Imported post: Facebook Post: 2023-07-31T21:05:14

৬১ হিজরির ১২ মুহররম ইয়াজিদ সেনারা নবী পরিবার তথা ইমাম পরিবারের এবং ইমাম শিবিরের সকল নারী ও কন্যা শিশুকে বন্দী অবস্থায় কুফায় নিয়ে আসে। এ সময় ইয়াজিদ সেনারা শহীদদের বিচ্ছিন্ন মাথা বর্শায় বিদ্ধ করে নিয়ে আসে তাদের সঙ্গে। কুফায় বন্দীদেরকে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে জিয়াদের দরবারে আনা হলে জিয়াদ তাদেরকে উপহাসের চেষ্টা করে এবং ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)-কে হত্যা করতে চায়। কিন্তু হযরত জাইনাব (সা.)’র সাহসী বক্তব্য ও বিশেষ করে নবী পরিবারের সদস্যদেরকে ত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ও শাহাদতের মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর প্রশংসাসূচক কথাগুলো জিয়াদকে হতভম্ব বা লা-জওয়াব করে দেয়। কারবালার অসম যুদ্ধে অশেষ বীরত্ব ও বিক্রম দেখিয়ে এবং ইয়াজিদের বহু সেনাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে শহীদ হয়েছিলেন হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)সহ ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা ৭২ জন মহামানব। তাদের কেউ ছিলেন ইমামের যুবক পুত্র, শিশু পুত্র ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচাতো ভাই এবং অন্যরা ছিলেন প্রাণ-উৎসর্গ করতে আসা নিবেদিত-প্রাণ সঙ্গী। ইমাম হুসাইন (আ.)'র শাহাদতের পর তাঁর বোন হযরত জাইনাব (সা.) ইমামের একমাত্র জীবিত ও অসুস্থ পুত্র হযরত জাইনুল আবেদীনের (আ.) জীবন রক্ষা করেন। অবশ্য এ জন্য তিনি শত্রুদের মুখাপেক্ষী হয়েছেন ভাতিজাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি জল্লাদকে বলেছিলেন, আমার ভাতিজাকে হত্যা করতে হলে আমাকেও হত্যা করতে হবে। এভাবে তিনি একজন নিষ্পাপ ইমামের জীবন রক্ষা করেন । দামেস্কেও এই মহান ইমামকে হত্যার চেষ্টা অলৌকিকভাবে ব্যর্থ হয় বলে বর্ণনা রয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনা মতে কারবালায় জাইনুল আবেদীনের শিশু সন্তান ইমাম বাকির (আ.)ও উপস্থিত ছিলেন এবং হত্যাযজ্ঞের পর তিনিও বেঁচে ছিলেন। নবী বংশের কয়েকজন নারী সদস্যও বেঁচে ছিলেন কারবালার হত্যাযজ্ঞের পর। মহাপাপিষ্ঠ ও নরাধম ইয়াজিদের দরবারে উপনীত হলে তার বেয়াদবিপূর্ণ নানা কথা ও বিদ্রূপের জবাবে হযরত জাইনাব (সা.) এক দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। তেজোদৃপ্ত সেই ভাষণের একাংশে তিনি বলেছিলেন: "আমাদের শাসন-কর্তৃত্ব (তোমার হাতে পড়ায়) তুমি মহিমান্বিত আল্লাহর সেই বাণী ভুলে গিয়েছ: 'কাফেররা যেন মনে না করে যে আমরা তাদের যে অবকাশ দান করি, তা নিজেদের জন্য কল্যাণকর। বরং আমরা তো তাদেরকে এ জন্যই অবকাশ দেই যাতে করে তাদের পাপগুলো বাড়তে থাকে এবং তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তি অবধারিত।" তিনি ইয়াজিদকে 'সে ব্যক্তির পুত্র যাকে বন্দী করার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছিল' বলেও সম্বোধন করেন!(কারণ, মুয়াবিয়া মক্কা বিজয়ের সময় বন্দী হয়েছিল মুসলিম বাহিনীর হাতে, ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়) হযরত জাইনাব (সা.) তাঁর ঐতিহাসিক সেই ভাষণে পবিত্র নবী বংশের, বিশেষ করে ইমাম হুসাইন (আ.)'র মর্যাদা তুলে ধরার পাশাপাশি ইয়াজিদ বাহিনীর জুলুম ও নৃশংসতাও তুলে ধরেছিলেন । তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)'র সঙ্গে ইয়াজিদের নানা বেয়াদবি এবং নবী বংশের ওপর তার বাহিনীর নৃশংস জুলুম নির্যাতন চালানোসহ হত্যাযজ্ঞের জন্য তাকে খোদায়ী কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে বলে উল্লেখ করেন। হযরত জাইনাব (সা.) এক পর্যায়ে ইয়াজিদের দরবারেই তাকে বলেন, "যদিও ঘটনাচক্রে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি, কিন্তু আমি তোমাকে খুবই তুচ্ছ ও নীচ মনে করি এবং তোমাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করছি ও অনেক বেশি নিন্দা করছি, কিন্তু (আমার ভাইয়ের হত্যার কারণে মুসলমানদের ) দৃষ্টিগুলো অশ্রুসজল আর হৃদয়গুলো কাবাবের মত দগ্ধীভূত।" হযরত মোহাম্মাদ (সা.)'র আহলে বাইতের প্রতি উম্মতের ভালবাসা ও তাঁদের স্মরণ যে ইয়াজিদ গোষ্ঠী কখনও বিলুপ্ত করতে পারবে না এবং আহলে বাইতের মর্যাদার ধারে কাছেও যে পৌঁছুতে পারবে না ইয়াজিদ গোষ্ঠী তিনি তাও ভবিষ্যদ্বাণী করেন। জালিমদের ওপর যে আল্লাহর লানত বর্ষিত হবে এবং ইহকালে তাদের পতন ও চরম লাঞ্ছনা এবং পরকালেও আরো কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে হযরত জাইনাব (সা.) তাও উল্লেখ করেন ওই ভাষণে। তাঁর সেইসব অবিস্মরণীয় ভাষণ ও বক্তব্যগুলো মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচারিত হয়ে দামেস্ক ও কুফাসহ মুসলিম বিশ্বের জনগণের মধ্যে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিল। গোটা আরব উপদ্বীপের চার লাখ মানুষ হুসাইন (আ.) হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অভ্যুত্থান করে। ফলে কুফায় মুখতারের নেতৃত্বে নবী বংশের অবমাননাকারী ও ঘাতকরা লাঞ্ছনাপূর্ণ মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে নির্মূল হয়। আর এ জন্যই নবী(সা.) -নাতনী হযরত জাইনাব (সা.)-কে কারবালা বিপ্লবের অন্যতম সফল সংগঠক ও প্রধান পরিচালক বলা যায়। তাঁর বিপ্লবী তৎপরতা ও উপস্থিতি না থাকলে কারবালাতেই এ বিপ্লবের চির-সমাধি ঘটত এবং বাইরের কেউই এ বিপ্লব ও মহাট্র্যাজেডির খবরও হয়তো জানতো না। গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় ইবনে জিয়াদের আতঙ্ক জিয়াদ নবী (সা.)’র পরিবারের অবমাননার জন্য কুফা শহরের রাস্তায় রাস্তায় বন্দীদেরকে ঘুরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে উদ্যত হলে আবারও স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করেন নবী-নাতনী। তাঁর বাগ্মীতাপূর্ণ ও বিবেক-জাগানো এবং হৃদয়-বিদারক বক্তব্য শুনে কুফার জনগণ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ফলে ইবনে জিয়াদ গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সে বন্দীদের কাফেলাকে দ্রুত দামেস্কে পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং এমন সব পথ দিয়ে তাদেরকে নিয়ে যেতে বলে যাতে জনগণ নবী-পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পেরে ইয়াজিদ সরকারের প্রতি গণ-বিদ্রোহ বা গণ-বিক্ষোভ শুরু করার সুযোগ না পায়। নতুন ইমাম হযরত জাইনুল আবেদীনের বীরত্বপূর্ণ ভাষণ ইবনে জিয়াদ ও ইয়াজিদের দরবারে তেজোদৃপ্ত বক্তব্য রেখেছিলেন হযরত জাইনাব (সা.)। একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন নতুন ইমাম হযরত জাইনুল আবেদীন (আ)। কুফায় ফুফু জাইনাব (সা.) ও বোন ফাতিমার ভাষণ শুনে জনগণ যখন মর্মাহত হয় ও কাঁদতে থাকে তখন তাদের সমাবেশে নতুন এই ইমামও বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: হে মানুষেরা, আমি আলী, হুসাইন ইবনে আলী (আ.)’র সন্তান। আমি তাঁর সন্তান যার সব কিছু লুট করা হয়েছে, যার পরিবারের সবাইকে বন্দী করে এখানে আনা হয়েছে। আমি তাঁর সন্তান, যে ফোরাতের কিনারায় মর্মান্তিক ও নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে। হে লোকেরা! তোমরা কিয়ামতের দিন কিভাবে নবী(সা.)’