কাতাদা, ‏যুহুরি ও ইয়াজিদ বিন আবি হাবীব ও অন্যান্যরা তার থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে হাজর আস্কালানী তার ‎‘তাকরিব আত তাহযীবে’র খণ্ড ১ পাতা ৭১৭ এ উমার বিন সাদ ইবনে আবি ওক্কাসকে ‎‘সুদুক’ (সত্যাবাদী/বিশস্ত হাদিস বর্ননাকারী, ‏সত্যবাদী ধর্ম শিক্ষা দাতা) ‏সেই সাথে উল্লখে করেছেন যে হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে সেনার আমীর ছিল!عمر بن سعد بن أبي وقاص المدني نزيل الكوفة صدوقولكن مقته الناس لكونه كان أميرا على الجيش الذينقتلوا الحسين بن عليআহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের ইমামদের ইমাম আল ইজলি এর কথা ‎‘তাহযীব আল কামাল খন্ড ২১ পাতা ৩৫৭ এ ‎(বায়োগ্রাফি নং ৪২৪০) ‏এ আমার পড়িঃوقال أحمد بن عبدالله العجلي (2): كان يروي عن أبيهأحاديث، وروى الناس عنه.وهو الذي قتل الحسين، وهو تابعي ثقة.“আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল ইজলি বলেছেন ‎‘ ‏সে ‎(উমার বিন সাদ) ‏তার পিতা থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করত, ‏এবং জনগণ তার থেকে বর্ননা করেছে। এবং হুসাইনের কাতিলদের একজন, ‏এবং শিকা তাবেঈ’।পাঠকগন দেখুন আহলে সুন্নাহর মহান ইমামের কাছে এই ব্যাক্তি ‎‘শিকা’ ‏অর্থাৎ বিশস্ত!।সালাফি ওহাবি ও উমাইয়া মেন্টালিটির প্রিয় রেজাল ও ইতিহাসের ইমাম, ‏ইমাম যাহাবি তার কেতাব ‎‘মিযান আল এতিদাল’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ১৯৮ এ উমার বিন সাদ লানতি এর সমন্ধে লিখেছেনঃهو في نفسه غير متهم “ব্যাক্তিত্ব হিসাবে তাকে তিরস্কার করা হয় না”।এই লানতি ব্যাক্তি থেকে আহলে সুন্নাহর মুহাদ্দেসগন প্রবল ভাবে হাদিস নিয়েছেন। যেমনঃ১) ‏ইমাম নাসাই, ‏তার সুনান আন নাসাই এ। সালাফিদের গুরু আলবানি এই হাদিসকে সাহিহ ও বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন।৩) ‏আহলে সুন্নাহর ফেকার ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনদে একাধিক বার এই লানতির থেকে হাদিস নিয়েছেন।*আরও মজার ব্যাপার সালাফিদের প্রিয় মুহাদ্দিস সুয়াইব আরনাউত মুসনদে আহমাদের তাহকিকে এই হাদিস গুলির সনদ ‎‘হাসান’ (উত্তম) ‏বলে সার্টিফাই করেছেন। ‎(দেখুন রেসালা পাবলিকেশনের, ‏ওস্তাদ সুউয়াইব আরনাউত কতৃক তাহাকিক করা মুসনদে আহমাদের খন্ড ৩ এর হাদিস নং ১৪৮৭, ‏১৫৩১, ‏১৫৭৫)*আহলে সুন্নাহর মুহাক্কিক শেইখ আহমাদ শাকির তার তাহাক্কিক কৃত মুসনদে আহমাদ ‎(দারুল হাদিস, ‏কায়রো থেকে প্রকাশিত) ‏এই উমার বিন সাদ লানতির হাদিসকে সাহিহ সনদ বলেছেন। ‎(হাদিস নং ১৫১৯ দেখুন)সুতারং একথা সহজেই বোঝা যায় যে আহলে সুন্নাহের সাথে হুসাইন আঃ এর কাতিলদের কত ঘনিষ্ঠতা এবং এটাও প্রমান হয় যে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীরা কোন দলের। বরং সরাসরি প্রমান হয় এরা যে আহলে সুন্নাহর দলের ও আহলে সুন্নাহর পুর্বজও বটে। যাদের উপর আহলে সুন্নাহর শিক্ষাদীক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আছে।উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ বা উবাইদুল্লাহ ইবনে আবিহাইবনে যিয়াদের পরিচয় দেওয়া লাগবে না। ইবনে যিয়াদ লাঃ কুফা ও বসরার গভর্নর ছিল। ইয়াজিদের নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে বিরুদ্ধে যুদ্ধের সেনা পাঠায় এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ হত্যা করে।ইমাম হুসাইন আঃ মক্কা ছেড়ে কুফায় যাত্রা করছেন সেটার খবর পাওয়ার পরে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াকে চিঠি লেখেঃ ইবনে কাসীর ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ৩১২ ‎( ‏বাংলা ইঃফা)“আমার কাছে সংবাদ পৌঁছিয়েছে যে, ‏হুসাইন কুফা অভিমুখে রওনা হয়েছে, ‏এর ফলে আমার গভর্নরদের মধ্যে তুমি পরিক্ষার সম্মুখীন হয়েছো। এই পরিক্ষার ফলের উপর তোমার মুক্তি ও সম্মান লাভ নির্ভর করবে। কিংবা ক্রীতদাসের মত দাসত্ব ও অপমান বহন করবে। আর এই কারণেই ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে ও ইয়াজিদের কাছে তাঁর মাথা পাঠিয়ে দেয়”।ইবনে হজর আশকালানি তার ‎‘তাজিল আল মুনফ’আ বিজওয়াইদ রিজাল আল আইম্মাতুল আরবা’ ‏এর খন্ড ১ পাতা ৮৪০ এ উল্লেখ করেছেনঃعبيد الله بن زِيَاد أَمِير الْكُوفَة لمعاوية ولابنه يزِيد وَهُوَالَّذِي جهز الجيوش من الْكُوفَة للحسين بن عَليّ رضىالله تَعَالَى عَنْهُمَا حَتَّى قتل بكربلاء وَكَانَ يعرف بِابْنمرْجَانَة وَهِي أمه وَقد ذكر لَهُ بن عَسَاكِر فِي تَارِيخدمشق تَرْجَمَة وَجرى ذكره فِي سنَن أبي دَاوُد وَلم يترجملَهُ الْمزي وَمن تَرْجَمته أَنه ولد فِي سنة اثْنَتَيْنِ أَو ثَلَاثوَثَلَاثِينَ وروى عَن سعد بن أبي وَقاص وَمُعَاوِيَة وَمَعْقِلبن يسَار وَابْن أُميَّة أخي بني جعدة وروى عَنهُ الْحسنالْبَصْرِيّ وَأَبُو الْمليح بن أُسَامَة“… ‏সে উমাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ, ‏কুফার আমির ছিল মুয়াবিয়া ও তার ছেলে ইয়াজিদের তরফ থেকে এবং সে কুফা থেকে সেনা বাহিনী প্রস্তুত করেছিল হুসাইনের ‎(রাঃ) ‏এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য কারবালায় তার কতল পর্যন্ত।সে ইবনে মারজানা নামে পরিচিত ছিল আর সে ‎(মারজানা) ‏তার মা ছিল।ইবনে আসাকির তারিখে দামিস্কে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন আর সুনানে আবু দাউদে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে………………. ‏এবং সে সাদ ইবনে আবি ওক্কাস, ‏মুয়াবিয়া, ‏মাকেল বিন ইয়াসির এবং বানি জাদাহ এর ভাই ইবনে উমাইয়া থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছে এবং তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মুমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে যিয়াদ মুয়াবিয়ার খাস লোক ছিল ‎(এর আগেও প্রমান দেওয়া হয়েছে) ‏এবং মুয়াবিয়ার থেকে হাদিস বর্ননা করেছেঃ ইবনে কাসীর তার ‎‘আল বেদায়া ওয়া আন নেহায়া’তে ‎(খণ্ড ৮ পাতা ৫০৬ বাং)قال ابن عساكر وروى الحديث عن معاوية وسعد بن أبي وقاص ومعقل بن يسار ، وحدث عنه الحسن البصري وأبوالمليح بن أسامة“ইবনে আসাকির বলেছেন যে,সে ‎(উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ) ‏মুয়াবিয়া, ‏সাদ ইবন আবি ওক্কাস,মাকাল বিন ইয়াসির থেকে হাদিস বর্ননা করেছে,আর তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা বর্ননা করেছে”।