র সামনে দাঁড়াবে? রাসূল (সা.) যখন তোমাদের বলবেন, “ তোমারা আমার পরিবারবর্গকে এভাবে কতল করেছ আর আমার মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ রাখনি, তাই তোমরা আমার উম্মত নও।” নতুন ইমামের এ বক্তব্য শুনে কুফাবাসী চিৎকার ধ্বনি দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং একে-অপরকে তিরস্কার করে বলতে থাকে : আমরা এতই দুর্ভাগা যে নিজেরা যে ধ্বংস হয়ে গেছি তাও জানি না। মৃত্যুর ভয়হীন যুবক ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.) ইবনে জিয়াদ নতুন ইমামকে হত্যার নির্দেশ দিলে ফুফু জাইনাব বলেন, তাহলে আমাকেও হত্যা কর্ তাঁর সঙ্গে! নতুন ইমাম বললেন, আপনি ওর সঙ্গে কথা বলবেন না, আমি ওর সঙ্গে কথা বলছি। তিনি জিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন: “ ওহে জিয়াদের ছেলে! আমাকে হত্যার ভয় দেখাচ্ছ? তুমি কি জান না শহীদ হওয়া আমাদের প্রথা ও শাহাদত বরণ আমাদের মর্যাদা....।” ইয়াজিদের দরবারে নতুন ইমামের ভাষণ: সিরিয়ায় শহরের অলি-গলি দিয়ে ইমাম ও তাঁর পরিবারের কয়েকজনকে একই দড়িতে বেঁধে ইয়াজিদের দরবারে আনা হয়। এ সময় ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.) বীরত্বের সঙ্গে ইয়াজিদের দিকে তাকিয়ে বলেন: হে ইয়াজিদ! আল্লাহর রাসূলের (সা.) ব্যাপারে কি চিন্তা করেছ, যদি তিনি এভাবে আমাদেরকে দড়ি বাঁধা অবস্থায় দেখেন? ইমামের এ কথা শুনে উপস্থিত সবার মধ্যে কান্নার রোল ওঠে। সিরিয়ায় ইয়াজিদি প্রচারণায় বিভ্রান্ত এক বয়স্ক ব্যক্তি নবী পরিবারের বন্দীদের কাছে এসে বলল: আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে ফিতনা নিভিয়ে দিয়েছেন। সে আরো কিছু আজে-বাজে কথা বলে। নতুন ইমাম (জাইনুল আবেদীন-আ.) তাকে বলেন: তুমি কি কুরআন পড়েছ। সে বলে: পড়েছি। ইমাম: এ আয়াতটি পড়েছ কি যেখানে এসেছে- বল হে রাসূল, আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না (ইসলাম প্রচারের বিনিময়ে), শুধু এটা চাই যে তোমরা আমার পরিবারকে ভালবাসবে? (সূরা আশুরা-২৩) হ্যাঁ, পড়েছি। রাসূলের আহলে বাইত (নবী-পরিবার) যে নিষ্পাপ তার প্রমাণ হিসেবে তিনি সুরা আহজাবের ৩৩ নম্বর আয়াতও তাকে শোনান। এভাবে তিনি নবী পরিবারের সম্মান ও অধিকারের দলিল হিসেবে নাজেল হওয়া আরো কয়েকটি আয়াতের কথা তুলে ধরলে ওই বয়স্ক লোকটি আকাশের দিকে হাত উঁচু করে তিনবার বলেন: হে আল্লাহ, আমি তওবা করেছি। আর তাঁদের হত্যা করাতে আমি অসন্তুষ্ট। আমি এর আগেও কুরআন পড়েছিলাম, কিন্তু এইসব সত্য জানতাম না। সিরিয়ার জামে মসজিদে নতুন ইমামের ভাষণ: সিরিয়ার মসজিদে নবী-বংশকে ও হযরত আলী (আ.)-কে গালি-গালাজ করা হত মুয়াবিয়ার আমল থেকেই। কারবালার ঘটনার পর একদিন এই মসজিদে হযরত আলী (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-কে উদ্দেশ করে অপমানজনক কথা বলে বেতনভোগী খতিব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)। তিনি খতিবকে বললেন: খতিব তুমি ইয়াজিদকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে দোযখে স্থান তৈরি করেছ নিজের জন্য। তিনি ইয়াজিদের দিকে ফিরে বললেন, আমাকেও মিম্বরে যেতে দাও, কিছু কথা বলব যাতে আল্লাহ খুশি হবেন ও উপস্থিত লোকদের সওয়াব হবে। উপস্থিত লোকদের চাপের মুখে ইয়াজিদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হয়। (ইয়াজিদ লোকদের প্রতি বলেছিল ইনি এমন এক বংশের লোক যারা ছোটবেলায় মায়ের দুধ পানের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানও অর্জন করতে থাকে) নতুন ইমাম মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসাসূচক কিছু বাক্য বলার পর বলেছিলেন: হে জনতা! আল্লাহ আমাদের ছয়টি গুণ ও সাতটি মর্যাদা দিয়েছেন। জ্ঞান, সহনশীলতা, উদারতা, বাগ্মিতা, সাহস ও বিশ্বাসীদের অন্তরে আমাদের প্রতি ভালবাসা। আমাদের মর্যাদাগুলো হল রাসূল (সা.), আল্লাহর সিংহ ও সত্যবাদী আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.), বেহেশতে দুই পাখার অধিকারী হযরত জাফর আততাইয়ার (রা.), শহীদদের সর্দার হামজা (রা.), রাসূল (সা.)’র দুই নাতী হযরত হাসান ও হুসাইন (আ.) আমাদের থেকেই, আর আমরাও তাঁদের থেকেই। যারা আমাকে জানে তারা তো জানেই, যারা জানে না তাদেরকে জানাচ্ছি আমার বংশ-পরিচয়: হে জনতা! আমি মক্কা ও মিনার সন্তান, আমি যমযম ও সাফা’র সন্তান। আমি তাঁর সন্তান যিনি হজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) তুলেছিলেন তাঁর কম্বলের প্রান্ত ধরে, আমি ওই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সন্তান যিনি কাবা তাওয়াফ করেছেন ও সাই করেছেন (সাফা ও মারওয়ায়) তথা হজ করেছেন। আমি এমন এক ব্যক্তির সন্তান যাকে একরাতেই মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল (রাসূলের মেরাজের ইঙ্গিত)।... আমি হুসাইনের সন্তান যাকে কারবালায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি আলীর সন্তান যিনি মুর্তাজা (অনুমোদনপ্রাপ্ত), আমি মুহাম্মদের সন্তান যিনি বাছাইকৃত, আমি ফাতিমাতুজ জাহরার সন্তান, আমি সিদরাতুল মুনতাহার সন্তান, আমি শাজারাতুল মুবারাকাহ বা বরকতময় গাছের সন্তান, হযরত খাদিজা (সা.)’র সন্তান আমি, আমি এমন একজনের সন্তান যিনি তার নিজের রক্তে ডুবে গেছেন, আমি এমন একজনের সন্তান যার শোকে রাতের আধারে জিনেরা বিলাপ করেছিল, আমি এমন একজনের সন্তান যার জন্য শোক প্রকাশ করেছিল পাখিরা। ইমামের খোতবা এ পর্যন্ত পৌঁছলে উদ্বেলিত জনতা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল ও বিলাপ শুরু করল। ফলে ইয়াজিদ আশঙ্কা করল যে গণ-বিদ্রোহ শুরু হতে পারে। সে মুয়াজ্জিনকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিল। ইমাম (আ.) আজানের প্রতিটি বাক্যের জবাবে আল্লাহর প্রশংসাসূচক বাক্য বলছিলেন। যখন মুয়াজ্জিন বলল, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল- তখন ইমাম (আ.) মাথা থেকে পাগড়ী নামিয়ে মুয়াজ্জিনের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি এই মুহাম্মাদের নামে অনুরোধ করছি, এক মুহূর্ত নীরব থাক। এরপর তিনি ইয়াজিদের দিকে তাকিয়ে বললেন: এই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ রাসূল কি আমার প্রপিতামহ না তোমার? যদি বল তোমার তাহলে গোটা পৃথিবী জানে তুমি মিথ্যা বলছ, আর যদি বল আমার তাহলে কেন তুমি আমার বাবাকে জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করেছ, তাঁর মালপত্র লুট করেছ ও তাঁর নারী-স্বজনদের বন্দী করেছ? একথা বলে ইমাম(আ.) নিজের জামার কলার ছিঁড়ে ফেললেন এবং কাঁদলেন। এরপর বললেন, আল্লাহর কসম এ পৃথিবীতে আমি ছাড়া আর কেউ নেই যার প্রপিতামহ হলেন রাসূলুল্লাহ (সা.), কেন এ লোকগুলো আমার পিতাকে জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করেছে এবং আমাদেরকে রোমানদের মত বন্দী করেছে?...অভিশাপ তোমার ওপর যেদিন আমার প্রপিতামহ ও পিতা তোমার ওপর ক্রুদ্ধ হবেন। গণ-বিদ্রোহের আশঙ্কায় দিশাহারা ও আতঙ্কিত ইয়াজিদ অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াজিদ নামাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ জনতার অনেকেই মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। পরিস্থিতির চাপে পড়ে ইয়াজিদ নিজেও ভোল পাল্টে ফেলে ইমাম হুসাইন (আ.) ও নবী পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং এর দায় জিয়াদের ওপর চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। ইয়াজিদকে হত্যার পরিকল্পনা ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন (আ.)’র বোন হযরত জাইনাব (সা.)’র অনুরোধে কারবালার শহীদদের জন্য শোক অনুষ্ঠান পালনের অনুমতি দেয়। সাত দিন ধরে শোক সমাবেশ হয়। বিপুল সংখ্যক সিরিয় নারী শোক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। সিরিয় পুরুষদের অনেকেই সিদ্ধান্ত নেন যে তারা ঝড়ের গতিতে ইয়াজিদের প্রাসাদে ঢুকে তাকে হত্যা করবে। ইয়াজিদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মারওয়ান এ পরিকল্পনার কথা জেনে ফেলে। সে ইয়াজিদকে পরামর্শ দেয় হুসাইনের পরিবারকে সিরিয়ায় বেশি দিন রাখা ঠিক হবে না। তাঁদেরকে মদীনায় ফেরত পাঠানো জরুরি। ইয়াজিদ নবী-পরিবারকে সফরের রসদপত্র দিয়ে তাঁদেরকে মদীনায় পাঠিয়ে দেয়। আসলে কারবালা বিপ্লবের ব্যাপারে ইমাম হুসাইন (আ.)’র বোন হযরত জাইনাব (সালামুল্লাহি আলাইহা) ও অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ইমামের পুত্র ইমাম জাইনুল আবেদীনের (আ.) বলিষ্ঠ ভাষণ ও সত্য ঘটনা প্রচারের ফলেই জনগণ আসল ঘটনা বুঝতে পারে। ফলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ইরাকে ও হিজাজে (বর্তমান যুগের সৌদি আরব অঞ্চল) বিদ্রোহ দেখা দেয়। কুফায় মুখতারের নেতৃত্বে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয় এবং এই সরকার ইমাম হুসাইন (আ.) হত্যাকারী ওমর সাদ ও শিমারসহ ইয়াজিদ বাহিনীর প্রায় সব ঘাতককে হত্যা করে। অনেক ঘাতক অলৌকিকভাবে কঠোর শাস্তি পেয়েছিল। চতুর্থ ইমাম ইমাম জয়নুল আবেদীন আঃ যাকে আমরা ইমাম সাজ্জাদ আঃ এ নামেও চিনে থাকি কারবালার ঘটনার পর তিনি যখনই পানি দেখতেন বাবাসহ কারবালার শহীদদের চরম পিপাসার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন এই পশুকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আমার (তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত) বাবাকে পানি না দিয়েই জবাই করেছিল ইয়াজিদ-সেনারা। তিনি সব সময় রোজা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতেন: রাসূল (সা.)’র সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়। ইমাম জাইনুল আবেদীন তাঁর বাবার জন্য ৩৪ বছর ধরে কেঁদেছিলেন তিনি সব সময় দিনে রোজা রাখতেন ও পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন। রোজা ভাঙ্গার সময় তিনি বাবার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করে এত বেশি কাঁদতেন যে অশ্রুতে খাবার ভিজে যেত এবং খাবার পানিতেও অশ্রু মিশে যেত। জীবনের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল তাঁর। একদিন তাঁর খাদেম ইমামের কান্নারত অবস্থায় তাঁকে বলেন: আপনার দুঃখ ও আহাজারি শেষ হয়নি? উত্তরে তিনি বলেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর একজন নবী ছিলেন। তাঁর ১২ জন সন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এক পুত্র ইউসুফকে চোখের আড়ালে রাখায় শোকে, দুঃখে ও অতিরিক্ত কান্নায় তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে পড়েন, চুল পেকে যায় ও পিঠ বাঁকা হয়ে যায়। সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর এ অবস্থা হয়েছিল। আর আমি আমার পিতা, ভাই এবং পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে মাটিতে পড়ে যেতে ও শহীদ হতে দেখেছি; তাই কিভাবে আমার দুঃখ ও অশ্রু থামতে পারে? গভীর ধার্মিকতা ও আল্লাহর প্রেমে সিজদা-প্রবণ ছিলেন বলে ইমাম জাইনুল আবেদীন (আ.)-কে বলা হত 'সাজ্জাদ'। ইমাম জাইনুল আবেদীন(আ.) সফরে বের হলে অপরিচিত ব্যক্তির কাছে কখনও রাসূলের বংশধর বলে পরিচয় দিতেন না যাতে লোকজন তাঁকে বিশেষ চোখে না দেখে। সত্য প্রচারে তাঁর সাহসিকতার প্রমাণ কুফা ও দামেস্কের দরবারেই সীমিত ছিল না। একবার খলিফা আবদুল মালিক ইমাম সাজ্জাদের (আ.) কাছে কিছু উপদেশ প্রার্থনা করলে তিনি বললেন, পবিত্র কুরআনের উপদেশের চেয়ে বড় উপদেশ কি হতে পারে? পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-যারা ওজনে কম দেয় তাদের জন্যে আক্ষেপ! যখন ? কম ওজনদাতার ব্যাপারে আল্লাহ এতো কঠোর কথা বলেছেন তখন তার অবস্থা কেমন হতে পারে যে জনগণের সমস্ত সম্পদ লুট করে) সহিফায়ে সাজ্জাদিয়া ইমাম জাইনুল আবেদীনের (আ.) এক অনন্য সৃষ্টি। ইমাম সাজ্জাদের বেশিরভাগ বিখ্যাত দোয়া স্থান পেয়েছে এ সংকলনে। মত প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি তাঁর বিভিন্ন প্রাণস্পর্শী দোয়া, আকুতি, মোনাজাত ও বাণীর মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন দিকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। এসব দোয়ায় আত্মিক পরিশুদ্ধির জ্ঞান ছাড়াও রয়েছে খোদা পরিচিতি, বিশ্বদৃষ্টি, মানুষের পরিচিতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা। এছাড়াও রিসালাতুল হুকুক নামে ইমামের একটি পুস্তিকা রয়েছে। এতে মানুষের ওপর মহান আল্লাহর অধিকারসহ নানা ধরনের অধিকারের বর্ণনা রয়েছে। ইমাম সাজ্জাদ (আ.)’র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তৎপরতা যখন সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে তখন তা উমাইয়া শাসকদের জন্যে অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাই তৎকালীন উমাইয়া শাসক ওলীদ বিন আবদুল মালিক ইমামকে বিষ প্রয়োগে শহীদ করে। কিন্তু ইমাম সাজ্জাদের পথ নির্দেশনা তাঁর সন্তান ও অনুসারীদের মাধ্যমে অমর হয়ে আজো আলো বিকিরণ করে চলেছে। ইমাম বলেছেন, - আমি তাদের ব্যাপারে বিস্মিত যারা ক্ষতির কারণে বিভিন্ন ধরনের খাবার বর্জন করে অথচ তারা কদর্যতার কারণে পাপ বর্জন করে না। - তোমরা বেহেশতে সর্বোচ্চ স্থান লাভের চেষ্টা করবে। তোমরা মনে রেখো যারা অপর ভাইয়ের প্রয়োজন মেটায় এবং দীন-দুঃখীদের সাহায্য করে কেবল তাদেরকেই বেহেশতে সর্বোচ্চ স্থান দেয়া হয়ে থাকে। আল্লাহুম্মা লায়ান কাতালাতাল হুসাইন আঃ লানাতুল্লাহি আলাল কাজেবিন আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মোহাম্মাদ দিন ওয়া আলে মোহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম নিবেদক মোঃ জাহিদ হোসেন

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

হযরত আবুল ফযল আব্বাস (আ.)-এর শাহাদাত : পানি যেন চিরকাল লজ্জিত তাঁর কাছে! বর্ণনাকারী বলেন,ইমাম হুসাইন পিপাসায় কাতার হয়ে ফোরাতের তীরে উপস্থিত হলেন। সাথে রয়েছেন তার (সৎ) ভাই আব্বাস। ইবনে সা’দের বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ল দু’জনের ওপর। তাদের পথ বন্ধ করল। বনী দারাম গোত্রের এক দুরাচার আবুল ফযল আব্বাস-এর দিকে তীর নিক্ষেপ করলে তা তাঁর পবিত্র মুখে বিদ্ধ হয়। ইমাম হুসাইনই তা টেনে বের করে নেন,তার হাত রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। তিনি সেই রক্ত ছুড়ে ফেলে বললেন : ‘হে আল্লাহ ! এ জনগোষ্ঠী তোমার নবী নন্দিনীর সন্তানের ওপর এ জুলুম চালাচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে তোমার দরবারে বিচার দিচ্ছি। ইবনে সা’দের বাহিনী মুহূর্তের মধ্যে ইমাম হুসাইনের কাছ থেকে হযরত আব্বাসকে ছিনিয়ে নেয়। চতুর্মুখী আক্রমণ ও তরবারির সম্মিলিত আঘাতে হযরত আব্বাস শহীদ হন। তাঁর শাহাদাতে ইমাম হুসাইন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কবি তাই তো বলেছেন : ‘‘কতই না উত্তম ব্যক্তি –যার জন্য ইমাম হুসাইন কারবালার এ কঠিন মুসিবতের সময়ও কেঁদেছেন। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (সৎ) ভাই,তার বাবা ছিলেন আলী, তিনি তা আর কেউ নন রক্তাক্ত বদন আবুল ফযল আব্বাস। তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের সহমর্মী,কোনো কিছুই তাকে এপথ থেকে সরাতে পারেনি। প্রচণ্ড পিপাসা নিয়ে ফোরাতের তীরে পৗছেন,কিন্তু ইমাম হুসাইন যেহেতু পান করেননি তিনিও তাই পানি মুখে নেননি।’অন্য কবি বলেন : ‘মুষ্টির মাঝে পানি নিলেন, মনভরে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করবেন কিন্তু যখনই ইমাম হুসাইনের পিপাসার কথা মনে পড়লো, হাতের মুঠোর পানিতে অশ্রু ফেলে ফিরে আসলেন।’হযরত আবুল ফযল আব্বাস-এর এ মহান আত্মত্যাগ সকল লেখক, চিন্তাশীলের দৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ।আল্লামা মজলিসী তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বিহারুল আনওয়ার’-এ লিখেছেন,‘হযরত আব্বাস ফোরাতের তীরে গেলেন। যখনই অঞ্জলি ভরে পানি পান করতে চাইলেন তখন হঠাৎ ইমাম হুসাইন ও তার আহলে বাইতের পানির পিপাসার যন্ত্রণার কথা মনে পড়ল। তাই তিনি পানি ফোরাতেই ফেলে দিলেন,পান করলেন না।’আরেকজন কবি বলেন : ‘আবুল ফযল আব্বাস তার সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণ ইমাম হুসাইনের জন্যই উৎসর্গ করেছেন। ইমাম হুসাইন পান করার পূর্বে তিনি নিজে পান করলেন না। মানুষের কর্মের সর্বোত্তম কর্ম ও মূল কাজই তিনি করলেন। আপনি তো গৗরবের দিবসে রাসূলের দুই নাতির ভাই, আর আপনিই তো পানি পানের দিবসে করেছেন আত্মত্যাগ, হে আবুল ফযল!’পানি টলটলায়মান, বাদশাহ তৃষ্ণায় ওষ্ঠাগত,উদ্যম তার অন্তরে হাতে রয়েছে পানির মশক,মুর্তাযার সিংহ শাবককে হামলা করলো এমনভাবেএ যেন অগণিত নেকড়ের মাঝে এক বাঘ।