আহলে সুন্নাহদের কাছে যেমন মুয়াবিয়া মহান ব্যাক্তি এই ইবনে যিয়াদের কাছেও মুয়াবিয়া তেমন মহান,আহলে সুন্নাহ তাদের হাদিস ধর্ম শিক্ষা এই লানতির থেকে নিয়েছে।নাসেবীদের জন্য আরও দলিল দেওয়া হল ঠিক যেমন আহলে সুন্নাহর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মুমিনিন ও ষষ্ট খলিফা ইবনে যিয়াদের লাঃ এর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মোমিনিন ও খলিফা। এটা প্রমান করে যে আহলে সুন্নাহও ইবনে যিয়াদের অনুসারী।ইবনে যিয়াদ, ‏আমর বিন সাদকে লেখেঃ ইবনে কাসীর(বেদায়া আন নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা)“হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যাবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল। আর হুসাইন ও তার সাথিদের আমিরুল মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বায়াতের জন্য প্রস্তাব দাও”।এর আগে দেখানো করা হয়েছে যে ইয়াজিদ খ্রিস্টান উপদেষ্টা স্যার জনের পরামর্শে ইবনে যিয়াদকে কুফার গভর্নরের দায়িত্ব আবার দেয়। উপরের দলিলাদি থেকে প্রমাণিত হয় যে ইবনে যিয়াদ উসমানী ছিল এবং উসমানকে আমিরুল মোমিনিন মানত, ‏ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ মানে, ‏মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন বলে মানত ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীরা মানে।আহলে সুন্নাহ যে ইবনে যিয়াদের উত্তর পুরুষ তা উপরের দলিল সমূহ থেকে প্রমাণিত হয়। শিমর বিন যুলজোশান আল মানুল লাঃশিমর বিন যুলজোশান ইমাম হুসাইন আঃ কে তার ধড় থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করে। আহলে সুন্নাহর এই শিমর বিন যুলজোশানকে নিয়ে মহা বিপদে আছে না পারে গিলতে না পারে উগরাতে। গলায় এমন ভাবে আটকিয়ে আছে যে আহলে সুন্নাহ আওয়াজ করেতে পারে না, ‏কিছু বলতে চাইলে গ্যা গোঁ আওয়াজ বার হয়। ফলে আহলে সুন্নাহর ওই আওয়াজ সুনে বলে যে শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আলির ‎(আঃ) ‏এর দলে ছিল ফলে সে শিয়া ছিল। এজন্য তারা একটা রেফারেন্স দেয়ঃআল কুম্মিয়ের কেতাব ‎‘সাফিনাতুন নাজাতের’ ‏খন্ড ৪ পাতা ৪৯২ তে আল কুম্মি লিখেছেন ‎“আমি বলি, ‏শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মোমিনিনের সেনা বাহিনীতে ছিল”।সুতরাং ইতিহাসিক ভাবে যেটা এসেছে, ‏শিমর লানাতুল্লাহ আলইহি সিফফিনের যুদ্ধে ইমাম আলী আঃ এর পক্ষে ছিলো। সুতরাং তাঁদের প্রোপ্যাগান্ডা যথারিতি শুরু!! ‏শিমর শিয়া ছিল, ‏শিমর শিয়া ছিল!!এই কথার জবাবঃ ১) ‏তালহা, ‏যুবাইর ইমাম আলী আঃ এর হাতে হাত রেখে বায়াত করেছিল। এখন যারা যে যুক্তিতে বলে শিমর শীআ ছিল তারা তালহা ও যুবাইরকে কি বলবেন? ‏শিয়া ‎?