এমন একটি বদন কেউ দেখেনি যাতে কয়েক হাজার তীর,এমন একটি ফুল কেউ দেখেনি যাতে রয়েছে কয়েক হাজার কাঁটা। শেইখ মুফীদ তার ‘ইরশাদ’-এ এবং শেইখ তাবারসি তার ‘আ’লামুল ওয়ারা’-তে বলেছেন যে, সেনাবাহিনী ইমাম হুসাইনকে (আ.) আক্রমণ করলো এবং তার সৈন্যদের ছড়িয়ে দিলো এবং তাদের পিপাসা বৃদ্ধি পেলে ইমাম তার ভাই আব্বাস (আ.) কে নিয়ে ফোরাতের দিকে ঘোড়া ছোটালেন। উমর বিন সা’আদের বাহিনী তাদের পথ আটকে দিলো এবং বনি দারিম থেকে এক ব্যক্তি তাদের উদ্দেশ্যে বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, ফোরাতের দিকে তাদের রাস্তা বন্ধ করে দাও যেন তারা সেখানে পৌঁছতে না পারে।” ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” সে ক্রোধান্বিত হলো এবং ইমামের দিকে একটি তীর ছুঁড়ে মারলো যা তার থুতনি ভেদ করলো। ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং নিজের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন। এতে তার হাত রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে অভিযোগ করছি তারা কী আরচণ করছে তোমার রাসূলের (সা.) কন্যার সন্তানের সাথে।” এরপর তারা তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ফিরে এলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী হযরত আব্বাস (আ.) কে ঘেরাও করে ফেললো এবং ইমাম হুসাইন (আ.) থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। আব্বাস একা একা যুদ্ধ করলেন এবং শহীদ হয়ে গেলেন। যায়েদ বিন ওয়ারখা হানাফি এবং হাকীম বিন তুফাইল তাঈ’ যৌথভাবে তাকে হত্যা করে তাকে বেশ কিছু আঘাতে আহত করার পর এবং তার নড়াচড়া করার মত শক্তি আর ছিলো না। সাইয়েদ ইবনে তাউস কিছুটা একই রকম বর্ণনা দিয়েছেন। হাসান বিন আলী তাবারসি বর্ণনা করেন যে, (বনি দারিম গোত্রের) অভিশপ্তের তীরটি ইমাম হুসাইন (আ.) এর কপালে বিদ্ধ হয় এবং আব্বাস তা তুলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী বর্ণনাটিই বেশী পরিচিত। তাবারি বর্ণনা করেন হিশাম থেকে, তিনি তার পিতা মুহাম্মাদ বিন সায়েব থেকে, তিনি ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বিন নাবাতাহ থেকে যিনি বলেছেন, (কারবালায়) ইমাম হুসাইন (আ.) শহীদ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলো এমন একজন আমাকে বলেছে যে, যখন হোসেইনের সেনাদল প্রাণ হারালো তিনি তার ঘোড়ায় চড়লেন এবং ফোরাত নদীর দিকে গেলেন। বনি আবান বিন দারিম গোত্রের এক লোক বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, তার এবং ফোরাত নদীর মাঝখানে অবস্থান নাও যেন তার শিয়ারা (অনুসারীরা) তার সাথে যুক্ত হতে না পারে।” তিনি ঘোড়া ছোটালেন এবং সেনাবাহিনীও তাকে অনুসরণ করলো এবং ফোরাত নদীতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলো। ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত করুন।” আবানি লোকটি একটি তীর ছুঁড়লো যা ইমামের থুতনি ভেদ করলো, ইমাম তীরটি টেনে বের করলেন এবং তার হাতের তালু দিয়ে তার নিচে চেপে ধরলেন, যা রক্তে পূর্ণ হয়ে গেলো এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে অভিযোগ করি কী আচরণ তারা করছে আপনার রাসূল (সা.) এর কন্যার সন্তানের সাথে।” আল্লাহর শপথ, বেশী সময় যায় নি যখন আমি দেখলাম তার (আবানি লোকটির) প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়ে বসলো এবং কখনোই নিবারণ হলো না। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ আরও বলেন যে, আমি তার সাথে ছিলাম যে বাতাস করছিলো তাকে (আবানি লোকটিকে) এবং একটি মিষ্টি শরবত, এক জগ দুধ ও পানি রাখা ছিলো। সে বলছিলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর। তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” এক জগ অথবা এক কাপ পানি যা তার পরিবারের তৃষ্ণা মিটাচ্ছিলো, তাকে দেয়া হলো, সে তা পান করলো ও বমি করলো। এরপর কিছু সময় ঘুমালো। এরপর আবার সে বলতে শুরু করলো, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর, আমাকে পানি দাও, তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” আল্লাহর শপথ এ রকম কোন দৃশ্য এর আগে দেখা যায়নি এবং তার পেট উটের মত ফেটে গেলো। ইবনে নিমার বর্ণনা অনুযায়ী এই লোকটির নাম ছিলো যারাআহ বিন আবান বিন দারিম। ক্বাসিম বিন আল আসবাগ বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি থেকে যে কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) কে দেখেছিলো, তিনি একটি খাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নদীর তীরের কাছেই, ফোরাত নদীতে যাওয়ার জন্য এবং আব্বাস ছিলেন তার সাথে। সে সময় উমর বিন সা’আদের জন্য উবায়দুল্লাহর চিঠি এসে পৌঁছায় যাতে লেখা ছিলো, “হুসাইন ও তার সাথীদের জন্য পানি সরবরাহ বন্ধ করে দাও এবং তাদেরকে এক ফোটাও স্বাদ নিতে দিও না।” উমর বিন সা’আদ পাঁচশত লোক দিয়ে আমর বিন হাজ্জাজকে পানির কাছে পাঠালো। আব্দুল্লাহ বিন হাসীন আযদি উচ্চকণ্ঠে বললো, “হে হুসাইন, তুমি কি দেখছো পানি বইছে বেহেশতের মত? আল্লাহর শপথ, তুমি এ থেকে এক ফোঁটাও পাবে না যতক্ষণ না তুমি ও তোমার সাথীরা তৃষ্ণায় ধ্বংস হয়ে যাও।” যারা’আহ বিন আবান বিন দারিম বললো, “তার ও ফোরাত নদীর মাঝে অবস্থান নাও।” এরপর সে একটি তীর ছোঁড়ে ইমামের দিকে যা তার থুতনিতে বিদ্ধ হয় এবং তিনি বললেন, “হে আল্লাহ তাকে তৃষ্ণায় মরতে দাও এবং কখনোই তাকে ক্ষমা করো না।” ইমাম (আ.) এর জন্য এক পেয়ালা পানীয় আনা হলো কিন্তু তিনি তা পান করতে পারলেন না অনবরত রক্ত ঝরার কারণে। তিনি রক্তকে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন, “একইভাবে আকাশের দিকে।” শেইখ আব্দুস সামাদ বর্ণনা করেন আবুল ফারাজ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন জওযি থেকে যে, এর পরে আবানি ব্যক্তিটি (যারআহ) পাকস্থলি পোড়া এবং ঠাণ্ডা পিঠের রোগে আক্রান্ত হয়েছিলো এবং চিৎকার করতো। ‘উমদাতুত তালিব’-এর লেখক আব্বাস (আ.) এর সন্তানদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে, তার (আব্বাসের) কুনিয়া ছিলো আবুল ফযল এবং উপাধি ছিলো সাক্কা (পানি বহনকারী)। তাকে এ উপাধি দেয়া হয়েছিলো কারণ তিনি তার ভাইয়ের জন্য আশুরার দিন পানি আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই শহীদ হয়ে যান। তার কবরটি (ফোরাত) নদীর তীরে তার শাহাদাতের স্থানেই আছে। সে দিন তিনি ছিলেন ইমাম হুসাইনের (আ.) পতাকাবাহী। আবু নসর বুখারি বর্ণনা করেছেন মুফাযযাল বিন উমার থেকে যে, ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) বলেছেন, “আমার চাচা আব্বাস ছিলেন বুদ্ধিমান এবং তার ছিলো দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম হোসেইনের) সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং মুসিবতের ভিতর দিয়ে গেছেন শহীদ হওয়া পর্যন্ত। বনি হানিফা তার রক্তের দায়ভার বইছে। তিনি ছিলেন চৌত্রিশ বছর বয়েসী যখন তাকে হত্যা করা হয়। তার এবং উসমান, জাফর এবং আব্দুল্লাহরও মা ছিলেন উম্মুল বানীন, যিনি ছিলেন হিযাম বিন খালিদ বিন রাবি’আর কন্যা।

ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏কে কারা হত্যা করেছে? – ‏৩(ওহাবি, ‏নাসেবীদের ও আহলে সুন্নাহদের প্রপাগন্ডার জবাব)৪) ‏ইমাম হুসাইন আঃ ও তার সাথীদের ও নবী পরিবারের হত্যায় ইয়াজিদ, ‏সাহাবা, ‏সাহাবাদের পুত্ররা ও উসমানের ধর্মের লোকেরা সহ কারা জড়িত ছিল তার প্রমাণ। এই সব হত্যাকারিদের সাথে আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীদের সখ্যতা।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার কারিদের পরিচয়ঃ এর আগে উল্লখে করা হয়েছে যে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াদকে চিঠি লিখে মুহাম্মাদ বিন আকীলে হত্যা করার কথা বলেছিল। সেই মত ইবনে যিয়াদ তদন্ত্ব চালিয়ে মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করেঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখানে আমরা দুজনের নাম পেলাম যারা ইমাম হুসাইনের সাথি মুসলিম বিন আকীলের বিরুদ্ধে ইবনে যিয়াদের সেনা/পুলিশ ছিল, ‏১) ‏আমর বিন হারিস আল মাখযুমি ২) ‏মুহাম্মাদ বিন আশাসআমর বিন হারিস আল মাখযুমি কে?এখানে আমরা যে নতুন নাম পেলাম সে হল আমর বিন হারিস আল মাখযুমি যে কিনা কুফার পুলিশ প্রধান ছিল, (মুহাম্মাদ বিন আশাসের নাম আগেও এসেছে পরে এই ব্যাক্তির পরিচয় দেওয়া হবে) ‏এবং ইবনে আকীলের গ্রেফতারে প্রধান ভুমিকা রাখে।এই আমর বিন হারিস আল মাখযুমি একজন সাহাবী ছিলেন।যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ৪১৮ এ উল্লেখ করেছেঃكان عمرو من بقايا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين كانوا نزلوا الكوفة… له صحبة ورواية.“আমর বিনকে রাসুল সাঃ এর সাহাবীদের মধ্যে গন্য করা হয় এবং সে কুফার অভিবাসী হয়ে যায়…… ‏সে সাহাবী এবং রাসুল সাঃ এর থেকে বর্ননা করেছেন”।সাহাবীদের ও অন্যান্যদের জীবনীর উপরে ইবনে আসীরের লেখা বিখ্যাত কেতাব ‎‘উসুদুল গাবা’ ‏এর খন্ড ৪ পাতা ৯৮ এ আমর বিন হারিসের কথায় উল্লেখ করেছেনঃوولي لبني أمية بالكوفة وكانوا يميلون إليه ويثقون به وكان هواه معهم“তাকে বনি উমাইয়ারা নিয়োগ করেছিল কুফাতে, ‏তারা তাকে বিশ্বাস করত”।অনুরুপ ভাবে যাহাবি তার ‎‘আল কাশিফ’ ‏এর খন্ড ২ পাতা ৭৪, ‏৪১৪০ নং জীবনীতে, ‏ইবনে হাজর তার তাহযিব আত তাহযিব এর খন্ড ১ পাতা ৭৩২ এ জীবনী নং ৫০২৪ এ আমর বিন হারিসকে সাহাবী হিসাবে গননা করেছেন।মুসলিম বিন আকীলের গ্রেফতার ও লড়াইয়ের মুল হোতা আহলে সুন্নার কাছে অতি সম্মানিয় ব্যাক্তি। আহলে সুন্নাহ এনার থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তার হাদিস আহলে সুন্নাহর প্রধান প্রধান কেতাবে দেখা যায় যেমনঃ১) ‏সহিহ বুখারি।২) ‏সহিহ মুসলিম।৩) ‏সুনান আবু দাউদ।৪) ‏সুনান তিরমিযি।৫) ‏সুনান আন নাসাঈ।৬) ‏সুনান ইবনে মাজা।মুসতাদরাক আল হাকিম, ‏তাবারানি, ‏মুসনদে ইমাম আহমাদ আরো অনেক হাদিসের কিতাবে।মুসলিম বিন আকীলকে গ্রেফতার করার সময় অস্ত্রের যুদ্ধ হয় এবং তাতে মুসলিম বিন আকীল ঘায়েল হয়ে যান এবং তাকে গ্রফতার করা হয়ঃ ইবনে কাসীর তার ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৫ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃ“ ‏ঐতিহাসিকগন বলেন, ‏মুসলিম বিন আকীল যখন কুফার প্রশাসকের প্রাসাদদ্বারে পৌঁছল, ‏তখন সাহাবাদের ছেলেগনদের মধ্য থেকে তাঁর পরিচিত একদল আমির উমারা ছিলেন। ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের অনুমতির জন্য তারা অপেক্ষা করছিলেন। এদিকে মুসলিম গুরুতর আহত তাঁর মুখমণ্ডল ও কাপড় চোপড় রক্তে রঞ্জিত তিনি ভীষন পিপাসার্ত আর এই সময় সেখানে এক কলস ঠান্ডা পানি ছিল। তা থেকে পান করার জন্য তিনি কলসিটা ধরতে চাইলেন, ‏তখন তাদের এক ব্যাক্তি বলল ‎‘আল্লাহর কসম! ‏জাহান্নামের তপ্ত পানি পান করার পুর্বে তুমি তার থেকে পান করবে না’। তখন তিনি তাকে বললেন ‎‘তোমার সর্বনাশ হোক! ‏হে বাচ্চা! ‏আমার থেকে তুমি জাহান্নামের তপ্ত পানি এবং সেখানে চিরস্থায়ী হওয়ার বেশি উপযুক্ত’”।উপরের রেফারেন্স থেকে বোঝা গেল যে সাহাবী ও সাহাবীদের ছেলেপুলেরা কিভাবে ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দুত মুসলিম বিন আকীলের হত্যায় জড়িত।যেসব সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইবনে যিয়াদের সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের নাম ইবনে কাসীর উল্লেখ করেননি, ‏কিন্তু তাবারিতে নাম পাওয়া যায় যেমন, ‏কাসীর বিন শাবিবাহ বিন আল হুসাইব আল হারিসি। ইবনে সাদ তার তাবাকাত এ এই তাবেই সমন্ধে উল্লেখ করেছেন ‎“সে উমার বিন খাত্তাব থেকে বর্ননা করেছে এবং সে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ানের গভর্নর ছিল’। ‎(খন্ড ৪ পাতা ১০৪)উপরের দলিল থেকে প্রমাণিত হল যে সাহাবা ও সাহাবাদের ছেলেপুলেরা ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর সাথিদের হত্যায় জড়িত ছিল।উসমানের ধর্মের লোকেরা ইমাম হুসাইন আঃ ও তাঁর সাথিদের হত্যাকান্ডে জড়িতএ বিষয় প্রমানের জন্য সরাসরি কারবালার যুদ্ধ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। যখন যুদ্ধ শুরু হয় এবং এক এক পক্ষ থেকে একজন একজন করে যুদ্ধ হচ্ছিল তখন হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর দল থেকে নাফি বিন হিলাল বার হয়ে এসে বললেনঃ“আমি জামালি, ‏আলী আলির ধর্মে বিশ্বাস করি’।মুজাহিম আল হুরাইস নামে একজন বার হয়ে হুংকার ছাড়ল ‎‘আমি উসমানের ধর্ম অনুসরণ করি’।নাফি উত্তর দিল ‎‘বরং তুই শয়তানের ধর্ম অনুসরণ করিস’। আর পরে সে ‎(নাফি) ‏তাকে আক্রমণ করল ও হত্যা করল’। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১৩৬,১৩৭)ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মোমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা): “হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল”।ইবনে কাসীর ‎(আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩৬৫ ইঃফা): “ইবনে যিয়াদ আল হারমাযুনের গভর্নরের আমর ইবনে সায়ীদের কাছে হুসাইনের নিহত হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে পত্র প্রেরণ করলো সে একজন ঘোষকে ডেকে এই খবর ঘোষনা দিল। বনূ হাসিমের মেয়েরা যখন এই সংবাদ শুনল তারা উচ্চস্বরে কান্না বিপাল করতে লাগলো। তখন আমর বিন সায়ীদ বলতে লাগলো এই হল উসমান বিন আফফানের শোকে বিলাপকারীণিদের বদলা”।সুতরাং ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏এর হত্যাকে উসমানের হত্যার বদলা নেওয়া হিসাবে দেখা হয় এবং উসমানীদের বা উসমানের শিয়া বা অনুসরণকারিদের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়।ইবনে তাইমিয়া তার ‎“মিনহাজ আস সুন্নাতে’ “যদি নাসেবী ইবনে সাদকে উসমানী বলা হয়, ‏সেটা এইজন্য যে উসমানের জন্য তার প্রতিশোধ নেওয়া ও তাকে প্রশংসা করার জন্য”।ইবনে তাইমিয়া আর উল্লখে করেছে ‎وقد كان من شيعة عثمان من يسب عليا ويجهر بذلك على المنابر“উসমানের শিয়ারা প্রকাশ্যে মিম্বার থেকে আলিকে গালি দিত”।মুহাম্মাদ বিন আশাস ‎/ ‏আশআস কে?এর আগে বেশ কয়েক বার এই নাম উল্লেখ হয়েছে এখানে আর একবার রিভিশন করা হল।কুফায় এসে ইবনে যিয়াদ সরকারি পুলিশদের নির্দেশ দেয় যে মুসলিম বিন আকিলকে সহ তার সাহায্যকারিদের গ্রেফতার করার জন্য। এই কাজের জন্য ইয়ামানি গোত্র প্রধান কাসির বিন শিবাব ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে ভার দেয়। তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ৪৯;“কাসীর, ‏কালব গোত্রের একজনের সাথে দেখায় পায় যার নাম আবদুল আলা বিন ইয়াজিদ। সে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল মুসলিম বিন আকীলের ও অন্যান্য যুবকদের সাথে যুক্ত হতে। কাসীর তাকে পাকড়াও করে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে গেল এবং এই ব্যাক্তির ব্যাপারে বলল, ‏কিন্তু লোকটা বলল যে সে তার কাছে আসছিল। ইবনে যিয়াদ বলল, ‘নিশ্চই নিশ্চই! ‏আমার মনে পড়েছে তুমি আমকে এই ব্যাপারে ওয়াদা করেছিলে’! ‏ইবনে যিয়াদ তাকে গারদে দিতে বলল।মুহাম্মাদ বিন আশাস বনু উমারাহ গোত্রের ঘরদের দিকে গেল। উমারাহ বিন সালখিন আল আজদি তার কাছে এলো, ‏সে অস্ত্র নিয়ে ইবনে আকীলের কাছে যাচ্ছিল। মুহাম্মাদ বিন আশাস তাকে ধরে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠাল, ‏ইবনে যিয়াদ তাকে কারাগারে দিল”।‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ২৯৪ ‎( ‏বাংলা ইঃফা) ‏এ উল্লেখ করেছেনঃوبعث ابن زياد عمرو بن حريث المخزومي وكان صاحب شرطته ومعه عبدالرحمن ومحمد بن الأشعث في سبعين أو ثمانين فارسا ، فلم يشعر مسلم إلا وقد أحيط بالدار“ইবনে যিয়াদ তার পুলিশ প্রধান আমর বিন হারিস আল মাখযুমিকে ৭০ বা ৮০ জন অশ্বারোহী দিয়ে পাঠালো সাথে আব্দুর রহমান ও মুহাম্মাদ বিন আশাসকে পাঠালো। মুসলিম বিন আকিল কিছু বোঝার আগেই সেই বাড়ি ঘিরে নেওয়া হয়…”।এখন আমরা দেখবো যে আহলে সুন্নাহরএই পুর্বপুরুষ মুহাম্মাদ বিন আশাস ও আহলে সুন্নাহর মধ্যে আঁতাত। যথারীতি আহলে সুন্নাহর ধর্মগুরু এই আহলে বাইত আঃ এর শত্রু। এর থেকে হাদিস শিক্ষা নিয়েছে আহলে সুন্নাহ আর অনেক ধর্ম গুরু। আমরা এই ব্যাক্তির হাদিস পাই নিম্নোক্ত হাদিসের কেতাব গুলিতেঃ১) ‏মুয়াত্তা এ ইমাম মালিক।