২) ‏যখন ইমাম আলী আঃ এর বায়াত হয় তখন যারাই ইমাম আলী আঃ কে মেনেছিল তারা পরবর্তী ইসলামে শাসক হিসাবে মেনেছিল, ‏তাঁদের মধ্যে সাধারণ লোক, ‏সুন্নি আকীদা এর লোক- ‏যারা আবু বকর উমার ও উসমানের খিলাফাতকে বৈধ মনে করে এবং শুধু মাত্র সাধারণ লোকজন ‎(যাদের কাছে কে খলিফা হল কোন যাই আসে না) ‏ও শীয়া আকীদার লোক ছিল-যারা ইমাম আলী আঃ কেই একমাত্র বৈধ খলিফা মনে করত। ‎(এ বিষয় প্রথম অধ্যায় আলোচনা বিশদ করা হয়েছে।) ‏সুতরাং ইমাম আলী এর হাতে বায়াত হলেই বা সিফফিনে আলী আঃ এর সেনা দলে থাকলেই যে সে শীয়া ছিল তার কোন প্রমান নেই।কেননা আহলে সুন্নার প্রচুর লোক আলী আঃ এর হাতে বায়াত হয়েছিল ও সিফফিনেও আলী আঃ এর সেনা দলে ছিল।৩) ‏৩৮ হিজরিতে যখন সিফফিনের যুদ্ধে যারাই ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল সবাই আকাইদ এ শীয়া ছিল না। রাষ্ট্র এর প্রধান হিশাবে ইমাম আলী আঃ এর দলে সুন্নি সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে বহু গোত্র ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল। শিমর ও ইমাম আলী আঃ এর দলে ছিল।৬১ হিজরিতে কারো দ্বারা অনুষ্ঠিত কাজ ৩৭/৩৮ হিজরিতে সেই ব্যাক্তি কোথায় ছিল সেটা দিয়ে বিচার হয় না। বহু লোক ধর্মপ্রান মুসলিম ছিল পরে নাস্তিক হয়ে গিয়েছে। এমন কি আল্লাহের রাসুল সাঃ এর এক ওহি লেখক ও মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।সুতারং শিমর ৬১ হিজরিতে কার দলের হয়ে কার নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করেছে সেটা বিবেচ্য। ৬১ হিজরিতে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে যিয়াদের চিঠি নিয়ে শিমর লাঃ কারবালায় আসে এবং ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করে।৪) ‏নাসেবীদের জন্য কাউন্টার প্রশ্নঃ নাসিবিরা যদি এক কথায়ে বলতে চায় যে সিফফিনে ইমাম আলী আঃ এর দলে যারা ছিল তারা শিয়া তবে মুয়াবিয়ার দলে কারা ছিল? ‏নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাহরা আর নাসিবিরা।আহলে সুন্নাহর খেলাফতি আকীদায় পরম্পরার দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে যে শিমর আহলে সুন্নাহর মাজহাবের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তি ছিল। আহলে সুন্নাহরা আবু বকর ‎,উমার, ‏উসমান ও আলি আঃ এর খিলাফাত মানে এবং তারপরে মুয়াবিয়াকে মানে এবং অতি উচ্চ ধরনা রাখে, ‏তার পরে ইয়াজিদেকে খলিফা/আমীর মানে এবং এর পরে উমাইয়া ও আব্বাসিদের তার পরে তুর্কিদের খলিফা হিসাবে মান্য করে।শিমর সিফফিনে আলী আঃ এর দলে ছিলে তার পরে মুয়াবিয়ার খিলাফত মান্য করে তার পরে ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন মানত।৫) ‏এখন আমি দেখাব শিমর এর মেলামেশা, ‏সখ্যতা কাদের সাথে ছিল। আহলে সুন্নার বড় বড় আলেম দের সাথে ছিল।ইমাম আবু ইশাক ‎(মৃঃ১২৯) ‏আহলে সুন্নাহর বড় মাপের তাবেই যার সম্বন্ধে সুন্নি রেজাল শাস্ত্রের ইমাম গনদের অন্যতম ইমাম যাহাবি তার সিয়ার আলাম আন নাবুলাতে লিখেছেনঃ ‎-“শেইখ, ‏আলেম, ‏কুফার মুহাদ্দিস ‎” (খণ্ড ৫ পাতা ৩৯২)তারিখে হুফফাজ- ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“ফুযাউইল বলেছেন ‎‘ ‏আবু ইশাক প্রত্যেক তিন দিনে কুরআন খতম করতেন………… ‏তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন, ‏তাকওয়া ধারী, ‏জ্ঞানের পাত্র ছিলেন, ‏আরও গুনাগুন ছিল”। ‎(খণ্ড ১ পাতা ১১১)এখন দেখুন আবু ইশাক আর শিমর লানাতুল্লাহ আলাইহি একসাথে নামায পড়ছেন। এখানে বোঝা যায় শিমর কে ছিল।মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“আবু ইশাক বলেছেন, ‏শিমর আমাদের সাথে নামায পড়ত আর বলত যে ‎‘ও আল্লাহ তুমি যান আমি সৎ লোক তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও’। আমি বললাম ‎‘আল্লাহ কেন তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন যখন তুমি রসূল আল্লাহের সন্তানের হত্যায় অংশগ্রহণ করেছ’? ‏সে ‎(শিমর) ‏বলল ‎‘তোমার অহ! ‏আমি কি করতাম? ‏আমাদের শাসক এই রকম করতে বলেছিল। আমরা তাদের অবাধ্য হয়নি……………’। আমি ‎(আবু ইশাক) ‏বললাম ‎‘বাহ ভাল অজুহাত! ‏নিশ্চয়ই হুকুম মান্য করা শুধু ভাল কাজের জন্য হয়’।” ( ‏খণ্ড ২ পাতা ২৮০)উপরের শিমর আর আবু ইশহাকের কথা থেকে এটা পরিষ্কার যে শিমর কাদের সাথে নামায পড়ত, ‏উঠাবসা করত। আরও এটা জানা যায় যে শিমর কার হুকুমে ইমাম হুসাইন আঃ কে হত্যা করেছিল!শিমার শুধু সুন্নি ছিল না, ‏সুন্নিরা শিমারের থেকে শিক্ষা নিয়েছে, ‏হাদীস নিয়েছে!মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবি, ‏শিমারের জীবনীর আলোচনাতে ‎[ شمر ] 3742 – شمر بن ذى الجوشن، أبو السابغة الضبابى. عن أبيه. وعنه أبو إسحاق السبيعى.“……………… ‏আবু ইশাক তার( ‏শিমর) ‏থেকে বর্ণনা করেছেন”আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে শিমরের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন!শাবাষ বিন রাবেইঃহুসাইন আঃ কে আহলে সুন্নাহর পিতৃপুরুষদের মধ্যে যারা চিঠি লিখেছিল তাদের নেতা ছিল এই ব্যাক্তি। এই ব্যাক্তি কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে আমর বিন সাদের বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। এর ব্যাপারে আগেই সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এখানে আহলে সুন্নাহর এই পিতৃব্যের আরো একটু আলোচনা করা হলঃআহলে সুন্নাহর রেজাল ও হাদিস শাস্ত্রের ইমাম যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’র খন্ড ৪ পাতা ১৫০ এ উল্লেখ করেছেনঃشَبَثُ بنُ رِبْعِيٍّ * التَّمِيْمِيُّ اليَرْبُوْعِيُّأَحَدُ الأَشْرَافِ وَالفُرْسَانِ، كَانَ مِمَّنْ خَرَجَ عَلَى عَلِيٍّ، وَأَنْكَرَعَلَيْهِ التَّحْكِيْمَ، ثُمَّ تَابَ وَأَنَابَ.وَحَدَّثَ عَنْ: عَلِيٍّ،وَحُذَيْفَةَ.وَعَنْهُ: مُحَمَّدُ بنُ كَعْبٍ القُرَظِيُّ، وَسُلَيْمَانُالتَّيْمِيُّ.لَهُ حَدِيْثٌ وَاحِدٌ فِي (سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ)“আশরফ ও বাহাদুর একজন…………সে আলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং সালিশি মানতে অস্বীকার করেছিল, ‏পরে তওবা করেছিল। সে হাদিস বর্ননা করেছে আলী, ‏হুজাইফা থেকে এবং তার থেকে মুহাম্মাদ বিন ক’আব আল কারদ্বি ও সুলাইমান তামিমি হাদিস বর্ননা করেছে, ‏সুনান আবি দাউদে তার একটা হাদিস উল্লখে আছে”।ইবনে মাজা তার থেকে হাদিস নিয়েছে, ‏বুখারিরি ওস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক ও ইবনে আবি শায়বা তাদের নিজ নিজ মুসান্নাফে শাবাষ থেকে হাদিস বর্ননা করেছে। আহলে সুন্নাহর বড় রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ইবনে হিব্বান তাকে তাঁর শিকাত এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে সে ভুল করেছে ‎(হাদিস বর্ননায়)।এ লানতি আহলে সুন্নাহর কাছে মর্যাদা রাখে তা উপরে দলিল সমূহ থেকে বোঝা যাচ্ছে। এর থেকে আহলে সুন্নাহ হাদিস নিয়েছে ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে!আবু দাউদের হাদিসঃحَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَاعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِكَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ شَبَثِ بْنِ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامعَنْ …النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْخَبَرِআবু দাউদ এই হাদিসে কোন কমেন্ট করেনি সুতারং আবু দাউদ এই হাদিসের সনদ সহিহ মানত। কেননা আবু দাউদ বলেছেন যে আমার কেতাবে কোন হাদিসে সমস্যা থাকলে তাকে সেখানে আমি মন্তব্য লিখব, ‏আর আমি কোন মন্তব্য না করার অর্থ সেই হাদিস বিসস্ত। ‎( ‏সুত্র সওকানির ‎‘নিল আল আওতার’ ‏খন্ড ১ পাতা ১৫)ইমাম নাসাইয়ের সুনান আল কাবীরের হাদিসের অংশ বিশেষঃأخبرنا أحمد بن عمرو بن السرح قال أخبرنا بن وهبقال أخبرني عمرو بن مالك وحيوة بن شريح عن بنالهاد عن محمد بن كعب عن شبث بن ربعي عن …عليبن أبي طالب قال قدم على رسول الله صلى الله عليهوسلم سبي فقال علي لفاطمةসুতারং ইমাম হুসাইন আঃ কে চিঠি লিখে এবং পরে ইয়াজিদের বাহিনীতে যোগ দেওয়া ‎‘মহান’ ‏লোকের সাথে আহলে সুন্নাহের প্রগাড় সম্পর্কের ও সম্পৃক্ততা একটা প্রমানিত ও উন্মুক্ত ব্যাপার। আহলে সুন্নাহর শিক্ষা দীক্ষা সেই সন হত্যাকারীদের সাথে সম্পর্কিত। আরো প্রমান হয় যে আহলে সুন্নাহর বরং এই সব লোকদের উত্তরসুরি।ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যা কারীদের মাযহাবের আরো কিছু প্রমানঃইমাম হুসাইন আঃ এর শাহাদতের পরে শিয়াদের ইমামত এর ধারার ইমাম হন যাইনুল আবেদিন আঃ যাকে ঘিরে আকাইদি শিয়াদের আনাগোনা ছিল, ‏তাঁর কাছ থেকে শিয়ারা শিক্ষা গ্রহন করত। সহিফাহ এ সাজ্জাদিয়া ইমাম যাইনুল আবেদিন আঃ এর দোয়ার কেতাব।অপর দিকে আহলে সুন্নাহরা তাদের নেতাদের কাছে যেত ও শিক্ষা গ্রহন করতো ফতোয়া গ্রহন করত। যেমন আহলে সুন্নাহর দ্বীনের এক অংশ যার উপর নির্ভর করে সেই ইবনে উমার। ইবনে উমার ইয়াজিদের এক ভক্ত ছিল এর আগে দেখানো হয়েছে যে টাকা খেয়ে ইয়াজিদকে ইবনে উমার বায়াত করে। ইবনে উমার ইয়াজিদের জন্য প্রবল ভাবে ক্যানভাস করেঃসাহিহ আল বুখারিঃ ইফাঃ অনলাইনঃ ৬৬২৬। ‎“সুলায়মান ইবনু হারব ‎(রহঃ) … ‏নাফি ‎(রহঃ) ‏থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ‏যখন মদিনার লোকেরা ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়া ‎(রাঃ) ‏এর বায়আত ভঙ্গ করল, ‏তখন ইবনু উমর ‎(রাঃ) ‏তার বিশেষ ভক্তবৃন্দ ও সন্তানদের সমবেত করলেন এবং বললেন, ‏আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ‏কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ‎?