২) ‏সুনানে ইমাম নাসাই।৩) ‏মুসনদে ইমাম হাম্বল।৪) ‏সুনান কুবরা, ‏বাইহাকী।মুসলিম এই ব্যক্তির নাতিপুতির থেকে হাদিস বর্ননা করেছেন।রেজাল শাস্ত্রে ইমামগণ যেমন ইবনে হিব্বান তাকে তার শিকাত এ উল্লেখ করেছেন। ‎(তাহযিব আল কামাল, ‏খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬)।ইবনে হাজর আস্কালানী তার তাকরীব আত তাহযীব এ তাকে তাবেঈন বলে উল্লেখ করেছেন এবং যার হাদিস কবুল করা যায় বলেছেন ‎(মকবুল)। ‎(খন্ড ২ পাতা ৫৭, ‏জীবনী নং ৫৭৬০)।এই মুহাম্মাদ ইবনে আশাস আহলে সুন্নাহর বড় সাহাবী পরিবারের সাথে যুক্ত, ‏তাহযিব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৫ ‎“মুহাম্মাদ বিন আশাস বিন কায়েস আল কিন্দি আবুল কাসেম আল কুফি, ‏তাঁর মা উম্মে ফারাহ বিন আবি কুহাফা যে আবু বকরের বোন”।আহলে বাইতের এই শত্রুকে মুখতার হত্যা করে। তাহযীব আল কামাল খন্ড ২৪ পাতা ৪৯৬قتله المختار سنة ست وستين“আল মুখতার তাকে ৬৬ সনে হত্যা করে”।প্রসঙ্গত একটা কথা পাঠকদের বলে রাখি সে এই মুখতার রহঃ কে আহলে সুন্নাহরা গালি দেয় নামে পরে কাজ্জাব লেখে এবং নিন্দা মন্দ করে। অথচ ইমাম হুসাইন ‎(আঃ) ‏হত্যায় জড়িত প্রায় সব লোকদের এই মুখতার হত্যা করে। সেই কারনেই হয়ত মুখতারের মত লোককে আহলে সুন্নাহ দেখতে পারে না। অথচ মুখতার তাবেঈ ছিল ও সাহাবীর ছেলে ছিল। পরে ইনশাল্লাহ এই বিষয় আর আলোচনা করা হবে। হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের যে ব্যাক্তি সাজা দিয়েছে আহলে সুন্নাহর কাছে সেই মুখতার একজন জগন্য লোক ও মিথ্যাবাদী। এটাও প্রমান করে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদের প্রতি আহলে সুন্নাহর মুহাব্বাতও আত্মিক একাত্ব।উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাসউমার বিন সাদ হচ্ছে বিখ্যাত সাহাবী সাদ ইবনে আবি ওক্কাস এর পুত্র। সে সাদ বিন আবি ওক্কাস উমার বিন খাত্তাবের দ্বারা গঠিত খলিফা কমিটির একজন সদস্য ছিলেন ও খলিফা হওয়ার প্রার্থী ছিলেন।এই উমার বিন সাদ কারবালায় ইয়াজিদের বাহিনীর সেনাপতি ছিল। এই উমার বিন সাদ যে ইয়াজিদকে চিঠি লিখেছিল যে কুফার গভর্নর নুমান বিন বাসীর দুর্বল লোক। এই উমার বিস সাদকে ইয়াজিদ তার চিঠিতে লিখেছিল যে আমার শীয়া। অর্থাৎ এই উমার বিন সাদ ইয়াজিদের শীয়া ছিল।তখন কুফায় ইয়াজিদের শীয়ারা ‎– ‏ইয়াজিদের দলের লোকেরা ইয়াজিদকে চিঠি লেখেঃ“মুসলিম বিন আকীল কুফায় এসেছে আর শীয়ারা হুসাইন বিন আলির হয়ে তার হাতে বায়াত করছে। যদি আপনি কুফানদের চান তবে একজন কঠিন লোককে এখানে পাঠান যে আপনার হুকুম তালিম করবে এবং ওই কাজ করবে ঠিক সেই ভাবে আপনি আপানার শত্রুদের প্রতি ব্যবহার করেন। নুমান বিন বাশীর একজন দুর্বল লোক বা দুর্বলের মত ব্যবহার করছে”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯, ‏পাতা ৩০)এই ধরনের চিঠি যা ইয়াজিকে কুফা থেকে আহলে সুন্নাহর মোতবার লোকেরা লিখেছিল তাদের নামঃ১) ‏আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন সাইদ আল হাযরামি ২) ‏আম্মারা বিন উকবাহ ৩) ‏উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ৩০)ইয়াজিদ বসরা/কুফার গভর্নর ইবনে যিয়াদকে চিঠি লেখেঃ“কুফা থেকে আমার শিয়ারা আমাকে লিখেছে যে ইবনে আকীল কুফাতে অবস্থান করছে এবং লোকজন জড়ো করছে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্রোহ করার জন্য। সুতারং তুমি যখন আমার এই পত্র পড়বে কুফায় যাও ও ইবনে আকীলকে খোঁজ এমন ভাবে যেন তুমি দানা খুজছো এবং তাকে খুঁজে বার কর। তাকে চেন দিয়ে বাধো, ‏হত্যা করো কিংবা বিতাড়িত করো’। ‎( ‏তাবারী খন্ড ১৯ পাতা ১৮ এবং ৩১)এই উমার বিন সাদই প্রথম ব্যাক্তি যে কারবালার যুদ্ধে প্রথম তীর ছোটে এবং বলে সাক্ষী থেকে আমি প্রথম তীর ছুড়েছি।বুখারি তার তারিখ আস সাগীর এর উল্লেখ করেছেনঃأبو المعلي العجلي قال سمعت أبي أن الحسين لما نزلكربلاء فأول من طعن في سرادقه عمر بن سعد“আবু মুয়ালি আল ইজলি তার পিতা থেকে বর্ননা করেছেন যে ‎“ ‏যখন হুসাইন কারবালায় এল, ‏উমার বিন সাদ প্রথম ব্যাক্তি ছিল যে তাবুগুলির দড়িগুলি কেটে দিয়েছিল”। ‎(বুখারি তারিখ আস সগীর, ‏খন্ড ১ পাতা ১৭৮)ইমাম যাহাবি তার বিখ্যাত বই সিয়ার আলাম আন নাবুলা এখন খন্ড ৪ পাতা ৩৪৯ঃ এ উল্লেখ করেছেনঃ“উমার বিন সাদ, ‏সেনাপতি ছিল হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী বাহিনীর, ‏অতপর মুখতার তাকে হত্যা করে’।কয়েক বছর পরে মুখতার রহঃ যখন ইবনে যিয়াদ কে তাড়ায় আর একে একে ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীদেরকে হত্যা করে তখন এই উমার বিন সাদকেও হত্যা করে।এখন দেখা যাক আহলে সুন্নাহর সাথে এই লানত প্রাপ্ত লোকের সখ্যতা ও আহলে সুন্নাহ কেমন ভাবে এই তাদের এই মহান ব্যাক্তির থেকে হাদিস ও ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে।আহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত হাফেজ ইবনে হজর আস্কালানি তার ‎‘তাহযীব আত তাহযীবে’র খন্ড ৭ পাতা ৩৯৬ এ ৭৪৭ নং বায়োগ্রাফিতে উল্লেখ করেছেন।عمر بن سعد بن أبي وقاص الزهري أبو حفص المدنيسكن الكوفة.روى عن أبيه وأبي سعيد الخدري.وعنه ابنه ابراهيم وابن ابنه أبو بكر بن حفصابن عمر وأبو إسحاق السبيعي والعيزار بن حريث ويزيدبن أبي مريم وقتادة والزهري ويزيد بن أبي حبيبوغيرهم“উমার বিন সাদ বিন আবি ওক্কাস আল যুহুরি আবু হাফস আল মাদানি কুফার বাসিন্দা। সে তার পিতা ও আবু সাইদ আল খুদরি থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন। আর তার ছেলে ইব্রাহিম, ‏পৌত্র আবু বকর বিন হাফস বিন উমার, ‏আবু ইসহাক আল সাবেই, ‏আইজার বিন হারিস, ‏ইয়াজিদ বিন আবি মরিয়াম, ‏কাতাদা, ‏যুহুরি ও ইয়াজিদ বিন আবি হাবীব ও অন্যান্যরা তার থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে হাজর আস্কালানী তার ‎‘তাকরিব আত তাহযীবে’র খণ্ড ১ পাতা ৭১৭ এ উমার বিন সাদ ইবনে আবি ওক্কাসকে ‎‘সুদুক’ (সত্যাবাদী/বিশস্ত হাদিস বর্ননাকারী, ‏সত্যবাদী ধর্ম শিক্ষা দাতা) ‏সেই সাথে উল্লখে করেছেন যে হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে সেনার আমীর ছিল!عمر بن سعد بن أبي وقاص المدني نزيل الكوفة صدوقولكن مقته الناس لكونه كان أميرا على الجيش الذينقتلوا الحسين بن عليআহলে সুন্নাহর রেজাল শাস্ত্রের ইমামদের ইমাম আল ইজলি এর কথা ‎‘তাহযীব আল কামাল খন্ড ২১ পাতা ৩৫৭ এ ‎(বায়োগ্রাফি নং ৪২৪০) ‏এ আমার পড়িঃوقال أحمد بن عبدالله العجلي (2): كان يروي عن أبيهأحاديث، وروى الناس عنه.وهو الذي قتل الحسين، وهو تابعي ثقة.“আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল ইজলি বলেছেন ‎‘ ‏সে ‎(উমার বিন সাদ) ‏তার পিতা থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করত, ‏এবং জনগণ তার থেকে বর্ননা করেছে। এবং হুসাইনের কাতিলদের একজন, ‏এবং শিকা তাবেঈ’।পাঠকগন দেখুন আহলে সুন্নাহর মহান ইমামের কাছে এই ব্যাক্তি ‎‘শিকা’ ‏অর্থাৎ বিশস্ত!।সালাফি ওহাবি ও উমাইয়া মেন্টালিটির প্রিয় রেজাল ও ইতিহাসের ইমাম, ‏ইমাম যাহাবি তার কেতাব ‎‘মিযান আল এতিদাল’ ‏এর খন্ড ৩ পাতা ১৯৮ এ উমার বিন সাদ লানতি এর সমন্ধে লিখেছেনঃهو في نفسه غير متهم “ব্যাক্তিত্ব হিসাবে তাকে তিরস্কার করা হয় না”।এই লানতি ব্যাক্তি থেকে আহলে সুন্নাহর মুহাদ্দেসগন প্রবল ভাবে হাদিস নিয়েছেন। যেমনঃ১) ‏ইমাম নাসাই, ‏তার সুনান আন নাসাই এ। সালাফিদের গুরু আলবানি এই হাদিসকে সাহিহ ও বলে সার্টিফিকেট দিয়েছেন।৩) ‏আহলে সুন্নাহর ফেকার ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তার মুসনদে একাধিক বার এই লানতির থেকে হাদিস নিয়েছেন।*আরও মজার ব্যাপার সালাফিদের প্রিয় মুহাদ্দিস সুয়াইব আরনাউত মুসনদে আহমাদের তাহকিকে এই হাদিস গুলির সনদ ‎‘হাসান’ (উত্তম) ‏বলে সার্টিফাই করেছেন। ‎(দেখুন রেসালা পাবলিকেশনের, ‏ওস্তাদ সুউয়াইব আরনাউত কতৃক তাহাকিক করা মুসনদে আহমাদের খন্ড ৩ এর হাদিস নং ১৪৮৭, ‏১৫৩১, ‏১৫৭৫)*আহলে সুন্নাহর মুহাক্কিক শেইখ আহমাদ শাকির তার তাহাক্কিক কৃত মুসনদে আহমাদ ‎(দারুল হাদিস, ‏কায়রো থেকে প্রকাশিত) ‏এই উমার বিন সাদ লানতির হাদিসকে সাহিহ সনদ বলেছেন। ‎(হাদিস নং ১৫১৯ দেখুন)সুতারং একথা সহজেই বোঝা যায় যে আহলে সুন্নাহের সাথে হুসাইন আঃ এর কাতিলদের কত ঘনিষ্ঠতা এবং এটাও প্রমান হয় যে হুসাইন আঃ এর হত্যাকারীরা কোন দলের। বরং সরাসরি প্রমান হয় এরা যে আহলে সুন্নাহর দলের ও আহলে সুন্নাহর পুর্বজও বটে। যাদের উপর আহলে সুন্নাহর শিক্ষাদীক্ষা অনেকটাই নির্ভর করে আছে।উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ বা উবাইদুল্লাহ ইবনে আবিহাইবনে যিয়াদের পরিচয় দেওয়া লাগবে না। ইবনে যিয়াদ লাঃ কুফা ও বসরার গভর্নর ছিল। ইয়াজিদের নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে বিরুদ্ধে যুদ্ধের সেনা পাঠায় এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ হত্যা করে।ইমাম হুসাইন আঃ মক্কা ছেড়ে কুফায় যাত্রা করছেন সেটার খবর পাওয়ার পরে ইয়াজিদ, ‏ইবনে যিয়াকে চিঠি লেখেঃ ইবনে কাসীর ইতিহাস ‎‘আল বেদায় ও আন নেহায়া’ ‏এর খড ৮ পাতা ৩১২ ‎( ‏বাংলা ইঃফা)“আমার কাছে সংবাদ পৌঁছিয়েছে যে, ‏হুসাইন কুফা অভিমুখে রওনা হয়েছে, ‏এর ফলে আমার গভর্নরদের মধ্যে তুমি পরিক্ষার সম্মুখীন হয়েছো। এই পরিক্ষার ফলের উপর তোমার মুক্তি ও সম্মান লাভ নির্ভর করবে। কিংবা ক্রীতদাসের মত দাসত্ব ও অপমান বহন করবে। আর এই কারণেই ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে ও ইয়াজিদের কাছে তাঁর মাথা পাঠিয়ে দেয়”।ইবনে হজর আশকালানি তার ‎‘তাজিল আল মুনফ’আ বিজওয়াইদ রিজাল আল আইম্মাতুল আরবা’ ‏এর খন্ড ১ পাতা ৮৪০ এ উল্লেখ করেছেনঃعبيد الله بن زِيَاد أَمِير الْكُوفَة لمعاوية ولابنه يزِيد وَهُوَالَّذِي جهز الجيوش من الْكُوفَة للحسين بن عَليّ رضىالله تَعَالَى عَنْهُمَا حَتَّى قتل بكربلاء وَكَانَ يعرف بِابْنمرْجَانَة وَهِي أمه وَقد ذكر لَهُ بن عَسَاكِر فِي تَارِيخدمشق تَرْجَمَة وَجرى ذكره فِي سنَن أبي دَاوُد وَلم يترجملَهُ الْمزي وَمن تَرْجَمته أَنه ولد فِي سنة اثْنَتَيْنِ أَو ثَلَاثوَثَلَاثِينَ وروى عَن سعد بن أبي وَقاص وَمُعَاوِيَة وَمَعْقِلبن يسَار وَابْن أُميَّة أخي بني جعدة وروى عَنهُ الْحسنالْبَصْرِيّ وَأَبُو الْمليح بن أُسَامَة“… ‏সে উমাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ, ‏কুফার আমির ছিল মুয়াবিয়া ও তার ছেলে ইয়াজিদের তরফ থেকে এবং সে কুফা থেকে সেনা বাহিনী প্রস্তুত করেছিল হুসাইনের ‎(রাঃ) ‏এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য কারবালায় তার কতল পর্যন্ত।সে ইবনে মারজানা নামে পরিচিত ছিল আর সে ‎(মারজানা) ‏তার মা ছিল।ইবনে আসাকির তারিখে দামিস্কে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন আর সুনানে আবু দাউদে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে………………. ‏এবং সে সাদ ইবনে আবি ওক্কাস, ‏মুয়াবিয়া, ‏মাকেল বিন ইয়াসির এবং বানি জাদাহ এর ভাই ইবনে উমাইয়া থেকে ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছে এবং তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা ‎(হাদিস) ‏বর্ননা করেছেন”।ইবনে যিয়াদ কুফার গভর্নর ছিল সে উসমানী ছিল এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে নির্দেশ দেয়ঃ“হুসাইনের জন্য পানি বন্ধ করে দাও ঠিক সেই ভাবে যেভাবে আমিরুল মুমিনিন উসমানকে করা হয়েছিল”। ‎(তাবারি খন্ড ১৯ পাতা ১০৭)ইবনে যিয়াদ মুয়াবিয়ার খাস লোক ছিল ‎(এর আগেও প্রমান দেওয়া হয়েছে) ‏এবং মুয়াবিয়ার থেকে হাদিস বর্ননা করেছেঃ ইবনে কাসীর তার ‎‘আল বেদায়া ওয়া আন নেহায়া’তে ‎(খণ্ড ৮ পাতা ৫০৬ বাং)قال ابن عساكر وروى الحديث عن معاوية وسعد بن أبي وقاص ومعقل بن يسار ، وحدث عنه الحسن البصري وأبوالمليح بن أسامة“ইবনে আসাকির বলেছেন যে,সে ‎(উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ) ‏মুয়াবিয়া, ‏সাদ ইবন আবি ওক্কাস,মাকাল বিন ইয়াসির থেকে হাদিস বর্ননা করেছে,আর তার থেকে হাসান বসরি ও আবু মালিহ বিন উসামা বর্ননা করেছে”।আহলে সুন্নাহদের কাছে যেমন মুয়াবিয়া মহান ব্যাক্তি এই ইবনে যিয়াদের কাছেও মুয়াবিয়া তেমন মহান,আহলে সুন্নাহ তাদের হাদিস ধর্ম শিক্ষা এই লানতির থেকে নিয়েছে।নাসেবীদের জন্য আরও দলিল দেওয়া হল ঠিক যেমন আহলে সুন্নাহর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মুমিনিন ও ষষ্ট খলিফা ইবনে যিয়াদের লাঃ এর কাছে ইয়াজিদ আমিরুল মোমিনিন ও খলিফা। এটা প্রমান করে যে আহলে সুন্নাহও ইবনে যিয়াদের অনুসারী।ইবনে যিয়াদ, ‏আমর বিন সাদকে লেখেঃ ইবনে কাসীর(বেদায়া আন নেহায়া খন্ড ৮ পাতা ৩২৮ ইঃফা)“হুসাইন আর পানির মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াও এবং তাদের সাথে সেই রকম ব্যাবহার করো যে রকম ব্যবহার নিরপরাধ, ‏আল্লাহভীরু মজলুম আমিরুল মোমিনিন উসমানের সাথে করা হয়েছিল। আর হুসাইন ও তার সাথিদের আমিরুল মুমিনিন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বায়াতের জন্য প্রস্তাব দাও”।এর আগে দেখানো করা হয়েছে যে ইয়াজিদ খ্রিস্টান উপদেষ্টা স্যার জনের পরামর্শে ইবনে যিয়াদকে কুফার গভর্নরের দায়িত্ব আবার দেয়। উপরের দলিলাদি থেকে প্রমাণিত হয় যে ইবনে যিয়াদ উসমানী ছিল এবং উসমানকে আমিরুল মোমিনিন মানত, ‏ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ মানে, ‏মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন বলে মানত ঠিক যেমন আজকের আহলে সুন্নাহ ও নাসেবীরা মানে।আহলে সুন্নাহ যে ইবনে যিয়াদের উত্তর পুরুষ তা উপরের দলিল সমূহ থেকে প্রমাণিত হয়। শিমর বিন যুলজোশান আল মানুল লাঃশিমর বিন যুলজোশান ইমাম হুসাইন আঃ কে তার ধড় থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করে। আহলে সুন্নাহর এই শিমর বিন যুলজোশানকে নিয়ে মহা বিপদে আছে না পারে গিলতে না পারে উগরাতে। গলায় এমন ভাবে আটকিয়ে আছে যে আহলে সুন্নাহ আওয়াজ করেতে পারে না, ‏কিছু বলতে চাইলে গ্যা গোঁ আওয়াজ বার হয়। ফলে আহলে সুন্নাহর ওই আওয়াজ সুনে বলে যে শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আলির ‎(আঃ) ‏এর দলে ছিল ফলে সে শিয়া ছিল। এজন্য তারা একটা রেফারেন্স দেয়ঃআল কুম্মিয়ের কেতাব ‎‘সাফিনাতুন নাজাতের’ ‏খন্ড ৪ পাতা ৪৯২ তে আল কুম্মি লিখেছেন ‎“আমি বলি, ‏শিমর সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মোমিনিনের সেনা বাহিনীতে ছিল”।সুতরাং ইতিহাসিক ভাবে যেটা এসেছে, ‏শিমর লানাতুল্লাহ আলইহি সিফফিনের যুদ্ধে ইমাম আলী আঃ এর পক্ষে ছিলো। সুতরাং তাঁদের প্রোপ্যাগান্ডা যথারিতি শুরু!! ‏শিমর শিয়া ছিল, ‏শিমর শিয়া ছিল!!এই কথার জবাবঃ ১) ‏তালহা, ‏যুবাইর ইমাম আলী আঃ এর হাতে হাত রেখে বায়াত করেছিল। এখন যারা যে যুক্তিতে বলে শিমর শীআ ছিল তারা তালহা ও যুবাইরকে কি বলবেন? ‏শিয়া ‎?২) ‏যখন ইমাম আলী আঃ এর বায়াত হয় তখন যারাই ইমাম আলী আঃ কে মেনেছিল তারা পরবর্তী ইসলামে শাসক হিসাবে মেনেছিল, ‏তাঁদের মধ্যে সাধারণ লোক, ‏সুন্নি আকীদা এর লোক- ‏যারা আবু বকর উমার ও উসমানের খিলাফাতকে বৈধ মনে করে এবং শুধু মাত্র সাধারণ লোকজন ‎(যাদের কাছে কে খলিফা হল কোন যাই আসে না) ‏ও শীয়া আকীদার লোক ছিল-যারা ইমাম আলী আঃ কেই একমাত্র বৈধ খলিফা মনে করত। ‎(এ বিষয় প্রথম অধ্যায় আলোচনা বিশদ করা হয়েছে।) ‏সুতরাং ইমাম আলী এর হাতে বায়াত হলেই বা সিফফিনে আলী আঃ এর সেনা দলে থাকলেই যে সে শীয়া ছিল তার কোন প্রমান নেই।কেননা আহলে সুন্নার প্রচুর লোক আলী আঃ এর হাতে বায়াত হয়েছিল ও সিফফিনেও আলী আঃ এর সেনা দলে ছিল।৩) ‏৩৮ হিজরিতে যখন সিফফিনের যুদ্ধে যারাই ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল সবাই আকাইদ এ শীয়া ছিল না। রাষ্ট্র এর প্রধান হিশাবে ইমাম আলী আঃ এর দলে সুন্নি সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে বহু গোত্র ইমাম আলী আঃ এর দলে যোগ দিয়েছিল। শিমর ও ইমাম আলী আঃ এর দলে ছিল।৬১ হিজরিতে কারো দ্বারা অনুষ্ঠিত কাজ ৩৭/৩৮ হিজরিতে সেই ব্যাক্তি কোথায় ছিল সেটা দিয়ে বিচার হয় না। বহু লোক ধর্মপ্রান মুসলিম ছিল পরে নাস্তিক হয়ে গিয়েছে। এমন কি আল্লাহের রাসুল সাঃ এর এক ওহি লেখক ও মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।সুতারং শিমর ৬১ হিজরিতে কার দলের হয়ে কার নির্দেশে ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করেছে সেটা বিবেচ্য। ৬১ হিজরিতে ইয়াজিদের গভর্নর ইবনে যিয়াদের চিঠি নিয়ে শিমর লাঃ কারবালায় আসে এবং ইমাম হুসাইন আঃ কে কতল করে।৪) ‏নাসেবীদের জন্য কাউন্টার প্রশ্নঃ নাসিবিরা যদি এক কথায়ে বলতে চায় যে সিফফিনে ইমাম আলী আঃ এর দলে যারা ছিল তারা শিয়া তবে মুয়াবিয়ার দলে কারা ছিল? ‏নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাহরা আর নাসিবিরা।আহলে সুন্নাহর খেলাফতি আকীদায় পরম্পরার দিকে নজর দিলেই বোঝা যাবে যে শিমর আহলে সুন্নাহর মাজহাবের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তি ছিল। আহলে সুন্নাহরা আবু বকর ‎,উমার, ‏উসমান ও আলি আঃ এর খিলাফাত মানে এবং তারপরে মুয়াবিয়াকে মানে এবং অতি উচ্চ ধরনা রাখে, ‏তার পরে ইয়াজিদেকে খলিফা/আমীর মানে এবং এর পরে উমাইয়া ও আব্বাসিদের তার পরে তুর্কিদের খলিফা হিসাবে মান্য করে।শিমর সিফফিনে আলী আঃ এর দলে ছিলে তার পরে মুয়াবিয়ার খিলাফত মান্য করে তার পরে ইয়াজিদকে আমিরুল মোমিনিন মানত।৫) ‏এখন আমি দেখাব শিমর এর মেলামেশা, ‏সখ্যতা কাদের সাথে ছিল। আহলে সুন্নার বড় বড় আলেম দের সাথে ছিল।ইমাম আবু ইশাক ‎(মৃঃ১২৯) ‏আহলে সুন্নাহর বড় মাপের তাবেই যার সম্বন্ধে সুন্নি রেজাল শাস্ত্রের ইমাম গনদের অন্যতম ইমাম যাহাবি তার সিয়ার আলাম আন নাবুলাতে লিখেছেনঃ ‎-“শেইখ, ‏আলেম, ‏কুফার মুহাদ্দিস ‎” (খণ্ড ৫ পাতা ৩৯২)তারিখে হুফফাজ- ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“ফুযাউইল বলেছেন ‎‘ ‏আবু ইশাক প্রত্যেক তিন দিনে কুরআন খতম করতেন………… ‏তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন, ‏তাকওয়া ধারী, ‏জ্ঞানের পাত্র ছিলেন, ‏আরও গুনাগুন ছিল”। ‎(খণ্ড ১ পাতা ১১১)এখন দেখুন আবু ইশাক আর শিমর লানাতুল্লাহ আলাইহি একসাথে নামায পড়ছেন। এখানে বোঝা যায় শিমর কে ছিল।মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবিঃ ‎“আবু ইশাক বলেছেন, ‏শিমর আমাদের সাথে নামায পড়ত আর বলত যে ‎‘ও আল্লাহ তুমি যান আমি সৎ লোক তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও’। আমি বললাম ‎‘আল্লাহ কেন তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন যখন তুমি রসূল আল্লাহের সন্তানের হত্যায় অংশগ্রহণ করেছ’? ‏সে ‎(শিমর) ‏বলল ‎‘তোমার অহ! ‏আমি কি করতাম? ‏আমাদের শাসক এই রকম করতে বলেছিল। আমরা তাদের অবাধ্য হয়নি……………’। আমি ‎(আবু ইশাক) ‏বললাম ‎‘বাহ ভাল অজুহাত! ‏নিশ্চয়ই হুকুম মান্য করা শুধু ভাল কাজের জন্য হয়’।” ( ‏খণ্ড ২ পাতা ২৮০)উপরের শিমর আর আবু ইশহাকের কথা থেকে এটা পরিষ্কার যে শিমর কাদের সাথে নামায পড়ত, ‏উঠাবসা করত। আরও এটা জানা যায় যে শিমর কার হুকুমে ইমাম হুসাইন আঃ কে হত্যা করেছিল!শিমার শুধু সুন্নি ছিল না, ‏সুন্নিরা শিমারের থেকে শিক্ষা নিয়েছে, ‏হাদীস নিয়েছে!মিযান আল এতেদাল, ‏ইমাম যাহাবি, ‏শিমারের জীবনীর আলোচনাতে ‎[ شمر ] 3742 – شمر بن ذى الجوشن، أبو السابغة الضبابى. عن أبيه. وعنه أبو إسحاق السبيعى.“……………… ‏আবু ইশাক তার( ‏শিমর) ‏থেকে বর্ণনা করেছেন”আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তার মুসনাদে শিমরের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন!শাবাষ বিন রাবেইঃহুসাইন আঃ কে আহলে সুন্নাহর পিতৃপুরুষদের মধ্যে যারা চিঠি লিখেছিল তাদের নেতা ছিল এই ব্যাক্তি। এই ব্যাক্তি কারবালায় ইমাম হুসাইন আঃ এর বিরুদ্ধে আমর বিন সাদের বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল। এর ব্যাপারে আগেই সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এখানে আহলে সুন্নাহর এই পিতৃব্যের আরো একটু আলোচনা করা হলঃআহলে সুন্নাহর রেজাল ও হাদিস শাস্ত্রের ইমাম যাহাবি তার ‎‘সিয়ার আলাম নাবুলা’র খন্ড ৪ পাতা ১৫০ এ উল্লেখ করেছেনঃشَبَثُ بنُ رِبْعِيٍّ * التَّمِيْمِيُّ اليَرْبُوْعِيُّأَحَدُ الأَشْرَافِ وَالفُرْسَانِ، كَانَ مِمَّنْ خَرَجَ عَلَى عَلِيٍّ، وَأَنْكَرَعَلَيْهِ التَّحْكِيْمَ، ثُمَّ تَابَ وَأَنَابَ.وَحَدَّثَ عَنْ: عَلِيٍّ،وَحُذَيْفَةَ.وَعَنْهُ: مُحَمَّدُ بنُ كَعْبٍ القُرَظِيُّ، وَسُلَيْمَانُالتَّيْمِيُّ.لَهُ حَدِيْثٌ وَاحِدٌ فِي (سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ)“আশরফ ও বাহাদুর একজন…………সে আলির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং সালিশি মানতে অস্বীকার করেছিল, ‏পরে তওবা করেছিল। সে হাদিস বর্ননা করেছে আলী, ‏হুজাইফা থেকে এবং তার থেকে মুহাম্মাদ বিন ক’আব আল কারদ্বি ও সুলাইমান তামিমি হাদিস বর্ননা করেছে, ‏সুনান আবি দাউদে তার একটা হাদিস উল্লখে আছে”।ইবনে মাজা তার থেকে হাদিস নিয়েছে, ‏বুখারিরি ওস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক ও ইবনে আবি শায়বা তাদের নিজ নিজ মুসান্নাফে শাবাষ থেকে হাদিস বর্ননা করেছে। আহলে সুন্নাহর বড় রেজাল শাস্ত্রের পণ্ডিত ইবনে হিব্বান তাকে তাঁর শিকাত এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে সে ভুল করেছে ‎(হাদিস বর্ননায়)।এ লানতি আহলে সুন্নাহর কাছে মর্যাদা রাখে তা উপরে দলিল সমূহ থেকে বোঝা যাচ্ছে। এর থেকে আহলে সুন্নাহ হাদিস নিয়েছে ধর্ম শিক্ষা নিয়েছে!আবু দাউদের হাদিসঃحَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَاعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِكَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ شَبَثِ بْنِ رِبْعِيٍّ عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَامعَنْ …النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْخَبَرِআবু দাউদ এই হাদিসে কোন কমেন্ট করেনি সুতারং আবু দাউদ এই হাদিসের সনদ সহিহ মানত। কেননা আবু দাউদ বলেছেন যে আমার কেতাবে কোন হাদিসে সমস্যা থাকলে তাকে সেখানে আমি মন্তব্য লিখব, ‏আর আমি কোন মন্তব্য না করার অর্থ সেই হাদিস বিসস্ত। ‎( ‏সুত্র সওকানির ‎‘নিল আল আওতার’ ‏খন্ড ১ পাতা ১৫)ইমাম নাসাইয়ের সুনান আল কাবীরের হাদিসের অংশ বিশেষঃأخبرنا أحمد بن عمرو بن السرح قال أخبرنا بن وهبقال أخبرني عمرو بن مالك وحيوة بن شريح عن بنالهاد عن محمد بن كعب عن شبث بن ربعي عن …عليبن أبي طالب قال قدم على رسول الله صلى الله عليهوسلم سبي فقال علي لفاطمةসুতারং ইমাম হুসাইন আঃ কে চিঠি লিখে এবং পরে ইয়াজিদের বাহিনীতে যোগ দেওয়া ‎‘মহান’ ‏লোকের সাথে আহলে সুন্নাহের প্রগাড় সম্পর্কের ও সম্পৃক্ততা একটা প্রমানিত ও উন্মুক্ত ব্যাপার। আহলে সুন্নাহর শিক্ষা দীক্ষা সেই সন হত্যাকারীদের সাথে সম্পর্কিত। আরো প্রমান হয় যে আহলে সুন্নাহর বরং এই সব লোকদের উত্তরসুরি।ইমাম হুসাইন আঃ এর হত্যা কারীদের মাযহাবের আরো কিছু প্রমানঃইমাম হুসাইন আঃ এর শাহাদতের পরে শিয়াদের ইমামত এর ধারার ইমাম হন যাইনুল আবেদিন আঃ যাকে ঘিরে আকাইদি শিয়াদের আনাগোনা ছিল, ‏তাঁর কাছ থেকে শিয়ারা শিক্ষা গ্রহন করত। সহিফাহ এ সাজ্জাদিয়া ইমাম যাইনুল আবেদিন আঃ এর দোয়ার কেতাব।অপর দিকে আহলে সুন্নাহরা তাদের নেতাদের কাছে যেত ও শিক্ষা গ্রহন করতো ফতোয়া গ্রহন করত। যেমন আহলে সুন্নাহর দ্বীনের এক অংশ যার উপর নির্ভর করে সেই ইবনে উমার। ইবনে উমার ইয়াজিদের এক ভক্ত ছিল এর আগে দেখানো হয়েছে যে টাকা খেয়ে ইয়াজিদকে ইবনে উমার বায়াত করে। ইবনে উমার ইয়াজিদের জন্য প্রবল ভাবে ক্যানভাস করেঃসাহিহ আল বুখারিঃ ইফাঃ অনলাইনঃ ৬৬২৬। ‎“সুলায়মান ইবনু হারব ‎(রহঃ) … ‏নাফি ‎(রহঃ) ‏থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ‏যখন মদিনার লোকেরা ইয়াযীদ ইবনু মুআবিয়া ‎(রাঃ) ‏এর বায়আত ভঙ্গ করল, ‏তখন ইবনু উমর ‎(রাঃ) ‏তার বিশেষ ভক্তবৃন্দ ও সন্তানদের সমবেত করলেন এবং বললেন, ‏আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ‏কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ‎?